উইকিপিডিয়া:উইকিপত্রিকা/জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২/সাক্ষাৎকার
এক্সপ্রেশন ত্রুটি: অপরিচিত বিরামচিহ্ন অক্ষর "ত"।
বাংলা উইকিপিডিয়ার অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা যান্ত্রিক অনুবাদ
মুহাম্মদ ইয়াহিয়া ২০১৭ সাল থেকেই বাংলা উইকি প্রকল্পগুলিতে বিস্তর ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তিনি একাধারে বাংলা উইকিপিডিয়া, বাংলা উইকিভ্রমণ ও উইকিউপাত্তের প্রশাসক। এবং গত ২০২৪ সাল থেকে তিনি বৈশ্বিক স্টুয়ার্ড। তিনি প্রায় সব প্রকল্পগুলিতে সক্রিয়। এমনকি যেকোনো উদ্ভাবনী কাজ, যেমন- আমাদের উইকিপত্রিকার কাজেও তাকে সবসময় উদারহস্ত দেখা গিয়েছে। এবার আমাদের উইকিপত্রিকার সম্পাদক মেহেদী আবেদীন টেলিগ্রামে তার লিখিত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। প্রচুর ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েও আমাদের সময় দেয়ার জন্য উইকিপত্রিকার পক্ষ থেকে মুহাম্মদ ইয়াহিয়াকে ধন্যবাদ।
মেহেদী: উইকিমিডিয়া জগতে আপনার উপস্থিতি কতটুকু সময় ধরে বজায় আছে এবং এতদূর পথচলার পেছনে আপনি কাকে/কোনটিকে কৃতিত্ব দিবেন?
ইয়াহিয়া: আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আমি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমার উইকিপিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করি। সেই হিসেবে প্রায় সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি উইকিপিডিয়ায় আছি। তবে নিয়মিত সম্পাদনা শুরু করি ২০১৮ সালের অমর একুশে নিবন্ধ প্রতিযোগিতা থেকে। ওই প্রতিযোগিতায় সারা মাস খেটেখুটে মোবাইল টেলিফোনি নামে একটি নিবন্ধ তৈরি করেছিলাম। এরপর থেকেই আমি নিয়মিতভাবে অবদান রেখে যাচ্ছি। মোটিভেশন ছাড়া এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাজে জড়িত থাকা নিঃসন্দেহে কঠিন। উইকিমিডিয়া আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবী কাজের পরিসর বৈচিত্র্যময়; একটি কাজ ভালো না লাগলে নতুন কোনো ক্ষেত্র এক্সপ্লোর করার সুযোগ থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নির্দিষ্ট কোনো কাজে আটকে থাকি না। আমার ধারণা, এ কারণেই এখন পর্যন্ত আমি আগ্রহ হারাইনি। তবে আমি কিছু ব্যক্তির নামও উল্লেখ করতে চাই, যাদের সাপোর্ট ও সহযোগিতা না পেলে হয়ত এতদিন আগ্রহ ধরে রাখতে পারতাম না। শুরুর দিকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছি আফতাব ভাইয়ের কাছ থেকে। পরবর্তীতে কয়েকজন উইকিপিডিয়ানের (যেমন: ঐশিক রেহমান, শেখ মাহমুদুল হাসান ও শাকিল হোসেন) সঙ্গে পরিচয় ও তাদের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করায় একটি প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়েছিল; যেটি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখার জন্য একটি শক্তিশালী উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে।
মেহেদী: আপনি উইকিমিডিয়ার মধ্যে উইকিপিডিয়ায় প্রথম সম্পাদনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে ধারণা করছি। তো কোন বিষয়টি আপনাকে উইকিপিডিয়ায় প্রথম সম্পাদনা করতে প্ররোচিত করেছিল?
ইয়াহিয়া: জি, যতদূর মনে পড়ে, আমার প্রথম সম্পাদনাটি ছিল ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় — আর সেটা ছিল ধ্বংসপ্রবণতা! ২০১৭ সালের কথা। একটি বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার কারণে একটি দেশের প্রতি আমি তখন বেশ ক্ষুব্ধ ছিলাম। মূলত সেই দেশ সম্পর্কে আরও জানার উদ্দেশ্যে উইকিপিডিয়ার একটি নিবন্ধ পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করি, পাতাটি সম্পাদনাও করা যাচ্ছে। বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য নিবন্ধটিতে কিছু আক্রমণাত্মক শব্দ লিখে যুক্ত করি। কিন্তু সেই সম্পাদনা মাত্র কয়েক সেকেন্ডই টিকে ছিল। পাতা রিলোড দিতেই দেখি আমার লেখা গায়েব! অবাক হয়েছিলাম; এত দ্রুত কীভাবে কেউ তা বাতিল করল এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি বার্তাও পাঠাল! মূলত এখান থেকেই আমার কৌতূহল জন্মায়; কে বা কারা উইকিপিডিয়ায় লিখে, কীভাবে লিখে। ধ্বংস করতে এসে নিজেই এখন পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছি! হা হা।
মেহেদী: দৃশ্যত আগে আপনি ছিলেন শুধুই একজন সম্পাদক, আর এখন আপনি বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক, উইকিভ্রমণেরও প্রশাসক, আবার একজন স্টুয়ার্ডও। সম্প্রতি নবগঠিত ঢাকা উইকিমিডিয়া সম্প্রদায়ের গুরু দায়িত্ব পেয়েছেন। এসব হওয়ার আগে উইকিমিডিয়া জগতে আপনার জীবন আর হওয়ার পরের জীবনের মাঝে কী কোন পার্থক্য খুঁজে পান?
ইয়াহিয়া: জি, আপনার উল্লিখিত দায়িত্বগুলোর পাশাপাশি আমি আরও কয়েকটি প্রকল্পে প্রশাসক, ওভারসাইটার এবং কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি প্রশাসকের মতো ভূমিকা পালন করছি। স্বাভাবিকভাবেই এত দায়িত্ব কাঁধে থাকলে কাজের ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। দিনভর এই প্রশাসনিক কাজগুলোতে ব্যস্ত থাকতে হয়, যার ফলে নিবন্ধ লেখার মতো গভীর মনোযোগ ও সময়সাপেক্ষ কাজগুলো আর তেমন করে করা হয়ে ওঠে না। প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটাই মাইক্রো-কন্ট্রিবিউশনের মতো; রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কিংবা বিরতির ফাঁকেও কিছুটা অবদান রাখা যায়। তবে একটি মানসম্মত নিবন্ধ তৈরি করতে প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়, অধ্যবসায় ও নিবিষ্ট মনোযোগ। ফলে ধীরে ধীরে নিবন্ধ লেখার প্রতি আগ্রহ কিছুটা হলেও কমে যায়। আমার ক্ষেত্রেও কিছুটা এমন ঘটেছে।
মেহেদী: এত যে নিয়মিত উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবা করে যাচ্ছেন, কোনোদিন কি মনে হয়েছে এই সময় আর শ্রম অন্য কোথাও দিলে আরও বেশি লাভবান হতেন? এই মূল্যবান শ্রম ও সময় উইকিমিডিয়ায় স্বেচ্ছাসেবায় দেওয়ার কারণ কী? উইকিমিডিয়ার কোন প্রকল্পকে আপনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং কেন?
ইয়াহিয়া: একসাথে অনেক প্রশ্ন! সত্যি বলতে, লাভ-লোকসানের হিসাব কষে উইকিমিডিয়ায় পথচলা শুরু করিনি, তাই এখন সেটি ভেবেও কোনো লাভ নেই। অবশ্যই, এই সময় ও শ্রম অন্য কোনো লাভজনক ক্ষেত্রে দিলে হয়ত আজ দৃশ্যমান অনেক অর্জন থাকতো। তবু আমি বাংলা উইকিপিডিয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই; কারণ এটি আমার মাতৃভাষায় মুক্ত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় সুযোগ। শুরু থেকেই এই লক্ষ্যেই আমি অবদান রেখে চলেছি।
মেহেদী: এই মুহূর্তে আপনার মতে বাংলা উইকিপিডিয়ার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে কি কি বাধা রয়েছে এবং সেগুলো দূর করার জন্য আমাদের কি কি করা উচিত?
ইয়াহিয়া: আমার দৃষ্টিতে বাংলা উইকিপিডিয়ার অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা যান্ত্রিক অনুবাদ। প্রতিদিনই এখানে বহু নতুন নিবন্ধ তৈরি হয়। এর মধ্যে যেগুলো স্পষ্টতই অপসারণযোগ্য, সেগুলো অপসারিত হলেও, অনেক আংশিক যান্ত্রিক অনুবাদভিত্তিক নিবন্ধ পর্যাপ্ত পর্যালোচনার অভাবে থেকে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তৈরি অনেক যান্ত্রিক ও অসম্পূর্ণ নিবন্ধ প্রতিযোগিতা শেষে নিবন্ধের প্রণেতা আর সংশোধন করেন না। আবার এগুলো নতুন তৈরি পাতার তালিকায়ও থাকে না। ফলে এ ধরনের পাতার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমার মতে, ভবিষ্যতে যান্ত্রিক অনুবাদের ক্ষেত্রে আমাদের ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ গ্রহণ করা উচিত। আজকের উন্নত প্রযুক্তির যুগে এমন অনেক অনুবাদ সরঞ্জাম আছে যা প্রায় মানুষের মতোই ভাষা রূপান্তর করতে সক্ষম। তাই মানহীন অনুবাদের বিষয়ে আর ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। এ ছাড়া, পূর্ববর্তী যান্ত্রিক অনুবাদসমৃদ্ধ নিবন্ধগুলোর মানোন্নয়নের জন্য আমাদের আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক আকৃষ্ট করতে হবে। কারণ, বাংলাভাষী জনসংখ্যার তুলনায় বাংলা উইকিপিডিয়ার সক্রিয় সম্পাদক এখনো আশঙ্কাজনকভাবে কম।
মেহেদী: বাংলা উইকিপিডিয়ায় আজকাল এআইয়ের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই এআই যেমন আমাদের অনেক কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে, তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অসুবিধার কারণে পরিণত হয়েছে। আপনি উইকিপিডিয়ায় এআইয়ের ব্যবহারকে আশীর্বাদ বলবেন নাকি অভিশাপ?
ইয়াহিয়া: আমি সর্বদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) একটি আশীর্বাদ হিসেবেই দেখি। এটি কখনোই মানব জ্ঞানের বিকল্প নয়। বরং, এআইকে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের কাজ আরও সহজ ও কার্যকর করতে পারি। উদ্ভাবনী টুল তৈরি করে উইকিপিডিয়ানদের কাজেও গতি আনা সম্ভব। সম্প্রতি উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনও এ সংক্রান্ত একটি নীতি ঘোষণা করেছে, যেখানে একই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এআই সরঞ্জামগুলো মানুষের মতোই প্রাঞ্জল বাংলা বলতে সক্ষম হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে হয়ত অনুবাদনির্ভর নিবন্ধ তৈরির প্রয়োজন আর থাকবে না। খুব শিগগিরই পুরো বিশ্বের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের উচিত মৌলিক নিবন্ধ তৈরির দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া। কারণ মৌলিক জ্ঞানের জায়গা কখনোই এআই দখল করতে পারবে না। যেমনটি আগেই বলেছি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবিক চিন্তা ও জ্ঞানের বিকল্প হতে পারে না।
মেহেদী: ধরুন আপনাকে ২৪ ঘণ্টার জন্য উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের "একচ্ছত্র অধিকারী" ঘোষণা করা হলো। এই ২৪ ঘণ্টা আপনি কি কি সিদ্ধান্ত নিবেন যেগুলো উইকিমিডিয়া জগতে বড় প্রভাব ফেলবে?
ইয়াহিয়া: উইকিমিডিয়া প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সারা বিশ্বের নানা সংস্কৃতি ও দৃষ্টিভঙ্গির অসংখ্য মানুষের চিন্তার সমষ্টিগত ফলাফল। আমি ইতোমধ্যে আমার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারছি এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার প্রয়োগও করতে পারছি। আমি ২৪ ঘণ্টার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে দ্রুততার সহিত একাধিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইলে তা ভুল হওয়ারই সম্ভাবনা কথা। কারণ, মানুষতো অন্যরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিবে না এমন সিদ্ধান্তই চাপিয়ে দিতে চায়!
মেহেদী: নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনি বাংলা উইকিপিডিয়ার নতুন ব্যবহারকারীদের কোন কোন বিষয়গুলো মেনে চলতে ও বর্জন করতে উপদেশ দিবেন?
ইয়াহিয়া: যান্ত্রিক অনুবাদ এড়িয়ে চলুন। আপনি যা লিখছেন, তা যেন পাঠক সহজে বুঝতে পারেন এবং তা থেকে উপকৃত হতে পারেন — সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যা নয়, গুরুত্ব দিন মানকে। আমার মাতৃভাষায় মুক্ত জ্ঞান সমৃদ্ধ করা আমার দায়িত্ব। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট উইকিপিডিয়ার জন্য সময় দিন।
মেহেদী: আপনি তো উইকিভ্রমণের প্রশাসক, অনেক কিছু সামলে (বিশেষ করে বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসকের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে) আপনার এই উইকিভ্রমণ নিয়ে ভবিষ্যতে কী কী করার বিশেষ পরিকল্পনা আছে?
ইয়াহিয়া: উইকিভ্রমণ এখনও বেশ ছোট একটা প্রকল্প। সাইটটিতে স্বেচ্ছাসেবক খুবই কম। স্বেচ্ছাসেবক বৃদ্ধিতে আমি ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি। গত সেপ্টেম্বরে একটি সফল প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছি, যেখান থেকে কয়েকজন সক্রিয় নতুন অবদানকারীও পাওয়া গিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রকৃত ভ্রমণকারীদের সংযুক্ত করতেও একটি প্রজেক্ট করার ইচ্ছা আছে।
মেহেদী: আপনি স্টুয়ার্ড হতে আগ্রহী হয়েছিলেন কেন? আপনার মতে এই স্টুয়ার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাটা কেমন?
ইয়াহিয়া: আসলে আমার কখনোই স্টুয়ার্ড হওয়ার আগ্রহ ছিল না। এমনকি প্রার্থী হওয়ার আগের দিনও এ নিয়ে কোনো ভাবনা মাথায় আসেনি। একদিন ডিসকর্ডে তখনকার এক স্টুয়ার্ডের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, “তোমার স্টুয়ার্ড হওয়া উচিত। এর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তোমার আছে।” তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে সেদিনই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রার্থী হিসেবে আবেদন করি।
মেহেদী: উইকিপত্রিকা সম্পর্কে কিছু বলে যান। আপনার মতে উইকিপত্রিকার উন্নয়নে আর কী কী করা যেতে পারে? পাঠক হিসেবে উইকিপত্রিকা সম্পর্কে ধারণা কী?
ইয়াহিয়া: উইকিপত্রিকা একটি চমৎকার ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যারা এই প্রকল্পের পেছনে নিয়মিত মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে চলেছেন, তাদের প্রতি রইল আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং প্রতিদিন উইকিপিডিয়ায় স্বল্প সময় দেওয়ার কারণে উইকিপত্রিকা নিয়মিত পড়া হয় না; আমি বলতে গেলে একজন অনিয়মিত পাঠক। একটি ছোট পরামর্শ থাকবে — সম্পাদকরা যেন লেখাগুলো বাছাইয়ের ক্ষেত্রে লেখার সাহিত্য মানের সঙ্গে কোনো আপস না করেন।
মেহেদী: সবার উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতেন।
ইয়াহিয়া: উইকিমিডিয়া শুধুমাত্র একটি জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার জগৎ। এখানে কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি, নিজেদের আরও দক্ষ ও পরিপক্ব করে তুলি। আমরা কেবল তথ্য দিচ্ছি না; আমরাও শিখছি, গ্রহণ করছি। উইকিমিডিয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলে আপনার যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ, গবেষণার ক্ষমতা; এইসব গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিলগুলো উন্নত হবে। তাই নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ ও দক্ষতা আছে সেখান দিয়েই শুরু করুন।



আলোচনা করুন