ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন
| ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন | |
|---|---|
This image shows intracytoplasmic sperm injection, the most commonly used IVF technique. | |
| বিশেষত্ব | Endocrinology, gynecology |
| আইসিডি-১০-পিসিএস | 8E0ZXY1 |
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (ইংরেজি: In vitro fertilization, সংক্ষেপে IVF) হলো একটি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রজনন প্রযুক্তি (Assisted Reproductive Technology - ART), যাতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে দেহের বাইরে নিষিক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে নিষিক্ত ভ্রূণ নারী জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটি মূলত দম্পতিদের বন্ধ্যত্ব সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির প্রথম সাফল্য আসে ১৯৭৮ সালে, যখন যুক্তরাজ্যে জন্ম নেয় বিশ্বের প্রথম "টেস্ট টিউব বেবি" লুইস ব্রাউন। এই পদ্ধতির বিকাশের জন্য ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস ২০১০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
প্রক্রিয়া
[সম্পাদনা]IVF একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি, যা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
- ডিম্বাণু উত্তোলন: হরমোন থেরাপির মাধ্যমে নারীর দেহে একাধিক ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য উদ্দীপনা দেওয়া হয়। এরপর সার্জারির মাধ্যমে ডিম্বাণুগুলো সংগ্রহ করা হয়।
- শুক্রাণু সংগ্রহ: পুরুষ সঙ্গীর শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয় এবং তা প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
- নিষেক প্রক্রিয়া: একটি পরীক্ষাগারে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে একত্রে রেখে নিষেক ঘটানো হয়।
- ভ্রূণ পর্যবেক্ষণ: নিষিক্ত ডিম্বাণুগুলো ৩–৫ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যতক্ষণ না তা ভ্রূণে পরিণত হয়।
- ভ্রূণ প্রতিস্থাপন: একটি বা একাধিক সুস্থ ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
ব্যবহার
[সম্পাদনা]IVF প্রযুক্তি নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
- ডিম্বাশয় বা ডিম্বনালীর সমস্যাজনিত বন্ধ্যত্ব
- শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতিশীলতা কম থাকা
- অজানা কারণবশত বন্ধ্যত্ব
- পূর্ববর্তী চিকিৎসা ব্যর্থ হলে
- উচ্চ বয়সে গর্ভধারণের প্রচেষ্টা
- একই লিঙ্গের দম্পতি বা সিঙ্গেল প্যারেন্টের সন্তান গ্রহণের ইচ্ছা
সাফল্যের হার
[সম্পাদনা]সাফল্যের হার ব্যক্তিভেদে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের দক্ষতার উপর নির্ভর করে। সাধারণত নারীর বয়স যত কম, সাফল্যের সম্ভাবনা তত বেশি। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ বছরের নিচে নারীদের ক্ষেত্রে গড় সাফল্যের হার প্রায় ৪০–৫০% হতে পারে।
ঝুঁকি ও জটিলতা
[সম্পাদনা]IVF প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যেমন:
- একাধিক ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের ফলে যমজ বা বহুগর্ভধারণ
- ডিম্বাশয় অতিসংবেদনশীলতা সিনড্রোম (OHSS)
- গর্ভপাত বা গর্ভস্থ জটিলতা
- ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পর ব্যর্থতা
নৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক
[সম্পাদনা]IVF প্রযুক্তি ঘিরে বিশ্বব্যাপী নৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। যেমন:
- অতিরিক্ত ভ্রূণ সংরক্ষণ বা ধ্বংস করার প্রশ্ন
- সমলিঙ্গ দম্পতি বা একক পিতামাতার পক্ষে সন্তান ধারণ
- অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে
ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন ধর্মে ভিন্ন ভিন্ন মত বিদ্যমান। অনেক ধর্মীয় সম্প্রদায় IVF-এর কিছু দিক নিয়ে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রশ্ন তোলে, বিশেষত অতিরিক্ত ভ্রূণ সংরক্ষণ বা ধ্বংস, গর্ভধারণের প্রাকৃতিক পদ্ধতির বাইরে যাওয়া এবং তৃতীয় পক্ষের গ্যামেট (ডোনার ডিম্বাণু বা শুক্রাণু) ব্যবহারের বিষয়ে।
- ইসলাম ধর্মে, দম্পতির মধ্যে IVF সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে শর্ত থাকে যে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু স্বামী-স্ত্রীর হতে হবে এবং কোনো বহিরাগত ডোনারের গ্যামেট বা সারোগেট মা ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত ভ্রূণ ধ্বংস করাকে অনেকে গর্ভপাতের ন্যায় মনে করেন, যা ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ।
- খ্রিস্টধর্মে, বিশেষ করে ক্যাথলিক গির্জা IVF-এর বিরোধিতা করে, কারণ এটি "প্রাকৃতিক গর্ভধারণ প্রক্রিয়া" থেকে বিচ্যুতি এবং অতিরিক্ত ভ্রূণ ধ্বংসের সম্ভাবনা তৈরি করে।
- হিন্দু ধর্মে IVF নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, সন্তান ধারণকে একটি ধর্মীয় ও পারিবারিক কর্তব্য হিসেবে দেখা হয় এবং প্রজনন সহায়তা পদ্ধতি অনেক সময় সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচিত হয়।
ধর্মীয় মতামত অঞ্চলভেদে ও আলেম বা ধর্মীয় নেতার ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পরামর্শ গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশে IVF
[সম্পাদনা]বাংলাদেশে IVF চিকিৎসা প্রথম শুরু হয় ২০০১ সালে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি IVF ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খরচ তুলনামূলকভাবে উচ্চ হলেও আগ্রহী দম্পতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে IVF এখনো ব্যক্তিগত ক্লিনিকনির্ভর হলেও কিছু সরকারি উদ্যোগও বিবেচনাধীন রয়েছে।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]উৎস
[সম্পাদনা]- Steptoe, P. C., & Edwards, R. G. (1978). Birth after the reimplantation of a human embryo. The Lancet, 312(8085), 366.
- World Health Organization. (2023). Assisted Reproductive Technologies.
- বাংলাদেশ ইনফার্টিলিটি সোসাইটি – IVF ক্লিনিক তালিকা ও গাইডলাইন (২০২৪)