ইন্দোনেশিয়া-সেনেগাল সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইন্দোনেশিয়া-সেনেগাল সম্পর্ক
মানচিত্র Indonesia এবং Senegal অবস্থান নির্দেশ করছে

ইন্দোনেশিয়া

সেনেগাল

ইন্দোনেশিয়া-সেনেগাল সম্পর্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং সেনেগাল এর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। একইসাথে দুই দেশের মধ্যে অতীতকাল থেকে চলে আসা, ঐতিহাসিক সম্পর্ককেও নির্দেশ করে। ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর, দুই দেশের সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। পশ্চিম আফ্রিকার বাজারে প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর এই ক্ষেত্রে, সেনেগালকে ইন্দোনেশিয়া পশ্চিম আফ্রিকার বাজারের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করে। এছাড়াও সেনেগালে রয়েছে সম্ভাবনাময় বাজার, যা ইন্দোনেশিয়ার জনু অত্যন্ত লাভজনক। তাই সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে, ইন্দোনেশিয়া সেনেগালকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত অংশীদার বলে মনে করে।[১] সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ইন্দোনেশিয়ার একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। ১৯৮২ সালে, ইন্দোনেশিয়ার এই দূতাবাস স্থাপিত হয়। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায়, সেনেগালের কোন দূতাবাস নেই। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত সেনেগাল দূতাবাসের মাধ্যমেই, সেনেগাল ইন্দোনেশিয়ার সাথে সম্পর্কিত কূটনৈতিক এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ঔপনিবেশিক শাসন চলাকালীন সময়েই, ১৯২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, লিওপোল্ড সেইডার সেনঘোর এবং মোহাম্মদ হাত্তা, ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ঔপনিবেশিক শাসন এবং এর নিপীড়নের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনকে, ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়া বান্দুং -এ এশিয়ান-আফ্রিকান সম্মেলন এর ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৩] সেনঘোর পরবর্তীতে বলেন, রেনেসাঁর পর, ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।.[৪] ১৯৫৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ, রাষ্ট্রীয় সফরে সেনেগাল যান। যদিও সেনেগাল তখনও স্বাধীনতা লাভ করতে পারে নি। [৫]

বাণিজ্য[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর, ইন্দোনেশিয়া, তাদের নিজেদের পণ্যের প্রসার ঘটানোর জন্য সেনেগাল এবং গাম্বিয়ায় বাণিজ্য মিশন চালু করে। এই মিশনের সময়ে অন্তত ৭ লক্ষ মার্কিন ডলারের পণ্য কেনাবেচা হয়।[১] সেনেগাল সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিটি দিরগানতারা এর কাছ থেকে দুটি সিএন-২৩৫-২২০ মডেলের বিমান ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।[২] ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৬.১ মিলিয়ন (৪.৬১ কোটি) মার্কিন ডলারের। যদিও এই দুই দেশের বাণিজ্যে ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এবং বাণিজ্যের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে রয়েছে। ২০১২ সালেই, সেনেগালে, ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৩ মিলিয়ন (৪.৩ কোটি) মার্কিন ডলারের। সেনেগালে, ইন্দোনেশিয়ার উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্য হল যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, গার্মেন্টস, প্রাণীজ এবং উদ্ভিজ্জ তেল প্রভৃতি।[২]

সমন্বয়[সম্পাদনা]

ইন্দোনেশিয়া, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক, কারিগরি এবং কৃষি খাতে সেনেগালের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছে। এছাড়াও আরও কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাতের ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া তাদের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। খাতগুলো হল, অবকাঠামো, শিল্প, স্বাস্থ্য এবং সংস্কৃতি।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Indonesia Jajaki Pasar Afrika Barat Lewat Senegal dan Gambia" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। দ্যা প্রেসিডেন্ট পোস্ট। নভেম্বর ১১, ২০১৩। এপ্রিল ১৯, ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৪ 
  2. বি কুন্তো উইবিসোনো (মে ১৯, ২০১৩)। "Senegal intends to buy two CN-235-220s"। অন্তরা নিউজ। সংগ্রহের তারিখ মে ১৩, ২০১৪ 
  3. ইয়াহিয়া-ওথম্যান, সাইদা (১১ নভেম্বর ২০১৩)। Yes, In My Lifetime: Selected works of Haroub Othman। পৃষ্ঠা 281, 289। আইএসবিএন 978-9987-08-283-4 
  4. নিহাল হেনরি কুরুপ্পু (১ জানুয়ারি ২০০৪)। Nonalignment and Peace Versus Military Alignment and War। একডেমিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা 218। আইএসবিএন 978-81-7188-363-9 
  5. মাশাশি নিশিহারা (১৯৭৬)। Japanese and Sukarno's Indonesia: Tokyo-Jakarta Relations, 1951-1966। ইউনিভার্সিটি প্রেস অব হাওয়াই। পৃষ্ঠা 30, 34। আইএসবিএন 978-0-8248-0379-7 
  6. এনি প্রিথিয়ানি (২৫ মে ২০১২)। "Indonesia-Senegal Garap Kerja Sama Ekonomi" (ইন্দোনেশীয় ভাষায়)। Kompas.com। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মে ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]