ইয়াহিয়া ইবনে উমর
ইয়াহিয়া ইবনে উমর | |
|---|---|
| অপরাধের অভিযোগ | রাষ্ট্রদোহিতা |
| দণ্ড | আব্বাসীয় বাহিনী কর্তৃক নিহত |
| বিস্তারিত | |
| আক্রান্ত ব্যক্তি | অজানা |
| তারিখ | আনু. ৮৬৪– ৬৫ |
| হত্যা | অজানা |
ইয়াহইয়া ইবনে উমর একজন আলীয় নেতা ছিলেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাইনের শাসনামলে ২৫০ হিজরি সনে (৮৬৪-৬৫ খ্রিস্টাব্দ) কুফা থেকে যাত্রা করে একটি ব্যর্থ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। কিন্তু তাকে প্রতিরোধ করার জন্য হুসাইন ইবনে ইসমাইলের নেতৃত্বে প্রেরিত আব্বাসীয় বাহিনীর হাতে তিনি নিহত হন।[১]
তাঁর পিতা ছিলেন উমর ইবন ইয়াহিয়া ইবনুল হুসাইন ইবন যায়েদ ইবনে আলি জাইনুল আবিদিন ইবনে হুসাইন ইবনে আলি ইবন আবি তালিব।[২] তাঁর মা ছিলেন উম্মুল হুসাইন ফাতিমা বিনতে হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব। তিনি পিতা ও মাতা উভয়ের সূত্রেই আলি ইবনে আবি তালিবের বংশধর ছিলেন।[৩]
ইয়াহিয়ার জীবনের ঘটনাবলি
[সম্পাদনা]
ইয়াহিয়ার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিম্নরূপ:
- ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে আল-মুতাওয়াক্কিল ইয়াহিয়াকে আব্বাসীয় খিলাফতের এক প্রদেশ থেকে এনে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কারণ হিসেবে বলা হয় যে, তিনি একটি সমর্থক দল তৈরি করেছিলেন। উমর ইবনে ফারাজ সিজিস্তানি[৪] (যিনি আব্বাসীয় খিলাফতের একজন সচিব ছিলেন এবং সামারার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি ক্রয় করেন)[৫] তাকে ১৮ ঘা বেত্রাঘাত করেন। এরপর তাকে বাগদাদে একটি কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়; তবে কিছুদিন পর মুক্তি দেওয়া হয়।[৬]
- ইয়াহিয়া একসময় দেনার সমস্যায় ভুগছিলেন। তাই তিনি উমর ইবনে ফারাজের কাছে অর্থ অনুদানের আবেদন করেন; কিন্তু ফারাজ কঠোরভাবে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলে তিনি উমর ইবনে ফারাজকে অভিশাপ দেন। ফলে ফারাজ কারাগারে বন্দী হন; তবে পরে আবার মুক্তি পান। এরপর তিনি বাগদাদে বসবাস শুরু করেন। তবে দারিদ্র্য ও কষ্ট থেকে মুক্তি পাননি। এরপর তিনি সামার্রায় যান এবং সেখানে তিনি আরেকজনের কাছে অনুদানের জন্য আবেদন করেন; কিন্তু পুনরায় কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যাত হন।[৭]
- এরপর ইয়াহিয়া কুফায় যান এবং ৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্রোহ শুরু করেন। এই বিদ্রোহ সম্ভবত হঠকারী বা অভিপ্রেতের চেয়ে একটি তাড়াপ্রবণ পদক্ষেপ ছিল। ইয়াহিয়া কুফায় অসংখ্যক বেদুইন ও কুফীয় জনগণকে একত্রিত করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি ফালুজার দিকে এগিয়ে যান এবং উমুদ নামক একটি গ্রামে শিবির স্থাপন করেন। এরপর তিনি কুফার দিকে অগ্রসর হন এবং কোষাগারে প্রবেশ করে যা যা পান, তা গ্রহণ করেন। এরপর কুফায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি কুফার দুটি জেলাও দখল করেন। বিদ্রোহ ঘোষণার পর তিনি কুফার ‘সাওয়াদ’ অঞ্চলে চলে যান এবং বুস্তান নামে একটি স্থানে বসতি স্থাপন করেন। বুস্তানে বসতি স্থাপনের পর তার সমর্থক আরো বেড়ে যায়। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে মূলত জায়দি, বুস্তানের নিকটবর্তী বেদুইন ও কুফার আশেপাশের কিছু স্থানীয় মানুষ ছিলেন।[৮]
- ইয়াহিয়া কুফা সেতুর কাছে এক তীব্র যুদ্ধে আব্বাসীয় বাহিনীকে পরাজিত করেন।[৯]
- যায়েদিরা প্রচার করে যে, তিনি নবি মুহাম্মদের পরিবার থেকে নির্বাচিত (আল-রিদা) ব্যক্তি। এটি তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে এবং এমনকি বাগদাদের সাধারণ জনগণও তাকে উচ্চ মর্যাদায় দেখত। কুফায় অভিজ্ঞ শিয়াদের একটি দল তার আনুগত্য স্বীকার করে। কুফায় অবস্থান করে তিনি নিজের বাহিনী প্রস্তুত করতে থাকেন এবং অন্যদিকে আব্বাসীয় বাহিনীও তাকে পরাজিত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।[১০]
- ১৩ রজব (২০ আগস্ট, ৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে) তাঁর সমর্থকদের উৎসাহে তিনি হুসাইন ইবনে ইসমাঈলের আব্বাসীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন।[১০]
- পরের দিন ইয়াহিয়ার বাহিনী হুসাইন ইবনে ইসমাঈলের বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। কিন্তু তারা পরাজিত হয় এবং ইয়াহিয়াকে যুদ্ধক্ষেত্রে একা ফেলে পালিয়ে যায়।[১০]
- এরপর ইয়াহিয়াকে ২৫০ হিজরির (৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসে একটি যুদ্ধে হত্যা করা হয় এবং তার মাথা কেটে তার লাশের সঙ্গে নির্যাতন করা হয়। তার মাথা আল-মুস্তাইনের কাছে পাঠানো হয়।।[১১][১২]
ইয়াহিয়ার কিছু সমর্থক তার পরাজয় ও মৃত্যুকে বিশ্বাস করেননি। তারা ধারণা করেন যে, তিনি মারা যাননি; বরং আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং তিনি ইমাম মাহদি হিসেবে ভবিষ্যতে আবার উপস্থিত হবেন। তার বিদ্রোহের একটি রোমাঞ্চকর ফলাফল ঘটে ২৫৫ হিজরি (৮৬৮–৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) সালে, যখন জাঞ্জ বিদ্রোহের নেতা আলি ইবনে মুহাম্মদ নিজেকে ইয়াহিয়ার পুনর্জন্মিত রূপ দাবি করেন।[১৩]
শোকগীতি
[সম্পাদনা]আল-মাসুদি উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহিয়ার জন্য অনেক শোকগীতি লেখা হয় এবং তিনি নিজের কিতাব আল-আওসাতে সেসবের কিছু সংরক্ষণ করেছেন। ইবনে আবি তাহির রচিত এই শোকগীতি ১৪টি ছত্রে গঠিত এবং সম্ভবত সামাররা বা ব্যাগদাদে বিশাল জনসমাগমের সামনে পাঠ করা হয়। এই শোকগীতিতে ইবনে আবি তাহির আব্বাসীয় খিলাফতের শাসনকর্তাদের আক্রমণ করেছেন, যারা আলি পরিবারের অধিকার হরণ করেছে।[১৪]
ইবনে রুমিও (মৃত্যু ২৮৩ হিজরি / ৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দ) ইয়াহিয়ার জন্য শোকগীতি প্রকাশ করেন।[১৫]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]সূত্র
[সম্পাদনা]- The Complete History, by Ali ibn al-Athir, vol.7, pg.43
- The Meadows of Gold, by Al-Masudi, vol.4, pg.147
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Incipient decline, By Tabarī, Joel L. Kraemer, pg.106
- ↑ Incipient decline, By Ṭabarī, Joel L. Kraemer, pg.105–106
- ↑ The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.15
- ↑ Incipient decline, By Tabarī, Joel L. Kraemer, pg.74
- ↑ Incipient decline, By Ṭabarī, Joel L. Kraemer, pg.35, 62
- ↑ Incipient decline, By Ṭabarī, Joel L. Kraemer, pg.105–106
- ↑ The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.15
- ↑ The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.15–17]
- ↑ The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.17
- 1 2 3 The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.18
- ↑ The crisis of the ʻAbbāsid Caliphate, By Ṭabarī, George Saliba, pg.19
- ↑ Ibn Abī Ṭāhir Ṭayfūr and Arabic writerly culture: a ninth-century bookman in ..., By Shawkat M. Toorawa, pg.74
- ↑ name="The History of al-Tabari Vol. 34 Incipient Decline" author="Ṭabarī, Joel L. Kraemer" pg.106
- ↑ Ibn Abī Ṭāhir Ṭayfūr and Arabic writerly culture: a ninth-century bookman in ..., By Shawkat M. Toorawa, pg.39, 74–75, 127
- ↑ Ibn Abī Ṭāhir Ṭayfūr and Arabic writerly culture: a ninth-century bookman in ..., By Shawkat M. Toorawa, pg.75
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Kraemer, Joel L., সম্পাদক (১৯৮৯)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXXIV: Incipient Decline: The Caliphates of al-Wāthiq, al-Mutawakkil and al-Muntaṣir, A.D. 841–863/A.H. 227–248। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-৮৭৪-৪।
- Saliba, George, সম্পাদক (১৯৮৫)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXXV: The Crisis of the ʿAbbāsid Caliphate: The Caliphates of al-Mustaʿīn and al-Muʿtazz, A.D. 862–869/A.H. 248–255। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৭৩৯৫-৮৮৩-৭।