উইকিপিডিয়া:উইকিপত্রিকা/কার্তিক ১৪৩২/সাক্ষাৎকার
এক্সপ্রেশন ত্রুটি: অপরিচিত বিরামচিহ্ন অক্ষর "ত"।
জ্ঞান সৃজন ও বিতরণের মাধ্যমে জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হয়
অর্ণব ঘোষ। বাংলা উইকিপিডিয়ার শীর্ষ মৌলিক নিবন্ধ লেখকদের একজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, ইতিহাস প্রভৃতি নিয়ে মৌলিক নিবন্ধ তৈরি ও সম্পাদনা করে থাকেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উইকিপত্রিকার নিয়মিত সাক্ষাৎকার গ্রাহক সৈয়দ মুহাম্মাদ ইশতিয়াক মাহফুজ আব্দুল্লাহ
ইশতিয়াক: উইকিপত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। কেমন আছেন?
অর্ণব: ধন্যবাদ। ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
ইশতিয়াক: আমিও ভালো আছি। উইকিপত্রিকার পাঠকদের জন্য অনুগ্রহপূর্বক আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় বলুন।
অর্ণব: আমি অর্ণব ঘোষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে বাংলাদেশের মৌলিক গবেষণার অগ্রগণ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে কর্মরত আছি।
ইশতিয়াক: বাংলা উইকিপিডিয়াতেও আপনার মৌলিক নিবন্ধের সংখ্যা অনেক, হয়তো আপনার কর্ম এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। উইকিপিডিয়ার সাথে পথচলা শুরু কীভাবে?
অর্ণব: আমি ইতিহাসের ছাত্র। ছাত্র থাকাকালীন বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য বাংলাপিডিয়া পড়তাম। কিন্তু বাংলাপিডিয়া সুনির্দিষ্ট বিষয়-ভিত্তিক। তাই ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতে গিয়ে উইকিপিডিয়ার সাথে পরিচয়। বিভিন্ন বিষয়ে জানার আগ্রহ থেকে উইকিপিডিয়া থেকে প্রাথমিক তথ্য পেতাম, যেটা এখনো পাই। সেই পড়াশুনা করতে গিয়ে কখনো হয়ত ভুল বানান বা তথ্য চোখে পড়ত। সেটা সংশোধনের চেষ্টা করতাম। এছাড়া আমার বর্তমান কর্মক্ষেত্র থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বহু গবেষকের সাথে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ফলে সেই অভিজ্ঞতা এবং উন্মুক্ত জ্ঞানকোষে তথ্য সহজলভ্য করার প্রয়াস থেকেই আমার উইকিপিডিয়ার সাথে পথচলা শুরু।
ইশতিয়াক: উইকিপিডিয়ায় আপনাকে সাধারণত মৌলিক নিবন্ধ তৈরি ও সম্পাদনা করতেই দেখা যায়। আমরা জানি, মৌলিক নিবন্ধ লেখা অনেক সময়সাপেক্ষ একটি ব্যাপার। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা সামলে রেখে উইকিপিডিয়ায় আপনি চারশোর মত মৌলিক নিবন্ধ তৈরি করেছেন। কোন জিনিসটি আপনার উইকিপিডিয়ায় সম্পাদনা, বিশেষত মৌলিক নিবন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে?
অর্ণব: যেমনটি আপনি বললেন, আমি সাধারণত মৌলিক নিবন্ধ তৈরি ও সম্পাদনাই বেশি করে থাকি। এটা সময়সাপেক্ষ হলেও আমাকে সৃষ্টিশীলতার তৃপ্তি দেয়। যেসব বিষয়ে আমার জানার আগ্রহ আছে, কিন্তু উইকিপিডিয়াতে তথ্য সহজলভ্য নয়, আমি সেসব বিষয়ে নিবন্ধ লেখার চেষ্টা করি। জ্ঞান সৃজন ও তা বিতরণের মাধ্যমেই জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হয় এবং সমাজ উপকৃত হতে পারে। আমি যেমন অন্যের লেখা পড়ে উপকৃত হই, তেমনি আমার লেখা পড়েও যেন কেউ উপকৃত হতে পারেন- এমন একটা তাগিদ থেকেই আমি মূলত মৌলিক নিবন্ধ তৈরির চেষ্টা করি।
ইশতিয়াক: আপনার চিন্তাধারা নিঃসন্দেহে অন্যান্য উইকিপিডিয়ানদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, অনেক বছর যাবৎ আপনি উইকিপিডিয়ায় অবদান রাখছেন। আপনি যখন অবদান রাখছিলেন, তখনকার অবস্থার সাথে এখনকার পার্থক্য কী বলে আপনার মনে হয়?
অর্ণব: দেখুন, সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটে। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার এ যুগে পাঠভ্যাস কিছুটা হলেও কমছে। ফলে উন্মুক্ত জ্ঞানকোষে অবদান রাখতে আগ্রহী ও দক্ষ সম্পাদকের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অধিক সময় সংযুক্ত থাকা কিংবা অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে তরুণদের অনেকেই হয়ত উইকিপিডিয়ায় বেশি সময় দিতে পারেন না। তবে এটি অনস্বীকার্য যে, বর্তমানের তরুণরা প্রযুক্তিবান্ধব। বিশ্ব সম্পর্কে তাদের জানাশোনার সুযোগ বেশি। তারা একটু অনুপ্রাণিত হলে চমৎকার অবদান রাখতে পারবেন।
ইশতিয়াক: হ্যাঁ, আগ্রহী ও দক্ষ সম্পাদকের অভাব বাংলা উইকিপিডিয়ার একটি বড় সমস্যা। এ ছাড়া সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিবন্ধ তৈরি বা সংশোধনের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার অপব্যবহার বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলা উইকিপিডিয়াতে সম্পাদনা অথবা নিবন্ধ সৃৃষ্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কতটুকু প্রয়োগ করা যথার্থ বলে আপনি মনে করেন?
অর্ণব: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে আমাদের সংযোগ থাকতে হবে। আমরা প্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করতেই পারি তবে প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মুশকিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনুবাদ, সারসংক্ষেপ প্রস্তুত বা বানান সংশোধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে কখনো কখনো তা ভাষাকে যান্ত্রিক করে তোলে। ফলে ভাষার মাধুর্যহানি ঘটে, লেখার সাবলীলতা বিনষ্ট হয়। এছাড়া অধিক মাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরতা ব্যক্তির জ্ঞান চর্চা ও অর্জিত দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাধীনভাবে নিবন্ধ রচনা করতে পারলে উত্তম। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিলেও দক্ষ সম্পাদনার মাধ্যমে তা মানবীয় করা অত্যাবশ্যক।
ইশতিয়াক: ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। বর্তমানে উইকিতে কী নিয়ে কাজ করছেন?
অর্ণব: আমি প্রধানত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, ইতিহাস প্রভৃতি নিয়ে অবদান রাখি।
ইশতিয়াক: উইকিপত্রিকা পড়েন? পড়ে থাকলে, এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী? উইকিপত্রিকার কোন দিকটি আপনার ভালো লাগে বা কোন দিকে আরো উন্নতি করার সুযোগ আছে?
অর্ণব: উইকিপত্রিকা পড়েছি। এতে উইকিমিডিয়ার বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য জানতে পারি। এছাড়া বিভিন্ন ফিচারে ব্যক্তি বা ইভেন্ট সম্পর্কে জানার সুযোগ পাই। এটি নিয়মিত প্রকাশিত হলে খুশি হবো। এছাড়া পত্রিকাটি সম্পর্কে সম্পাদকদের মধ্যে প্রচার আরেকটু বেশি হলে সকলে পত্রিকাটি পড়ায় অনুপ্রাণিত হবে।
ইশতিয়াক: জেনে ভালো লাগলো যে আপনি উইকিপত্রিকা পড়েন। উইকিপত্রিকার সাধারণ পাঠকদের জন্য কিছু বলুন।
অর্ণব: উইকিপত্রিকার পাঠকদের আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। তারা উইকি প্রকল্পগুলোতে আরো বেশি অবদান রাখার পাশাপাশি নতুনদের উদ্বুদ্ধ করবেন, সে আহ্বান জানাই।
ইশতিয়াক: আপনার মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য ধন্যবাদ।
অর্ণব: আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগল। আপনাকে, এবং আপনার মাধ্যমে উইকিপত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভালো থাকবেন।



আলোচনা করুন