বিষয়বস্তুতে চলুন

উপপত্নী প্রথা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি দাস বাজার, ইয়েমেন

ইসলামি আইনশাস্ত্রে উপপত্নী হলেন এমন একজন অবিবাহিত দাসী যার সাথে তার মনিব যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন।[] বিংশ শতাব্দীতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের রাজবংশ ও অভিজাত পরিবারগুলিতে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এবং এটি ইসলামি পণ্ডিতদের দ্বারা শাস্ত্রীয়ভাবে গৃহীত ও অনুমোদিত ছিল। অধিকাংশ [] আধুনিক ইসলামি পণ্ডিত ও সাধারণ মুসলিম উভয়ই[] বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম বর্তমানে উপপত্নী প্রথার অনুমতি দেয় না এবং ধর্মীয়ভাবে যৌন সম্পর্ক কেবল বিবাহের মধ্যেই অনুমোদিত।[] প্রাক-ইসলামি আরব, বৃহত্তর নিকট প্রাচ্যভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাসী নারীদের উপপত্নী হিসেবে কাজ করা একটি বহুল প্রচলিত প্রথা ছিল।[] কুরআনও এই প্রথার অনুমতি দিয়েছে এবং একজন পুরুষকে তার স্ত্রী অথবা উপপত্নী ব্যতীত অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে কঠোর নিষেধ করেছে। ইসলামের সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদের মারিয়া আল-কিবতিয়া নামে একজন দাসী (উপপত্নী) ছিলেন যাকে আল-মুকাওকিস উপহার হিসেবে তাঁর নিকট পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন (তবে কেউ কেউ এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন) এবং পরে বিবাহ করেন। তার গর্ভে ইব্রাহীম নামে একটি পুত্র সন্তানও জন্মগ্রহণ করেছিল।[] একজন পুরুষ কতজন উপপত্নী রাখতে পারে, তার ব্যাপারে প্রাচীন ইসলামি আইনবিদরা কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি। তবে উপপত্নীদের পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ ছিল। যে উপপত্নী তার মনিব কর্তৃক স্বীকৃত সন্তানের জন্ম দিত, তাকে উম্মুল ওয়ালাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হত। [] তখন তাকে বিক্রি করা যেত না এবং তার মনিবের মৃত্যুর পর সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্ত হয়ে যেত। [] একজন উপপত্নীর স্বীকৃত সন্তানদের স্বাধীন, বৈধ ও পুরুষের স্ত্রীর সন্তানদের সমান মর্যাদাবান হিসেবে বিবেচনা করা হত।

মুসলিম বিশ্বে দাসপ্রথা বিলুপ্তির সাথে সাথে উপপত্নী প্রথার অবসান ঘটে।[] অনেক আধুনিক মুসলিম দাসপ্রথাকে ইসলামি ন্যায়বিচার ও সাম্যের নীতির পরিপন্থী বলে মনে করেন। তারা বলেন যে, ইসলাম সূচনালগ্ন থেকেই ধাপে ধাপে দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছে।[]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

ইসলামি আইনে উপপত্নী হলেন একজন পুরুষের নারী দাসী, যার সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক থাকে। [] [১০] এর জন্য প্রাচীন আরবি শব্দ হল সুর্রিয়্যা (আরবি: سرية); যদিও জারিয়া, আমাত, মামলুকা শব্দগুলিও উপপত্নী বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। "সুর্রিয়া" শব্দটির বিভিন্ন ব্যুৎপত্তি বর্ণনা করা হয়েছে, যার প্রতিটি উপপত্নীত্বের একটি বিশেষ দিকের সাথে সম্পর্কিত। যেমন: []

  • "সারাত" থেকে, যার অর্থ হল মর্যাদা; কারণ একজন উপপত্নী অন্যান্য মহিলা দাসীর তুলনায় উচ্চ মর্যাদা ভোগ করতেন।
  • সুরুর থেকে, যার অর্থ উপভোগ বা আনন্দ; কারণ একজন উপপত্নী আনন্দের জন্য অর্জিত হতো (শ্রমের বিপরীতে)।
  • "সির" থেকে, যার অর্থ হল গোপনীয়তা; কারণ উপপত্নীকে একান্ত কক্ষে (যেমন হারেম ) নির্জন রাখা হত।

বেশিরভাগ পশ্চিমা পণ্ডিত সুর্রিয়া শব্দকে "উপপত্নী" হিসেবে অনুবাদ করেছেন; যদিও কেউ কেউ "দাস-উপপত্নী" শব্দটি ব্যবহার করেছেন। [১১] কুরআনে সুররিয়া শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি এবং কোনও নির্দিষ্ট শব্দই "উপপত্নী" বা "মহিলা দাসী" বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি। কুরআন সাধারণভাবে "ما ملكت أيمانكم" (মা মালাকাত আইমানুকুম) শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে, যা সাধারণভাবে দাসদের বোঝায়। তবে কুরআনের সূরা আল-বাকারার ২:২২১ আয়াতে আমা (أمة) শব্দটি এসেছে, যা নারী দাসী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। [১০]

প্রাক-ইসলামি রীতি

[সম্পাদনা]

প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলনিকট প্রাচ্যে দাসীদের উপপত্নী হিসেবে রাখা একটি স্বীকৃত প্রথা ছিল। [] বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে দাস উপপত্নী প্রথা প্রচলিত ছিল। [১২] তবে খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা এই প্রথা নিষিদ্ধ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। [১৩] ইহুদি ধর্মে উপপত্নীদের পিলেগেশ বলা হয় এবং বাইবেলের গ্রন্থগুলিতে দাস উপপত্নীদের উল্লেখ রয়েছে। [১৩] প্রাক-ইসলামি বৌদ্ধহিন্দুধর্মেও ধনী ও অভিজাত ব্যক্তিরা দাসীদের উপপত্নী হিসেবে রাখতেন। [১৪]

ইসলাম ধর্ম এবং অন্যান্য সম্প্রদায় কর্তৃক অনুমোদিত উপপত্নীত্বের মধ্যে কিছু বিষয়ে মিল এবং কিছু বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে। ইসলামে উপপত্নীদের সন্তানরা (যদি পিতা কর্তৃক স্বীকৃত হয়) স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বৈধ ছিল, সেখানে সাসানীয় পারস্য বা মাজদীয়দের ক্ষেত্রে এটি অগত্যা বৈধ ছিল না। [১৫] এর পরিবর্তে সাসানীয় শাহ একজন প্রধান স্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন এবং কেবল তার সন্তানরাই বৈধ ছিল। [১৫] একইভাবে পারস্যিক অঞ্চলে বসবাসকারী খ্রিস্টানরা দাসী উপপত্নীদের সন্তানদের বৈধ বলে মনে করতেন না। [১৫] রোমানদের উপপত্নী প্রথা সাধারণত একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, [১৫] যেখানে ইসলাম উপপত্নীর সংখ্যার উপর কোন সীমা আরোপ করেনি। অন্যদিকে মনিবের মৃত্যুর পর সন্তান প্রসবকারী উপপত্নীকে মুক্ত করার ইসলামী রীতিও পারস্যিক খ্রিস্টানদের মধ্যে পাওয়া যেত। [১৫]

প্রাক-ইসলামি আরবেও উপপত্নী প্রথা প্রচলিত ছিল। একজন উপপত্নীর সন্তান পিতা কর্তৃক মুক্ত না করা পর্যন্ত দাসই থেকে যেত। [১৬] পিতার দ্বারা মুক্ত না করা হলে শিশুটিকে গোত্রের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হত না এবং ইসলাম-পূর্ব আরব পিতারা তাদের কৃষ্ণাঙ্গ উপপত্নীদের থেকে আসা সন্তানদের চিনতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এর বিপরীতে ইসলামের অধীনে উপপত্নীর সন্তানদের গোত্রের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। [১৭] বার্নার্ড লুইস যুক্তি দেন যে, অনেক প্রাক-ইসলামি আরব উপপত্নীদের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[১৬] বিপরীতে মাজিদ রবিনসন যুক্তি দেন যে, ইসলাম-পূর্ব আরবে উপপত্নীর প্রচলন ব্যাপকভাবে ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে, উমাইয়া যুগের প্রথম দিকে বৃহৎ পরিসরে উপপত্নীত্ব প্রচলিত মূল ছিল না। এটি না ইসলাম-পূর্ব কুরাইশ ঐতিহ্যে ছিল; না কুরআনে; না নবী মুহাম্মদের জীবনে। বরং বৃহৎ পরিসরে উপপত্নী বিবাহের মূল কারণ ছিল উমাইয়াদের পুত্র সন্তান লাভের অধিক আকাঙ্ক্ষা। [১৮]

ইসলামি উৎস

[সম্পাদনা]

কুরআন

[সম্পাদনা]

কুরআনকে ইসলামের চূড়ান্ত আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর আয়াতগুলিকে সকল মুসলিম বিনা সংশয়ে পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করেন। [১৯] কুরআনে দাসী বা উপপত্নী বুঝাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছ হলো মা মালাকাত আয়মানুকুম (প্রকরণ: আয়মানুহুম, আয়মানুহুন্না, ইয়ামিনুকা )। এটি কুরআনের ১৫ স্থানে আলোচিত হয়েছে। [১০] এই বাক্যাংশটির সরল অর্থ হল "যাদের তোমার ডান হাত অধিকার করেছে।" অনেক ক্ষেত্রে এই শব্দটি বিবাহের প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়; উপপত্নীর ক্ষেত্রে নয়। [১০] কিছু ইসলামি পণ্ডিত এই শব্দটিকে কেবল উপপত্নী বুঝাতে নয়; বরং এটি পুরুষ ও মহিলা উভয় দাসকেই বোঝায় বলে মনে করেন। [২০] বার্নার্ড ফ্রিমন যুক্তি দেন যে, এই শব্দটির ইসলাম-পূর্ব কোন উৎস নেই এবং এটি একটি কুরআনি উদ্ভাবন বলে মনে করা হয়। [২১] তিনি আরও যুক্তি দেন যে, "ডান হাত অধিকার করার" অর্থ হল আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতিতে সম্মানের সাথে রাখা। [২১] এছাড়া কুরআনের অন্যান্য আয়াতেও দেখা যায় যে, জান্নাতে প্রবেশকারীদের "ডান হাতপন্থী" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। [২১] কুরআনের সকল মুফাসসির বা ব্যাখাকার "মা মালাকাত আইমানুকুমের" অর্থ বা ব্যাখ্যা দাসী বর্ণনা করেছেন। [২২]

কুরআনের আয়াত ৪:২৫ : "তোমাদের যারা স্বাধীন নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন তোমাদের ডান হাতের অধিকারী মুমিন দাসীদের বিবাহ করে। এটা তাদের জন্য, যারা পাপ (ব্যভিচার) করতে ভয় পায়।" এই আয়াতের ব্যাখায় কেউ বলেন যে, কুরআন বিবাহের বাইরে ডান হাতের অধিকারীর সাথে (দাসী) যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করেছে। যদি বিবাহ বহির্ভূতভাবে দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক অনুমোদিত (নিষিদ্ধ নয়) হত, তাহলে কুরআন এই কাজটিকে 'পাপ' হিসেবে উল্লেখ করত না। ইসলামি আইনবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, দাসীকে বিবাহ করার অর্থ হল, তার মালিকানা অর্জন করা। [২৩]

কুরআন সংযমকে (পরহেজগারিতা) [২৪] উৎসাহিত করে এবং বিবাহকে উত্তম বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে বলে। [১০] এছাড়া কুরআন দাস-দাসীদের পরিবারের অংশ হিসেবে গণ্য করেছে; যদিও তাদের সামাজিক অবস্থান স্বাধীন পরিবারের সদস্যদের তুলনায় নিম্নতর বলে প্রতীয়মান হয়। [২৫] আয়াত ৪:৩ পরবর্তীকালে একটি নিয়মের ভিত্তি তৈরি করে যে, উপপত্নীকে তার মালিকের সাথে বিবাহের আগে মুক্ত করতে হবে। [২৬] আয়াত ২৪:৩৩ দাসদের বিবাহের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। [২৭] আয়াত ৪:২৪ এর অর্থ হলো, উপপত্নীদের অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হলে মনিব তাদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন না।[২৮] মুহাম্মদকে সম্বোধন করা ৩৩:৫০ আয়াতে "ডান হাতের অধিকারী" নারীদের "যুদ্ধলব্ধ সম্পদ" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। [২৯] এই আয়াতটি বন্দী নারীদের উপপত্নী হিসেবে বিতরণের অনুমতি দেওয়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে। [২৯] কুরআনে বৃহৎ পরিসরে উপপত্নী প্রথার বিষয়ে কিছু বলা নেই; এটি ইসলামের ইতিহাসে কিছু মুসলিম চর্চা করেছিল। [৩০]

কুরআনের যে সব আয়াতে উপপত্নীত্ব সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে, সেগুলি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল এবং সেখানে যৌন সম্পর্ককে কেবল বৈধ স্ত্রীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে (২৩:৫-৬, ৭০:২৯-৩০ )। কিন্তু মদিনায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। সেখানে স্বাধীন নারীদের সাথে বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে ( ৪:২৫ ); দাসীদের বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে (২৪:৩২, ২:২২১ ) এবং সংযম ও পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে (৪:২৫, ২৪:৩০ )। [৩১]

ইসলামি গবেষক জনাথন ব্রোকপের মতে, কুরআনের এসব আয়াতে একটি কালানুক্রমিক পরিবর্তন দেখা যায়। সেখানে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে যৌন সম্পর্কের অনুমতি থাকলেও পরবর্তী নীতিতে আরো কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রিত হয়ে শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। [৩১]

মুহাম্মদ আসাদ বিশ্বাস করেন যে কুরআন উপপত্নীকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং যৌন সম্পর্ককে কেবল বিবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। তিনি কুরআনের "যাদের তোমার ডান হাত অধিকার করে" বাক্যাংশটিকে এমন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যারা বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের "ন্যায়সঙ্গতভাবে অধিকারী" হয়। [৩২]

হাদিস

[সম্পাদনা]

খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের সাথে একবিবাহের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সময় থেকে নবী মুহাম্মদের জীবনের অধিকাংশ সময় কোন উপপত্নী ছিল না। [৩৩] আলেকজান্দ্রিয়ার বাইজেন্টাইন শাসক তাকে উপহার হিসেবে দুইজন মহিলা পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি মারিয়া আল-কিবতিয়া নামে একজনকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন [] এবং কিছু সূত্র অনুসারে, সন্তান হওয়ার পর তিনি পরে তাকে মুক্ত করে দিয়ে [] তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু অন্যান্য উৎসে এর বিরোধিতা করা হয়েছে। [৩৪] রায়হানার ব্যাপারে কিছু সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তার উপপত্নী ছিল এবং অন্য সূত্র বলে যে, নবী মুহাম্মদ তাকে মুক্ত করে বিয়ে করেছিলেন। [৩৪] [৩৫] আবু 'উবাইদাহ মুহাম্মদ সম্পর্কে বলেন: "তাঁর চারজন উপপত্নী ছিলেন: মারিয়া, যিনি তার পুত্র ইব্রাহিমের মা ছিলেন; রায়হানাহ, যিনি দাসী ছিলেন এবং যুদ্ধবন্দী হিসেবে তাকে পাওয়া গিয়েছিল; জামিলা, যিনি যুদ্ধবন্দি হিসেবে এসেছিলেন এবং অপর একজন দাসী, যা তাঁকে জয়নব বিনতে জাহশ উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। [৩৬] [৩৭]

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো দাসীকে (উপপত্নী) শিক্ষিত করে; তাকে মুক্ত করে এবং তারপর তাকে স্ত্রী হিসেবে বিবাহ করে, আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। [৩৮] [৩৯] অন্য একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যা দাসী মায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে বিশ্বাস করা হয় মুহাম্মদ বলেন, যে ব্যক্তি মা ও তার সন্তানকে আলাদা করে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তার প্রিয়জনদের থেকে আলাদা করে দেবেন। [৪০] [৪১]

উপপত্নীদের প্রতি উচ্চ সম্মানের একটি উৎস ছিল এই দাবিটি যে, মুহাম্মদের গোত্র উপপত্নী হাজেরার বংশধর; অন্যদিকে ইহুদিরা ছিল স্ত্রী সারার বংশধর। [৪২] একটি হাদিসে মুহাম্মদ ঘোষণা করেছেন যে তার উপপত্নীর পুত্র নবী হতে পারত যদি সে শৈশবে মারা না যেতো। তবে এই হাদিসটির সনদগত নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।[৪৩] সুন্নি ইমামরা হাদিসটির বিরোধিতা করেন এবং তারা বিশ্বাস করে যে, নবী মুহাম্মদের পরে আর কোনো নবী আসতে পারবেন না। তবুও হাদিসটি উপপত্নীদের সন্তানদের প্রতি প্রদত্ত উচ্চ সম্মানের প্রতি ইঙ্গিত করে।[৪৩] ইসলামি ঐতিহ্যে নবি ইব্রাহিম ও নবি মুহাম্মদের উপপত্নীদের তাদের স্ত্রীদের মত "মুমিনদের মা" হিসেবে সম্মানিত করা হয়।[৪৪]

যুদ্ধের পর সাহাবারা মহিলা বন্দীদের সাথে সহবাস করেছিলেন বলে জানা যায়। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, বনু মুস্তালিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের পর সাহাবারা নারী বন্দীদের উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করেন এবং নবী মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাদের সাথে সহবাস করা কি বৈধ?[৪৫] বিশ্বাস করা হয় যে, নবি মুহাম্মদ ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন। এরপর মুহাম্মদ বন্দীদের একজন জুওয়াইরিয়া বিনতে আল-হারিসকে মুক্ত করে বিয়ে করেন এবং এর ফলে অন্যান্য সকল বন্দী বিবাহের মাধ্যমে মুহাম্মদের সাথে সম্পর্কিত হয়ে ওঠেন।[৪৬] ফলস্বরূপ সাহাবারাও তাদের বন্দীদের মুক্ত করে দেন।[৪৬] হুনাইনের যুদ্ধে বন্দী হাওয়াজিন নারী বন্দীদের সাথেও সাহাবারা একইভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন বলে জানা যায়। আহমদ ইবনে হাম্বলের মতে এই মহিলারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।[৪৭]

প্রাচীন ইসলামি আইনশাস্ত্র

[সম্পাদনা]
গুস্তাভ রিখটার (১৮২৩-১৮৮৪) কর্তৃক অঙ্কিত একজন "কারিয়ে " বা উসমানীয় উপপত্নী

প্রাচীন ইসলামী আইন উপপত্নী ও দাসত্বের সমস্যাবলী সমাধান করার চেষ্টা করেছিল। এর প্রধান উৎস ছিল কুরআন, মুহাম্মদের সুন্নাহ, ইজমাকিয়াস। প্রাচীন আইনবিদরা বাইজেন্টাইনসাসানীয়দের অনুশীলন দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যাদের মুসলিমরা সম্প্রতি জয় করেছিল। এর অর্থ হল, তৎকালীন সামাজিক প্রচলন দ্বারা ইসলামি ফিকহের কিছু আইন প্রভাবিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। [৪৮]

একজন পুরুষ নিজের সামর্থ্যানুযায়ী যতজন ইচ্ছা উপপত্নী রাখতে পারত এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারত। [৪৯] পুরুষের উপপত্নীর উপর মৌলিক কর্তব্য আদায় করা জরুরি ছিল এবং তার সাথে মানবিক আচরণ করা উচিত ছিল। [৪৯] যদি উপপত্নীর পিতা কর্তৃক স্বীকৃত সন্তান থাকে, তাহলে সে উম্মুল ওয়ালাদ হয়ে যেত। উপপত্নীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী সকল সন্তান অধিকার ও মর্যাদায় বিবাহ থেকে প্রাপ্ত সন্তানদের সমান হিসেবে বিবেচনা করা হত।

আধুনিক ইসলামী পণ্ডিতরা উপপত্নীপ্রথাকে এখন আর জায়েজ বলে মনে করেন না, যেমনটি নীচের অংশে আলোচনা করা হয়েছে।

অনুমতি ও উপপত্নীদের সংখ্যা

[সম্পাদনা]

মুসলিম পণ্ডিতরা এ বিষয়ে বিতর্ক করেন যে, উপপত্নী রাখা জায়েজ কিনা এবং যদি থাকে, তাহলে কতজন। প্রাক-আধুনিক আলিমদের অধিকাংশই উপপত্নীর প্রথার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন। তবে কিছু পণ্ডিত ভিন্নমত পোষণ করেছেন। দ্বাদশ শতাব্দীর শাফিঈ পণ্ডিত ফখর উদ্দীন আল রাজি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কুরআন কেবল স্ত্রীর সাথেই যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি দেয়। [৫০] কারামাতিয়া সম্প্রদায় ইসলামের পরিপন্থী বলে উপপত্নী প্রথা প্রত্যাখ্যান করেছিল। [৫১] যায়দীরা উপপত্নীকে অপ্রীতিকর মনে করতেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করতেন না। [৫২] কিছু আলিম দাবি করেছিলেন যে, খারিজিরা উপপত্নী প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কিন্তু এই দাবিটি বিতর্কিত। [৫৩] অনেক মুতাজিলা উপপত্নী প্রথাকে হারাম মনে করতেন। [৫৪] [৫৫]

অধিকাংশ ইসলামি পণ্ডিত একজন পুরুষের কতজন উপপত্নী থাকতে পারে, তার কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি। তবে স্মিথের মতে, তারাও এই অনুশীলনকে উৎসাহিত করেনি। [৫৬] পরবর্তীকালে কিছু ইসলামী পণ্ডিত বিশেষ করে উসমানীয় আমলে প্রচলিত বৃহৎ হারেমকে অনুমোদন করেননি এবং এটিকে তারা মানব মর্যাদার পরিপন্থী ও কুরআনের আয়াত ৭:২৯ লঙ্ঘনকারী বলে মনে করেছিলেন। [৫৭] যদিও মুহাম্মদ ও অনেক সাহাবার এক বা দুইজন উপপত্নী ছিল, তবে প্রাথমিক মুসলিম বিজয়ের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বৃহৎ পরিসরে উপপত্নী প্রথা পালন করা হত না। [৫৮]

দ্বিতীয় উমর যখন খলিফা হন, তখন বুঝতে পারেন যে তাঁর উপপত্নীদের সাথে সময় কাটানোর আর সময় থাকবে না এবং তাই তিনি তাঁর কিছু উপপত্নীকে মুক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠান। [৫৯] অন্যদিকে হাসানের তিনশত উপপত্নী ছিল বলে জানা যায়। [৬০]

কিছু পণ্ডিতের মতে, কেবল স্বাধীন পুরুষদেরই নয়, এমনকি দাসদেরও উপপত্নী থাকতে পারত। [৬১] নারীদের পুরুষ উপপতি (দাস) গ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। [৬২]

কে উপপত্নী হতে পারতেন?

[সম্পাদনা]

ইসলামি আইনে উপপত্নীরা ছিল দাস। কারণ একজন দাসী উপপত্নীই ছিলেন এমন একমাত্র নারী, যার সাথে একজন পুরুষ বিবাহের বাইরে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত এবং তা যিনা হিসেবে বিবেচিত হতো না। দাস অর্জনের একমাত্র আইনি উপায় ছিল ক্রয়, যুদ্ধে বন্দী, উপহার হিসেবে গ্রহণ অথবা দাসত্বের মধ্যে জন্ম গ্রহণ করা। [২৫] এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ উৎস ছিল ক্রয়; যদিও ইসলামের প্রাথমিক যুগে কর হিসেবে দাস গ্রহণ করা ছিল আরেকটি প্রধান উৎস। [৬৩]

তবে সব দাসী উপপত্নী হতে পারত না। বেশ কয়েকটি শ্রেণীর নারী দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ ছিল:

  • যদি কোনো দাসীর দাসত্বের অবস্থান সন্দেহজনক হয়, কিছু ফকিহ তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে নিষিদ্ধ করেছেন। ১০০০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ অনেক নারী সেই সময় সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দাসী হয়ে উঠেছিলেন। [৬৪] [৬৫]
  • যদি কোনো দাসী কিস্তিতে মুক্তি কেনার প্রক্রিয়া (মুকাতাবা) শুরু করত, তাহলে মালিক তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত না। [][৬০]
  • একজন মালিক এমন একজন দাসীর সাথেও যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন, যিনি অধিগ্রহণের আগে বিবাহিত ছিলেন। কারণ ইসলামী রাষ্ট্রে প্রবেশের কারণে তাদের বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। কুরআন ৪:২৪ দ্বারা এটি অনুমোদিত ছিল। [২৮]
  • একজন পুরুষ একসঙ্গে দুই বোনকে স্ত্রী বা উপপত্নী হিসেবে রাখতে পারত না। তাই নবী মুহাম্মাদ যখন দুটি বোন উপহার হিসেবে পেলেন, তিনি একজনকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন; অন্যজনকে নয়।[৬৬]
  • শুধুমাত্র মুসলিম, ইহুদি বা খ্রিস্টান দাসীরা উপপত্নী হতে পারত; মুশরিক বা জরথুস্ট্রীয় দাসীদের সাথে যৌন মিলন অনুমোদিত ছিল না। [৬৭] অনেক পণ্ডিত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আগে প্রয়োজনে জোর করে হলেও একজন মুশরিক দাসকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। [৪৭] তবে খলিফা উমর যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ২:২৫৬ আয়াতের ভিত্তিতে একজন দাসীকে জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা যাবে না। [৬৮] ধর্মান্তর কী তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ ছিল। সাধারণত শাহাদা উচ্চারণই যথেষ্ট ছিল না; বরং ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য তাকে ওজু করতে হতো এবং নামাজও পড়তে হতো। [৬৭] ইবনে কাইয়িম যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মুশরিক নারীর সাথে যৌন সম্পর্কের জন্য ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া আবশ্যক নয়। [৪৭]
  • একজন পুরুষ তার স্ত্রীর দাসীকে উপপত্নী হিসেবে নিতে পারত না। [৬৯][৭০] তেমনই কেউ তার পিতার উপপত্নীকেও উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করতে পারত না। [৬৯]

অধিকার

[সম্পাদনা]

ইসলামী আইনে একজন স্বাধীন স্ত্রী বা নারীর তুলনায় উপপত্নীদের অধিকার সীমিত ছিল। ব্রাউনের মতে, এই অধিকারগুলি ইসলামী আইনে শিশুদের অধিকারের সাথে তুলনীয় ছিল। [৭১] পুরুষের উপর তার উপপত্নীর মৌলিক কর্তব্যগুলো পালন করা জরুরি ছিল এবং তার সাথে মানবিক আচরণ করা উচিত ছিল। [৪৯] তার মৌলিক ভরণপোষণের অধিকার ছিল, [৭২] যার মধ্যে খাদ্য ও আশ্রয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার শারীরিক সততা ও শারীরিক নির্যাতন থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার ছিল। [৭১] তার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার অধিকার ছিল এবং সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে তার কিছু সীমিত অধিকার ছিল। [৭১]

দাসী মায়েদের তাদের সন্তানদের থেকে আলাদা না থাকার অধিকার ছিল। শিশুটির বয়স ছয় বছর না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল। হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী, পরিবারের অন্যান্য স্তরের সদস্যদের (যেমন চাচা ও খালা) আলাদা করাও নিষিদ্ধ ছিল, যেখানে হানাফীরা এটিকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করতেন। [৭৩]

এছাড়া সন্তান প্রসবকারী একজন উপপত্নীর অধিকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল (উম্মুল ওয়ালাদ নিবন্ধটি দেখুন)।

যৌন সম্পর্ক

[সম্পাদনা]

একজন উপপত্নীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তার সাথে মনিবের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষমতা। [৪৯] একজন পুরুষ তাৎক্ষণিকভাবে একজন উপপত্নীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত না। তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আগে তাকে একটি মাসিক চক্র ( যা হায়েজ নামে পরিচিত) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। [৭৪] এর একটি কারণ ছিল উপপত্নীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের পিতৃত্ব সম্পর্কে সন্দেহ এড়ানো। আর যদি অধিগ্রহণের সময় উপপত্নী গর্ভবতী থাকতেন, তাহলে পুরুষকে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার আগে উপপত্নীর সন্তান প্রসব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। [৭৪]

একজন পুরুষকে গর্ভনিরোধের উদ্দেশ্যে উপপত্নীর সাথে সহবাসের সময় আযল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের জন্য স্ত্রীর অনুমতি নিতে হতো; কিন্তু উপপত্নীর সাথে সহবাসের জন্য তার উপপত্নীর অনুমতির প্রয়োজন হতো না।[৭৫]

সামজে উপপত্নীদের পতিতাবৃত্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।[১০] তবে উপপত্নী কেনা-বেচার মাধ্যমে বাহ্যত এক রকমের পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ ছিল না। যদি কোনো উপপত্নী ব্যভিচার করত, তাহলে তার শাস্তি ছিল একজন স্বাধীন নারীর শাস্তির অর্ধেক। [২৪]

আধুনিক পণ্ডিতরা যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপপত্নীর সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ কি না তা নিয়ে বিতর্ক করেছেন। নবী মুহাম্মদের একটি হাসান-শ্রেণীভুক্ত হাদিসে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে উপপত্নীর সম্মতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সালামাহ ইবন আল-মুহাব্বিক থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। তখন এই বিষয়টি নবীর নিকট উপস্থাপন করা হলো। তা শুনে নবী বললেন, "যদি সে তা স্বেচ্ছায় করে থাকে, তাহলে সে (দাসী) তার মালিকানায় থাকবে এবং তাকে দাসীর মূল্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে। আর যদি সে জোরপূর্বক করে থাকে, তাহলে সে (দাসী) মুক্ত হয়ে যাবে এবং তাকে দাসীর মূল্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে।"

হাদিসের মান: হাসান

- মুসনাদ আহমদ ২০০৬০[৭৬]

তবে এই রায়টি বিশেষভাবে মালিকানাধীন নয় এমন মহিলা দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে, নাকি সাধারণভাবে মহিলা দাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা নিশ্চিত নয়। তামারা সন লিখেছেন যে, উপপত্নীদের যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা যাবে না। [৭৭] রাব্ব ইন্তিসার আরও যুক্তি দেন যে, উপপত্নীর সাথে যৌন সম্পর্ক উভয় পক্ষের সম্মতির সাপেক্ষে হতে হবে। [৭৮]

কেসিয়া আলীর মতে, কুরআনের দাসপ্রথা সম্পর্কিত আয়াতগুলি ফিকহবিদদের লেখা আইনশাস্ত্রীয় গ্রন্থের তুলনায় ভাষা ও মূল চিন্তাধারার দিক থেকে অনেকটা আলাদা। তিনি বলেন, কুরআনের কোথাও বলা হয়নি যে, কেবলমাত্র একজন নারী দাসী বা "মালিক আল-ইয়ামিন" (মালিকের অধীনস্থ দাসী) হওয়ার কারণে তার মালিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার পেয়ে যায়। অর্থাৎ কুরআনের ভিত্তিতে এটি বলা যায় না যে, দাসীর সম্মতি ছাড়াই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বৈধ। কেসিয়া আলি মনে করেন, এটি একটি যৌক্তিক ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে তিনি এটাও বলেন যে, প্রাচীন ফকিহরা এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিলেন কি না তাও অত্যন্ত সন্দেহজনক। কারণ তিনি ৮ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে লেখা কোনো মালিকি, হানাফি, শাফেয়ি বা হাম্বলি ফিকহ গ্রন্থে এমন কোনো বক্তব্য খুঁজে পাননি যেখানে বলা হয়েছে যে, একজন মালিক তার নারী দাসীর সম্মতি নেওয়া ছাড়া তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। অর্থাৎ ঐতিহাসিকভাবে ফিকহবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে।[৭৯] তবে ইসলামি আইন ও হাদিস অনুসারে বিবাহের আগে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন; নারীর অবস্থা যাই হোক না কেন।[৮০]

অন্যান্য ইসলামি পণ্ডিতরা উল্লেখ করেছেন যে, যৌন সম্মতির আধুনিক ধারণাটি কেবল ১৯৭০-এর দশকে এসেছিল এবং তাই এটিকে প্রাচীন ইসলামি আইনের বিপরীতে উপস্থাপন করার কোনো অর্থ হয় না।[৮১] প্রাক-আধুনিক ফকিহরা বরং যৌন অসদাচরণের বিচারের জন্য অপকার নীতি প্রয়োগ করেছিলেন, যার মধ্যে একজন প্রভু ও উপপত্নীর মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৮২] যৌন নির্যাতন হিসেবে সংজ্ঞায়িত হলে উপপত্নীরা বিচারকদের কাছে অভিযোগ করতে পারতেন।[৬১] পঞ্চদশ শতাব্দীর পণ্ডিত আল-বাহুসির মতে, যৌন মিলনের সময় যদি কোনও উপপত্নী আহত হত, তবে তার মালিককে তাকে মুক্ত করে দিতে হবে।[৬১]

উম্মুল ওয়ালাদ

[সম্পাদনা]

উম্মল ওয়ালাদ (সন্তানের মা) হলো একজন মহিলাকে দেওয়া একটি উপাধি, যিনি নিজের মনিবের স্বীকৃত সন্তানের জন্ম দেন। [৮৩] [৮৪] ইসলামের প্রাথমিক যুগে খলিফা উমর সন্তান প্রসবকারী উপপত্নীর জন্য বেশ কয়েকটি অধিকার ঘোষণা করেছিলেন: [৮৫]

  1. তাকে তার সন্তান থেকে আলাদা করা যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না।
  2. তার মনিবের মৃত্যুতে সে একজন স্বাধীন নারী হিসেবে বিবেচিত হবে।
  3. সন্তানটি স্বাধীন এবং আইনত সে মালিকের স্ত্রীর সন্তানদের সমান।

ইসলামি আইন রোমান এবং গ্রিক আইনের তুলনায় দাসদের বেশি অধিকার দিয়েছিল। রোমান ও গ্রিক আইনে দাসের সন্তানকেও দাস হিসেবে বিবেচনা করা হত। [৮৬] ইসলামি আইনে যদি পিতা বা মাতার কেউ একজন স্বাধীন হন, তাহলে সন্তানকে স্বাধীন বলে গণ্য করা হবে। [৮৬] এই নিয়মটি সাসানীয় ইরানে দাসদের অধিকারের অনুরূপ ছিল। [৮৫] নবী মুহাম্মদের মারিয়া কিবতিয়া থেকে ইবরাহীম নামে একটি সন্তান হয়েছিল বলে বর্ণিত আছে (কিছু সূত্রে তাকে তাঁর উপপত্নী বলা হয়েছে; আবার অন্য সূত্রে তাঁকে স্ত্রী বলা হয়েছে)। তবে উম্মুল ওয়ালাদ সম্পর্কিত নিয়মাবলি তাঁর মৃত্যুর পর স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছিল। [১০] একজন পুরুষের উপপত্নীর গর্ভজাত সন্তানের মর্যাদা তার স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানের সমান ছিল এবং বংশপরিচয় নির্ধারিত হতো পিতার মাধ্যমে; মাতার মাধ্যমে নয়।[৬০]

এসব নিয়ম মুসলিম বিশ্বে দাসপ্রথার প্রকৃতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং দাসী মাতার গর্ভজাত সন্তানেরা পরিবার ও সমাজে নেতৃত্বের স্থানে অধিষ্ঠিত হত। একটি অনুমান অনুযায়ী আব্বাসীয় খিলাফতের ৩৭ জন শাসকের মধ্যে ৩৪ জনই দাস মাতার গর্ভজাত ছিল। মধ্য এশিয়া থেকে আফ্রিকার জাঞ্জিবার পর্যন্ত বহু খ্যাতনামা মধ্যযুগীয় মুসলিম শাসক দাস মাতার গর্ভজাত ছিলেন।[৮৫]

অনেক ইসলামী আইনবিদ মতামত দিয়েছেন যে, গর্ভপাত হলেও উপপত্নী উম্মে ওয়ালাদের মর্যাদা লাভ করে।[৮৭] উপপত্নীর সন্তানের পিতা কে তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের বিষয়টি নিয়েও ইসলামি আইনজ্ঞরা লড়াই করেছিলেন। এর প্রথম বিকল্প ছিল মালিকের পিতৃত্ব স্বীকার করা এবং এটি ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।[৮৮] অনেক আব্বাসীয় খলিফাও এটি করেছিলেন।[৮৯] যদি মালিক তার উপপত্নীর সাথে সহবাস করার কথা অস্বীকার করেন, তাহলে তাকে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরক্ষার আশ্রয় নিতে হতো। তৃতীয় বিকল্পটি হল, যখন মালিক কোনোভাবেই স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি। এই তৃতীয় ক্ষেত্রে মালিকি ফকীহগণ উপপত্নীকে উম্মুল ওয়ালাদের মর্যাদা দিয়েছেন।[৮৯] অধিকাংশ আইনজ্ঞ উপপত্নীর সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করার অনুমতি দেননি; যদিও হানাফীরা এতে দ্বিমত পোষণ করেছেন।[৯০]

নির্জনতা ও পোশাকবিধি

[সম্পাদনা]
গুস্তাভ লিওনার্দ দ্য ইয়াংহে কর্তৃক অঙ্কিত একজন তুর্কি হেরেম নারী; আনু. ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ

উপপত্নীদের নির্জনতা এবং প্রকাশ্য পোশাকবিধি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত ছিল।

আবু হানিফাআল-শায়বানী বলেছেন যে, একজন উপপত্নীর সতীত্ব রক্ষা করা উচিত এবং তাকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করা উচিত। [] আল-মাওয়ার্দি বলেন যে, উপপত্নীকে আলাদাভাবে রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এটি প্রথাগত অনুশীলন অনুসারে করতে হবে। [৯১]

একজন উপপত্নীর দাসত্বের কারণে তার আওরা কী হবে, তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, উমর নারী দাসীদের স্বাধীন নারীদের মতো চুল ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছিলেন।[৯২] কিছু পণ্ডিত এই বর্ণনার সত্যতা নিয়ে বিতর্ক করেছেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] পরবর্তীকালে ইসলামি আইনবিদরা বলেছেন যে, ফিতনা (প্রলোভন) সৃষ্টি না করার জন্য দাসীদের নিজেদের শরীর ঢেকে রাখা বাঞ্ছনীয়।[৯২] ইবনে আবিদিনের মতে, বেশিরভাগ হানাফী পণ্ডিত দাসীর বুক, স্তন বা পিঠ উন্মুক্ত রাখার অনুমতি দিতেন না।[৯২] পার্নিলা মিরনের মতে, হানাফীরা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে অন্য পুরুষদের দাসীর হাত, স্তন এবং পা দেখতে এবং স্পর্শ করার অনুমতি দিতেন।[৯৩] ইবনে কাইয়িম যুক্তি দিয়েছিলেন যে, একজন উপপত্নীর পোশাকের ধরণ অন্যান্য দাসীর পোশাকের ধরণ থেকে আলাদা হওয়া উচিত।[]

বিবাহ

[সম্পাদনা]

কুরআন একজন পুরুষের নিজের উপপত্নীকে দাসী হিসেবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পরিবর্তে বিবাহ করতে পছন্দ করে। [১০] স্বাধীন পুরুষ এবং উপপত্নীদের মধ্যে বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়। [২৫]

যদি কোন পুরুষ নিজের উপপত্নীকে বিয়ে করতে চায়, তাহলে তাকে বিয়ের আগে মুক্ত করে দিতে হবে। [২৬] এটি ছিল উপপত্নীদের মুক্তির একটি উপায়। [২৬] একজন উপপত্নীকে তার মালিক অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ দিতে পারতেন এবং এক্ষেত্রে তার মালিক তার সাথে যৌন সম্পর্কের অধিকার হারাতেন, [৯৪] যদিও তিনি নিজের মালিকানা বজায় রাখতে সক্ষম হতেন। [২৬] এটি প্রায়শ ঘটত যে, মালিক নিজের দাসীকে অন্য একজন পুরুষ দাসের সাথে বিয়ে দিতেন এবং এতে মনিবের মালিকানা বজায় থাকত। [৯৫] উপপত্নীকে বিয়ে দেওয়ার সময় মালিককে তার সম্মতি বিবেচনা করার প্রয়োজন ছিল না।

জাভেদ আহমেদ গামিদির মতে, যখন একজন দাসী বা উপপত্নীকে বিবাহ করা হয়, তখন তাকে অবশ্যই তার মহর দিতে হবে। কারণ এটি তাকে ধীরে ধীরে স্বাধীন নারীদের সমান মর্যাদা দিতে পারে।[৯৬]

অন্যান্য

[সম্পাদনা]

স্ত্রী ও উপপত্নী উভয়েই একজন পুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারী সূত্রে সম্পত্তি পেতে পারতেন। তবে স্ত্রী নির্দিষ্টভাবে উত্তরাধিকার পাওয়ার নিশ্চয়তা পেতেন এবং উপপত্নীর উত্তরাধিকার সম্পূর্ণভাবে পুরুষের উইল বা হিবার ওপর নির্ভর করত। ১৯শ শতকের কায়রোর একটি আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, উপপত্নীরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রায়ই স্ত্রীদের চেয়ে বেশি সম্পত্তি পেতেন। [৯৭]

আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

[সম্পাদনা]

বর্তমান পৃথিবীতে অধিকাংশ মুসলিম উপপত্নী প্রথাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না। [] স্মিথের মতে, "অধিকাংশ মুমিন (আস্তিক) অবশেষে ধর্মীয়ভাবে বৈধ হিসেবে এর বিলুপ্তি মেনে নিয়েছেন এবং দাসপ্রথার বিরুদ্ধে একটি ইসলামি ঐক্যমত্য প্রাধান্য পায়। যদিও কিছু ইসলামি লেখক এটি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রেখেছিল।[৯৮] []

ইসলামি চিন্তাবিদরা উপপত্নী ও দাসত্বের বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। একটি যুক্তি হল যে, নবী মুহাম্মাদ সাময়িকভাবে দাসপ্রথার অনুমতি দিয়েছিলেন। কারণ এটি একটি প্রধান আর্থ-সামাজিক শক্তি ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা বিলুপ্ত করা সম্ভব ছিল না।[৯৯] খ্রিস্টান বিলোপবাদীরা যখন নিজেদের সমাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, যিশু কেন দাসপ্রথার নিন্দা করেননি তখন তারাও একই রকম যুক্তি দিয়েছিলেন।[১০০]

আরেকটি ভিন্ন যুক্তি হল, দাসপ্রথার বিলুপ্তি কুরআনে অন্তর্নিহিত রয়েছে। কিন্তু পূর্ববর্তী প্রজন্মের মুসলিমরা সেটি দেখতে পাননি; কারণ তারা নিজেদের সময়ের সামাজিক পরিস্থিতির দ্বারা অন্ধ হয়ে পড়েছিলেন।[১০১] আরেকটি যুক্তি হল, বর্তমান দাসপ্রথা নিষিদ্ধ নয়; তবে অতীতে যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কারণে এটি অনুমোদিত ছিল তা আর বিদ্যমান নেই।[১০১] উদাহরণস্বরূপ, কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে, মুসলিম দেশগুলিকে তাদের স্বাক্ষরিত দাসপ্রথা বিরোধী চুক্তিগুলি মেনে চলতে হবে। তাই বর্তমান দাসপ্রথা প্রচলনের মত পরিস্থিতি আর বিদ্যমান নেই।

বিলুপ্তি

[সম্পাদনা]

মুসলিম বিশ্বে দাসপ্রথার বিলুপ্তি মূলত ১৯শ ও ২০শ শতাব্দীতে হয়েছিল। যদিও আফ্রিকার মুসলমানদের মধ্যে দাসপ্রথার কিছু আধুনিক পদ্ধতি প্রচলিত ছিল।[১০২] ১৮৪১ সালে তিউনিসিয়ার শাসক স্বাধীনতার জন্য অনুরোধকারী সকল দাসকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ জারি করে দাসত্ব বিলুপ্ত করেন। তিনি নিজে একজন দাসী উপপত্নীর পুত্র ছিলেন। এই ফরমানটি তৎকালীন হানাফীমালিকী মুফতিদের দ্বারা সমর্থিত ছিল।[১০৩]

১৮৪৮ সালে নাজাফের শিয়া উলামারা ইরানি শাহকে দাসপ্রথা অবৈধ ঘোষণা করার অনুমতি দেন।[১০৩] ভারতীয় উপমহাদেশে দাসপ্রথা বিরোধী প্রাথমিক দৃষ্টিভঙ্গি সৈয়দ আহমদ খানের পক্ষ থেকে এসেছিল। তবে অনেক প্রাথমিক ইসলামি দাসপ্রথা বিলোপকারী আন্দোলন রক্ষণশীল পণ্ডিতদের বিরোধিতার স্বীকার হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ মিশরীয় ধর্মগুরু মুহাম্মদ আবদুহরশিদ রিদা তাদের সমসাময়িক বেশিরভাগ আইনবিদদের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন।[১০৪] ১৮ শতকের শেষের দিকে ইংল্যান্ডে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য পশ্চিমা দেশে শুরু হওয়া দাসপ্রথা বিলোপ আন্দোলন মুসলিম দেশগুলিতে দাসপ্রথা সম্পর্কিত মতবাদ ও বাস্তব উভয় ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করেছিল।[১০৫]

উইলিয়াম ক্লারেন্স-স্মিথ যুক্তি দিয়েছেন যে, "ইসলামি দাসত্ব বিলোপবাদ" আদিবাসী ও ইসলামি ঐতিহ্যের মধ্যে নিহিত ছিল। এহুদ আর. টলেডানো তার এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, মুসলিম বিশ্বে কোনো আদিবাসী বিলোপবাদী আখ্যান ছিল না।[১০৪] এবং সেই বিলোপ মূলত ইউরোপীয় চাপের কারণেই হয়েছিল।[১০৬] বার্নার্ড ফ্রিমন যুক্তি দেন যে, ইউরোপীয় চাপ ও ইসলামি পণ্ডিতদের প্রচেষ্টা উভয়ই দাসপ্রথা রোধ করেছিল।[১০৩]

কিছু মুসলিম রাষ্ট্রে গোলামি দাসত্বের প্রচলন এবং এর ফলে উপপত্নীত্বের অস্তিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীতে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বেশ কয়েকটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করে; যেমন: অস্থায়ী দাসত্ব কমিশন (১৯২৪- ১৯২৬), দাসত্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি (১৯৩২) এবং দাসত্ব বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের উপদেষ্টা কমিটি (১৯৩৪- ১৯৩৯)। এসব কমিশন দাসত্ব প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক তদন্ত পরিচালনা করে এবং বিশ্বব্যাপী দাসত্ব নির্মূল করার জন্য আন্তর্জাতিক চুক্তি তৈরি করে।[১০৭] ১৯৪৮ সালের দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের আওতায় বিশ্বব্যাপী দাসত্বকে অবশেষে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এর পর দাসপ্রথা সংক্রান্ত অ্যাড হক কমিটি (১৯৫০-১৯৫১) গঠিত হয়।[১০৮] এই সময়ে আরব বিশ্বই ছিল বিশ্বের একমাত্র অঞ্চল যেখানে তখনও শোষণমূলক দাসত্ব বৈধ ছিল। ১৯৬২-১৯৬৩ সালে সৌদি আরব, ইয়েমেন ও দুবাইতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়। এরপর ১৯৭০ সালে ওমানে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়।[১০৯]

১৯৩০-এর দশকে ইয়েমেনের হাজরামাউত সম্পর্কে দাসত্ব সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের উপদেষ্টা কমিটি (এসিই) একটি প্রতিবেদনে দাসত্বের উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর থেকে পাচার হওয়া একদল চীনা মেয়ের (মুই ৎসাই) বর্ণনা উল্লেখ করে।[১১০] ইয়েমেনের রাজা ও ইমাম আহমদ বিন ইয়াহিয়ার (শাসনকাল ১৯৪৮-১৯৬২) ১০০ জন দাসী মহিলার একটি হারেম ছিল বলে জানা যায়।[১১১] ওমানের সুলতান সাইদ বিন তাইমুরের (শাসনকাল ১৯৩২-১৯৭০) প্রায় ৫০০ জন দাস ছিল বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আনুমানিক ১৫০ জন নারী ছিল, যাদের সালালাহতে তার প্রাসাদে রাখা হয়েছিল।[১১২] সৌদি আরবের শাসক আব্দুল আজিজ ইবনে সৌদের (শাসনকাল ১৯৩২-১৯৫৩) একটি হারেমে বাইশ জন মহিলা ছিলেন বলে জানা যায়, যাদের মধ্যে অনেকেই উপপত্নী ছিলেন।[১১৩] উদাহরণস্বরূপ, বারাকা আল ইয়ামানিয়াহ (মৃত্যু: ২২ আগস্ট, ২০১৮) ছিলেন সৌদি আরবের বাদশাহ আব্দুল আজিজের উপপত্নী এবং ২০১৫ সালে সৌদি আরবের যুবরাজ মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের (জন্ম: ১৯৪৫) মা।[১১৪][১১৫][১১৬]

সমসাময়িক বক্তৃতা

[সম্পাদনা]

প্রাচীন উপপত্নীত্ব নিয়ে মুসলিমঅমুসলিমদের মধ্যে নানা বিতর্ক রয়েছে যা প্রায়শই পক্ষপাতমূলক সমর্থন ও সমালোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করা হয়।

ইসলামি আইনের বিশেষজ্ঞ জোনাথন ব্রাউন যুক্তি দেন যে, শরিয়াতে উপপত্নীত্বের অনুমতি থাকলেও এটি সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল এবং বর্তমান যুগে এটি সম্পূর্ণভাবে রহিত করা প্রয়োজন। তার যুক্তি হলো, শরিয়া সম্পর্কের মধ্যে "ক্ষতি" নিষিদ্ধ করেছে এবং ক্ষতি কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে তা নির্ধারিত হয় সমাজের প্রচলিত রীতি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। যেহেতু আধুনিক সমাজ অসম্মতিসূচক সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে ক্ষতিকর ও অনৈতিক বলে বিবেচনা করে, তাই শরিয়া অনুসারে এখন সমস্ত অসম্মতিসূচক সম্পর্ক (উপপত্নী প্রথাসহ) নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।[১১৭] [১১৮]

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে ইতিহাসে মুসলিমরা নারী বন্দীদের "যুদ্ধলব্ধ সম্পদ" হিসেবে গ্রহণ করার জন্য ৩৩:৫০ আয়াত ব্যবহার করেছেন এবং আজও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে, এই আয়াতটি কেবল নবী মুহাম্মদের সময়েই প্রযোজ্য ছিল এবং তারপর থেকে এটি আর প্রযোজ্য হয়নি।[১১৯] তবে ইসলামের ইতিহাসে পণ্ডিতরা এই আয়াতের প্রয়োগ করেছেন। অন্য একটি যুক্তি হলো, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গনিমতের সংজ্ঞা ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতিনীতির ওপর নির্ভর করে আবর্তিত হয় এবং এটি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। যেহেতু বর্তমান যুদ্ধের ধরন ও রীতিনীতি পরিবর্তিত হয়েছে, তাই আধুনিক ইসলামি পণ্ডিতরা এই আয়াতকে এমন নতুন প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করতে পারেন যার সাথে পূর্ববর্তী পণ্ডিতদের ব্যাখ্যার ভিন্নতা থাকতে পারে।[১১৯]

কিছু আধুনিক মুসলিম যুক্তি দেন যে, ইসলাম কর্তৃক অনুমোদিত উপপত্নীর সাথে মার্কিন জাতিগত দাসত্বের কোনো মিল নেই। তাদের যুক্তি, নারী বন্দীদের সাথে যৌন সম্পর্কের অনুমতি তাদের ও তাদের সন্তানদের সমাজে একীভূত করার একটি উপায় হিসেবে প্রচলিত ছিল।[১২০] কিন্তু কেসিয়া আলি বলেন যে, এই যুক্তি বানু মুস্তালিক গোত্রের সেই নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যাদের সঙ্গে মুসলিমরা সহবাসের সময় আযলের নিয়ম প্রয়োগ করেছিল। কারণ যদি তারা গর্ভবতী হত তাহলে তাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেত।[১২০] কিছু মুসলিম তখন এই যুক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান যে, এই বিবরণটি সঠিক হতে পারে না। কারণ এটি নারী দাসীদের সাথে সহবাস করার আগে এক মাসিক অপেক্ষা করার ইসলামি আইনের পরিপন্থী। কেসিয়া আলি লিখেছেন যে, নবী মুহাম্মদের একটি হাদিস প্রকৃতপক্ষে মাসিকের আগে যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে; কিন্তু তিনি সতর্ক করেন যে, ইসলামি আইনশাস্ত্র সর্বদা নবী মুহাম্মদের বাণীর সাথে সম্পর্কিত ছিল না।[১২১] মাহমুদ আব্দুল ওয়াহাব ফায়িদ বলেন যে, উপপত্নী বা দাসী রাখার প্রথা যৌন সম্পর্ককে কেবল উপপত্নী এবং তার মালিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে, যা মুসলিম সমাজে "অনৈতিকতা" বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিস্তার রোধ করে। তিনি মনে করেন যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে একধরনের নৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হত। তবে আহমদ সিকাইঙ্গা এই ধারণার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, বাস্তবে এই নিয়মগুলো প্রায়ই অমান্য করা হতো এবং অনেক সময় উপপত্নীর সাথে সম্পর্ক সাধারণের চেয়ে বেশি ছিল এবং এটি সমাজে নৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে সাহায্য করেছিল।[১২২]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি

  1. 1 2 3 Cortese 2013
  2. 1 2 Ali 2006, পৃ. 52: "the vast majority of Muslims do not consider slavery, especially slave concubinage, to be acceptable practices for the modern world"
  3. 1 2 Encyclopaedia of the Qurʾān {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) "Some authorities made blanket pronouncements against slavery, arguing that it violated the quranic ideals of equality and freedom. The great slave markets of Cairo were closed down at the end of the nineteenth century and even religious conservatives came to accept that slavery was contrary to Islamic principles of justice and equality."
  4. "What is a concubine? » Questions on Islam"
  5. 1 2 3 4 Ali 2006
  6. Freamon 2019, পৃ. 169।
  7. Brockopp 2000, পৃ. 196।
  8. Encyclopaedia of the Qurʾān {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) "Some authorities made blanket pronouncements against slavery, arguing that it violated the quranic ideals of equality and freedom. The great slave markets of Cairo were closed down at the end of the nineteenth century and even religious conservatives came to accept that slavery was contrary to Islamic principles of justice and equality."
  9. 1 2 3 4 5 Katz 2014
  10. 1 2 3 4 5 6 7 8 Brockopp 2001
  11. Brown 2019, পৃ. 70।
  12. Freamon 2019, পৃ. 68।
  13. 1 2 Robinson 2020, পৃ. 96।
  14. Freamon 2019, পৃ. 40।
  15. 1 2 3 4 5 Robinson 2020, পৃ. 97।
  16. 1 2 Lewis 1992, পৃ. 23-24।
  17. Lewis 1992, পৃ. 40।
  18. Robinson 2020, পৃ. 107।
  19. El Hamel 2013, পৃ. 20।
  20. El Hamel 2013, পৃ. 26।
  21. 1 2 3 Freamon 2019, পৃ. 129-130।
  22. "تفسير قوله تعالى أو ما ملكت أيمانكم"www.islamweb.net (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  23. "مركز الأبحاث العقائدية"مركز الأبحاث العقائدية (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  24. 1 2 Brockopp 2006, পৃ. 58।
  25. 1 2 3 Brockopp 2006, পৃ. 59।
  26. 1 2 3 4 Freamon 2019, পৃ. 131।
  27. Freamon 2019, পৃ. 126।
  28. 1 2 "Surah An-Nisa Ayat 24 (4:24 Quran) With Tafsir"My Islam (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২৫
  29. 1 2 Freamon 2019, পৃ. 142।
  30. Ali 2006, পৃ. 40।
  31. 1 2 Brockopp 2000, পৃ. 133।
  32. Asad, Muhammad (১৯৮০)। The Message of the Qur'ān। Dar Al-Andalus Limited। Surah 23:6 (Note 3), p. 519। আইএসবিএন ০৬১৪২১০৬২-৩[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  33. Clarence-Smith 2006, পৃ. 46।
  34. 1 2 Brown 2019, পৃ. 162।
  35. Esposito 2004, পৃ. 262।
  36. "স্ত্রীগণ (الأزواج المطهرات) | নবীদের কাহিনী"www.hadithbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  37. আল জাওজিয়াহ, ইবনে কাইয়িম: যাদুল মা’আদ, ১/১১৪
  38. El Hamel 2013, পৃ. 40।
  39. Brown 2019, পৃ. 72।
  40. Brown 2019, পৃ. 383।
  41. Hain 2017, পৃ. 319।
  42. Clarence-Smith 2006, পৃ. 24।
  43. 1 2 Brown 2019, পৃ. 76।
  44. Hain 2017, পৃ. 336।
  45. Ali 2006, পৃ. 48-9।
  46. 1 2 Fred DonnerThe Early Islamic ConquestPrinceton University Press। পৃ. ৬৪।
  47. 1 2 3 Yohanan Friedmann। Tolerance and Coercion in Islam: Interfaith Relations in the Muslim TraditionCambridge University Press। পৃ. ১৭৬–৮।
  48. El Hamel 2013, পৃ. 47।
  49. 1 2 3 4 Norman 2013, পৃ. 169।
  50. El Hamel 2013, পৃ. 25।
  51. Clarence-Smith 2006, পৃ. 57।
  52. Clarence-Smith 2006, পৃ. 60।
  53. Clarence-Smith 2006, পৃ. 61-2।
  54. Atrak, Hossein (২০০৭)। "Qadi 'Abdul-Jabbar Al-Mu'tazili's Moral Theory": ৫৩–৯৬। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  55. Akyol, Mustafa (৩০ আগস্ট ২০২২)। "The Liberty Divide in Islam"Law & Liberty (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০২৪
  56. Clarence-Smith 2006, পৃ. 45-46।
  57. Clarence-Smith 2006, পৃ. 89-90।
  58. Ali 2006, পৃ. 40-41: "records show that the Prophet as well as a number of Companions and Successors had a concubine or two. However, after the Arab conquests of the seventh and eighth centuries, when the wealth of the Muslim elite increased dramatically, rulers mimicked their non-Muslim Sassanian predecessors, keeping dozens if not hundreds of female slaves, of whom many were used for pleasure."
  59. Brown 2019, পৃ. 74।
  60. 1 2 3 Brown 2019, পৃ. 82।
  61. 1 2 3 Brown 2019, পৃ. 96।
  62. Ali 2010, পৃ. 165।
  63. Brown 2019, পৃ. 84।
  64. Brown 2019, পৃ. 90-91।
  65. Brown 2019, পৃ. 211।
  66. Saad 1990, পৃ. 243।
  67. 1 2 Yohanan Friedmann। Tolerance and Coercion in Islam: Interfaith Relations in the Muslim TraditionCambridge University Press। পৃ. ১০৭–৮।
  68. Brown 2019, পৃ. 136।
  69. 1 2 Saad 1990, পৃ. 244।
  70. Brunschvig 1986
  71. 1 2 3 Brown 2019, পৃ. 276।
  72. Katz 2014
  73. Brown 2019, পৃ. 95।
  74. 1 2 Saad 1990, পৃ. 245।
  75. Mona Siddiqui। The Good Muslim: Reflections on Classical Islamic Law and TheologyCambridge University Press। পৃ. ৪৭–৪৮।
  76. "Hadith on Rape: Compelled sex a type of criminal abuse"। ২৬ এপ্রিল ২০১৮।
  77. Sonn 2015, পৃ. 18: It allows the common practice of concubinage, but demands that slave women not be forced into sexual relations (24:33).
  78. Rabb Intisar। Doubt in Islamic LawCambridge University Press। পৃ. ১৫২।
  79. Ali 2017
  80. Ṣaḥīḥ al-Bukhārī 6946, Ṣaḥīḥ Muslim 1420
  81. Brown 2019, পৃ. 282।
  82. Brown 2019, পৃ. 283।
  83. Saad 1990, পৃ. 242।
  84. Brockopp 2000, পৃ. 195–196।
  85. 1 2 3 Freamon 2019, পৃ. 157-158।
  86. 1 2 Freamon 2019, পৃ. 61।
  87. Brockopp 2000, পৃ. 201।
  88. Gordon 1989, পৃ. 43।
  89. 1 2 Brockopp 2000, পৃ. 200-201।
  90. Encyclopedia of Women and Islamic Cultures: Family, Law and Politics। BRILL। পৃ. ৪৫৪।
  91. Katz 2014
  92. 1 2 3 Khaled Abou El Fadl (১ অক্টোবর ২০১৪)। Speaking in God's Name: Islamic Law, Authority and Women। Oneworld Publications। পৃ. ৫২৫–৫২৬। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮০৭৪৪৬৮১
  93. Pernilla, Myrne (২০১৯)। "Slaves for Pleasure in Arabic Sex and Slave Purchase Manuals from the Tenth to the Twelfth Centuries": ২২২–২২৩। ডিওআই:10.1163/2405836X-00402004 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  94. Ali 2010, পৃ. 67।
  95. Ali 2010, পৃ. 68: "Yet insofar as these husbands were also enslaved— which was not necessarily the case, but texts often refer to such marriages..."
  96. ৪:২৫
  97. Brown 2019, পৃ. 133।
  98. Clarence-Smith 2006, পৃ. 219-221।
  99. Ali 2006
  100. Brown 2019, পৃ. 205-6: "The same argument had been made by British and American abolitionists as far back as the late 1700s when they were asked why Jesus had not condemned slavery."
  101. 1 2 Ali 2006
  102. Ware 2014, পৃ. 37: "a dramatic revolutionary movement led by African Muslim clerics and their peasant disciples, who overthrew hereditary slaving kings in 1776, abolished the Atlantic slave trade in the Senegal River Valley, and may even have abolished the institution of slavery in the newly established clerical republic. "
  103. 1 2 3 Freamon 2019
  104. 1 2 Toledano 2013, পৃ. 122।
  105. Encyclopaedia of Islam {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  106. Toledano 2013, পৃ. 133।
  107. Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. 216
  108. The Suppression of Slavery: Memorandum Submitted by the. United Nations. Secretary-General, 1946-, United Nations. Economic and Social Council. Ad Hoc Committee on Slavery. United Nations Economic and Social Council, Ad Hoc Committee on Slavery, 1951
  109. Suzanne Miers: Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem, p. 346-47
  110. Miers, S. (2003). Slavery in the Twentieth Century: The Evolution of a Global Problem. Storbritannien: AltaMira Press. 270
  111. LIFE - 19 February 1965 - page 98
  112. Cobain, Ian, The history thieves: secrets, lies and the shaping of a modern nation, Portobello Books, London, 2016
  113. Illahi, M. (2018). Doctrine of Terror: Saudi Salafi Religion. Australien: FriesenPress. p.119-120
  114. Abdullah Al Harthi; Khaled Al Faris (২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Proud of trust reposed in me by King: Muqrin"Saudi Gazette। Jeddah and Riyadh। ২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
  115. Simon Henderson (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Who Will Be the Next King of Saudi Arabia?"The Washington Institute। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৩
  116. Riedel, Bruce (৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "With Prince Muqrin's Appointment, Saudi Succession Crisis Looms"The Daily Beast (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৩
  117. Bernard K. Freamon। "Slavery and Islam, written by Jonathan A. C. Brown"। Brill publishers {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  118. Brown 2019, পৃ. 285।
  119. 1 2 Freamon 2019, পৃ. 143-4।
  120. 1 2 Ali 2006, পৃ. 49।
  121. Ali 2006, পৃ. 50।
  122. Sikainga, Ahmad A. (১৯৯৬)। Slaves into Workers: Emancipation and Labor in Colonial Sudan। University of Texas Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৯২-৭৭৬৯৪-৪ pp. 21-2