ইয়াসিন আল-ফাদানি
মুহাম্মদ ইয়াসিন আল-ফাদানি محمد ياسين الفاداني | |
|---|---|
আল-ফাদানি (মাঝখানে চেয়ারে বসা) দার আল-উলুম আদ-দিনিয়ার শিক্ষকদের সাথে | |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ১৯১৬ |
| মৃত্যু | ২১ জুলাই ১৯৯০ (বয়স ৭৩–৭৪) মক্কা, সৌদি আরব |
| সমাধিস্থল | জান্নাতুল মুয়াল্লা |
| ধর্ম | ইসলাম |
| আখ্যা | সুন্নি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | শাফিঈ |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | আশআরি |
| প্রধান আগ্রহ | হাদিস, ইসলামি আইনশাস্ত্র |
আবু আল-ফায়দ মুহাম্মদ ইয়াসিন বিন মুহাম্মদ ঈসা আল-ফাদানি আল-মাক্কি (আরবি: أبو الفيض محمد ياسين بن محمد عيسى الفاداني المكي; ১৯১৬ – ২১ জুলাই ১৯৯০) ছিলেন মিনাসকাবাউ বংশোদ্ভূত একজন সৌদি আলিম।[১] তিনি একজন মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিত ছিলেন যিনি তার সময়ের সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনার সূত্র (ইসনাদ) সংগ্রহ করেছিলেন, যার ফলে তিনি মুসনিদ আদ-দুনিয়া উপাধি লাভ করেন।[২]
জীবনী
[সম্পাদনা]ইয়াসিন আল-ফাদানি ১৩৩৫ হিজরিতে (১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ ঈসা বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার পাদাং থেকে এসেছিলেন। ইয়াসিন আল-ফাদানি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় মক্কায় কাটিয়েছেন।[২]
তিনি তার পিতা মুহাম্মদ ঈসা আল-ফাদানি এবং তার চাচা মাহমুদ আল-ফাদানির কাছে পড়াশোনা শুরু করেন।[৩] এরপর তিনি মাদ্রাসা আল-সাওলাতিয়ায় অধ্যয়ন করেন, যা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা আলেমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসা।[৪] যখন ভারতীয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষকরা একটি নতুন মাদ্রাসা, দার আল-উলুম আদ-দিনিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য সাওলাতিয়া ত্যাগ করেন। আল-ফাদানি ১৩৫৩ হিজরিতে নতুন মাদ্রাসায় চলে যান। ১৩৫৬ হিজরিতে স্নাতক হওয়ার পর তিনি দার আল-উলুম আদ-দিনিয়ায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৩৭৫ হিজরিতে তিনি মাদ্রাসার পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন।[৫]
দার আল-উলুমের কার্যক্রম ছাড়াও আল-ফাদানি মসজিদ আল-হারামে বেশ কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি মসজিদ আল-হারামের কয়েকজন আলেমের অধীনে পড়াশোনা করেও সময় কাটিয়েছেন। ১৩৭৭ হিজরিতে তিনি মেয়েদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।[২]
আল-ফাদানি ১৪১০ হিজরির ২৮ জিলহজ (২১ জুলাই ১৯৯০) মৃত্যুবরণ করেন। তাকে জান্নাতুল মুয়াল্লায় দাফন করা হয়।[৩]
শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ
[সম্পাদনা]আল-ফাদানি হেজাজে প্রায় ৪০০ শিক্ষকের অধীনে পড়াশোনা করেছেন।[৩] তার সুপরিচিত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ আলী বিন হুসাইন বিন ইব্রাহিম আল-মালিকি, হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাশাত, উমর বিন হামদান আল-মাহরাসি, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আক্বিলাহ, আলী বিন জাহির আল-ওয়াতরি, আবিদ আস-সিন্দি, ফালিহ বিন মুহাম্মদ আজ-জাহিরি, সাইয়্যিদ হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-হাবাশি, উমর বাজুনাইদ আল-শাফিঈ, সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-ইয়ামানি, হাসান বিন সাঈদ আল-ইয়ামানি, সাইয়্যিদ মহসিন বিন আলী আল-মুসাউই আল-ফালিমবানি, আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আল-গাজি, ইব্রাহিম বিন দাউদ আল-ফাতানি, আলাউই বিন আব্বাস আল-মালিকি, সাইয়্যিদ মুহাম্মদ বিন আমিন আল-কুতুবি, শিহাব আহমদ আল-মুখাল্লালাতি আল-শামি, খলিফা বিন হামদ আল নাবহান, উবাইদুল্লাহ বিন আল-ইসলাম আস-সিন্দি, হুসাইন আহমদ আল-ফায়দাবাদি, আবদ আল-কাদির বিন তাওফিক আল-শালাবি, মুহাম্মদ আবদ আল-বাকি আল-লখনউয়ি এবং আবদ আল-হাদি আল-মাদরাসি।[৬]
বেশ কিছু বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত তার অধীনে অধ্যয়ন করেছেন, যেমন মুহাম্মদ তাকি উসমানি, আলী জুমা, হাসান আজহারি এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া আল-নিনাওয়ি।
সাহিত্যকর্ম
[সম্পাদনা]আল-ফাদানি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে কিছু অপ্রকাশিত এবং কিছু মুদ্রিত। তার কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:[৫][৬]
হাদিস
- আল-দুর আল-মানদুদ: শারহ সুনান আবি দাউদ (২০ খণ্ড)
- ফাতহ আল-আল্লাম: শারহ বুলুগ আল-মারাম (৪ খণ্ড)
ফিকহ এবং উসুল আল-ফিকহ
- বুগয়াহ আল-মুশতাক: শারহ লুমা আল-শায়খ আবি ইসহাক
- হাশিয়া আলা আল-আশবাহ ওয়া আল-নাজাইর ফি আল-ফুরু আল-ফিকহিয়্যাহ লি আল-সুয়ুতি
- তাতমিম আল-দুহুল: তালিকাত আলা মাদখাল আল-উসুল ইলা ইলম আল-উসুল
- আল-দুর আল-নাদিদ: হাওয়াশি আলা কিতাব আল-তামহিদ লি আল-ইসনাওয়ি
- আল-ফাওয়াইদ আল-জুনিয়্যাহ: হাশিয়া আলা আল-মাওয়াহিব আল-সুন্নিয়্যাহ আলা আল-কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ
- তালিকাত আলা লুমা আল-শায়খ আবি ইসহাক
- ইদাআহ আল-নূর আল-লামি: শারহ আল-কাওকাব আল-সাতি নাজম জম আল-জওয়ামি
- হাশিয়া আলা আল-তালাতুফ শারহ আল-তাআরাফ ফি উসুল আল-ফিকহ
- নাইল আল-মামুল: হাশিয়া আলা লুব আল-উসুল ওয়া গায়াহ আল-উসুল
জ্যোতির্বিজ্ঞান
- জান্নি আল-সামর: শারহ মানজুমাহ মানাজিল আল-কামার
- আল-মুখতাসার আল-মুহাজ্জাব ফি ইস্তিখরাজ আল-আওয়াকাত ওয়া আল-কিবলাহ বি আল-রুবি আল-মুজীব
- আল-মাওয়াহিব আল-জাজিলাহ: শারহ সামারাত আল-ওয়াসিলাহ
আরবি ব্যাকরণ
- তাশনি আল-সাম: মুখতাসার ফি ইলম আল-ওয়াদা
- বুলগাহ আল-মুশতাক ফি ইলম আল-ইশতিকাক
যুক্তিবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং অন্যান্য
- মানহাল আল-ইফাদাহ: হাওয়াশি আলা রিসালাহ আদাব আল-বাহাস ওয়া আল-মুনাজারাহ লি তাশকুবরিজাদাহ
- হুসন আল-সিয়াগাহ: শারহ কিতাব দুরুস আল-বালাগাহ
- রিসালাহ ফি ইলম আল-মানতিক
- ইতহাফ আল-খাল্লান: তাওদিহ তুহফাহ আল-ইখওয়ান ফি ইলম আল-বায়ান লি আল-দারদির
- আল-রিসালাহ আল-বায়ানিয়্যাহ ফি ইলম আল-বায়ান আলা তারিকাহ আল-সুয়াল ওয়া আল-জাওয়াব
হাদিসের বর্ণনাসূত্র
- মাতমাহ আল-ওয়াজদান (উমর হামদান থেকে বর্ণনা, ৩ খণ্ড)
- ফায়দ আল-রহমান (খলিফা বিন হামদ আল নাবহান থেকে বর্ণনা)
- ফায়দ আল-মুহাইমিন (সাইয়্যিদ মহসিন আল-মুসাউই থেকে বর্ণনা)
- আল-মাসলাক আল-জাল্লি (মুহাম্মদ আলী আল-মালিকি থেকে বর্ণনা)
- আল-ওয়াসল আল-রাতি (শিহাব আহমদ আল-মুখাল্লালাতি থেকে বর্ণনা)
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Hasril Chaniago; Rahmat Irfan Denas (২০২৩)। Ensiklopedia Tokoh 1001 Orang Minang (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Padang: UMSB Press।
- 1 2 3 Muhammad Khayr Ramadan Yusuf (১৯৯৮)। Tattimah al-A’lām (আরবি ভাষায়)। Beirut: Dar Ibn Hazm। পৃ. ১৫৫-১৫৮।
- 1 2 3 Muhammad Yasin al-Fadani (১৯৯৬)। al-Fawā’id al-Juniyyah (আরবি ভাষায়)। Beirut: Dar al-Basha'ir al-Islamiyyah। পৃ. ৩৭-৪৮।
- ↑ Bernard G. Weiss (২০০২)। Studies in Islamic Legal Theory। Leiden: Brill। পৃ. ৩৮১। আইএসবিএন ৯০০৪১২০৬৬১।
- 1 2 Nizar Abazah; Muhammad Riyad al-Malih (১৯৯৯)। Itmām al-A’lām (আরবি ভাষায়)। Beirut: Dar Sadir। পৃ. ২৭৫-২৭৬।
- 1 2 "Shaykh Muhammad Yasīn al-Fādāni"। IlmGate। ১০ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০২৫।