বিষয়বস্তুতে চলুন

ঋতু ডালমিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঋতু ডালমিয়া
জন্ম১৯৭৩ (বয়স ৫২–৫৩)
পেশাসেলিব্রিটি শেফ, রেস্তোঁরা মালিক, এলজিবিটি কর্মী
পরিচিতির কারণইতালীয় রন্ধনশৈলী

ঋতু ডালমিয়া (জন্ম ১৯৭৩) একজন ভারতীয় সেলিব্রিটি শেফ এবং রেস্তোরাঁ মালিক। তিনি দিল্লির জনপ্রিয় ইতালীয় রেস্তোরাঁ 'ডিভা'র প্রধান পাচক এবং সহ-মালিক, ২০০০ সালে গীতা ভাল্লার "রিগা ফুড" অংশীদারিত্ব সংস্থার অধীনে, এটি তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[১] কোম্পানির অন্যান্য রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে রয়েছে 'ল্যাটিটিউড ২৮' এবং 'ক্যাফে ডিভা'।[২][৩] তিনি এনডিটিভি গুড টাইমসের জন্য তিনটি মরশুম ধরে 'ইতালীয় খানা' নামে রান্নার একটি টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলেন এবং ২০০৯ সালে একই নামে তাঁর প্রথম রান্নার বই প্রকাশ করেছিলেন।[৪][৫]

২০১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী থেকে তিনি এনডিটিভি গুড টাইমসে ট্র্যাভেলিং ডিভা উপস্থাপন করছেন।[৬]

ঋতু ডালমিয়া একজন সমকামী এবং একজন বিশিষ্ট এলজিবিটি অধিকার কর্মী। ২০১৬ সালের জুন মাসে, ঋতু ডালমিয়া এবং আরও পাঁচজন, যাঁরা সকলেই এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সদস্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৭ কে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।[৭] এর ফলে ২০১৮ সালে নবতেজ সিং জোহর এবং অন্যান্য বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলার ঐতিহাসিক রায় প্রকাশিত হয়, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে "একই লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিক্রমে যৌন আচরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে"-এই আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।[৮]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

কলকাতায় একটি মারোয়ারি ব্যবসায়ী পরিবারে ঋতু ডালমিয়ার জন্ম হয়।[৯][১০][১১] তিনি ১৬ বছর বয়সে মার্বেল পাথরের পারিবারিক ব্যবসায় যোগদান করেন। নিজের কাজের সূত্রে তিনি ইতালিতে পণ্য সংগ্রহের জন্য যান, সেখানে ইতালীয় খাবারের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় এবং এটি সম্পর্কে তিনি আরও শিখতে শুরু করেন।

১৯৯৩ সালে, ২২ বছর বয়সে, ঋতু দিল্লির হৌজ খাস গ্রামে তাঁর প্রথম রেস্তোরাঁ 'মেজ্জালুনা' শুরু করেন, যার বিশেষত্ব ছিল "ইতালীয় উচ্চারণে" ভূমধ্যসাগরীয় খাবারের পরিবেশন। দুর্ভাগ্যবশত, রেস্তোরাঁটি চলেনি এবং তিন বছর পর তিনি এটি বিক্রি করে দেন।

১৯৯৬ সালে, ঋতু লন্ডনে চলে যান, সেখানে তিনি তাঁর সঙ্গী অ্যাণ্ডি বর্মার সাথে কিংস রোডে প্রথম ভারতীয় ফাইন ডাইনিং রেস্তোরাঁ খোলেন।[১২] রেস্তোরাঁটি বড়সড় সাফল্য এবং ভালো পর্যালোচনা পেয়েছিল, তবে লন্ডনে স্থায়ী হতে না পেরে, ঋতু তাঁর রেস্তোরাঁর শেয়ার বর্মার কাছে বিক্রি করে দেন এবং ২০০০ সালে দিল্লিতে ফিরে আসেন। একই বছর, তিনি গীতা ভাল্লার সাথে অংশীদারিত্ব করে গ্রেটার কৈলাস ২[১][১৩]-তে 'ডিভা' নামে ইতালীয় রেস্তোরাঁ খোলেন, এটি আজও দিল্লির একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ।[১৪][১৫]

দিল্লির চাণক্যপুরীতে ইতালীয় দূতাবাসের ইতালীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ক্যাফে ছাড়াও,[১৩] তিনি গ্রেটার কৈলাস ১-এ 'ডিভা ক্যাফে', দিল্লির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে 'ল্যাটিটিউড ২৮' এবং হৌজ খাস গ্রামে 'ডিভা পিকোলা' রেস্তোঁরাগুলি চালান। ডালমিয়া একটি ক্যাটারিং ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[২][৯]

২০০৭ সালে, তিনি এনডিটিভি গুড টাইমসে "ইতালীয় খানা" টিভি-ধারাবাহিক উপস্থাপনা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি একই নামে একটি রান্নার বই প্রকাশ করেন। এই অনুষ্ঠানটি তিনটি মরশুম ধরে চলে এবং অসংখ্য টেলিভিশন পুরস্কার জিতে নেয়।[১০][১৬] তিনি দিল্লির অশোক হোটেলের স্পা রেস্তোরাঁ দিবত্রার সাথে একজন পরামর্শদাতা পাচক হিসেবে কাজ করেছেন।[১৭]

২০১১ সালের ডিসেম্বরে ইতালি সরকার তাঁকে অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ইতালীয় সলিডারিটি প্রদান করে।[১৮]

ঋতু ২০১২ সালে ট্র্যাভেলিং ডিভা: রেসিপি ফ্রম অ্যারাউণ্ড দ্য ওয়ার্ল্ড প্রকাশ করেন, যেখানে ইউরোপীয়, এশীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের তাঁর প্রিয় রেসিপিগুলি তুলে ধরা হয়।[১২][১৯]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "The food DIVA"। The Hindu। ১১ ডিসেম্বর ২০০৪। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  2. 1 2 "Ritu Dalmia talks travel"। Conde Nast Traveller। ১৬ ডিসেম্বর ২০১১।
  3. ↑ "Chef's Delight – Taking on the stars"। Mint। ১৭ মার্চ ২০০৮।
  4. ↑ "Italian Khana"। NDTV Good Times। ১৬ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২।
  5. ↑ "Something's Cooking: For 17 years now, Ritu Dalmia has been serving Italian Khana. And she is a purist."। Outlook Business। ৭ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০২৫।
  6. ↑ "Traveling Diva"। NDTV Good Times। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১২।
  7. ↑ "Many ups and downs in battle against 377"। The Indian Express (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১১ জানুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৮।
  8. ↑ Safi, Michael (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "Campaigners celebrate as India decriminalises homosexuality"। the Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
  9. 1 2 Vir Sanghvi (২১ আগস্ট ২০০৮)। "Rude Food: Portrait of a Diva"। Hindustan Times। ৭ জুলাই ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  10. 1 2 "Ritu Dalmia, author of cookbook travelling diva, whips it up"। The Telegraph (Kolkata)। ৩০ জানুয়ারি ২০১২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  11. ↑ Dalmia, Ritu (১২ আগস্ট ২০১৬)। "My freedom to love: 'I was 23 when I realised I was gay. I told my parents. The next day they sent a box of mangoes for my partner at the time'"। India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৯।
  12. 1 2 "There's a story behind every dish in this book"। India Today। ২৫ ডিসেম্বর ২০১১।
  13. 1 2 "New-age entrepreneur: young, dynamic and successful"। The Tribune। ১৬ নভেম্বর ২০০৩।
  14. ↑ Pippa De Bruyn; Keith Bain (২০১০)। "Delhi"। Frommer's India। John Wiley & Sons। পৃ. ৪৪২। আইএসবিএন ৯৭৮-০৪৭০৬০২৬৪৫।
  15. ↑ Sarina Singh; Lindsay Brown, Mark Elliott, Paul Harding.. (২০০৯)। Lonely Planet India। Lonely Planet। পৃ. ১৫১। আইএসবিএন ৯৭৮-১৭৪১৭৯১৫১৮।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  16. ↑ "Italian Khana: Best Cookery Show At The Indian Telly Awards, 2009"। NDTV Good Times। ১৬ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২।
  17. ↑ "VOTERS SPEAK: Ritu Dalmia"। Indian Express। ২৭ নভেম্বর ২০০৮।
  18. ↑ "About the Anchor"। NDTV Good Times। ১৫ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  19. ↑ "All Things Food"। Indian Express। ১৫ ডিসেম্বর ২০১১।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]