ইবনে রুশদ-গ্যেটে মসজিদ
| ইবনে রুশদ-গ্যেটে মসজিদ | |
|---|---|
Ibn-Rushd-Goethe-Moschee | |
স্থানান্তরের আগে ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মসজিদটি বার্লিনের মোয়াবিতে জোহানিসকির্খে ভবনের একটি অংশে অবস্থিত ছিল। | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | ইসলাম |
| শাখা/ঐতিহ্য | উদারপন্থী ইসলাম |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | অটোস্ট্রাসে ১৬, অল্ট-মোয়াবিট, মিত্তে, বার্লিন |
| দেশ | জার্মানি |
বার্লিনে মসজিদের অবস্থান | |
| স্থানাঙ্ক | ৫২°৩১′৩৪″ উত্তর ১৩°২০′০৯″ পূর্ব / ৫২.৫২৬১৫৪২০১৯৭৯৭৩° উত্তর ১৩.৩৩৫৭৩১৪৫৪৯৬১৬১৬° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| প্রতিষ্ঠাতা | সেরান আতেস |
| সম্পূর্ণ হয় | ২০১৭ |
| ওয়েবসাইট | |
| ibn-rushd-goethe-moschee | |
ইবনে রুশদ-গ্যেটে মসজিদ (জার্মান: Ibn-Rushd-Goethe-Moschee; আরবি: مسجد ابن رشد - جوته) হলো জার্মানির বার্লিনের মিত্তে জেলায় অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি দেশটির একমাত্র এবং বিশ্বের প্রথম স্বঘোষিত উদারপন্থী মসজিদ। ২০১৭ সালের জুনে সেরান আতেস এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একজন জার্মান আইনজীবী এবং তুর্কি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত ইসলামি নারীাবাদী।[১] মধ্যযুগীয় আন্দালুসীয়-আরবি পণ্ডিত ইবনে রুশদ এবং জার্মান লেখক ও রাষ্ট্রনায়ক ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটের সম্মানে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। এই উদারপন্থী মসজিদে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ, নারী ও পুরুষদের একত্রে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং এটি এলজিবিটি ইবাদতকারীদেরও গ্রহণ করে।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
[সম্পাদনা]এই মসজিদটি সুন্নি, শিয়া এবং অন্যান্য সকল মুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত। মুখ ঢাকা পর্দা যেমন বোরকা বা নিকাব পরে এখানে প্রবেশ অনুমোদিত নয়। মসজিদে নারী ও পুরুষ একত্রে নামাজ পড়েন এবং নারীদের মাথা ঢাকার স্কার্ফ পরতে বাধ্য করা হয় না। অধিকন্তু, সমকামী মুসলিমদেরও মসজিদে প্রবেশ এবং ইবাদত করার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি বিশ্বের এ ধরনের প্রথম মসজিদ।[২][৩]
প্রতিষ্ঠাতা সেরান আতেস বলেন:[৪]
"আমাদের কুরআনের একটি ঐতিহাসিক-সমালোচনামূলক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ৭ম শতাব্দীর একটি ধর্মগ্রন্থকে কেউ আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করতে পারে না। আমরা কুরআনের এমন পাঠের পক্ষে যা দয়া, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং সর্বোপরি শান্তির দিকে নির্দেশ করে। [এই মসজিদটি] সেই সব মানুষের জন্য যারা রক্ষণশীল মুসলিমদের নিয়মকানুন মেনে চলতে পারেন না।"
— সেরান আতেস, জুন ২০১৭
ইতিহাস
[সম্পাদনা]২০১৭ সালের ১৬ জুন তুর্কি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত জার্মান আইনজীবী এবং নারীাবাদী সেরান আতেস এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।[৫] এটি আন্দালুসীয়-আরবি পণ্ডিত ইবনে রুশদ এবং জার্মান লেখক গ্যোটের নামে নামকরণ করা হয়।[৬]
আতেস সংবাদ সাময়িকী ডের স্পিগেল-কে বলেন যে, "কাউকেই নিকাব বা বোরকা পরে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এটি নিরাপত্তার কারণে এবং আমাদের বিশ্বাস যে পুরো মুখ ঢাকা পর্দার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।" তিনি সাংবাদিকদের জানান যে তিনি জার্মান অর্থমন্ত্রী ভল্ফগাং শয়বলের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যিনি তাকে বলেছিলেন যে উদারপন্থী মুসলিমদের একত্রিত হওয়া উচিত।[৫]
২০২২ সালের জুলাই মাসে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সমর্থনে রংধনু পতাকা উত্তোলনকারী হিসেবে এটি জার্মানির প্রথম মসজিদে পরিণত হয়।[৭]
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]উদ্বোধনের পর ব্যাপক হুমকির মুখে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতারা উদারপন্থী মুসলিমদের মুখোমুখি হওয়া প্রচণ্ড ভীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তারা কুরআনের তাদের পাঠের প্রতি সহনশীলতা এবং শ্রদ্ধার আহ্বান জানান। বার্লিনের রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (এলকেএ) আতেসের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে আতেস জানান যে মসজিদের উদ্বোধনের পর থেকে তিনি প্রায় ১০০টি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।[৮]
তুর্কি গণমাধ্যম ইবনে রুশদ-গ্যেটে মসজিদকে গুলেন আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রদর্শন করে, যা জার্মানির গুলেন-সংশ্লিষ্ট সংস্থা 'স্টিফটুং ডায়ালগ আন্ড বিল্ডুং'-এর চেয়ারম্যান এরকান কারাকোয়ুন অস্বীকার করেন। এই দাবিটি মসজিদের পক্ষ থেকেও প্রত্যাখ্যান করা হয়। তুর্কি মিডিয়া এর সমালোচনা করে এবং আতেস জার্মানি ও বিদেশ থেকে উগ্রপন্থী এবং ইসলামবিরোধীদের কাছ থেকে হুমকির সম্মুখীন হন।[৯]
মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয় 'ফতোয়া' কাউন্সিল এই মসজিদটিকে ইসলামের ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে এবং মসজিদের বিরুদ্ধে একটি ফতোয়া জারি করে।[৬] তুর্কি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং মিশরীয় কর্তৃপক্ষ আতেসের এই প্রকল্পের নিন্দা জানায়। এই ফতোয়া বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সকল উদারপন্থী মসজিদের ওপর প্রযোজ্য বলে ঘোষণা করা হয়।[৬]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Eddy, Melissa (২২ জুন ২০১৮)। "By Taking a Bullet, a Muslim Woman Finds Her Calling"। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২১।
- ↑ Breyton, Ricarda (২৩ জুন ২০১৭)। "Die meisten liberalen Muslime haben Angst"। Die Welt (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭।
- ↑ "Der Islam gehört nicht den Fanatikern" (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৭।
- ↑ "Ich will in der Moschee Mensch sein"। www.rbb-online.de (জার্মান ভাষায়)। জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১৭।
- 1 2 Ateş, Seyran (১৭ জুন ২০১৭)। "Islam: Grüß Gott, Frau Imamin!"। Die Zeit (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১৭।
- 1 2 3 Oltermann, Philip (২৫ জুন ২০১৭)। "Liberal Berlin mosque to stay open despite fatwa from Egypt"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৭।
- ↑ Welle (www.dw.com), Deutsche। "Berlin mosque flies rainbow flag in support of LGBTQ community | DW | 01.07.2022"। DW.COM (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০২২।
- ↑ Lutz, Martin (১ জুলাই ২০১৭)। "100 Morddrohungen gegen liberale Moschee-Gründerin"। Die Welt (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১৭।
- ↑ "Berlin: Türkische Medien hetzen gegen liberale Moschee von Seyran Ates"। Der Spiegel। ২০ জুন ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৭।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- দাপ্তরিক ওয়েবসাইট (ইংরেজি ভাষায়)