ইয়াজিদ ইবনে হাতিম আল-মুহাল্লাবি
ইয়াজিদ ইবনে হাতিম আল-মুহাল্লাবি يزيد بن حاتم المهلبي | |
|---|---|
| আজারবাইজানের গভর্নর | |
| সার্বভৌম শাসক | আল-মনসুর |
| মিশরের গভর্নর | |
| কাজের মেয়াদ ৭৬২ – ৭৬৯ | |
| সার্বভৌম শাসক | আল-মনসুর |
| পূর্বসূরী | হুমাইদ ইবনে কাহতাবা |
| উত্তরসূরী | আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| মৃত্যু | ১৩ মার্চ, ৭৮৭ কৈরবান, ইফ্রিকিয়া, আব্বাসীয় খিলাফত |
| সন্তান | দাউদ ইবনে ইয়াজদি ইবনে হাতিম |
ইয়াজিদ ইবনে হাতেম আল-মুহাল্লাবি ( আরবি: يزيد بن حاتم المهلبي; মৃ: ১৩ মার্চ, ৭৮৭) ছিলেন মুহাল্লাবি পরিবারের একজন সদস্য, যিনি আব্বাসীয় খিলাফতের অধীনে ইরানি আজারবাইজান (৭৬২-৭৬৯) ও ইফ্রিকিয়ার (৭৭১-৭৮৭) গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জীবনী
[সম্পাদনা]ইয়াজিদ আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের (শা. ৭৫৪–৭৭৫) ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।[১] ৭৫০ সালে ওয়াসিতে শেষ উমাইয়া বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় তিনি আল-মানসুরের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন।[২] পরবর্তীতে তাকে ইরানি আজারবাইজানের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি বসরা থেকে ইয়েমেনি আরবদের স্থানান্তর করে ওই প্রদেশে বসতি স্থাপনের একটি কর্মসূচি শুরু করেন।[৩]
৭৫৫ সালে তিনি মসুল অঞ্চলে খারিজি বিদ্রোহী মুলাব্বিদ ইবন হারমালাহ আল-শাইবানিকে দমন করার জন্য প্রেরিত সেনাপতিদের একজন ছিলেন। কিন্তু এই অভিযানে তিনি পরাজিত হন এবং তাকে পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়।[৪][৫]
৭৬২ সালে খলিফা আল-মানসুর তাকে মিশরের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি ৭৬৯ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন, ফলে প্রারম্ভিক আব্বাসীয় যুগে তার আট বছরের শাসনকাল ওই প্রদেশের গভর্নরদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ছিল। খলিফার বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে তার এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য ছিল মিশরে আব্বাসীয় শাসনকে সুদৃঢ় করা; বিশেষ করে আলীয় আন্দোলন প্রতিহত করা। কারণ তার পূর্বসূরি হুমায়দ ইবনে কাহতাবা আলীয় বিদ্রোহকে উপেক্ষা করেন। এর ফলে আলীয় আন্দোলন শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদ নফসে যাকিয়্যার নেতৃত্বে একটি বৃহৎ বিদ্রোহে রূপ নেয়। এটি ৭৬২–৭৬৩ সালে মদিনা ও বসরায় সংঘটিত হয়। তবে ইয়াজিদ ও তার সাহিবুল শুরতা (পুলিশ প্রধান) আব্দুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-তুজিবি মিলে মিশরের ফুস্তাত শহরে আলীয় বিদ্রোহের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হন। ৭৬৭ সালে ইয়াজিদ বিদ্রোহী বাশমুর অঞ্চলে একটি সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন, কিন্তু সেই অভিযান ব্যর্থ হয় এবং তাকে আবারও পিছু হটতে বাধ্য হতে হয়।[৬][৭][৮]
৭৭১ সালে ইফ্রিকিয়ার গভর্নর উমর ইবন হাফস মুহাল্লাবি খারিজি বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হওয়ার পর আল-মনসুর ইয়াজিদকে সেই পদে নিয়োগ দেন এবং একটি বিশাল বাহিনীসহ তাকে প্রদেশে পাঠান। ত্রিপোলি পৌঁছানোর পর ইয়াজিদ ৭৭২ সালের শুরুতে ইবাদিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন এবং একটি বড় যুদ্ধে তাদের নেতা আবু হাতিম ইয়াকুব ইবন লাবিব আল-খারিজিসহ অনেক বিদ্রোহীকে হত্যা করেন। এরপর এক মাস ধরে বেঁচে থাকা ইবাদিদের ধাওয়া করার পর তিনি প্রাদেশিক রাজধানী কাইরাওয়ানে প্রবেশ করেন এবং গোটা প্রদেশের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।[৯][১০][১১]
এরপর ইয়াজিদ ইফ্রিকিয়ার গভর্নর হিসেবে বাকি জীবন কাটান। তার পূর্বসূরীদের তুলনায় তার শাসনকালে প্রদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখা যায়। ৭৭৩ সালে একটি খারিজি বিদ্রোহ ও ৭৮১ সালে জাব অঞ্চলে ওয়ারফাজুমা বারবার উপজাতীয় বিদ্রোহ উভয়ই দমন করা হয়।[১২] প্রশাসনের ক্ষেত্রে তিনি কৈরবানের বাজারগুলোকে সুসংগঠিত করেন এবং শহরের মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন।[১৩][১৪]
ইয়াজিদ ১৫ বছর ৩ মাসের শাসনের পর ৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ কৈরবানে মারা যান। কৈরবান শহরের গেটের কাছে তাকে দাফন করা হয়।[১৫][১৬] মৃত্যুর পর তার ছেলে দাউদ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইফ্রিকিয়ার গভর্নর ছিলেন। এরপর রুহ ইবন হাতিম আল-মুহাল্লাবি তার স্থলাভিষিক্ত হন। [১৭][১৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Kennedy 1981, পৃ. 191।
- ↑ Al-Tabari 1985, পৃ. 190।
- ↑ Al-Ya'qubi 1883, পৃ. 446।
- ↑ Al-Tabari 1995, পৃ. 45।
- ↑ Ibn al-Athir 1987, পৃ. 114।
- ↑ Kennedy 1998, পৃ. 77-78 (note 75)।
- ↑ Al-Kindi 1912, পৃ. 111 ff.।
- ↑ Megally 1991।
- ↑ Kennedy 1981, পৃ. 191-92।
- ↑ Ibn al-Athir 1987, পৃ. 197-98।
- ↑ Al-Tabari 1990, পৃ. 67, 69।
- ↑ Ibn al-Athir 1987, পৃ. 210।
- ↑ Ibn al-Athir 1987, পৃ. 198।
- ↑ Kennedy 1981, পৃ. 192।
- ↑ Ibn Khallikan 1842, পৃ. 529।
- ↑ Ibn Khallikan 1871, পৃ. 213, 217।
- ↑ Al-Ya'qubi 1883, পৃ. 496।
- ↑ Ibn al-Athir 1987, পৃ. 278।
সূত্র
[সম্পাদনা]- Ibn al-Athir, 'Izz al-Din (১৯৮৭)। Al-Kamil fi al-Tarikh, Vol. 5. (আরবি ভাষায়)। Beirut: Dar al-'Ilmiyyah।
- Kennedy, Hugh (১৯৮১)। The Early 'Abbasid Caliphate: A Political History। London: Croom Helm। আইএসবিএন ০-৩৮৯-২০০১৮-২।
- Kennedy, Hugh (১৯৯৮)। "Egypt as a province in the Islamic caliphate, 641–868"। Petry, Carl F. (সম্পাদক)। Cambridge History of Egypt, Volume One: Islamic Egypt, 640–1517। Cambridge: Cambridge University Press। পৃ. ৬২–৮৫। আইএসবিএন ০-৫২১-৪৭১৩৭-০।
- টেমপ্লেট:Ibn Khallikan's Biographical Dictionary
- টেমপ্লেট:Ibn Khallikan's Biographical Dictionary
- Al-Kindi, Muhammad ibn Yusuf (১৯১২)। Guest, Rhuvon (সম্পাদক)। The Governors and Judges of Egypt (আরবি ভাষায়)। Leyden and London: E. J. Brill।
- Megally, Mounir (১৯৯১)। "Bashmuric Revolts"। Aziz Suryal Atiya (সম্পাদক)। The Coptic Encyclopedia। খণ্ড ২। New York: Macmillan Publishers। cols. 349b–351b।
- Williams, John Alden, সম্পাদক (১৯৮৫)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXVII: The ʿAbbāsid Revolution, A.D. 743–750/A.H. 126–132। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৭৩৯৫-৮৮৪-৪।
- McAuliffe, Jane Dammen, সম্পাদক (১৯৯৫)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXVIII: The ʿAbbāsid Authority Affirmed: The Early Years of al-Mansūr, A.D. 753–763/A.H. 136–145। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-১৮৯৫-৬।
- Kennedy, Hugh, সম্পাদক (১৯৯০)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXIX: Al-Mansūr and al-Mahdī, A.D. 763–786/A.H. 146–169। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-০১৪২-২।
- Al-Ya'qubi, Ahmad ibn Abu Ya'qub (১৮৮৩)। Houtsma, M. Th. (সম্পাদক)। Historiae, Vol. 2. (আরবি ভাষায়)। Leiden: Brill।