ইসরায়েলে অপরাধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বর্তমানে ইসরায়েলে মাদক পাচার, অস্ত্র পাচার, ডাকাতি, গাড়ি চুরি, মানব পাচার ইত্যাদি সহ অনেক ধরনের অপরাধ হচ্ছে।

সংগঠিত অপরাধ[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালের পর থেকে সংঘবদ্ধ অপরাধ এর পরিমান নাটকীয় ভাবে বেড়ে যায় ,বিবিসি এবং ইসরায়েল পুলিশ সেটাকে উঠতি শিল্প হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসরায়েলের সংঘবদ্ধ অপরাধী দলগুলো তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র,সাউথ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস এর মত বিদেশী দেশগুলোতেও সম্প্রসারিত করেছে।[১] ইসরায়েল পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী মাদক পাচার, যৌন নির্যাতন এর উদ্দেশ্যে নারী পাচার,অবৈধ জুয়া,চুরি করা পেট্রল-পাস্প এবং রিয়েল এস্টেট হচ্ছে দেশে সংঘঠিত প্রধান অপরাধ[২]

ইসরাইলের পুলিশ ২০০২ সালে ৪৬৪,৮৫৪ টি অপরাধমূলক ফাইল এবং অবিচার মামলা নথিভুক্ত করে, যা ২০০৩ সালে বেড়ে দাড়ায় ৪৮৪,৬৮৮ টি ।২০০২ সালের পর এর পরিমান ৪.৫% বৃদ্ধি পায়। [৩]

ফিলিস্তিনিদের দ্বারা ইসরায়েলে অপরাধ[সম্পাদনা]

ওয়াশিংটন ডি.সিতে আমেরিকান ইহুদি কমিটির ল্যাটিন আমেরিকান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডিসা সিয়েগেল, অপরাধতত্ত্ব অধ্যাপক এইচ জি ভ্যান ডি বুন্ট,অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক ডামিয়্যান যায়িছ তাদের গ্লোবাল অর্গানাইজড ক্রাইম বইয়ে দেখিয়েছেন,ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ অপরাধের অন্যতম হচ্ছে অন্যের সম্পত্তি দখল যা ফিলিস্তিনের জাতীয় কর্তৃপক্ষের (পিএনএ বা পিএ) বাসিন্দাদের দ্বারা সংঘটিত হয়।[৪] মোটর গাড়ি চুরি ফিলিস্তিনিদের দ্বারা সংঘটিত একটি বড় ধরনের অপরাধ। ১৯৯০ সাল থেকে ইসরায়েলে ডাকাতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯৪ এবং ২০০১ সালের মধ্যে, ডাকাতি হার প্রতি ১০০,০০০ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে ১৪.০ থেকে বেড়ে ৩০.৬ হয়েছে। গ্লোবাল অর্গানাইজড ক্রাইম বই অনুযায়ী এই ডাকাতি বৃদ্ধির পেছনে কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, পশ্চিম তীরগাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি অপরাধীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। যাইহোক, মোটর গাড়িরমত সংগঠিত চুরির অপরাধের সঙ্গে শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিরা যুক্ত না , ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে ইহুদি এবং আরব উভয়ই জড়িত ।ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের “চপ দোকান” গুলোতে চুরি করা গাড়ির বিভিন্ন অংশ সরানো হয় এবং তারপর এইসব গাড়ি ইসরায়েলের কালো বাজারে বিক্রি করা হয়। মিডিয়া রিপোর্ট বলে এমনকি এইসব যানবাহনের কিছু উচ্চপদস্থ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।[৫] প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে ২০১০ এর শুরু থেকে ২০১০ এর ফেব্রুয়ারী শেষ পর্যন্ত, ফিলিস্তিনি পুলিশ কর্তৃপক্ষ ৯১০ টি চোরাই গাড়ি ধবংস করে।[৬]

যদিও ফিলিস্তিনি অপরাধীরা তাদের দেশে সংগঠিত অপরাধে জড়িত ,তারপরও ‘সিগেল ইটি অল’ এর পরামর্শে দেওয়া এক উপসংহারে বলা একটা কথা না বললেই নয় যে, ইসরায়েলের মধ্যে সংগঠিত অপরাধ ফিলিস্তিন দ্বারা প্রভাবিত। ইহুদী অথবা অন্যান্য অ-ফিলিস্তিনিদের কর্তৃক সংগঠিত সংঘটিত অপরাধের জন্য অনেক বছর ধরে ইসরায়েল অপরাধীদের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। [২]

অস্ত্র চোরাচালান হচ্ছে অপরাধের আরেকটি দিক এবং যা সরাসরি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ।ইসরাইলী ও ফিলিস্তিনী গ্যাংস্টার মধ্যে অনেক যোগাযোগ থাকার কারনে তারা এই কাজগুলো সহজেই করতে পারছে। [৫]

এ ছাড়াও গাড়ি চুরির পাশা-পাশি, অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলের পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের দ্বারা ধর্ষণ সংঘটিত হয়, তাদের অনেকেই অবৈধভাবে ইসরাইলের বসবাসকারীদের মধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে, এবং ইসরাইলে অসংখ্য ফিলিস্তিনিদের ধর্ষণের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। [৭][৮][৯][১০][১১]

ইসরায়েলে মাদক[সম্পাদনা]

ইসরায়েলে দীর্ঘ সময় ধরে হেরোইন অপব্যবহার চলছে এবং কোকেইন অপব্যবহার সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে । এই মাদক প্রধানত প্রতিবেশী দেশ লেবানন ও জর্ডান থেকে আসে।

কিশোর ভূক্তভূগী এবং অপরাধীরা[সম্পাদনা]

অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ইস্রায়েলের মধ্যে একটা সমস্যা। ১৯৯৯ সালে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রায় ৭,০০০ মামলা নথিভুক্ত যার মধ্যে শারীরিক লাঞ্ছনা (৫৪%), শ্লীলতাহানির (৩৭%) এবং পুনঃপুনঃ শারীরিক নিপীড়ন (৯%)তার অন্তর্ভুক্ত।[১২] তবে ইসরায়েলি অপ্রাপ্তবয়স্করা একমাত্র অপরাধের শিকার যে তা না , তারা মাঝে মাঝে অপরাধী ও হয়ে থাকে । ইসরায়েলে স্কুলে কিশোর সহিংসতাও একটা সমস্যা; ১৯৮১ সালে “টি হরোইটয” এবং “এম আমীর” অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা ইসরাইলী স্কুলে সহিংসতার জন্য তিনটি প্রধান দিক উল্লেখ করেন তা হচ্ছে চুরি করা, ভাঙ্গা এবং প্রবেশ ও ভাংচুর।[১৩] গবেষণায় দেখা যায় যে ইসরায়েলি আরব যুবকরা তাদের দেশের ইহুদীদের চেয়ে আরও হিংস্র, এই সমস্যাটা তাদের শিক্ষা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, এবং অর্থনৈতির মধ্য ভিন্নতা তৈরী করে। [১৪]

হত্যা[সম্পাদনা]

ইসরায়েলে মানুষ হত্যার পরিমান তুলনামূলক কম , বছরে ১০০,০০০ জনের মধ্যে ২.৪ (সুইজারল্যান্ডে এই সংখ্যা ০.৭১ , রাশিয়া রয়েছে ১৪.৯, দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৪, ভেনেজুয়েলায় ৪৯) জন নিহত হয় । ২০০৯ সালে ১৩৫ জন ইসরায়েলী খুন হয়।ইসরায়েলে দুটি প্রধান নরহত্যা হয় মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংশতা(মুসলিম পরিবারে সম্মান রক্ষার্থে হত্যা) এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সহিংসতার কারনে , যেমন ইসরায়েলে আরবদের সন্ত্রাসবাদ। [১৫]

রাস্তাঘাটের অপরাধ[সম্পাদনা]

ইসরায়েলে, রাস্তায় অপরাধ বিরল।সারা দেশেই এর হার কম যদিও খারাপ প্রতিবেশী বড় শহরে রয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ঘৃণিত-অপরাধ[সম্পাদনা]

ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং আরব সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহন,জাতিবিদ্বেষী ঘটনা,সহিংসতা চলতেই থাকে। আরব-ইহুদি জাতি দাঙ্গা অনেকবার ঘটেছে। এক বছর নজর রাখার , রাস্তায় নাত্সি অভিবাদন, ইহুদী ধর্মীয়দের আক্রমন, সংগৃহীত অস্ত্র বিস্ফোরক ও নাৎসি প্রচারণা এবং একটি ভিডিও তৈরীর দায়ে ৮ জন শ্বেত আধিপত্যবাদী সংখ্যাসূচক কোড ৮৮(ইংরেজী বর্ণের ৮ম সংখ্যাটি এইচ ৮ দুইবার হলে “হ্যালি হিটলার” হয়) ধারণকারীদের গ্রেফতার করা হয়।তারা রাশিয়া থেকে আসা অভিবাসীরা ছিল, এবং শুধুমাত্র একজন সম্পূর্ণরূপে ইহুদি ছিল।বাকিদের অভিবাসনের অনুমতি দেওয়া হয় তাদের পূর্বপূরুষগণ ইহুদী থাকার কারনে,কিন্তু তারা পরিপূর্ণরুপে ইহুদি ছিল না। [১৬]

মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Israel struggles to keep lid on crime বিবিসি নিউজ
  2. Dina Siegel, H. G. van de Bunt, Damián Zaitch (২০০৩)। Global Organized Crime: Trends and Developments। Springer। পৃষ্ঠা 147। আইএসবিএন 1-4020-1818-5 
  3. Crime in Israel – in 2003 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে Israel Police
  4. Dina Siegel, H. G. van de Bunt, Damián Zaitch (২০০৩)। Global Organized Crime: Trends and Developments। Springer। পৃষ্ঠা 145। আইএসবিএন 1-4020-1818-5 
  5. Dina Siegel, H. G. van de Bunt, Damián Zaitch (২০০৩)। Global Organized Crime: Trends and Developments। Springer। পৃষ্ঠা 146। আইএসবিএন 1-4020-1818-5 
  6. "Nablus police destroys 498 illegal cars, dismantle explosive"। Ma'am। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১০। 
  7. http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4229230,00.html
  8. http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4276993,00.html
  9. http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4269764,00.html
  10. http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-3975485,00.html
  11. http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4049458,00.html
  12. Florence Denmark; Leonore Loeb Adler; Melvin Ember (২০০৪)। International Perspectives on Violence। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 139। আইএসবিএন 0-275-97498-7 
  13. Florence Denmark; Leonore Loeb Adler; Melvin Ember (২০০৪)। International Perspectives on Violence। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 141। আইএসবিএন 0-275-97498-7 
  14. Florence Denmark; Leonore Loeb Adler; Melvin Ember (২০০৪)। International Perspectives on Violence। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 143। আইএসবিএন 0-275-97498-7 
  15. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০১৯ 
  16. Israeli 'neo-Nazi gang' arrested BBC 9 September 2007.