ইয়েমেনের নির্বাচনব্যবস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির কাঠামোর মাধ্যমে ইয়েমেনের নির্বাচন সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতিহাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস উভয়ই জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে, ২০০০-এর দশকের প্রথম দিকে থেকে নির্বাচন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি।

নির্বাচনী ইতিহাস[সম্পাদনা]

উত্তর ইয়েমেন[সম্পাদনা]

উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ এবং ইয়েমেন আরব প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর, ১৯৭০ সালে একটি নতুন সংবিধান কার্যকর হয় এবং ১৯৭১ সালে প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[১] তবে তখন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, ফলে সকল প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এমন ছিল যে, ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কোন নির্বাচন সংঘটিত হয়নি। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনও নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়; যদিও প্রায় ৩০ জন প্রার্থী যারা মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন তারা নির্বাচিত হন।[২]

দক্ষিণ ইয়েমেন[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে, এডেনের উপনিবেশে একটি আইন পরিষদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম নির্বাচনটি ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও ১৮টি আসনের মধ্যে মাত্র ৪টি আসনেই ভোটাধিকার সীমাবদ্ধ ছিল।[৩] ১৯৫৯ সালের পরবর্তী নির্বাচনে ২৩টি আসনের মধ্যে ১২টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল। এই নির্বাচনেও ভোটাধিকারের উপর ক্রমাগতভাবে বিধিনিষেধ আরোপ ছিল; ১,৮০,০০০ জনের মধ্যে শুধুমাত্র ২১,৫০০ মানুষ ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। ১৯৬২ সাল থেকে স্থগিত থাকার পর ১৯৬৪ সালে ব্রিটিশ যুগের শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৬৭ সালে স্বাধীনতার পর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী ইয়েমেনের প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৮ সালে প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় এটি একদলীয় রাষ্ট্র ছিল। ইয়েমেনি সোশ্যালিস্ট পার্টি (ওয়াইএসপি) ১১১টি আসনের সবগুলোতে জিতেছিল। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য ১৯৮৩ সাল নির্ধারিত ছিল, কিন্তু ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। ওয়াইএসপি একমাত্র বৈধ দল ছিল, কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় যারা ১১১টি আসনের মধ্যে ৪০টিতে জয়লাভ করেছিল।

সমন্বিত ইয়েমেন[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালে একীকরণের পর, ৩০১ আসনবিশিষ্ট একটি হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উত্তরাঞ্চলের দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেস (জিপিসি) ৩০১টি আসনের মধ্যে ১২৩টি আসন জয়লাভ করেছিল এবং আল ইসলাহ ৬২টি এবং ওয়াইএসপি ৫৬টি আসনে জয়লাভ করে। ওয়াইএসপি পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের সংসদীয় নির্বাচন বর্জন করে, যার মধ্যে জিপিসি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রত্যক্ষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীরা তখনই জনসাধারণের ভোটে অগ্রসর হতে পারতেন যদি তারা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর ৩০টিরও বেশি ভোট পেতেন।

এই নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করার জন্য শুধুমাত্র জিপিসি এবং আল-ইসলা যথেষ্ট আসন পায় এবং আল-ইসলার সমর্থকরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলী আব্দুল্লাহ সালেহকে সমর্থন করেন। জিপিসি’র নাজিব কাহতান আল-শাহী নামে একজন প্রার্থী ছিলেন, যিনি যথেষ্ট ভোট পেয়েছিলেন। সালেহ পরবর্তীতে ৯৬.২% ভোট পেয়ে জিতে যান। ২০১৩ সালে পরবর্তী সংসদীয় নির্বাচনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ওয়াইএসপি ফিরে আসে। তারা মাত্র আটটি আসন পায় যেখানে জিপিসি তাদের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে নেয়, তারা ৩০১টি আসনের মধ্যে ২২৬টি আসন জয়লাভ করে। ২০০৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সালেহ ফয়সাল বিন শামলানকে পরাজিত করে পুনরায় ৭৭% ভোটে নির্বাচিত হন। ফয়সাল বিন শামলান পাঁচটি প্রধান বিরোধী দলীয় জোটের যৌথ প্রার্থী ছিলেন। ২০০৯ সালের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় আবারও স্থগিত করা হয়। তবে ইয়েমেনি বিপ্লবের পর, সালেহ সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সালেহের উপ-রাষ্ট্রপতি আব্দ রাব্বু মনসুর হাদি একমাত্র প্রার্থী ছিলেন এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নির্বাচনী ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

প্রেসিডেন্ট দুই-পর্যায় প্রক্রিয়ার মধ্যে সাত বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন, যেখানে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস কমপক্ষে দুইজন প্রার্থীকে সমর্থন করার প্রয়োজন হয় যাদেরকে পরে সাধারণের মানুষের ভোটের জন্য প্রেরণ করা হয়।[৪] হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের ৩০১ সদস্য ফার্স্ট-পাস্ট -পোস্ট-সিস্টেম ব্যবহার করে এক-সদস্যের একক অঞ্চলে ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়।[৫] একজন ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সী হলে ভোট দেয়ার জন্য উপযুক্ত হন, তবে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস প্রার্থীদের অন্তত ২৫ বছর বয়স হতে হবে।

গণভোটসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালে একীকরণের পর ১৯৯১ সালে নতুন সংবিধানের জন্য একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যা ৯৮.৫% ভোটার দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল। ২০০১ সালে আরেকটি সাংবিধানিক গণভোটের মাধ্যমে ৭৭% ভোটার সংবিধানে পরিবর্তন আনার জন্য অনুমোদন দিয়েছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Robert D. Burrowes (2009) Historical Dictionary of Yemen, Scarecrow Press, p197
  2. Yemen Inter-Parliamentary Union
  3. Sheila Carapico (2007) Civil Society in Yemen: The Political Economy of Activism in Modern Arabia Cambridge University Press, p86
  4. Country profile: Yemen Library of Congress
  5. Electoral system Inter-Parliamentary Union