ইমপালা
| Impala | |
|---|---|
| Male | |
| Female with calf both in Kruger National Park, South Africa | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) |
| পর্ব: | কর্ডাটা (Chordata) |
| শ্রেণি: | ম্যামালিয়া (Mammalia) |
| বর্গ: | আর্টিওড্যাকটিলা (Artiodactyla) |
| পরিবার: | বোভিডি (Bovidae) |
| গোত্র: | Aepycerotini |
| গণ: | Aepyceros (Lichtenstein, 1812) |
| প্রজাতি: | A. melampus |
| দ্বিপদী নাম | |
| Aepyceros melampus (Lichtenstein, 1812) | |
| Subspecies | |
| |
| Distribution:
Black-faced impala Common impala | |
| প্রতিশব্দ[২] | |
ইমপালা বা রুইবক (Aepyceros melampus, যার আক্ষরিক অর্থ প্রাচীন গ্রিক ভাষায় ‘কালোপদ উচ্চশৃঙ্গ’) হলো পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া মাঝারি আকারের একটি হরিণজাতীয় প্রাণী। এটি গণ Aepyceros এবং Aepycerotini গোত্রের একমাত্র জীবিত সদস্য। ১৮১২ সালে জার্মান প্রাণিবিজ্ঞানী হিনরিশ লিশটেনস্টাইন ইউরোপীয়দের কাছে প্রাণীটির প্রথম বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন। এর দুটি উপপ্রজাতি স্বীকৃত তৃণভূমিতে বসবাসকারী সাধারণ ইমপালা (কখনও কেনিয়ান ইমপালা নামেও পরিচিত) এবং আকারে বড় ও গাঢ় বর্ণের কালোমুখো ইমপালা, যা তুলনামূলকভাবে বেশি শুষ্ক ঝোপঝাড়পূর্ণ পরিবেশে বাস করে। ইমপালার কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা ৭০–৯২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০–৬৫ কিলোগ্রাম। এর দেহে চকচকে লালচে-বাদামি লোম রয়েছে। পুরুষের সরু, লাইরাকৃতির শিং ৪৫–৯২ সেন্টিমিটার দীর্ঘ।
ইমপালা প্রধানত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে এবং জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে দলবদ্ধ অথবা এলাকাভিত্তিক জীবনযাপন করতে পারে। এদের মধ্যে তিন ধরনের স্বতন্ত্র সামাজিক দল দেখা যায়: এলাকা-নিয়ন্ত্রণকারী পুরুষ, অবিবাহিত পুরুষদের পাল এবং স্ত্রীদের পাল। ইমপালা দুটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লাফের জন্য পরিচিত, যা শিকারির হাত থেকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে কাজ করে। এরা পাতা ও ঘাস উভয়ই খায়; খাদ্যের মধ্যে রয়েছে একবীজপত্রী উদ্ভিদ, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, ভেষজ উদ্ভিদ, ফল, এবং সুযোগ থাকলে অ্যাকেশিয়ার শুঁটি। বর্ষাকালের শেষদিকে, সাধারণত মে মাসে, প্রতিবছর তিন সপ্তাহব্যাপী প্রজনন ঋতু চলে। এ সময় পুরুষেরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে এবং বিজয়ী পুরুষ ঋতুমতী স্ত্রীদের আকৃষ্ট করে। গর্ভকাল ছয় থেকে সাত মাস, এরপর একটি মাত্র শাবক জন্মায় এবং জন্মের পরপরই তাকে আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়। শাবককে চার থেকে ছয় মাস দুধ পান করানো হয়। সব-স্ত্রী সদস্যের দল থেকে বিতাড়িত তরুণ পুরুষেরা অবিবাহিত পুরুষদের পালে যোগ দেয়, আর স্ত্রী শাবকেরা দলে থেকে যেতে পারে।
ইমপালা বনভূমিতে এবং কখনও বনভূমি ও সাভানার মধ্যবর্তী সীমান্তবর্তী পরিবেশে (ইকোটোন) বসবাস করে; সাধারণত পানির কাছাকাছি এলাকায় এদের দেখা যায়। কালোমুখো ইমপালা দক্ষিণ-পশ্চিম অ্যাঙ্গোলা এবং উত্তর-পশ্চিম নামিবিয়ার কাওকোল্যান্ড অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, সাধারণ ইমপালা এর বিস্তৃত বিস্তৃতিব্যাপী পাওয়া যায় এবং গ্যাবন ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ইমপালাকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে; তবে কালোমুখো উপপ্রজাতিটিকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বন্য পরিবেশে এ উপপ্রজাতির ১,০০০টিরও কম সদস্য অবশিষ্ট ছিল।
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]১৮০২ সালে ইংরেজিতে প্রাণীটির প্রথম নথিভুক্ত নাম ছিল প্যালা বা পাল্লা, যা ৎসোয়ানা phala ‘লাল হরিণজাতীয় প্রাণী’ শব্দ থেকে এসেছে।[৩] impala নামটি, যা impalla বা mpala বানানেও লেখা হয়, ১৮৭৫ সালে প্রথম নথিভুক্ত হয় এবং এটি সরাসরি জুলু ভাষা থেকে এসেছে।[৪] এর আফ্রিকান্স নাম rooibok ‘লাল হরিণ’ও কখনও ইংরেজিতে ব্যবহৃত হয়।[৫]
বৈজ্ঞানিক দ্বিপদ নামের গণের নাম Aepyceros-এর আক্ষরিক অর্থ ‘উচ্চশৃঙ্গ’। এটি প্রাচীন গ্রিক αἰπύς (aipus, ‘উচ্চ, খাড়া’) এবং κέρας (keras, ‘শিং’) শব্দ থেকে এসেছে।[৬][৭] প্রজাতির নাম melampus-এর আক্ষরিক অর্থ ‘কালোপদ’; এটি μέλας (melas, ‘কালো’) এবং πούς (pous, ‘পা’) শব্দ থেকে এসেছে।[৮]
শ্রেণিবিন্যাস ও বিবর্তন
[সম্পাদনা]ইমপালা Aepyceros গণের একমাত্র সদস্য এবং বোভিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। ১৮১২ সালে জার্মান প্রাণিবিজ্ঞানী মার্টিন হিনরিশ কার্ল লিশটেনস্টাইন প্রথম এর বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন।[২] ১৯৮৪ সালে জীবাশ্মবিদ এলিজাবেথ ভ্রবা মত দেন যে হার্টবিস্টের সঙ্গে ইমপালার সাদৃশ্যের কারণে এটি আলসেলাফিনদের সহোদর ট্যাক্সন।[৯] ১৯৯৯ সালে আলেকজান্দ্র হাসানিন (প্যারিসের জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র) ও তাঁর সহকর্মীদের করা একটি বংশাণুগতিবৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাইটোকন্ড্রিয়াল ও নিউক্লীয় ডিএনএ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা যায় যে ইমপালা সুনির (Neotragus moschatus) সঙ্গে একটি ক্লেড গঠন করে। এই ক্লেডটি আবার বে ডুইকারের (Cephalophus dorsalis) এবং ক্লিপস্প্রিঙ্গারের (Oreotragus oreotragus) সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি ক্লেডের সহোদর।[১০] ২০০৩ সালে আরআরএনএ এবং বিটা-স্পেকট্রিনের নিউক্লীয় ক্রম বিশ্লেষণও Aepyceros ও Neotragus-এর মধ্যে সম্পর্কের পক্ষে প্রমাণ দেয়।[১১] নিচের ক্ল্যাডোগ্রামটি ১৯৯৯ সালের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি।[১০]
| |||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
সর্বোচ্চ ছয়টি উপপ্রজাতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তবে মাইটোকন্ড্রিয়াল উপাত্তের ভিত্তিতে সাধারণত মাত্র দুটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।[১২] বাহ্যিক গঠনে উপপ্রজাতিগুলো একই রকম হলেও,[১৩] তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনগত দূরত্ব রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনো সংকর সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়নি।[১৩][১৪]
A. m. melampus লিশটেনস্টাইন, ১৮১২: সাধারণ ইমপালা নামে পরিচিত। এটি পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত। এর বিস্তৃতি মধ্য কেনিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে দক্ষিণ-পূর্ব অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত প্রসারিত।
A. m. petersi বোকাজ, ১৮৭৯: কালোমুখো ইমপালা নামে পরিচিত। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ এবং উত্তর-পশ্চিম নামিবিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিম অ্যাঙ্গোলায় পাওয়া যায়।
ভ্রবার মতে, ইমপালার বিবর্তন ঘটেছে একটি আলসেলাফিনি পূর্বপুরুষ থেকে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পূর্বপুরুষ অন্তত ১৮ বার বিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন বাহ্যিক গঠনবিশিষ্ট রূপে পরিণত হলেও ইমপালা অন্তত ৫০ লক্ষ বছর ধরে তার মৌলিক গঠন বজায় রেখেছে।[৯][১৫] বেশ কয়েকটি জীবাশ্ম প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে ইথিওপিয়ার প্লায়োসিন যুগের A. datoadeni অন্যতম।[১৬] আবিষ্কৃত প্রাচীনতম জীবাশ্ম থেকে ধারণা করা হয়, ইমপালার প্রাচীন পূর্বপুরুষরা আধুনিক ইমপালার তুলনায় কিছুটা ছোট ছিল, তবে অন্যান্য সব দিক থেকে তাদের সঙ্গে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। এর অর্থ হলো, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ইমপালা তার পরিবেশের সঙ্গে অত্যন্ত কার্যকরভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এর দলবদ্ধ জীবনযাপন, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রবণতা, আঁটুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং আঁটুলি খেকো বলদপাখিদের সঙ্গে মিথোজীবী সম্পর্ক এর গঠন ও আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।[৯]
বর্ণনা
[সম্পাদনা]
ইমপালা মাঝারি আকারের, সরু দেহের একটি হরিণজাতীয় প্রাণী। আকার ও দৈহিক গঠনে এটি কোব, পুকু এবং গ্র্যান্টের গ্যাজেলের সঙ্গে তুলনীয়।[১৭] মাথা ও দেহের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ সেন্টিমিটার (৫১ ইঞ্চি)।[১৮] পুরুষের কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৭৫–৯২ সেন্টিমিটার (৩০–৩৬ ইঞ্চি), আর স্ত্রীদের ৭০–৮৫ সেন্টিমিটার (২৮–৩৩ ইঞ্চি)। পুরুষের ওজন সাধারণত ৫৩–৭৬ কিলোগ্রাম (১১৭–১৬৮ পাউন্ড) এবং স্ত্রীর ৪০–৫৩ কিলোগ্রাম (৮৮–১১৭ পাউন্ড)। যৌন দ্বিরূপতাযুক্ত এই প্রাণীর স্ত্রীদের শিং থাকে না এবং তারা পুরুষের চেয়ে ছোট। পুরুষের সরু, বীণা-আকৃতির শিং ৪৫–৯২ সেন্টিমিটার (১৮–৩৬ ইঞ্চি) দীর্ঘ হয়।[১৭] শিংগুলোতে শক্ত খাঁজ রয়েছে, পরস্পর থেকে দূরে বাঁকানো এবং আড়াআড়ি কাটলে গোলাকার; গোড়ার অংশ ফাঁপা। শিংয়ের খিলানসদৃশ গঠন লড়াইয়ের সময় দুই পুরুষের শিং পরস্পরের সঙ্গে আটকে যেতে দেয়, ফলে একটি পুরুষ প্রতিপক্ষকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে; একই সঙ্গে শিং খুলিকে আঘাত থেকে রক্ষা করে।[১৩][১৭]
ইমপালার চকচকে লোমে দুটি স্বতন্ত্র রঙ দেখা যায় পিঠ লালচে-বাদামি এবং পার্শ্বদেশ হালকা বাদামি; এর সঙ্গে সাদা তলপেটের তীব্র বৈপরীত্য রয়েছে। মুখে চোখের চারপাশে সাদা বৃত্ত, আর থুতনি ও মুখাগ্র হালকা রঙের। ১৭ সেন্টিমিটার দীর্ঘ কান দুটির অগ্রভাগ কালো।[১৩][১৯] পশ্চাৎদেশ থেকে পেছনের ঊরুর ওপরের অংশ পর্যন্ত কালো দাগ বিস্তৃত। ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ঝুঁটিওয়ালা সাদা লেজের মাঝ বরাবর একটি সুস্পষ্ট কালো রেখা রয়েছে।[১৯] ইমপালার দেহের রঙ জেরেনুকের সঙ্গে অনেকটাই মেলে; তবে জেরেনুকের শিং ছোট এবং ইমপালার মতো ঊরুতে কালো দাগ নেই।[১৩] ইমপালার পেছনের পায়ে কালো লোমের ঝুঁটি দিয়ে আবৃত গন্ধগ্রন্থি রয়েছে। এই গ্রন্থিতে ২-মিথাইলবিউটানোয়িক অ্যাসিড ও ২-নোনানোন শনাক্ত করা হয়েছে।[২০] প্রভাবশালী পুরুষের কপালে ঘন এবং ধড়ের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা স্নেহগ্রন্থিগুলো[১৭][২১] প্রজনন ঋতুতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে স্ত্রীদের এসব গ্রন্থি আংশিকভাবে বিকশিত এবং ঋতুভেদে এদের কার্যকলাপে পরিবর্তন ঘটে না।[২২] এদের চারটি বোঁটা রয়েছে।[১৭]
উপপ্রজাতিগুলোর মধ্যে কালোমুখো ইমপালা সাধারণ ইমপালার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় ও গাঢ়; এর কালো রঙের জন্য মেলানিজম দায়ী।[২৩] কালোমুখো ইমপালার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো নাকের দুই পাশ থেকে চোখের দিকে উঠে যাওয়া গাঢ় রেখা, যা কপালের দিকে যেতে যেতে সরু হয়ে যায়।[১৮][১৯] এর অন্যান্য পার্থক্যের মধ্যে রয়েছে কানের অগ্রভাগে বড় কালো অংশ এবং সাধারণ ইমপালার তুলনায় বেশি ঝুঁটিওয়ালা ও প্রায় ৩০ শতাংশ দীর্ঘ লেজ।[১৩]
ইমপালার নিচের সামনের চোয়ালে একটি বিশেষ দাঁতের বিন্যাস রয়েছে, যা দাঁতের চিরুনির অনুরূপ স্ট্রেপসিরাইন প্রাইমেটদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।[২৪] এটি পারস্পরিক পরিচর্যার সময় মাথা ও ঘাড়ের লোম আঁচড়ে পরিষ্কার করতে এবং বহিঃপরজীবী অপসারণে ব্যবহৃত হয়।[১৩][২৫]
বাস্তুবিদ্যা ও আচরণ
[সম্পাদনা]
ইমপালা দিবা-সক্রিয় প্রাণী, অর্থাৎ প্রধানত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে; তবে দুপুরের তীব্র গরমে এর কার্যকলাপ সাধারণত থেমে যায় এবং রাতে এটি খাদ্য গ্রহণ ও বিশ্রাম করে।[১৭] ইমপালার তিন ধরনের স্বতন্ত্র সামাজিক দল দেখা যায় অঞ্চল-অধিকারী পুরুষ, অবিবাহিত পুরুষদের পাল এবং স্ত্রীদের পাল।[২৬] অঞ্চল-অধিকারী পুরুষেরা এমন এলাকা দখলে রাখে, যেখানে তারা স্ত্রীদের নিয়ে হারেম গঠন করতে পারে। তারা প্রস্রাব ও মল দিয়ে নিজেদের এলাকা চিহ্নিত করে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বা অন্য পুরুষের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করে।[১৭] অবিবাহিত পুরুষদের পাল সাধারণত ছোট হয় এবং সদস্যসংখ্যা ৩০-এর কম থাকে। প্রতিটি প্রাণী অন্যটির কাছ থেকে ২.৫–৩ মিটার (৮.২–৯.৮ ফুট) দূরত্ব বজায় রাখে। তরুণ ও বয়স্ক পুরুষেরা পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করলেও মধ্যবয়স্ক পুরুষেরা লড়াই করা ছাড়া সাধারণত একে অপরকে এড়িয়ে চলে। স্ত্রীদের পালে ৬ থেকে ১০০টি পর্যন্ত প্রাণী থাকতে পারে; এসব পাল ৮০–১৮০ হেক্টর (২০০–৪৪০ একর; ০.৩১–০.৬৯ বর্গমাইল) বিচরণক্ষেত্র জুড়ে বিচরণ করে। মা ও শাবকের বন্ধন দুর্বল এবং দুধ ছাড়ানোর পরপরই তা ভেঙে যায়; অল্পবয়স্করা মায়ের পাল ছেড়ে অন্য পালে যোগ দেয়। স্ত্রীদের পাল সাধারণত শিথিলভাবে গঠিত এবং এতে স্পষ্ট কোনো নেতৃত্ব দেখা যায় না।[১৭][২৭] অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীদের পালে পারস্পরিক পরিচর্যা সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রকৃতপক্ষে, ইমপালাই সম্ভবত একমাত্র খুরযুক্ত প্রাণী যে নিজেকে পরিচর্যা করার পাশাপাশি অন্যকেও পরিচর্যা করে। পারস্পরিক পরিচর্যার সময় স্ত্রী ইমপালারা সাধারণত আত্মীয়দের পরিচর্যা করে, আর পুরুষেরা অনাত্মীয়দের সঙ্গে এ ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রতিটি প্রাণী তার সঙ্গীকে ছয় থেকে বারোবার পর্যন্ত পরিচর্যা করে।[২৮]

ইমপালার সামাজিক আচরণ জলবায়ু ও ভূগোলের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে বছরের কোনো কোনো সময় তারা অঞ্চল-অধিকারী আচরণ করে, আবার অন্য সময়ে দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে; এই দুই পর্যায়ের স্থায়িত্ব বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ আফ্রিকার জনগোষ্ঠীগুলো প্রজনন ঋতুর মাত্র কয়েক মাসে অঞ্চল-অধিকারী আচরণ প্রদর্শন করে, যেখানে পূর্ব আফ্রিকার জনগোষ্ঠীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রজনন ঋতু থাকা সত্ত্বেও অঞ্চল-অধিকারী আচরণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। আবার অঞ্চল-অধিকারী পুরুষেরা প্রায়ই অবিবাহিত পুরুষদের সহ্য করে এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে অবিবাহিত জীবন ও অঞ্চল-অধিকারী জীবনের মধ্যে পরিবর্তনও করতে পারে। সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যানে ইমপালা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ৯৪ শতাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে অঞ্চল-অধিকারী আচরণ চার মাসেরও কম সময় স্থায়ী হয়েছিল।[১৭]
ইমপালা আফ্রিকার বৃহৎ মাংসাশী প্রাণীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিকার। এদের মধ্যে রয়েছে চিতা, চিতাবাঘ, বন্য কুকুর, সিংহ, হায়েনা, কুমির এবং অজগর। এই হরিণজাতীয় প্রাণীটি দুই ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লাফ দেয়। প্রথম ধরনের লাফে এটি উদ্ভিদ ও এমনকি অন্য ইমপালার ওপর দিয়েও সর্বোচ্চ ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) উচ্চতায় লাফিয়ে প্রায় ১০ মিটার (৩৩ ফুট) দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। অন্য ধরনের লাফে এটি ধারাবাহিকভাবে কয়েকবার লাফ দেয়; প্রথমে সামনের পায়ে ভর করে নামে, তারপর বাতাসে পেছনের পা ছুড়ে দেয়, চার পায়ে অবতরণ করে (লাফিয়ে লাফিয়ে চলা) এবং আবার লাফ দেয়। শিকারিকে বিভ্রান্ত করার জন্য এটি দুই ধরনের লাফই বিভিন্ন দিকে দিতে পারে।[১৩][২৯] কখনো কখনো ইমপালা শিকারির দৃষ্টি এড়াতে উদ্ভিদের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে।[৩০] এদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডাক হলো উচ্চস্বরে গর্জন, যা মুখ বন্ধ রেখে এক থেকে তিনবার জোরে নাক দিয়ে শব্দ করার পর মুখ খোলা অবস্থায় থুতনি ও লেজ উঁচু করে দুই থেকে দশটি গভীর গর্জন দিয়ে সম্পন্ন হয়। একটি স্বাভাবিক গর্জন ২ কিলোমিটার (১.২ মাইল) দূর থেকেও শোনা যেতে পারে।[১৭] গন্ধগ্রন্থির নিঃসরণ কোনো পুরুষের অঞ্চল-অধিকারী অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।[৩১] ইমপালারা সাধারণত এক জায়গায় স্থিরভাবে বসবাস করে; বিশেষ করে পূর্ণবয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক পুরুষেরা বছরের পর বছর নিজেদের এলাকা ধরে রাখতে পারে।[১৭]
পরজীবী
[সম্পাদনা]- অক্সপেকারের সঙ্গে ইম্পালার পারস্পরিক সহাবস্থানমূলক সম্পর্ক
ইম্পালা থেকে সংগৃহীত সাধারণ আইক্সোডিড টিকের মধ্যে রয়েছে Amblyomma hebraeum, Boophilus decoloratus, Hyalomma marginatum, Ixodes cavipalpus, Rhipicephalus appendiculatus এবং আর. এভার্টসি।[৩২] জিম্বাবুয়েতে আর. অ্যাপেন্ডিকুলাটাস–এর মতো টিকের ব্যাপক সংক্রমণ খুরযুক্ত প্রাণীর উচ্চ মৃত্যুহারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, কারণ এগুলো টিক পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে। টিক শরীরে রক্তপান করে ফুলে ওঠার আগেই তা দূর করার জন্য ইম্পালার দাঁতের বিশেষ বিন্যাসসহ পরিচর্যার কিছু অভিযোজন রয়েছে; তবে টিকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পরিচর্যার ফলে গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে, শিকারির প্রতি সতর্কতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে দাঁয় ক্ষয় হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতুভেদে টিকের প্রাচুর্য অনুযায়ী ইম্পালা পরিচর্যায় ব্যয় করা সময় এবং পরিচর্যার পর্বের সংখ্যা পরিবর্তন করে।
ইমপালার সঙ্গে ষাঁড়শালিকদের পারস্পরিক সহাবস্থানমূলক সম্পর্ক রয়েছে।[৩৩] এসব পাখি হরিণজাতীয় প্রাণীটির শরীরের যেসব অংশে ইমপালা নিজে পৌঁছাতে পারে না, যেমন কান, ঘাড়, চোখের পাতা, কপাল ও পেটের নিচের অংশ, সেসব স্থান থেকে এঁটেল পোকা খেয়ে থাকে। ষাঁড়শালিকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত খুরওয়ালা প্রাণীদের মধ্যে ইমপালাই সবচেয়ে ছোট। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একই এলাকায় কোকের হার্টিবিস্ট, গ্র্যান্টের গ্যাজেল, থমসনের গ্যাজেল ও টোপির মতো অন্যান্য প্রাণী থাকা সত্ত্বেও ষাঁড়শালিকেরা ইমপালাকেই বেছে নিচ্ছে। এর সম্ভাব্য কারণ হলো, ইমপালা এমন বনভূমিতে বাস করে যেখানে এঁটেল পোকার ঘনত্ব বেশি হতে পারে; ফলে শরীরের প্রতি একক পৃষ্ঠতলে ইমপালার শরীরে এঁটেল পোকার সংখ্যা বেশি থাকতে পারে।[৩৪] আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ষাঁড়শালিকেরা শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় কানকে বেশি পছন্দ করে, সম্ভবত এসব অংশে এঁটেল পোকার সংক্রমণ সর্বাধিক হওয়ায়।[৩৫] স্ত্রী ইমপালার বাটে বসে সেখান থেকে দুধ পান করতেও এই পাখিকে দেখা গেছে।[৩৬]
ইমপালার শরীরে পাওয়া উকুনের মধ্যে রয়েছে Damalinia aepycerus, D. elongata, Linognathus aepycerus এবং L. nevilli। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আইভারমেকটিন নামের পরজীবীনাশক ওষুধ Boophilus decoloratus ও Linognathus গণের ওপর কার্যকর হলেও Damalinia গণের ওপর কার্যকর ছিল না।[৩৭] দক্ষিণ আফ্রিকায় ইমপালাকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে কৃমির সংখ্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায় এবং ইমপালার এক বছর বয়সে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। গবেষণাটিতে Cooperia, Cooperoides, Fasciola, Gongylonema, Haemonchus, Impalaia, Longistrongylus এবং Trichostrongylusসহ বিভিন্ন গণের কৃমি শনাক্ত করা হয়; এদের কয়েকটির ঘনত্বে ঋতুভেদে পরিবর্তন দেখা গেছে।[৩৮]
উড়ন্ত পতঙ্গের বিরুদ্ধে ইমপালার প্রতিরক্ষামূলক আচরণ প্রায়ই দেখা যায়।[৩৯] সম্ভবত এ কারণেই ভেল ১৯৭৭ এবং ক্লসেন প্রমুখ ১৯৯৮-এর গবেষণায় ইমপালার ওপর Glossina (সেটসে মাছি)র খাদ্যগ্রহণের মাত্রা কেবল অতি সামান্য পর্যায়ে পাওয়া গিয়েছিল।[৩৯]
কেনিয়ার ইমপালার Theileria গবাদি পশুর মধ্যে আন্তঃসংক্রমণশীল নয়: গ্রোটেনহুইস প্রমুখ ১৯৭৫ সালে গবাদি পশুর মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারেননি এবং ফসেট প্রমুখ ১৯৮৭ সালেও প্রাকৃতিকভাবে এই সংক্রমণের কোনো প্রমাণ পাননি।[৪০]
খাদ্যাভ্যাস
[সম্পাদনা]
ইমপালা গাছপালার পাতা ও কচি ডালপালা খাওয়ার পাশাপাশি ঘাসও খায়; খাদ্যের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে দুটির যেকোনোটি প্রধান হয়ে উঠতে পারে।[৪১] তাদের খাদ্যের মধ্যে রয়েছে একবীজপত্রী উদ্ভিদ, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, ফল এবং সুযোগ থাকলে অ্যাকাশিয়া-র শুঁটি। ইমপালা জলাশয়ের কাছাকাছি স্থান পছন্দ করে এবং পানির অভাব হলে রসালো উদ্ভিদ খেয়ে থাকে।[৪২] একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইমপালার খাদ্যের ৪৫% একবীজপত্রী উদ্ভিদ, ৪৫% দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এবং ১০% ফল নিয়ে গঠিত; প্রথম বৃষ্টির পর খাদ্যে ঘাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত হয়, তবে শুষ্ক মৌসুমে তা আবার কমে যায়।[৪৩] বর্ষার শেষভাগ ও শুষ্ক মৌসুমে পাতা ও কচি ডালপালা খাওয়াই প্রধান হয়ে ওঠে এবং শুষ্ক মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে খাদ্যের পুষ্টিমান কমে যায়; তখন ইমপালা প্রধানত কাঠজাত দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ খায়।[৪৪][৪৫] আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিজস্ব অঞ্চল প্রতিষ্ঠা না করা পুরুষ ও স্ত্রী ইমপালার খাদ্যে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের অনুপাত নিজস্ব অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকারী পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি।[৪৬]
ইমপালা Digitaria macroblephara-র মতো নরম ও পুষ্টিকর ঘাস খায়; Heteropogon contortus ও Themeda triandra-র মতো শক্ত ও লম্বা ঘাস সাধারণত এড়িয়ে চলে।[৪৭] পালের প্রান্তে থাকা ইমপালারা সাধারণত মাঝখানে খাদ্যগ্রহণকারী ইমপালাদের তুলনায় শিকারির ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকে; খাদ্যগ্রহণকারী কোনো ইমপালা মাথা নিচু করে নিজের খাদ্যগ্রহণের স্থানটি রক্ষা করার চেষ্টা করে।[৪৮] একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমের শেষভাগে খাদ্যসংগ্রহে ব্যয় করা সময় দিনের সর্বোচ্চ ৭৫.৫% পর্যন্ত পৌঁছে, বর্ষাকালে তা কমতে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে সর্বনিম্ন ৫৭.৮%-এ নেমে আসে।[৪৯]
প্রজনন
[সম্পাদনা]
পুরুষ ইমপালা এক বছর বয়সেই যৌনভাবে পরিপক্ব হয়, তবে সাধারণত চার বছর বয়সের আগে সফলভাবে প্রজনন করতে পারে না। পূর্ণবয়স্ক পুরুষেরা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে এবং স্ত্রীদের কাছে যাওয়ার সুযোগ লাভের চেষ্টা করে। স্ত্রী ইমপালা দেড় বছর বয়সের পর গর্ভধারণ করতে পারে; ঋতুমতী অবস্থা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং গর্ভবতী নয় এমন স্ত্রীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১২ থেকে ২৯ দিন পরপর ঘটে।[৫০] প্রতি বছর তিন সপ্তাহব্যাপী প্রজনন মৌসুম বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে, সাধারণত মে মাসে, শুরু হয়। পুরুষদের জননগ্রন্থির বৃদ্ধি এবং হরমোনের উৎপাদন প্রজনন মৌসুমের কয়েক মাস আগে শুরু হয়, ফলে তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ ও নিজস্ব অঞ্চলের প্রতি অধিকারবোধ বৃদ্ধি পায়।[৫১] বালবিউরেথ্রাল গ্রন্থি ভারী হয় এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অবিবাহিত পুরুষের তুলনায় নিজস্ব অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকারী পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ থাকে,[৫২] এবং প্রজনন মৌসুমে নিজস্ব অঞ্চল প্রতিষ্ঠাকারী পুরুষের ঘাড় সাধারণত অবিবাহিত পুরুষের তুলনায় মোটা হয়। সাধারণত পূর্ণিমার সময় প্রজনন ঘটে।[৫১]
প্রজননরত পুরুষেরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে; এ সময় তারা প্রায়ই জোরে গর্জন করে এবং একে অপরকে তাড়া করে। তারা শক্তভাবে পা ফেলে হাঁটে এবং ঘাড় ও শিং প্রদর্শন করে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষেরা খাদ্যগ্রহণ ও পরস্পরকে পরিচর্যা করা বন্ধ রাখে, সম্ভবত ঋতুমতী স্ত্রীদের আকৃষ্ট করার জন্য বেশি সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যে;[৫৩] পুরুষটি স্ত্রীর প্রস্রাব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে সে ঋতুমতী অবস্থায় আছে।[৫৩][৫৪] এমন কোনো স্ত্রীকে দেখতে পেলে উত্তেজিত পুরুষটি তাকে অনুসরণ করে প্রণয় আচরণ শুরু করে এবং তার থেকে ৩–৫ মিটার (৯.৮–১৬.৪ ফুট) দূরত্ব বজায় রাখে। পুরুষটি জিহ্বা বের করে এবং জোরে জোরে মাথা নাড়তে পারে; স্ত্রী তাকে তার স্ত্রীজননাঙ্গ চাটতে দেয় এবং নিজের লেজ এক পাশে সরিয়ে রাখে। পুরুষটি মাথা উঁচু করে এবং সামনের পা দিয়ে তার দুই পাশ আঁকড়ে ধরে স্ত্রীটির ওপর ওঠার চেষ্টা করে। কয়েক সেকেন্ড পরপর থেকে প্রতি এক-দুই মিনিট অন্তর এভাবে ওঠার চেষ্টা পুনরাবৃত্তি হতে পারে। প্রথমবার সহবাসের পর পুরুষটি স্ত্রীটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, যদিও স্ত্রীটি তখনও সক্রিয় থাকে এবং অন্য পুরুষের সঙ্গেও প্রজনন করতে পারে।[৫১][৫৫]
গর্ভধারণকাল ছয় থেকে সাত মাস। সাধারণত মধ্যাহ্নে বাচ্চা জন্ম নেয়; প্রসববেদনা শুরু হলে স্ত্রীটি পাল থেকে আলাদা হয়ে যায়।[৫৬] তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্ত্রী ইমপালা আরও এক মাস পর্যন্ত সন্তান প্রসব বিলম্বিত করতে পারে এমন ধারণাটি সম্ভবত বাস্তবসম্মত নয়।[৫৭] একটি মাত্র শাবক জন্ম নেয় এবং জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাকে আড়াল করে রাখা হয়। পরে শাবকটি মায়ের পালের শিশুদের দলে যোগ দেয়। শাবকেরা চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করে; দল থেকে বিতাড়িত তরুণ পুরুষেরা অবিবাহিত পুরুষদের পালে যোগ দেয়, আর স্ত্রী শাবকেরা মায়ের পালের সঙ্গে থেকে যেতে পারে।[৫১]
বিস্তৃতি ও আবাসস্থল
[সম্পাদনা]
ছায়ার প্রতি পছন্দের কারণে ইমপালা সাধারণত বনভূমিতে বাস করে; বনভূমি ও সাভানার মধ্যবর্তী সীমান্তবর্তী বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চলে (ইকোটোন)ও তাদের দেখা যায়। জলাশয়ের কাছাকাছি স্থান তারা বেশি পছন্দ করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইমপালার বিচরণক্ষেত্র সাধারণত Colophospermum mopane ও Acacia বনভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত।[৫৮][৫৯] ঋতুভেদে আবাসস্থল নির্বাচনের ধরনও বদলে যায় বর্ষাকালে Acacia senegal বনভূমি এবং শুষ্ক মৌসুমে A. drepanolobium সাভানা বেশি পছন্দ করে। শিকারির আক্রমণের ঝুঁকিও আবাসস্থল নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে; ইমপালা সাধারণত লম্বা ঘাসযুক্ত এলাকা এড়িয়ে চলে, কারণ সেখানে শিকারিরা লুকিয়ে থাকতে পারে।[৬০] এক গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকান হাতির কারণে বনভূমির আচ্ছাদন কমে ঝোপঝাড়ের এলাকা সৃষ্টি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে আরও বেশি পাতা ও কচি ডালপালা পাওয়া যাওয়ায় ইমপালার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে Baikiaea বনভূমিতে ইমপালার জন্য ন্যূনতম পরিমাণে খাদ্য হিসেবে পাতা ও কচি ডালপালা পাওয়া যেত; হাতির কারণে সেই বনভূমি এখন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, নতুন সৃষ্ট Capparis ঝোপঝাড় ইমপালার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যসংগ্রহের আবাসস্থল হয়ে উঠতে পারে।[৬১] ইমপালা সাধারণত পার্বত্য আবাসস্থলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়;[৬২] তবে কোয়াজুলু-নাটালে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৪০০ মিটার (৪,৬০০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত ইমপালার উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে।[৫৯]
ইমপালার ঐতিহাসিক বিস্তৃতি দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত এখনও অনেকাংশে অক্ষত রয়েছে, যদিও বুরুন্ডির মতো কয়েকটি স্থান থেকে তারা বিলুপ্ত হয়েছে। পূর্বে বিস্তৃতির সীমানা মধ্য ও দক্ষিণ কেনিয়া এবং উত্তর-পূর্ব উগান্ডা থেকে দক্ষিণে উত্তর কোয়াজুলু-নাটাল পর্যন্ত এবং পশ্চিমে নামিবিয়া ও দক্ষিণ অ্যাঙ্গোলা পর্যন্ত পৌঁছেছে। কৃষ্ণমুখী ইমপালা দক্ষিণ-পশ্চিম অ্যাঙ্গোলা এবং উত্তর-পশ্চিম নামিবিয়ার কাওকল্যান্ড অঞ্চলে সীমাবদ্ধ; ২০০০-এর দশকের পর থেকে এই উপপ্রজাতির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। সাধারণ ইমপালার বিস্তৃতি আরও ব্যাপক এবং গ্যাবনের সংরক্ষিত এলাকা ও সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকায় তাদের প্রবর্তন করা হয়েছে।[৬৩]
হুমকি ও সংরক্ষণ
[সম্পাদনা]

প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদ (আইইউসিএন) সামগ্রিকভাবে ইমপালাকে ন্যূনতম উদ্বেগের প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।[১] তবে কৃষ্ণমুখী ইমপালাকে সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে; ২০০৮ সাল পর্যন্ত বন্য পরিবেশে এদের সংখ্যা ১,০০০-এরও কম বলে অনুমান করা হয়েছিল।[৬৪] সাধারণ ইমপালার টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় কোনো হুমকি না থাকলেও অবৈধ শিকার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষ্ণমুখী ইমপালার সংখ্যা কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ ইমপালার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ বলে অনুমান করা হয়েছিল।[১] কয়েকটি গবেষণা অনুযায়ী, কৃষ্ণমুখী ইমপালাকে এক স্থান থেকে অন্য উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা তাদের সংরক্ষণে অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।[৬৫][৬৬]
সাধারণ ইমপালার প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা সংরক্ষিত এলাকায় বাস করে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকাভাঙ্গো বদ্বীপ (বতসোয়ানা); মাসাই মারা ও কাজিয়াডো (কেনিয়া); ক্রুগার জাতীয় উদ্যান (দক্ষিণ আফ্রিকা); রুয়াহা ও সেরেঙ্গেটি জাতীয় উদ্যান এবং সেলুস গেম রিজার্ভ (তানজানিয়া); লুয়াংওয়া উপত্যকা (জাম্বিয়া); হুয়াঙ্গে, সেবুংওয়ে ও জাম্বেজি উপত্যকা (জিম্বাবুয়ে)। বিরল কৃষ্ণমুখী ইমপালাকে নামিবিয়ার ব্যক্তিমালিকানাধীন খামার এবং ইতোশা জাতীয় উদ্যানে প্রবর্তন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইমপালার জনঘনত্বে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়; তানজানিয়ার মকোমাজি জাতীয় উদ্যানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে একটিরও কম ইমপালা থেকে শুরু করে জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদের কাছে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৩৫টি পর্যন্ত ইমপালা পাওয়া যায়।[১][৬৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 IUCN SSC Antelope Specialist Group (২০১৬)। "Aepyceros melampus"। বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৬ e.T550A50180828। আইইউসিএন। ডিওআই:10.2305/IUCN.UK.2016-2.RLTS.T550A50180828.en। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২১।
- 1 2 টেমপ্লেট:MSW3 Artiodactyla
- ↑ Oxford English Dictionary, 3rd edition, March 2005, s.v. pallah
- ↑ Oxford English Dictionary Supp., 1933, s.v.
- ↑ Oxford English Dictionary, 3rd edition, November 2010, s.v.
- ↑ "Aepyceros"। মেরিয়াম-ওয়েবস্টার ডিকশনারি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৬।
- ↑ Briggs, M.; Briggs, P. (২০০৬)। The Encyclopedia of World Wildlife। Somerset, UK: Parragon Publishers। পৃ. ১১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫৪-৮২৯২-৯।
- ↑ Huffman, B.। "Impala (Aepyceros melampus)"। Ultimate Ungulate। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৬।
- 1 2 3 Vrba, E.S. (১৯৮৪)। "Evolutionary pattern and process in the sister-group Alcelaphini-Aepycerotini (Mammalia: Bovidae)"। Eldredge, N.; Stanley, S.M. (সম্পাদকগণ)। Living Fossils। New York, USA: Springer। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৬১৩-৮২৭১-৩। ওসিএলসি 10403493।
- 1 2 Hassanin, A.; Douzery, E.J.P. (১৯৯৯)। "Evolutionary affinities of the enigmatic saola (*Pseudoryx nghetinhensis*) in the context of the molecular phylogeny of Bovidae"। Proceedings of the Royal Society B: Biological Sciences। ২৬৬ (1422): ৮৯৩–৯০০। ডিওআই:10.1098/rspb.1999.0720। পিএমসি 1689916। পিএমআইডি 10380679।

- ↑ Kuznetsova, M.V.; Kholodova, M.V. (২০০৩)। "Revision of phylogenetic relationships in the Antilopinae subfamily on the basis of the mitochondrial rRNA and β-spectrin nuclear gene sequences"। Doklady Biological Sciences। ৩৯১ (1–6): ৩৩৩–৬। ডিওআই:10.1023/A:1025102617714। আইএসএসএন 1608-3105। পিএমআইডি 14556525। এস২সিআইডি 30920084।
- ↑ Nersting, L.G.; Arctander, P. (২০০১)। "Phylogeography and conservation of impala and greater kudu"। Molecular Ecology। ১০ (3): ৭১১–৯। বিবকোড:2001MolEc..10..711N। ডিওআই:10.1046/j.1365-294x.2001.01205.x। পিএমআইডি 11298982। এস২সিআইডি 23102044।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 Kingdon, J.; Happold, D.; Butynski, T.; Happold, M.; Hoffmann, M.; Kalina, J. (২০১৩)। Mammals of Africa। London, UK: Bloomsbury Publishing Plc। পৃ. ৪৭৯–৮৪। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৮১-৮৯৯৬-২। ওসিএলসি 854973585।
- ↑ Lorenzen, E.D.; Arctander, P.; Siegismund, H.R. (২০০৬)। "Regional genetic structuring and evolutionary history of the impala (Aepyceros melampus)"। Journal of Heredity। ৯৭ (2): ১১৯–৩২। ডিওআই:10.1093/jhered/esj012। পিএমআইডি 16407525।

- ↑ Arctander, P.; Kat, P.W.; Simonsen, B.T.; Siegismund, H.R. (১৯৯৬)। "Population genetics of Kenyan impalas – consequences for conservation"। Smith, T.B.; Wayne, R.K. (সম্পাদকগণ)। Molecular Genetic Approaches in Conservation। Oxford, UK: Oxford University Press। পৃ. ৩৯৯–৪১২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩৪৪৬৬-০। ওসিএলসি 666957480।
- ↑ Geraads, D.; Bobe, R.; Reed, K. (২০১২)। "Pliocene Bovidae (Mammalia) from the Hadar Formation of Hadar and Ledi-Geraru, Lower Awash, Ethiopia"। Journal of Vertebrate Paleontology। ৩২ (1): ১৮০–৯৭। বিবকোড:2012JVPal..32..180G। ডিওআই:10.1080/02724634.2012.632046। এস২সিআইডি 86230742।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 Estes, R.D. (২০০৪)। The Behavior Guide to African Mammals: Including Hoofed Mammals, Carnivores, Primates (4th সংস্করণ)। Berkeley, US: University of California Press। পৃ. ১৫৮–৬৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-০৮০৮৫-০। ওসিএলসি 19554262।
- 1 2 Liebenberg, L. (১৯৯০)। A Field Guide to the Animal Tracks of Southern Africa। Cape Town, South Africa: D. Philip। পৃ. ২৭৫–৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৬৪৮৬-১৩২-০। ওসিএলসি 24702472।
- 1 2 3 Stuart, C.; Stuart, T. (২০০১)। Field Guide to Mammals of Southern Africa (3rd সংস্করণ)। Cape Town, South Africa: Struik Publishers। পৃ. ২১০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬৮৭২-৫৩৭-৩। ওসিএলসি 46643659।
- ↑ Wood, William F. (১৯৯৭)। "2-Methylbutanoic Acid and 2-Nonanone from the Metatarsal Glands of Impala, Aepyceros melampus"। Biochemical Systematics and Ecology। ২৫ (3): ২৭৫। বিবকোড:1997BioSE..25..275W। ডিওআই:10.1016/S0305-1978(97)00011-2।
- ↑ Armstrong, M. (২০০৭)। Wildlife and Plants। খণ্ড ৯ (3rd সংস্করণ)। New York, US: Marshall Cavendish। পৃ. ৫৩৮–৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৬১৪-৭৬৯৩-১। ওসিএলসি 229311414।
- ↑ Welsch, U.; van Dyk, G.; Moss, D.; Feuerhake, F. (১৯৯৮)। "Cutaneous glands of male and female impalas (Aepyceros melampus): seasonal activity changes and secretory mechanisms"। Cell and Tissue Research। ২৯২ (2): ৩৭৭–৯৪। ডিওআই:10.1007/s004410051068। পিএমআইডি 9560480। এস২সিআইডি 3127722।
- ↑ Hoven, W. (২০১৫)। "Private game reserves in southern Africa"। van der Duim, R.; Lamers, M.; van Wijk, J. (সম্পাদকগণ)। Institutional Arrangements for Conservation, Development and Tourism in Eastern and Southern Africa। Dordrecht, Netherlands: Springer। পৃ. ১০১–১৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৪-০১৭-৯৫২৮-৯। ওসিএলসি 895661132।
- ↑ McKenzie, A.A. (১৯৯০)। "The ruminant dental grooming apparatus"। Zoological Journal of the Linnean Society। ৯৯ (2): ১১৭–২৮। ডিওআই:10.1111/j.1096-3642.1990.tb00564.x।
- ↑ Mills, G.; Hes, L. (১৯৯৭)। The Complete Book of Southern African Mammals (1st সংস্করণ)। Cape Town, South Africa: Struik Publishers। পৃ. ২৭১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৪৭৪৩০-৫৫-৯। ওসিএলসি 37480533।
- ↑ Schenkel, R. (১৯৬৬)। "On sociology and behaviour in impala (Aepyceros melampus) Lichtenstein"। African Journal of Ecology। ৪ (1): ৯৯–১১৪। বিবকোড:1966AfJEc...4...99S। ডিওআই:10.1111/j.1365-2028.1966.tb00887.x।
- ↑ Murray, M.G. (১৯৮১)। "Structure of association in impala, Aepyceros melampus"। Behavioral Ecology and Sociobiology। ৯ (1): ২৩–৩৩। বিবকোড:1981BEcoS...9...23M। ডিওআই:10.1007/BF00299849। এস২সিআইডি 24117010।
- ↑ Hart, B.L.; Hart, L.A. (১৯৯২)। "Reciprocal allogrooming in impala, Aepyceros melampus"। Animal Behaviour। ৪৪ (6): ১০৭৩–১০৮৩। ডিওআই:10.1016/S0003-3472(05)80319-7। এস২সিআইডি 53165208।
- ↑ "Impala: Aepyceros melampus"। National Geographic। ১১ এপ্রিল ২০১০। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১৪।
- ↑ Nowak, R.M. (১৯৯৯)। Walker's Mammals of the World। খণ্ড ২ (6th সংস্করণ)। Baltimore, USA: Johns Hopkins University Press। পৃ. ১১৯৪–৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০১৮-৫৭৮৯-৮। ওসিএলসি 39045218।
- ↑ Kingdon, J. (১৯৮৯)। East African Mammals: An Atlas of Evolution in Africa। খণ্ড ৩। London, UK: Academic Press। পৃ. ৪৬২–৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২২৬-৪৩৭২৫-৫। ওসিএলসি 48864096।
- ↑ Mooring, M.S. (১৯৯৫)। "The effect of tick challenge on grooming rate by impala" (পিডিএফ)। Animal Behaviour। ৫০ (2): ৩৭৭–৯২। ডিওআই:10.1006/anbe.1995.0253। এস২সিআইডি 53185353। ১২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।<ref>Gallivan, G.J.; Culverwell, J.; Girdwood, R.; Surgeoner, G.A. (১৯৯৫)। "Ixodid ticks of impala (Aepyceros melampus) in Swaziland: effect of age class, sex, body condition and management"। South African Journal of Zoology। ৩০ (4): ১৭৮–৮৬। ডিওআই:10.1080/02541858.1995.11448385।
<ref>Horak, I.G. (১৯৮২)। "Parasites of domestic and wild animals in South Africa. XV. The seasonal prevalence of ectoparasites on impala and cattle in the Northern Transvaal"। The Onderstepoort Journal of Veterinary Research। ৪৯ (2): ৮৫–৯৩। পিএমআইডি 7177586। - ↑ Mikula P, Hadrava J, Albrecht T, Tryjanowski P. (2018) Large-scale assessment of commensalistic–mutualistic associations between African birds and herbivorous mammals using internet photos. PeerJ 6:e4520 (https://doi.org/10.7717/peerj.4520)
- ↑ {{cite journal |last1 = Hart |first1 = B.L. |last2 = Hart |first2 = L.A. |last3 = Mooring |first3 = M.S. |title = Differential foraging of oxpeckers on impala in comparison with sympatric antelope species |journal = African Journal of Ecology |date = 1990 |volume = 28 |issue = 3 |pages = 240–9 |doi = 10.1111/j.1365-2028.1990.tb01157.x |bibcode = 1990AfJEc..28..240H |url = [(https://www.researchgate.net/publication/229520029)] }}

- ↑ {{cite journal |last1 = Mooring |first1 = M.S. |last2 = Mundy |first2 = P.J. |title = Interactions between impala and oxpeckers at Matobo National Park, Zimbabwe |journal = African Journal of Ecology |date = 1996 |volume = 34 |issue = 1 |pages = 54–65 |doi = 10.1111/j.1365-2028.1996.tb00594.x |bibcode = 1996AfJEc..34...54M |url = [(https://www.researchgate.net/publication/227814876)] }}

- ↑ {{cite journal |last1=Hussain Kanchwala |title=How Did We Start Drinking Milk Of The Ruminants? Are We The Only Species To Drink Milk Of Other Species? |journal=ScienceABC |date=2022 |url=[(https://www.scienceabc.com/humans/species-drink-milk-another-species.html)]}}
- ↑ Horak, I.G.; Boomker, J.; Kingsley, S.A.; De Vos, V. (১৯৮৩)। "The efficacy of ivermectin against helminth and arthropod parasites of impala"। Journal of the South African Veterinary Association। ৫৪ (4): ২৫১–৩। পিএমআইডি 6689430।
- ↑ Horak, I.G. (১৯৭৮)। "Parasites of domestic and wild animals in South Africa. X. Helminths in impala"। The Onderstepoort Journal of Veterinary Research। ৪৫ (4): ২২১–৮। পিএমআইডি 572950।
- 1 2 Auty, Harriet; Morrison, Liam J.; Torr, Stephen J.; Lord, Jennifer (২০১৬)। [(http://eprints.gla.ac.uk/215396/1/215396.pdf) "Transmission Dynamics of Rhodesian Sleeping Sickness at the Interface of Wildlife and Livestock Areas"]। Trends in Parasitology। ৩২ (8)। Cell Press: ৬০৮–৬২১। ডিওআই:10.1016/j.pt.2016.05.003। আইএসএসএন 1471-4922। পিএমআইডি 27262917।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] - ↑ Grootenhuis, J.G.; Olubayo, R.O. (১৯৯৩)। "Disease research in the wildlife-livestock interface in Kenya"। Veterinary Quarterly। ১৫ (2)। Royal Netherlands Veterinary Association+Flemish Veterinary Association (T&F): ৫৫–৫৯। ডিওআই:10.1080/01652176.1993.9694372। আইএসএসএন 0165-2176। পিএমআইডি 8372423।
- ↑ Skinner, J.D.; Chimimba, C.T. (২০০৫)। The Mammals of the Southern African Subregion (3rd সংস্করণ)। Cambridge, UK: Cambridge University Press। পৃ. ৭০৩–৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮৪৪১৮-৫। ওসিএলসি 62703884।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "estes2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Meissner, H.H.; Pieterse, E.; Potgieter, J.H.J. (১৯৯৬)। "Seasonal food selection and intake by male impala Aepyceros melampus in two habitats"। South African Journal of Wildlife Research। ২৬ (2): ৫৬–৬৩। আইএসএসএন 0379-4369।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "kingdon2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Dunham, K. M. (২০০৯)। "The diet of impala (Aepyceros melampus) in the Sengwa Wildlife Research Area, Rhodesia"। Journal of Zoology। ১৯২ (1): ৪১–৫৭। ডিওআই:10.1111/j.1469-7998.1980.tb04218.x।
- ↑ van Rooyen, A.F.; Skinner, J.D. (১৯৮৯)। "Dietary differences between the sexes in impala"। Transactions of the Royal Society of South Africa। ৪৭ (2): ১৮১–৫। ডিওআই:10.1080/00359198909520161।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Sinclair" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Blanchard, P.; Sabatier, R.; Fritz, H. (২০০৮)। "Within-group spatial position and vigilance: a role also for competition? The case of impalas (Aepyceros melampus) with a controlled food supply"। Behavioral Ecology and Sociobiology। ৬২ (12): ১৮৬৩–৮। বিবকোড:2008BEcoS..62.1863B। ডিওআই:10.1007/s00265-008-0615-3। এস২সিআইডি 11796268।
- ↑ Wronski, T. (সেপ্টেম্বর ২০০২)। "Feeding ecology and foraging behaviour of impala Aepyceros melampus in Lake Mburo National Park, Uganda"। African Journal of Ecology। ৪০ (3): ২০৫–১১। বিবকোড:2002AfJEc..40..205W। ডিওআই:10.1046/j.1365-2028.2002.00348.x।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Nowak2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 3 4 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "estes3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Bramley, P.S.; Neaves, W.B. (১৯৭২)। ["The relationship between social status and reproductive activity in male impala, Aepyceros melampus" (পিডিএফ)। Journal of Reproduction and Fertility। ৩১ (1): ৭৭–৮১। ডিওআই:10.1530/jrf.0.0310077। পিএমআইডি 5078117।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); লেখা "doi-access](http://www.reproduction-online.org/content/31/1/77.full.pdf" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - 1 2 Mooring, M. S.; Hart, B. L. (১৯৯৫)। "Differential grooming rate and tick load of territorial male and female impala"। Behavioral Ecology। ৬ (1): ৯৪–১০১। ডিওআই:10.1093/beheco/6.1.94।
- ↑ Hart, Lynette A., and Benjamin L. Hart. "(https://www.researchgate.net/profile/Benjamin_Hart4/publication/232525532_Species-specific_patterns_of_urine_investigation_and_flehmen_in_Grant%27s_gazelle_Gazella_granti_Thomson%27s_gazelle_G_thomsoni_impala_Aepyceros_melampus_and_eland_Taurotragus_oryx/links/554522870cf24107d397b00d.pdf) Species-specific patterns of urine investigation and flehmen in Grant's gazelle (Gazella granti), Thomson's gazelle (G. thomsoni), impala (Aepyceros melampus), and eland (Taurotragus oryx)]." Journal of Comparative Psychology 101.4 (1987): 299.
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "schenkel2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Jarman, M.V. (১৯৭৯)। Impala Social Behaviour: Territory, Hierarchy, Mating, and the Use of Space। Berlin, Germany: Parey। পৃ. ১–৯২। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৪৮৯-৬০৯৩৬-০। ওসিএলসি 5638565।
- ↑ D)'Araujo, Shaun (২০ নভেম্বর ২০১৬)। ["Can Impala Really Delay Their Births?"। Londolozi Blog।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "estes4" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "Skinner2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Jarman, P.J.; Sinclair, A.R.E. (১৯৮৪)। "Feeding strategy and the pattern of resource partitioning in ungulates"। Sinclair, A.R.E.; Norton-Griffths, M. (সম্পাদকগণ)। Serengeti, Dynamics of an Ecosystem। Chicago, US: University of Chicago Press। পৃ. ১৩০–৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২২৬-৭৬০২৯-২। ওসিএলসি 29118101।
- ↑ Rutina, L.P.; Moe, S.R.; Swenson, J.E. (২০০৫)। "Elephant Loxodonta africana driven woodland conversion to shrubland improves dry-season browse availability for impalas Aepyceros melampus"। Wildlife Biology। ১১ (3): ২০৭–১৩। ডিওআই:10.2981/0909-6396(2005)11[207:ELADWC]2.0.CO;2। এস২সিআইডি 84372708।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "kingdon3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; "iucn status 12 November 20212" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ IUCN SSC Antelope Specialist Group (২০১৭)। "Aepyceros melampus ssp. petersi"। বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭ e.T549A50180804। আইইউসিএন। ডিওআই:10.2305/IUCN.UK.2017-2.RLTS.T549A50180804.en। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০২১।
- ↑ Green, W.C.H.; Rothstein, A. (২০০৮)। "Translocation, hybridisation, and the endangered black-faced impala"। Conservation Biology। ১২ (2): ৪৭৫–৮০। ডিওআই:10.1111/j.1523-1739.1998.96424.x। এস২সিআইডি 85717262।
- ↑ Matson, T.; Goldizen, A.W.; Jarman, P.J. (২০০৪)। "Factors affecting the success of translocations of the black-faced impala in Namibia"। Biological Conservation। ১১৬ (3): ৩৫৯–৬৫। বিবকোড:2004BCons.116..359M। ডিওআই:10.1016/S0006-3207(03)00229-5।
- ↑ East, R. (১৯৯৯)। African Antelope Database 1998। Gland, Switzerland: IUCN Species Survival Commission। পৃ. ২৩৮–৪১। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৮৩১৭-০৪৭৭-৭। ওসিএলসি 44634423।