বিষয়বস্তুতে চলুন

উইকিপিডিয়া:উইকিপত্রিকা/আশ্বিন ১৪৩২/সাক্ষাৎকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

এক্সপ্রেশন ত্রুটি: অপরিচিত বিরামচিহ্ন অক্ষর ""

File:Tausheef_Hassan_Auntu.jpg
তাওসীফ হাসান
সিসি-বাই-এসএ ৪.০
300
সাক্ষাৎকার

আমাদের বর্তমান সভ্যতা পূর্বসূরিদের কাঁধে দাঁড়িয়ে আছে

তাওসীফ হাসান অন্তু। উইকিপিডিয়া ও কমন্সে ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে কাজ করতে ভালোবাসেন। তরুণ এ উইকিমিডিয়ান তার মৌলিক কাজসমূহের মাধ্যমে বাংলা উইকিসম্প্রদায়ে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উইকিপত্রিকার নিয়মিত সাক্ষাৎকার গ্রাহক সৈয়দ মুহাম্মাদ ইশতিয়াক মাহফুজ আব্দুল্লাহ

উইকিমিডিয়ান তাওসীফ হাসান অন্তু


ইশতিয়াক: আসসালামু আলাইকুম। উইকিপত্রিকার পাঠকদের জন্য আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচয়টা বলুন।

তাওসীফ: ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি তাওসীফ হাসান অন্তু। আমার উইকিপিডিয়া ব্যবহারকারী নাম Tausheef Hassan। আমি বর্তমানে ইসলামী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (আই.ইউ.টি.) এর যন্ত্রকৌশল বিভাগে অধ্যানরত। আমি উইকিপিডিয়াতে মূলত ঢাকা ও সমগ্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করি।

ইশতিয়াক: উইকিমিডিয়ার সাথে আপনার পথচলা শুরু হলো কীভাবে?

তাওসীফ: ২০২০ সালে করোনা ভাইরাস মহামারিতে আমি ভূগোল আর ভূরাজনৈতিক বিষয়ে নিয়ে আমার আগ্রহ জন্মায়। তখন আমি নিজেই ভূগোল বিষয়ক তালিকা তৈরি করি। পরবর্তীতে তা উইকিপিডিয়ায় প্রকাশের লক্ষ্যে নিজের প্রথম সম্পাদনা করি। পরে সে তালিকা আর প্রকাশ করা হয়নি। তবে উইকিপিডিয়াতে লেখার আগ্রহ সে সময় থেকেই শুরু।

ইশতিয়াক: একটু আগে আপনি বললেন, আপনি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন। উইকিতে আপনার অবদানও সেই সাক্ষ্যই দেয়। এর শুরুটা হলো কীভাবে?

তাওসীফ: একদিন ঘুরতে যাওয়ার জায়গা খোঁজার সময় গুগল ম্যাপ এ আমার বাসার কাছে একটি স্বল্প পরিচিত বিশেষায়িত জাদুঘর "বাংলাদেশ পরিসংখ্যান জাদুঘর" এর খোঁজ পাই। জাদুঘরটি পরিদর্শনের পর আমি উইকিপিডিয়াতে ঢাকার বাকি স্বল্প পরিচিত জাদুঘরের খোঁজ করি। অনেক জাদুঘরের যথাযথ তথ্য না থাকায় আমি বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজে থাকা জাতীয় সাহিত্য জাদুঘর ও লোক সংস্কৃতি জাদুঘরে যাই নিবন্ধ লেখার উদ্দেশ্যে। পরে বর্ধমান হাউজ নিয়েই নিবন্ধ না থাকায় সেটাকে নিয়েই লিখি। পরে বাকি হাউজ - রূপলাল হাউজ, শঙ্খনিধি হাউজ নিয়ে পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করি ঢাকা শহরের কোন বড় ঐতিহ্যবাহী ভবনের তালিকা নেই। পরে সেই তালিকা প্রস্তুত করি আমি।

ইশতিয়াক: আপনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থান ও স্থাপনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন। যেহেতু এগুলো মৌলিক কাজ, সেহেতু প্রচুর তথ্যসূত্র বের করে ঘাঁটাঘাঁটি করে আপনাকে নিবন্ধ লিখতে হয়। আপনি কীভাবে ইতিহাসনির্ভর নিবন্ধ লেখার জন্য যথার্থ তথ্যসূত্র খুঁজে বের করেন?

তাওসীফ: আমাদের বর্তমান সভ্যতা পূর্বসূরিদের কাঁধে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিহাস নিয়েও এটা সত্য। আগে অনেক ইতিহাসবিদ অনেক কাজ করে গেছেন। মূলত আমি সেই সম্ব‌ন্ধে তাদের বই দিয়ে গবেষণা শুরু করি। অনেক সময় তাদের গবেষণায় অন্যান্য তথ্যসূত্রের কথা উল্লেখ্য থাকে। তারপরের উৎস হলো পত্রিকার আর্কাইভ যাতে অনেক তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক সময় অনেক লেখকের আত্মজীবনী থেকেও তথ্য পাওয়া সময়। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ইন্টারনেটে গভীরভাবে সার্চ করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে শুধু সূত্র বের করার জন্যে সেটা ব্যবহার করা হয়। আবার ইন্টারনেট আর্কাইভ-এর বইসমূহ তথ্য হিসেবে অমুল্য। এছাড়াও অনেক সময় তথ্যের উদ্দেশ্যে জাদুঘর ও লাইব্রেরিতে যেতে হয়।

ইশতিয়াক: উইকিতে মৌলিক কাজ করতে হলে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়। ব্যক্তিগত জীবন সামলে নিয়ে উইকিমিডিয়ার জন্য কীভাবে সময় বের করেন?

তাওসীফ: সাধারণত সপ্তাহের শেষে বা রাতে দৈনিক কাজ শেষে আমি উইকিপিডিয়াতে অবদান রাখি। মাঝে মাঝে সময় বের করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তবে আমি নিবন্ধ লিখে আনন্দ পাই, তাই অবসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় ব্যয় না করে আমি মৌলিক নিবন্ধ লিখি।

ইশতিয়াক: আমরা দেখি, বাংলা উইকিপিডিয়ায় মৌলিক কাজ হয় খুবই কম। এর পিছনে কী কী কারণ দায়ী বলে আপনি মনে করেন?

তাওসীফ: প্রথমত কাজটা অবশ্যই অনেক কষ্টসাধ্য, ফলে উৎসুক জনবল পাওয়া দুর্বিষহ। আবার যথাযথ সহজলভ্য তথ্য পাওয়া কষ্টকর। অনেক বই এবং আর্কাইভ সামগ্রী ডিজিটাল আকারে নেই, যা ডিজিটাল করা উচিত। আবার অনেক বিষয়ে গবেষণা কম। অনেক ক্ষেত্রে আমি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে নিয়ে জনগণের অনীহাকে দায়ী করবো। তবে নতুন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ইদানীং দ্রুত নিবন্ধ লেখা হচ্ছে।

ইশতিয়াক: উইকিতে আপনার সেরা কাজগুলো সম্পর্কে আমাদের একটু জানান।

তাওসীফ: ঢাকার ঐতিহাসিক ভবন বর্ধমান হাউস, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকা, ৭০০টি নদীর তালিকা, দরিয়া-ই-নূর, বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদীর তালিকা ইত্যাদি। এ ছাড়াও জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল, ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিবন্ধ আমার লেখা। বাংলাদেশী পতাকার তালিকা শীর্ষক নিবন্ধেও সর্বোচ্চ অবদানকারী আমি।

ইশতিয়াক: আপনি উইকিতে আছেন অনেকদিন হলো। ৫ বছর আগের উইকি আর এখনকার উইকির মধ্যে কী পরিবর্তন দেখেন আপনি?

তাওসীফ: তথ্যবহুল হয়েছে। উইকির নিবন্ধের মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রতি গুরুত্ব বেড়েছে। অনেক ব্যবহারকারীর পরিমাণ বেড়েছে, একই সাথে ধ্বংসাত্মক সম্পাদনাও বেড়ে যায়।

ইশতিয়াক: উইকিপত্রিকা পড়েন? কেমন লাগে উইকিপত্রিকা?

তাওসীফ: হ্যাঁ, পড়ি। যথেষ্ট মানসম্পন্ন এবং জুতসই একটি পত্রিকা। অবসরে প্রায়ই পড়া হয়।

ইশতিয়াক: বাংলা উইকিপিডিয়ার নবাগত অবদানকারীদের জন্য কিছু পরামর্শ দিন।

তাওসীফ: প্রথমে অল্প থেকে শুরু করুন বা অনুবাদ করুন। রচনা শৈলী বুঝুন এবং নিয়ম-কানুনগুলো জানুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, আপনার যে বিষয়ে আগ্রহ বেশি তা নিয়ে লিখুন।

ইশতিয়াক: সবশেষে, উইকিপত্রিকার পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

তাওসীফ: উইকিপত্রিকার নিয়মিত পাঠক হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। উইকিপ্রকল্পসমূহে অবদান বৃদ্ধি‌র জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

ইশতিয়াক: মূল্যবান সময় প্রদানের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তাওসীফ: এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং উইকিপত্রিকাতে অবদান রাখার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।