বিষয়বস্তুতে চলুন

উমর ইবনে ওয়ালিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উমর ইবনে ওয়ালিদ
عمر بن الوليد
জর্ডানের গভর্নর
কার্যকাল৭০৬–৭১০
আমির আল-হাজ্জ
কার্যকালআনু. ৭০৭
দাম্পত্য সঙ্গী
  • উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে হাবিন
    (কয়েকজন উপপত্নী)
সন্তান
  • আবদুল মালিক
  • আবদুল্লাহ
  • ঈাা
  • হাফস
    (ষাটের অধিক পুত্র)
পূর্ণ নাম
আবু হাফস উমর ইবনে ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক
রাজবংশউমাইয়া (মারওয়ানি)
পিতাপ্রথম আল-ওয়ালিদ
মাতাবনু কিন্দা গোত্রের একজন অজ্ঞাত নারী
পেশাসামরিক গভর্নর
সামরিক কর্মজীবন
আনুগত্যউমাইয়া খিলাফত
সেবা/শাখাউমাইয়া সেনাবাহিনী
কার্যকালআনু. ৭০৫–৭৪৪
পদমর্যাদাকমান্ডার
যুদ্ধ/সংগ্রামআরব–বাইজেন্টাইন যুদ্ধ
সম্পর্কসুলাইমান ইবনে আবদুল মালিক (চাচা)
দ্বিতীয় ইয়াজিদ (চাচা)
হিশাম (চাচা)
মাসলামা (চাচা)
হাবিব ইবনে আবদুল মালিক (নাতি)

উমর ইবনে ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক (আরবি: عمر بن الوليد بن عبد الملك; বি.৭০৫ c.৭৪৪) ছিলেন একজন উমাইয়া রাজপুত্র, আরব-বাইজেন্টাইন যুদ্ধের সেনাপতি ও তাঁর পিতা প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামলে জুন্দ উর্দুনের (তিবিরিয়া কেন্দ্রিক জর্ডানের সামরিক জেলা ) গভর্নর। তিনি হয়তো আধুনিক ইসরায়েলের খিরবাত আল-মিনিয়া ও আধুনিক জর্ডানের কাসর খারানার মরুর প্রাসাদসমূহ নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার ডাকনাম ছিল আল-ফাহল ( আরবি: الفحل; আক্ষ.'ঘোড়া') ও ফাহল বানি মারওয়ান ( আরবি: فحل بني مروان; আক্ষ.'বনু মারওয়ান বংশের ঘোড়া')। কারণ তাঁর অসংখ্য (আনুমানিক ষাট জন) পুত্র সন্তান ছিল।[] [] []

জীবনী

[সম্পাদনা]

উমর ছিলেন ওয়ালিদ ইবন আব্দুল মালিকের একজন পুত্র, যিনি উমাইয়া খিলাফতের খলিফা ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন একজন দাসী উপপত্নী।[] ১৪শ শতাব্দীর আরবি ভাষাবিদ ইবন মানজুরের মতে, উমরের মা কিন্দা গোত্রভুক্ত ছিলেন এবং তিনি কিন্দা রাজ্যের প্রথম শাসক হুজর আকিল আল-মুরার আল-কিন্দির বংশধর ছিলেন[]

খলিফা আল-ওয়ালিদ উমরকে জুন্দ উরদুনের ( জর্ডানের সামরিক জেলা, যার মধ্যে দক্ষিণ লেবানন, উত্তর ইসরায়েল ও উত্তর জর্ডান অন্তর্ভুক্ত ছিল) গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন।[] ৭০৭ সালের নভেম্বরে তিনি মক্কায় হজ কাফেলার নেতৃত্ব দেন।[] ৭১০–৭১১ সালে তিনি তাঁর চাচা মাসলামা ইবনে আবদুল মালিকের সঙ্গে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন।[] জর্ডানের গভর্নর থাকা অবস্থায় তিনি পিটার অব ক্যাপিটোলিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যিনি পরে খ্রিস্টান সাধু হিসেবে স্বীকৃত হন এবং আল-ওয়ালিদের নির্দেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন।[]

উমর মারওয়ানি (উমাইয়া শাসক পরিবার) রাজপুত্রদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেন; বিশেষ করে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের (৭১৭–৭২০) নতুন অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা করেন। এই নীতিতে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের পূর্বের উদার নীতি বাতিল করা হয়। উমর খলিফার কাছে একটি চিঠি লিখে অভিযোগ করেন যে, তিনি পূর্ববর্তী নীতিকে অন্যায়ভাবে বাতিল করেছেন এবং বনু উমাইয়ার উত্তরসূরিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। উত্তরে খলিফা উমাইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা রাষ্ট্রের অর্থ অপব্যবহার করেছে; অন্যায়ভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে এবং অত্যাচারী শাসন কায়েম করেছে।[]

৭৩৮/৭৩৯ সালে উমরের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলীয় বিদ্রোহের নেতা জায়েদ ইবনে আলির একটি আইনি বিরোধ হয়, যা খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিক মীমাংসা করেন।[১০] পরে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই খলিফা দ্বিতীয় ওয়ালিদের (৭৪৩–৭৪৪) সঙ্গেও এক দাসী নারীকে কেন্দ্র করে আইনি বিরোধে জড়ান।[১০] ঐতিহাসিক ইয়াকুবির মতে, তৃতীয় ফিতনার সময় তিনি তাঁর সৎভাই খলিফা তৃতীয় ইয়াজিদের বিরুদ্ধে জর্ডানের গোত্রগুলোর নেতৃত্ব দেন।[১১]

ধারণা করা হয় যে, উমর গালিল সাগরের কাছে অবস্থিত খিরবাত মিনিয়া প্রাসাদ নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।[১২] এছাড়াও জর্ডানের মরুভূমিতে অবস্থিত কাসর খারানা প্রাসাদের বিভিন্ন আরবি শিলালিপিতে তাঁর নাম পাওয়া যায়, যা থেকে জানা যায় যে, তিনি অষ্টম শতাব্দীর শুরুতে সেখানে ভ্রমণ করেন। [১৩] তাঁর পুত্র আবদুল মালিক ও আবদুল্লাহর নামও এসব শিলালিপিতে উল্লেখিত হয়েছে। প্রাসাদটি সম্ভবত সিরিয়া থেকে মক্কার পথে যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[১৪]

উত্তরাধিকার

[সম্পাদনা]

উমরকে “ফাহল বনি মারওয়ান” (মারওয়ান বংশের বলিষ্ঠ পুরুষ) বা “ফাহল বনি উমাইয়া” বলা হতো। কারণ তিনি বহু বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁর প্রায় ষাটজন পুত্র ছিল।[১৫][১৬] তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে কেবল উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে হাবিবের নাম জানা যায়, যিনি আল-হাকাম ইবনে আবিল আসের বংশধর ছিলেন। এই স্ত্রীর গর্ভে তাঁর পুত্র আবদুল মালিক জন্মগ্রহণ করেন।[১৭][১৮]

আবদুল মালিকের পুত্র হাবিব ৭৫০ খ্রিস্টাব্দের আব্বাসীয় বিপ্লবের পর নাহর আবি ফুত্রুসে সংঘটিত বনু উমাইয়ার গণহত্যা থেকে পালিয়ে আন্দালুসে (আইবেরীয় উপদ্বীপ) আশ্রয় নেন।[১৯] সেখানে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আবদুর রহমান তাকে টলেডোর গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং কর্ডোভা, কাবরা, মালাগা, আর্চিদোনা ও পরকুনায় তাকে বহু সম্পত্তি প্রদান করেন। তাঁর বংশধররা “হাবিবি” নামে একটি প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। উমরের অন্য পুত্র ঈসা ও হাফসও আন্দালুসে বসতি স্থাপন করেন। আবদুল মালিক ও ঈসার বংশধররা দশম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত আন্দালুসে উমাইয়া অভিজাত শ্রেণির সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।[২০][২১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. IslamKotob। تاريخ مدينة دمشق - ج 45 - عمر بن خيران الخدامي - عمرو بن الحمق (আরবি ভাষায়)। IslamKotob।
  2. الدمشقي, أبي القاسم علي بن الحسن/ابن عساكر (১ জানুয়ারি ২০১২)। تاريخ مدينة دمشق 1-37 ج24 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  3. Ibn Qutaiba, ʿAbdallāh ibn Muslim (১৮৫০)। K. al-Ma'arif. Ibn Qutaiba's Handbuch der Geschichte: Aus den Handschriften der k. k. Hofbibl. zu Wien, der herzogl. Biblioth. zu Gotha u. der Universitäts-Bibliothek zu Leyden (আরবি ভাষায়)। Vandenhoeck & Ruprecht। পৃ. ১৮৩।
  4. 1 2 Marsham 2022, পৃ. 39।
  5. Crone 1980, পৃ. 126।
  6. Hinds 1990, পৃ. 145।
  7. Hinds 1990, পৃ. 182।
  8. Sahner 2020, পৃ. 167।
  9. Murad 1985, পৃ. 328।
  10. 1 2 Hillenbrand 1989, পৃ. 18।
  11. Biesterfeldt ও Günther 2018, পৃ. 1057।
  12. Bacharach 1996, পৃ. 35।
  13. Bisheh 1992, পৃ. 38–41।
  14. Imbert 1998, পৃ. 49, note 9।
  15. Blankinship 1994, পৃ. 304, note 57।
  16. Bisheh 1992, পৃ. 39।
  17. Robinson 2020, পৃ. 148।
  18. Scales 1994, পৃ. 114, note 9।
  19. Scales 1994, পৃ. 115।
  20. Uzquiza Bartolomé 1992, পৃ. 418–423।
  21. Uzquiza Bartolomé 1994, পৃ. 458।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]