ইসাবেলা অ্যাবট
ইসাবেলা আইওনা অ্যাবট | |
|---|---|
| স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক | |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ইসাবেলা কাউয়াকিয়া ইয়াউ ইয়ুং আইওনা ২০ জুন ১৯১৯ হানা, মাউই,হাওয়াই অঞ্চল |
| মৃত্যু | ২৮ অক্টোবর ২০১০ (বয়স ৯১) হাওয়াই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
| দাম্পত্য সঙ্গী | ডোনাল্ড পুটনাম অ্যাবট |
| সন্তান | অ্যানি অ্যাবট ফোর্স্টার (কন্যা) |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | কামেহামেহা স্কুলস হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়, মানোয়া মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি |
ইসাবেলা আইওনা অ্যাবট (২০ জুন ১৯১৯ – ২৮ অক্টোবর ২০১০) ছিলেন হাওয়াইয়ের একজন শিক্ষাবিদ এবং শৈবালবিদ। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জনকারী প্রথম আদিবাসী হাওয়াইয়ান নারী।[১] তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক শৈবালের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন।[২]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]অ্যাবট ১৯১৯ সালের ২০ জুন হাওয়াই অঞ্চলের মাউইয়ের হানায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল ইসাবেলা কাউয়াকিয়া ইয়াউ ইয়ুং আইওনা। তার হাওয়াইয়ান নামের অর্থ "হানার সাদা বৃষ্টি" এবং তিনি "ইজি" নামে পরিচিত ছিলেন।[৩] তার বাবা ছিলেন চীনা বংশোদ্ভূত এবং মা ছিলেন একজন আদিবাসী হাওয়াইয়ান। তার মা তাকে ভোজ্য হাওয়াইয়ান সামুদ্রিক শৈবাল[৩] এবং হাওয়াইয়ের স্থানীয় উদ্ভিদের মূল্য ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। আট ভাইবোনের মধ্যে অ্যাবট ছিলেন একমাত্র মেয়ে এবং দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ।[৪]
তিনি ওয়াইকিকির কাছে হনুলুলুতে বেড়ে ওঠেন এবং ১৯৩৭ সালে কামেহামেহা স্কুলস থেকে স্নাতক হন।[৫][৩] তিনি ১৯৪১ সালে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়, মানোয়া থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।[৩] এরপর ১৯৪২ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৫০ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলি থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[৬][৩]
তিনি প্রাণীবিজ্ঞানী ডোনাল্ড পুটনাম অ্যাবটের (১৯২০-১৯৮৬) সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ডোনাল্ড হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বার্কলিতে তার সহপাঠী ছিলেন। এই দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক গ্রোভে চলে যান। সেখানে তার স্বামী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হপকিন্স মেরিন স্টেশনে শিক্ষকতা করতেন। [৩]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৫৬ সালে তিনি হপকিন্স মেরিন স্টেশনে একজন গবেষণা সহযোগী হিসেবে যোগ দেন এবং প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি মনটেরি উপদ্বীপের সামুদ্রিক শৈবালের ওপর একটি বই সংকলন করেন, যা পরবর্তীতে সমগ্র ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে তিনি আমেরিকার উদ্ভিদবিজ্ঞান সমিতি কর্তৃক ডারবেকার পুরস্কারে ভূষিত হন।[৭] ১৯৭২ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সরাসরি জীববিজ্ঞানের পূর্ণ অধ্যাপক পদে উন্নীত করে। তিনি ছিলেন এই পদে অধিষ্ঠিত প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি।[৮] ১৯৮২ সালে অ্যাবট দম্পতি অবসর নিয়ে হাওয়াইতে ফিরে আসেন। সেখানে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে মানুষ ও উদ্ভিদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক বিজ্ঞান বা লোকউদ্ভিদবিদ্যা পড়ানোর জন্য নিয়োগ দেয়।[৩]
তিনি আটটি বই এবং ১৫০টিরও বেশি গবেষণাপত্র রচনা করেছেন। তাকে হাওয়াইয়ান সামুদ্রিক শৈবালের বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা হাওয়াইয়ান ভাষায় লিমু নামে পরিচিত। তিনি ২০০টিরও বেশি প্রজাতি আবিষ্কারের কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার নামানুসারে বেশ কয়েকটি প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে লোহিত শৈবালের Rhodomelaceae পরিবারের অ্যাবটেলা (Abbottella) গণটি অন্যতম।[৪] এই অবদানের জন্য তাকে "লিমুর ফার্স্ট লেডি" ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে তিনি চার্লস রিড বিশপ পদক এবং ১৯৯৭ সালে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস থেকে গিলবার্ট মরগান স্মিথ পদক লাভ করেন।[৯]
তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত জিপি ওয়াইল্ডার উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ও তার স্বামী হাওয়াইতে চলে যান। সেখানে তিনি হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তার গবেষণা চালিয়ে যান। তিনি বার্নিস পি. বিশপ মিউজিয়ামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১০] ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে তিনি হনুলুলু স্টার-বুলেটিনে একটি প্রবন্ধের সহ-লেখক ছিলেন, যেখানে কামেহামেহা স্কুলের ট্রাস্টিদের সমালোচনা করা হয়েছিল। এর ফলে স্কুলটির পুনর্গঠন করা হয়।[১১][১২] ১৯৮৮ সালে তিনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের ফেলো নির্বাচিত হন।[১৩] ২০০৫ সালে হনপা হংওয়ানজি মিশন অব হাওয়াই তাকে 'লিভিং ট্রেজার অব হাওয়াই' হিসেবে ভূষিত করে।[১৪][১৫]
তাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শৈবালের প্রধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০০৮ সালে প্রবাল প্রাচীর নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি হাওয়াই ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ থেকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।[১৬]
২০২৩ সালে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রিজেন্টস সর্বসম্মতিক্রমে তাদের লাইফ সায়েন্সেস ভবনের নাম পরিবর্তন করে অ্যাবটের নামে রাখার পক্ষে ভোট দেয়।[১৫][১৭]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]ইসাবেলা কাউয়াকিয়া আয়োনা অ্যাবট ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর ৯১ বছর বয়সে হনুলুলুতে তার নিজ বাসভবনে মারা যান।[১৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "The Honolulu Advertiser | Celebrating 150 Years"। the.honoluluadvertiser.com। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ ""Seaweed lady" Isabella Abbott dies"। Monterey Herald (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- 1 2 3 4 5 6 7 "Isabella Abbott, world-renowned Stanford algae expert, dies at 91"। news.stanford.edu। ২ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- 1 2 "Pioneering Professor is First Lady of Limu | Malamalama, The Magazine of the University of Hawai'i System"। www.hawaii.edu। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "The Honolulu Advertiser | Celebrating 150 Years"। the.honoluluadvertiser.com। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ ""Seaweed lady" Isabella Abbott dies"। Monterey Herald (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ Palumbi, Stephen R.। "Memorial Resolution: Isabella Aiona Abbott" (পিডিএফ)। ১৫ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৯।
- ↑ "Marine Botanist Isabella Aiona Abbott and More Women to Know this Asian American and Pacific Islander Heritage Month | Smithsonian American Women's History"। Smithsonian American Women's History (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ National Academy of Sciences। "Gilbert Morgan Smith Medal"। nasonline.org। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০২৬।
- ↑ "Dr. Isabella Abbott"। www.botany.hawaii.edu। ২৬ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Honolulu Star-Bulletin Editorial Pages"। archives.starbulletin.com। ৩১ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Honolulu Star-Bulletin News"। archives.starbulletin.com। ২৪ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Historic Fellows"। American Association for the Advancement of Science (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ জুন ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Six named Living Treasures | The Honolulu Advertiser | Hawaii's Newspaper"। the.honoluluadvertiser.com। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- 1 2 Robin, U. H. (১৯ জানুয়ারি ২০২৩)। "BOR approves naming Life Sciences Building after 'First Lady of Limu' | University of Hawaiʻi System News"। www.hawaii.edu (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Dr. Isabella Abbott honored for lifetime devotion to coral reefs"। hawaiinewsnow.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ আগস্ট ২০০৮। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ "Resolution Supporting the Naming of the Life Sciences Building in Honor of Isabella Aiona Abbott – Mānoa Faculty Senate" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।
- ↑ Star-Advertiser, Honolulu। "Algae expert meshed science and native culture - Hawaii News - Honolulu Star-Advertiser"। www.staradvertiser.com। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৬।