ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার (ইংরেজি: Impulse control disorder) একধরণের মানসিক রোগ

রোগের ধরন[সম্পাদনা]

ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন - অহেতুক চুরি করা; মানসিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে একে ক্লেপটোম্যানিয়া বলা হয়, বিনা কারণে মিথ্যা বলা যা প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং নামে পরিচিত, ইন্টারনেটে আসক্তি বা টেনে টেনে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার প্রবণতা (ট্রিকোটিলোম্যানিয়া), নিজের ত্বক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তুলে ফেলা (স্কিন পিকিং), কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই অন্যের সম্পত্তি বা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া (পাইরোম্যানিয়া), স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক যৌনচিন্তা ও আচরণে সব সময় আচ্ছন্ন থাকা এবং এ বিষয়ে চিন্তা ব্যতীত থাকতে না পারা, (সেক্সুয়াল কম্পালসন)। এ ছাড়া আরও কিছু ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার রয়েছে। যেমন: প্যাথলজিক্যাল গ্যাম্বলিং, যেখানে ব্যক্তি সব সময় কোন জুয়া বা বাজি ধরেন এবং বাজি না ধরতে পারলে তাঁর মনে অশান্তি বিরাজ করে। এতে তাঁর আর্থিক, সামাজিক ক্ষতি নিয়ে রোগী ব্যাক্তিটি কোন চিন্তা করেন না; আরেকটি সমস্যা হচ্ছে কম্পালসিভ শপিং, এ সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কেনাকাটা করে ঘর ভর্তি করে ফেলেন এবং কিনতে না পারলে তাঁর উৎকণ্ঠা দূর হয় না। আরেক প্রকার ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার হচ্ছে তুচ্ছ কারণে বা কারণ ছাড়াই হঠাৎ খুব রেগে যাওয়া, অন্যকে গালিগালাজ বা আক্রমণ করা। একে ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার বলা হয়।[১]

ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার হওয়ার কারণ ও প্রতিকার[সম্পাদনা]

ইম্পালস কন্ট্রোল ডিসঅর্ডার কি কারণে হয়ে থাকে, এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে বর্তমানে এর কারণ উৎঘাটনে গবেষণা চলছে। মনে করা হয়, একজন মানুষের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় ধারণাগত ও আচরণের বিবর্তন এবং মস্তিষ্কের কিছু রাসায়নিক পদার্থের কমবেশি হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন - সাইকোথেরাপি। তবে বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি ও কিছু ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]