বিষয়বস্তুতে চলুন

উত্তর আমেরিকার ফিকাহ কাউন্সিল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

উত্তর আমেরিকার ফিকাহ কাউন্সিল (মূলত ISNA ফিকাহ কমিটি নামে পরিচিত) হল মুসলিমদের একটি সংগঠন যারা উত্তর আমেরিকা মহাদেশে ইসলামী আইন ব্যাখ্যা করে। ১৯৮৬ সালে উত্তর আমেরিকার ফিকাহ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পশ্চিমে জীবনযাপনের জন্য ইসলামী আইনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার আইনি পদ্ধতি তৈরি করা এর লক্ষ্য। [১][১]

তাদের ওয়েবসাইট অনুসারে, ফিকহ পরিষদের উৎপত্তি ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মুসলিম ছাত্র সমিতির ধর্মীয় বিষয়ক কমিটি থেকে শুরু হয়। [২] ১৯৮০সালে, ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (ISNA) প্রতিষ্ঠার পর, ধর্মীয় বিষয়ক কমিটি উত্তর আমেরিকার ইসলামিক সোসাইটির ফিকহ কমিটিতে বিকশিত হয়। অবশেষে ১৯৮৬ সালে উত্তর আমেরিকার ফিকহ কাউন্সিলে রূপান্তরিত হয়।[২]

এর ২০ জন সদস্য ধর্মীয় রায় জারি করেন, বিরোধ নিষ্পত্তি করেন এবং ইসলামী বিশ্বাস সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেন। কাউন্সিলের উপ-আইনে বর্ণিত হিসাবে, এর প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে রয়েছে: " শরিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট উদ্যোগ, লেনদেন, চুক্তি, প্রকল্প বা প্রস্তাবের উপর পরামর্শ দেওয়া, যাতে উত্তর আমেরিকার মুসলিমদের কার্যক্রম শরিয়ার অনুমোদিত সীমার মধ্যে থাকে।" কাউন্সিলের মতামত বাধ্যতামূলক নয়। [৩]

ফতোয়া

[সম্পাদনা]
  • সন্ত্রাসবাদ : ২০০৫ সালের জুলাইয়ে, পরিষদ একটি ফতোয়া জারি করে বলে যে নাগরিকদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ইসলামী আইনে হারাম (নিষিদ্ধ), মুসলিমদের জন্য সন্ত্রাসবাদে জড়িত কারও সাথে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ, এবং নাগরিক জীবন রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করা সব মুসলিমের দায়িত্ব। [৪]
  • মৃত্যুদণ্ড : পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের উপর স্থগিতাদেশের জন্য একটি ফতোয়া জারি করেছে। যার কারণ হলো শরিয়া অনুসারে এই আইন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পূরণ হয় না। [৫]
  • ধর্মত্যাগ : পরিষদ একটি ফতোয়া জারি করে বলেছে যে শুধুমাত্র ধর্মত্যাগের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড, দেওয়া যায় না। ফতোয়ায় বলা হয়েছে: " কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের প্রাধান্য দেখায় যে ধর্মত্যাগ নিজে থেকে বাধ্যতামূলক নির্দিষ্ট শাস্তি হুদুদ, যেমন মৃত্যুদণ্ড হওয়ার দাবির জন্য কোনো মজবুত ভিত্তি নেই" [৬]

নির্বাহী কমিটি এবং সদস্যরা

[সম্পাদনা]

কার্যনির্বাহী সদস্য :[৭]

  • ডঃ ইয়াসির কাদি, চেয়ারম্যান
  • ডাঃ জয়নাব আলওয়ানি, ভাইস চেয়ারম্যান
  • ডঃ জুলফিকার আলী শাহ, নির্বাহী পরিচালক
  • ডঃ মুজাম্মিল এইচ. সিদ্দিকী
  • ডঃ মোহাম্মদ কাতানানি
  • শেখ উমর খান

কাউন্সিল সদস্যগণ :

  • ডাঃ আব্দুলবারী মাশাল
  • শায়খ আব্দুর রহমান খান
  • ডঃ আলী সুলাইমান আলী
  • ডাঃ দীন আবদেলকাদের
  • ডাঃ ইহসান বাগবি
  • ডঃ জামাল বাদাউই
  • ডঃ জাসের আউদা
  • ডঃ মুদ্দাসসির সিদ্দিকী
  • শায়খ মুহাম্মদ নূর আবদুল্লাহ
  • শায়খ মুস্তাফা উমর
  • ডাঃ ওসামা বাহলুল
  • শায়খ সুহাইব ওয়েব
  • ডাঃ তামারা গ্রে
  • ইমাম ইয়াহিয়া হেন্দি

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 The Oxford Encyclopedia of the Islamic World। {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. 1 2 "History of the Fiqh Council | Fiqh Council Of North America"। www.fiqhcouncil.org। ১৫ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬।
  3. ↑ Glaberson, William (২১ অক্টোবর ২০০১)। "Interpreting Islamic Law for American Muslims"। The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১০।
  4. ↑ Heard on All Things Considered (২৮ জুলাই ২০০৫)। "U.S. Muslim Scholars Issue Edict Against Terrorism"। NPR। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১০।
  5. ↑ "General Fiqh Issues Articles"। Fiqhcouncil.org। ১৪ জুন ২০০৮। ১৫ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০১০।
  6. ↑ "Is Apostasy a Capital Crime in Islam?"। Fiqhcouncil.org। ২২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১৭।
  7. ↑ "About"। Fiqh Council of North America (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৩।