ইবোলা ভাইরাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ইবোলা ভাইরাস (EBOV)
Ebola virus em.png
ভাইরাসের শ্রেণীবিন্যাস
গ্রুপ: ৫ম গ্রুপ ((-)ssRNA)
বর্গ: Mononegavirales
পরিবার: Filoviridae
গণ: Ebolavirus
প্রজাতি: Zaire ebolavirus

ইবোলা ভাইরাস (ইংরেজি: Ebola virus)(/ɛˈblə/;[১] EBOV, পূর্বনাম Zaire ebolavirus) হচ্ছে ইবোলাভাইরাস গণের পাঁচটি ভাইরাসের মধ্যে অন্যতম একটি।[১] এই ভাইরাস ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ বা ইবোলা হিমোরেজিক ডিজিজ করে এবং ২০১৩-২০১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় মহামারী সৃষ্টি করে।[২] যা প্রায় ২৮,৬১৬ জনকে আক্রান্ত করে এবং ১১,৩১০ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়।[৩] ইবোলা ভাইরাস ও এর গণ উভয়কেই জায়ার নামে অভিহিত করা হয় যেখানে এটি প্রথম দেখা দেয়। জায়ারের বর্তমান নাম গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র[১] প্রথমে এই ভাইরাসকে মারবুর্গ ভাইরাসের একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল।[৪][৫] ২০১০ সালে সন্দেহ দূর করার জন্য নাম পরিবর্তন করে ইবোলা ভাইরাস রাখা হয়।[১][৬] বাদুড় বিশেষত ফল বাদুড়কে এই ভাইরাসের বাহক হিসেবে মনে করা হয়।[৭] এবং প্রাথমিকভাবে মানুষ থেকে মানুষে বা প্রাণী থেকে মানুষে শরীর নির্গত তরলের মাধ্যমে ছড়ায়।[৮] এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার অনেক বেশি(প্রায় ৮৩-৯০%),[৯][১০]

গাঠনিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

Phylogenetic tree comparing ebolaviruses and marburgviruses. Numbers indicate percent confidence of branches.

ইবোলা ভাইরাস হল ফিলোভাইরাস (Filovirus) পরিবারের সদস্য। এরা একসূত্রক আরএনএ ভাইরাস। ফিলোভাইরাসগুলো সবচেয়ে লম্বা হয়ে থাকে প্রায় ১০০০ন্যানোমিটার। ইবোলা হল ১৯,০০০ নিউক্লিওটাইড বিশিষ্ট একসূত্রক আরএনএ ভাইরাস।এটি সাতটি গাঠনিক প্রোটিনকে এনকোড করে: নিউক্লিওপ্রোটিন (NP), পলিমারেজ কোফ্যাক্টর(VP35), (VP40), GP, ট্রান্সক্রিপশন অ্যাক্টিভেটর(VP30), (VP24) ও আরএনএ ডিপেন্ডেন্ট আরএনএ পলিমারেজ (L).[১১][১২][১৩][১৪][১৫]

Genome structure of Ebola Virus, mostly after GenBank KJ660346.2

বিস্তার[সম্পাদনা]

ইবোলার পোষক এর ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে অনেকে বানর ও ফল বাদুড়কে ইবোলার পোষক হিসেবে মনে করেন তবে বানর ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তাই এর পোষক হওয়ার সম্ভাবনা কম।[৭][১৬] ইবোলা বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায় না বা অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলেও ছড়ায় না। এটি কেবল অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে নির্গত তরলের মাধ্যমে অপর ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করতে পারে অর্থাৎ অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত, লালা, বীর্য, বমি, মল, থুথু, শ্লেষ্মা বা শরীর থেকে অন্য কোনো তরল স্পর্শ করার মাধ্যমে যে কেউ এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বেঁচে যায় তাহলেও যৌনমিলনের মাধ্যমে ঐ ব্যক্তি প্রায় দুইমাস পর্যন্ত এই ভাইরাস ছড়াতে থাকে কারণ বীর্যে এই ভাইরাস দীর্ঘদিন ধরে থাকে।[১৭]

রোগ[সম্পাদনা]

ইবোলা ভাইরাস যে রোগ করে তার নাম ইবোলা হিমোরেজিক ফিভার। এই রোগ সাধারণত শুরু হয় জ্বর, মাথাব্যথা , বমি ও ডায়রিয়া দিয়ে। পরবর্তীতে পাকস্থলী ও অন্ত্রে রক্তপাত হয়। অণুচক্রিকার পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ায় রক্তপাতের প্রধান কারণ। এই রোগে মৃত্যুহার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি। এই ভাইরাসের এত শক্তিশালী হয়ে উঠার পেছনে কিছু কারণ হলো : ভাইরাস কোষের গ্লাইকোপ্রোটিন রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল কোষকে ধ্বংস করে ফলে রক্তপাত হয়, এছাড়াও এর আরো দুটি প্রোটিন আছে যা ইন্টারফেরনের কাজ কে বাধা দেয়। লিম্ফোসাইটকে ধ্বংস করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।[১৮] এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো টিকা আবিষ্কার হয় নি।[১৯][২০][২১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Kuhn, Jens H.; Becker, Stephan; Ebihara, Hideki; Geisbert, Thomas W.; Johnson, Karl M.; Kawaoka, Yoshihiro; Lipkin, W. Ian; Negredo, Ana I; ও অন্যান্য (২০১০)। "Proposal for a revised taxonomy of the family Filoviridae: Classification, names of taxa and viruses, and virus abbreviations"Archives of Virology155 (12): 2083–103। doi:10.1007/s00705-010-0814-xPMID 21046175পিএমসি 3074192অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  2. Na, Woonsung; Park, Nanuri; Yeom, Minju; Song, Daesub (৪ ডিসেম্বর ২০১৬)। "Ebola outbreak in Western Africa 2014: what is going on with Ebola virus?"Clinical and Experimental Vaccine Research4 (1): 17–22। doi:10.7774/cevr.2015.4.1.17আইএসএসএন 2287-3651। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  3. "Ebola virus disease outbreak"World Health Organization। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  4. Pattyn, S.; Jacob, W.; van der Groen, G.; Piot, P.; Courteille, G. (১৯৭৭)। "Isolation of Marburg-like virus from a case of haemorrhagic fever in Zaire"। Lancet309 (8011): 573–4। doi:10.1016/s0140-6736(77)92002-5PMID 65663 
  5. Bowen, E. T. W.; Lloyd, G.; Harris, W. J.; Platt, G. S.; Baskerville, A.; Vella, E. E. (১৯৭৭)। "Viral haemorrhagic fever in southern Sudan and northern Zaire. Preliminary studies on the aetiological agent"। Lancet309 (8011): 571–3। doi:10.1016/s0140-6736(77)92001-3PMID 65662 
  6. WHO। "Ebola virus disease" 
  7. Quammen, David (২০১৪-১২-৩০)। "Insect-Eating Bat May Be Origin of Ebola Outbreak, New Study Suggests"news.nationalgeographic.com। Washington, DC: National Geographic Society। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-১২-৩০ 
  8. Angier, Natalie (অক্টোবর ২৭, ২০১৪)। "Killers in a Cell but on the Loose - Ebola and the Vast Viral Universe"New York Times। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ২৭, ২০১৪ 
  9. "Ebola virus disease Fact sheet N°103"World Health Organization। মার্চ ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ এপ্রিল ২০১৪ 
  10. C.M. Fauquet (২০০৫)। Virus taxonomy classification and nomenclature of viruses; 8th report of the International Committee on Taxonomy of Viruses। Oxford: Elsevier/Academic Press। পৃষ্ঠা 648। আইএসবিএন 9780080575483 
  11. Nanbo, Asuka; Watanabe, Shinji; Halfmann, Peter; Kawaoka, Yoshihiro (৪ ফেব্রু ২০১৩)। "The spatio-temporal distribution dynamics of Ebola virus proteins and RNA in infected cells"Nature3: 1206। doi:10.1038/srep01206বিবকোড:2013NatSR...3E1206N 
  12. Feldmann, H. K. (১৯৯৩)। "Molecular biology and evolution of filoviruses"। Archives of virology. Supplementum7: 81–100। PMID 8219816আইএসএসএন 0939-1983 
  13. Lee, Jeffrey E; Saphire, Erica Ollmann (১ জানুয়ারি ২০০৯)। "Ebolavirus glycoprotein structure and mechanism of entry"Future virology4 (6): 621–635। doi:10.2217/fvl.09.56আইএসএসএন 1746-0794। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  14. Falasca, L; Agrati, C; Petrosillo, N; Di Caro, A; Capobianchi, M R; Ippolito, G; Piacentini, M (৪ ডিসেম্বর ২০১৬)। "Molecular mechanisms of Ebola virus pathogenesis: focus on cell death"Cell Death and Differentiation22 (8): 1250–1259। doi:10.1038/cdd.2015.67আইএসএসএন 1350-9047। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  15. Swetha, Rayapadi G.; Ramaiah, Sudha; Anbarasu, Anand; Sekar, Kanagaraj (১ জানুয়ারি ২০১৬)। "Ebolavirus Database: Gene and Protein Information Resource for Ebolaviruses"Advances in Bioinformatics2016doi:10.1155/2016/1673284আইএসএসএন 1687-8027। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  16. Feldmann H (মে ২০১৪)। "Ebola — A Growing Threat?"N. Engl. J. Med.371 (15): 1375–8। doi:10.1056/NEJMp1405314PMID 24805988 
  17. ""Clinical care for survivors of Ebola virus disease" (PDF)World Health Organization। ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  18. Angela L. Rasmussen with 21 others (অক্টো ৩০, ২০১৪)। "Host genetic diversity enables Ebola hemorrhagic fever pathogenesis and resistance"Science346 (6212): 987–991। doi:10.1126/science.1259595বিবকোড:2014Sci...346..987R। সংগ্রহের তারিখ অক্টো ৩০, ২০১৪ 
  19. "Statement on the WHO Consultation on potential Ebola therapies and vaccines"WHO। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১৪ 
  20. "2014 Ebola Outbreak in West Africa"। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টো ২০১৪ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  21. Alison P. Galvani with three others (২১ আগস্ট ২০১৪)। "Ebola Vaccination: If Not Now, When?"Annals of Internal Medicine161 (10): 749–50। doi:10.7326/M14-1904PMID 25141813পিএমসি 4316820অবাধে প্রবেশযোগ্য 

Citations

  • Klenk, Hans-Dieter; Feldmann, Heinz (২০০৪)। Ebola and Marburg Viruses – Molecular and Cellular Biology। Wymondham, Norfolk, UK: Horizon Bioscience। আইএসবিএন 978-0-9545232-3-7 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Ebola