বিষয়বস্তুতে চলুন

ইব্রাহিম ফেজিচ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইব্রাহিম ফেজিচ
উপাধিসাবেক ইয়ুগোস্লাভিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম১৮৭৯ (1879)
মৃত্যু১৫ ডিসেম্বর ১৯৬২(1962-12-15) (বয়স ৮২–৮৩)
ধর্মসুন্নি ইসলাম
ঊর্ধ্বতন পদ
কাজের মেয়াদ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ – ৮ ডিসেম্বর ১৯৫৭
পূর্বসূরীফেহিম স্পাহো
উত্তরসূরীসুলেমান কেমুরা
৬ষ্ঠ মোস্তারের মেয়র
কাজের মেয়াদ
১৯২৯ – ১৯৩৪
পূর্বসূরীস্মাইল-আগা চেমালোভিচ
উত্তরসূরীমুহাম্মদ রিজানোভিচ

ইব্রাহিম এফেন্দি ফেজিচ (১৮৭৯ - ১৫ ডিসেম্বর ১৯৬২) একজন বসনিয়ান মুসলিম ধর্মতত্ত্ববিদ ছিলেন। তিনি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত যুগোস্লাভিয়ার প্রধান মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি পূর্বে ১৯২৯ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত মোস্তারের ৬ষ্ঠ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মুসলিম নারীদের বাধ্যতামূলক পর্দার বিরুদ্ধে প্রচারণার সমর্থনের জন্য ফেজিচ বেশি পরিচিতি পায়।

প্রাথমিক জীবন এবং কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

ইব্রাহিম ফেজিচ ১৮৭৯ সালে হার্জেগোভিনিয়ার শহর মোস্তারের একটি বিশিষ্ট বসনিয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এটি তখন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান কনডোমিনিয়ামের অংশ ছিল। সেখানে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং ইজাজাহ লাভ করেন। তিনি তুর্কি, আরবি এবং ফার্সি ভাষায় সাবলীল ছিলেন এবং জার্মান ভাষায় তার দক্ষতা ছিল।

ফেজিচ তার নিজ শহরে ধর্মতত্ত্ব শিক্ষক এবং প্রচারক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯২০ সালে, তিনি সারায়েভোর মজলিসের উলেমা হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২৯ সালে, তিনি মোস্তারের মেয়র নির্বাচিত হন, যা তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার রাজ্যের অংশ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যুগোস্লাভিয়ায় নাৎসিদের দখলের পর ফেজিচ যুগোস্লাভ পার্টিসানদের সাথে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নিয়ে তিনি হলোকাস্ট এবং সার্ব ও রোমানি জনগণের উপর নির্যাতনের নিন্দা করেছিলেন।[১]

ধর্মীয় নেতৃত্ব

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে পার্টিসানরা যুগোস্লাভিয়ায় জয়ী হয়। যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসে। ১৯৪৭ সালে তারা ইসলামি সম্প্রদায়ের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এতে সংস্কারপন্থী নেতাদের নির্বাচনের শর্ত ছিল।[২] আগস্ট মাসে, ইসলামী সম্প্রদায়ের একটি নতুন সংবিধান জারি করা হয়। ফেজিচ ২৬শে আগস্ট ১৯৪৭ তারিখে " দ্বিতীয় যুগোস্লাভিয়ার " প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি ( রেইস-ল-উলেমা ) নির্বাচিত হন। ১২ সেপ্টেম্বর অভিষেক অনুষ্ঠানটি সারায়েভোতে সম্রাটের মসজিদের পরিবর্তে গাজী হুসরেভ-বেগ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। [১]

ফেজিচের অভিষেকের বছরে, নারী মুক্তি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নারী-বিরোধী ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট হিজাব এবং নিকাব ( জার, মুখের পর্দা) পরার বিরুদ্ধে একটি প্রচারণা শুরু করে। তার উদ্বোধনী ভাষণে, ফেজিচ এই প্রচারণার প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন: "আমাদের জনগণের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি মূল্যবান উত্তরাধিকার হল নারীর সমতার ঘোষণা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নারীরা সেই সমতার পূর্ণ প্রকাশ অর্জন করতে পারে না। কারণ তাদের পর্দা এবং গাউন পরতে বাধা দেওয়া হয়।"[২] ১ নভেম্বর, ইসলামী সম্প্রদায় ঘোষণা করে যে "ধর্মীয় আইন অনুসারে নারীদের পর্দা করা বাধ্যতামূলক নয়। ধর্মের ক্ষেত্রে, মুসলিম মহিলারা পর্দা না করে চলাফেরা করতে এবং তাদের বিষয়গুলি পরিচালনা করতে স্বাধীন।

১৯৫০ সালে, ফেজিচ একটি লেখা প্রকাশ করেন যেখানে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে ধর্ম দ্বারা মুখ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক নয়।[৩]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

১৯৫৭ সালের নভেম্বরে, ফেজিচ তাকে যুগোস্লাভিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। ১৯৫৭ সালের ৮ ডিসেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়েন। তিনি ১৯৬২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যান এবং দুই দিন পর সারায়েভোতে তাকে সমাহিত করা হয়।[১]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 Šeta, Ferhat (১৯৯১)। Reisu-l-uleme u Bosni i Hercegovini i Jugoslaviji od 1882. do 1991. godine (Serbo-Croatian ভাষায়)।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  2. 1 2 Hoare, Marko Attila (২০১৪)। Bosnian Muslims in the Second World War: A History। Oxford University Press। পৃ. ৩৭৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০১৯৯৩২৭৮৫০।
  3. ↑ Karić, Enes (২০০৪)। Prilozi za povijest islamskog mišljenja u Bosni i Hercegovini XX stoljeća। El-Kalem। পৃ. ৩১৬।