বিষয়বস্তুতে চলুন

ইব্রাহিম পুরদাউদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইব্রাহিম পুরদাউদ
ইব্রাহিম পুরদাউদের প্রতিকৃতি
ইব্রাহিম পুরদাউদ
জন্মابراهیم پورداوود
(১৮৮৫-০২-০৯)৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৫
রাশত, কাজার ইরান
মৃত্যু১৭ নভেম্বর ১৯৬৮(1968-11-17) (বয়স ৮৩)
তেহরান, রাজতন্ত্রী ইরান
সমাধিস্থলপুরদাউদ পারিবারিক সমাধিসৌধ, রাশত, ইরান
পেশা
ভাষা
জাতীয়তাইরানি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়
সময়কালআধুনিক
উল্লেখযোগ্য পুরস্কাররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পদক, অর্ডার অফ সেন্ট সিলভেস্টার
সন্তান

ইব্রাহিম পুরদাউদ[] (ফার্সি: ابراهیم پورداوود; ৯ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৫ – ১৭ নভেম্বর ১৯৬৮) ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইরানতত্ত্ববিদ এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইরানি সংস্কৃতি ও অবেস্তা ভাষার অধ্যাপক। তিনি ১৮৮৫ সালে ইরানের রাশতে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন একজন ধর্মযাজকের কন্যা এবং বাবা ছিলেন একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও জমিদার। পুরদাউদকে বিংশ শতাব্দীতে ইরানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অবেস্তাকে ছয় খণ্ডে ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

জীবন ও কর্মজীবন

[সম্পাদনা]
১৯৩৩ সালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইব্রাহিম পুরদাউদ।

২০ বছর বয়সে পুরদাউদ ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নের জন্য তেহরানে চলে আসেন। তবে এই বিষয়ে তার আগ্রহ না থাকায় তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন। ১৯০৮ সালে ২৩ বছর বয়সে তিনি বৈরুতে যান এবং সেখানে আড়াই বছর ফরাসি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। এরপর কিছুদিনের জন্য ইরানে পরিবারের কাছে ফিরে এলেও অচিরেই তিনি ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

ফ্রান্সে থাকাকালীন তিনি 'ইরানশাহর' নামক একটি সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৪ সালের এপ্রিলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় এবং আগস্টে চতুর্থ ও শেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনালগ্নের সাথে মিলে যায়।

কর্মজীবন ও গবেষণামূলক কাজ

[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় পুরদাউদ বাগদাদে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে 'রস্তাখিজ' (রিসারেকশন বা পুনরুত্থান) নামে আরেকটি সাময়িকী প্রকাশ করেন। ১৯১৬ সালের মার্চ মাসে বন্ধ হওয়ার আগে এর ২৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর তিনি বার্লিনে চলে যান এবং ১৯২৪ সাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। জার্মানিতে অবস্থানকালে তার শিক্ষাজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। এসময় তিনি জরাথুস্ট্রবাদী শিক্ষা এবং প্রাচীন ইরানের ইতিহাসের প্রতি গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

১৯২৪ সালে ইরানে ফিরে পুরদাউদ 'স্কুল অফ এনশিয়েন্ট ল্যাঙ্গুয়েজেস' (প্রাচীন ভাষা বিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি প্রাচীন ইরানি ইতিহাস এবং ভাষার ওপর ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন, যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অবেস্তা ভাষা। ১৯৪৫ সালে তিনি 'ইরানোলজি সোসাইটি' এবং পরবর্তীতে 'স্কুল অফ ইরানোলজি' প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিংশ শতাব্দীতে ইরানতত্ত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অবদানসমূহ

[সম্পাদনা]

পুরদাউদের গবেষণামূলক কাজ মূলত কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে বিস্তৃত ছিল:

  • জরাথুস্ট্রবাদের পবিত্র গ্রন্থ অবেস্তার অনুবাদ ও ব্যাখ্যা।
  • প্রাচীন পারস্যের ভাষা, বিশেষ করে অবেস্তা ভাষা নিয়ে গবেষণা।
  • জরাথুস্ট্রবাদী গ্রন্থগুলোতে ব্যবহৃত প্রতীক, পরিভাষা এবং অভিব্যক্তি বিশ্লেষণ।
  • প্রাচীন ইরানের উদ্ভিদ, প্রাণী এবং জাতিতত্ত্ব বিষয়ক অধ্যয়ন।
  • প্রাচীন ইরানের সামরিক ইতিহাস, বিশেষ করে প্রাচীন অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল নিয়ে অনুসন্ধান।

নিজস্ব ভাষা ফার্সি ছাড়াও পুরদাউদ আরবি, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান এবং তুর্কি ভাষার পাশাপাশি প্রাচীন ইরানি ভাষাগুলোতেও পারদর্শী ছিলেন।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি

[সম্পাদনা]

শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য পুরদাউদ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে জার্মানির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডর হিউস তাকে দেশটির সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারত থেকে সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পদক' লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে তেহরানে পোপ ষষ্ঠ পলের প্রতিনিধির কাছ থেকে তিনি 'অর্ডার অফ সেন্ট সিলভেস্টার' সম্মাননায় ভূষিত হন।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

পুরদাউদ একজন জার্মান বংশোদ্ভূত নারীকে বিবাহ করেছিলেন এবং তাদের পুরানদোখত নামে একটি কন্যাসন্তান ছিল। ১৯৬৮ সালের ১৭ নভেম্বর সকালে নিজ বাড়ির পাঠাগারে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উদ্ধৃতি

[সম্পাদনা]
  1. পুরদাউদ (Pourdāvoud) এবং পৌরদাউদ (Poordāvoud) সাধারণ বিকল্প বানান। "ইব্রাহিম পুরদাউদ"-এর আক্ষরিক অনুবাদ হলো "ইব্রাহিম দাউদ-পুত্র"।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]