ইন্তিফাদা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইন্তিফাদা (انتفاضة intifāḍah) একটি আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ প্রকম্পিত করা, জেগে ওঠা বা উত্থান। তবে পারিভাষিক প্রচলিত অর্থে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের দুইটি বড় ইসলামী আন্দোলন যা শুরু হয়েছিল মসজিদ গুলো থেকে তা বোঝানো হয়।[১] ১৯৮০ এর দশকের শেষ দিকে এবং ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে পশ্চিম তীর এবং গাজা এলাকায় ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়। দুইটি বড় গনজাগরণের পর এখন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন তৃতীয় ইন্তিফাদায় প্রবেশ করেছে।[২]

ফিলিস্তিনি ভূখন্ডের পশ্চিম তীর এবং গাজা এলাকা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের দখলে আছে।

প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে এবং চলে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলন ছিল একটা অসহযোগ ধরনের আন্দোলন এবং গেরিলা পদ্ধতির প্রতিরোধ। ইজরাইল ইন্তিফাদা কে যেভাবে জবাব দিয়েছিল সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঈটঝাক র‍্যাবিন বর্ণনা করেন "জবরদস্তি, শক্তি এবং আঘাত" এই তিন শব্দে। ইন্তিফাদাহর প্রথম বছরেই ইজরাইল ৩১১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছিল যাদের ৫৩ জনই ছিল ১৭ বছরের কম বয়সী।[৩] ইন্তিফাদার প্রথম দুই বছরেই ২৩ থেকে ২৯ হাজার ফিলিস্তিনি শিশু হাসপাতালের দ্বারস্ত হয়।[৩] বহু ফিলিস্তিনির শরীরের বিভিন্ন অংগ উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রথম ইন্তিফাদা ছিল ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বিদ্রোহ,[৪] যা ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৯৯১ সালের মাদ্রিদ সম্মেলন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, যদিও এর সমাপ্তি ঘটেছিল ১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি সাক্ষরের মাধ্যমে।[৫] ৯ ডিসেম্বর জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি বেসামরিক গাড়িতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) লরীর আঘাতে চার ফিলিস্তিনির মৃত্যুর পর এই বিদ্রোহটি শুরু হয়। এই ঘটনা থেকে একটি প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে উঠে, যার মধ্যে নিরস্ত্র প্রতিরোধ এবং আইন অমান্য বিষয়ে দু’ধরণের কৌশল জড়িত ছিল।[৬] এর মধ্যে ছিল সাধারণ ধর্মঘট, গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বর্জন, অর্থনৈতিক বয়কট- যার মধ্যে ছিল ইসরায়েলি বসতিতে ইসরায়েলি পণ্য প্রত্যাখ্যান, ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করা, ইসরায়েলি লাইসেন্সে ফিলিস্তিনি গাড়ি চালানোয় অস্বীকৃতি, দেয়াল লিখন, ব্যারিকেড সৃষ্টি,[৭] এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যে আইডিএফ ও তার পরিকাঠামোয় ব্যাপক পাথর ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ।

হাতে তৈরী টায়ার পাংচার করার যন্ত্র, যাকে কথ্য ভাবে নিঞ্জা ডাকা হয়


ইসরায়েল প্রায় ৮০,০০০ সৈন্য মোতায়েন করে প্রাথমিকভাবে সরাসরি গুলি ছুঁড়ে ব্যাপক সংখ্যক ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে। প্রথম ১৩ মাসে ৩৩২ জন ফিলিস্তিনি এবং ১২ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। এই বিরাট সংখ্যক শিশু, যুবক এবং বেসামরিক জনতাকে হত্যা করার পর তারা ‘জবরদস্তি, শক্তি ও আঘাত’-এর মাধ্যমে “ফিলিস্তিনিদের হাড় ভেঙ্গে দেয়া”র নীতি অবলম্বন করে।[৩] কিশোর বয়সীদেরকে লাঠি দিয়ে প্রহার করা সৈন্যদের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার হলে তারা আধা-প্রাণঘাতী প্লাস্টিক বুলেট ছোঁড়ার নীতি গ্রহণ করে। ইন্তিফাদার প্রথম বছরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী ৩১১ জন ফিলিস্তিনি হত্যা করে, যার মধ্যে ৫৩ জনের বয়স ছিল ১৭ বছরের কম।[৩] “সেইভ দ্য চিল্ড্রেন”-এর মতে, প্রথম দুই বছর ব্যাপী ১৮ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ৭% ফিলিস্তিনি গুলি, প্রহার বা কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে আহত হন।[৮] ছয় বছরে আইডিএফ আনুমানিক ১,১৬২-১,২০৪ জন ফিলিস্তিনি হত্যা করে। প্রথম দুই বছরে আইডিএফ-এর আঘাতে ২৩,৬০০-২৯,৯০০ ফিলিস্তিনি শিশুর চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। ফিলিস্তিনিরা ১০০ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও ৬০ জন আইডিএফ কর্মী হত্যা করে এবং ১,৪০০ জনের বেশি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও ১,৭০০ জনের বেশি সৈন্যদের আহত করে। ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে সহিংসতা ছিল ইন্তিফাদার লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য, এতে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে ব্যাপক সংখ্যক অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, যার মধ্যে আনুমানিক ৮২২ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে হত্যা করা হয় (১৯৮৮-এপ্রিল ১৯৯৪), যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সাথে কোন যোগাযোগ প্রমাণিত ছিল অর্ধেকেরও কম অভিযোগের ক্ষেত্রে।[৯]

এরপর দ্বিতীয় ইন্তিফাদা সংঘটিত হয়েছিল সেপ্টেম্বর ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত।


দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা মসজিদ আল আকসা ইন্তিফাদা শুরু হয় ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এ্যারিয়েল শ্যারন হাজার খানেক সৈন্যবাহিনী নিয়ে জেরুসালেম এর পুরাতন শহর এবং মসজিদ আল আকসা ভ্রমণ করতে আসলে এই ইন্তিফাদা শুরু হয়। তার এই ভ্রমণ ফিলিস্তিনিদের চোখে ইসলামের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ন মসজিদের উপর ইজরাইলি দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসাবে প্রতীয়মান হয়। উল্লেখ্য, গুরুত্বের ক্রম অনুসারে ইসলামে ফিলিস্তিনের আল আকসা বা বায়তুল মাকদিস এর অবস্থান মক্কা ও মদীনার পরেই।[১]

ইন্তিফাদা আন্দোলনের কর্মপদ্ধতি[সম্পাদনা]

অধিকৃত অঞ্চলসমূহের মধ্যে ইসরায়েলের শক্তি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ, কিন্তু ঘরবারি ধ্বংস, যৌথ শাস্তি, কারফিউ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দমনকারী এবং নির্বাসন বিষয়ে কঠোর নীতি অবলম্বনকারী প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী ছিল যে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ অকার্যকর হয়ে পড়বে বলে তাদের যে মূল্যায়ন ছিল, সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।

ব্যবহৃত টায়ার থেকে নেয়া রবারের চাকতিতে একটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে এক ধরণের টায়ার ছিদ্রকারী যন্ত্র (যাকে ‘নিনজা’ নাম দেয়া হয়) উদ্ভাবিত হয়েছিল। প্রথম ইন্তিফাদার সময় ফিলিস্তিনিরা নিজেদের গড়া ঐ অস্ত্রগুলো পশ্চিম তীরের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে দিয়েছিল।

১৯৮৭ সালের ৮ ডিসেম্বর ইরেজ চেকপয়েন্টে ইসরায়েলে কাজ শেষে ফিরতি ফিলিস্তিনি যাত্রীদের বহনকারী এক সারি গাড়ির সাথে একটি ইসরায়েলি সেনা ট্যাঙ্ক পরিবহনকারীর সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়- যাদের মধ্যে তিনজন ছিল গাজা উপত্যকার আট শরণার্থী শিবিরের মধ্যে বৃহত্তম জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা- এবং সাতজন গুরুতর আহত হয়। কাজ শেষে বাড়ির পথ ধরা শত শত ফিলিস্তিনি শ্রমিক এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল। সেই সন্ধ্যায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি দ্রুত একটি বড় বিক্ষোভে রূপ নেয়, যেখানে ক্যাম্পের ১০,০০০ জনতা উপস্থিত ছিল। ক্যাম্পে খুব দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, এই ঘটনাটি দুই দিন আগে গাজায় কেনাকাটা করার সময় ছুরিকাঘাতে এক ইসরায়েলি ব্যবসায়ীর নিহত হবার ঘটনার ইচ্ছাকৃত প্রতিশোধ। এর পরের দিন গাজা উপত্যকায় গাড়িতে একটি পেট্রোল বোমা নিক্ষিপ্ত হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনী তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গোলাবারুদ এবং কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে, যাতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়।

৯ ডিসেম্বর পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরায়েলি লীগ ফর হিউম্যান অ্যান্ড সিভিল রাইটস এর সঙ্গে বেশ কিছু জনপ্রিয় এবং পেশাদারী ফিলিস্তিনি নেতা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিক্রিয়ায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যেখানে তারা বলেন যে জাবালিয়া শিবিরে বিক্ষোভ চলছে এবং ইসরায়েলি সৈন্যদের উপর পেট্রোল বোমা ছোঁড়ার পর ১৭ বছর বয়সী এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছে। পরবর্তীতে সে ইন্তিফাদার প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিতি পায়। বিক্ষোভ দ্রুত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ছড়িয়ে পড়ে। যুবকেরা প্রতিবেশিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়, ময়লা-আবর্জনা, পাথর এবং টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ক্যাম্প বন্ধ করে দেয়, এবং যে সকল সৈন্য পেট্রোল বোমার সাহায্যে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করছিল তাদের মুখোমুখি হয়। ফিলিস্তিনি দোকানদাররা তাদের ব্যবসায় বন্ধ করে দেয়, এবং শ্রমিকেরা ইসরায়েলে কাজ চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এই সকল কার্যক্রমকে ইসরায়েল ‘দাঙ্গা’ বলে চালায়, এবং ‘আইনশৃঙ্খলা’ পুনরুদ্ধারের স্বার্থে দমনকে প্রয়োজনীয় এবং ন্যায়সঙ্গত হিসেবে বর্ণনা করে। কয়েকদিনের মধ্যে অধিকৃত অঞ্চলগুলো অভূতপূর্ব মাত্রায় বিক্ষোভ মিছিল ও বাণিজ্যিক ধর্মঘটে আন্দোলিত হতে থাকে। আক্রমণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ঠিক করা হয়, যেমন: সামরিক যানবাহন, ইসরায়েলি বাস এবং ইসরায়েলি ব্যাংক। এই প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে কোন ইসরায়েলি বসতিতে আক্রমণ হয় নি, কোন ইসরায়েলি গাড়িতে পাথর নিক্ষেপে নিহত হয় নি। সমানভাবে অভূতপূর্ব ছিল এই বিক্ষোভে সাধারণ জনতার অংশগ্রহণের মাত্রা; নারী, শিশুসহ হাজার হাজার বেসামরিক জনগণ এতে শামিল হয়। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জল কামান, রবার বুলেট, এবং গোলাবারুদ নিয়ে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু বিক্ষোভ আরও বেগবান হয়।

শীঘ্রই পুরো অঞ্চলজুড়ে পাথর নিক্ষেপ এবং টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সহিংসতায় ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়। পরেরদিন বিক্ষোভকারীরা পূর্ব জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাসে একটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে, যদিও এতে কেউ আহত হয় নি। ফিলিস্তিনিদের এই অভ্যুত্থানে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর। ইন্তিফাদার শুরুর দিকে আইডিএফ অনেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল মিছিল ও বিদ্রোহের সময়। যেহেতু প্রথমদিকের বেশিরভাগ নিহত ব্যক্তিই ছিল বেসামরিক ও যুবক, ইতজাক রাবিন পিছু হটে ‘জবরদস্তি, শক্তি ও আঘাত’ নীতি গ্রহণ করে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের গণগ্রেফতার এবং যৌথ শাস্তির ব্যবস্থা নেয়, যেমন: পশ্চিম তীরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্দোলনের বছরগুলোতে এবং পশ্চিম তীরের স্কুলগুলো ১২ মাসের জন্য বন্ধ রাখা। শুধু প্রথম বছরেই ১৬০০ বারের বেশি রাউন্ড-দ্য-ক্লক কারফিউ জারি করা হয়। জনসাধারণ পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সরবরাহ থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে। কোন এক সময় ২৫,০০০ ফিলিস্তিনি গৃহবন্দী হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনি খামারগুলো থেকে গাছপালা উপড়ে ফেলা হয়, এবং উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের বিক্রি অবরুদ্ধ করে দেয়া হয়। প্রথম বছরে ১,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংস কিংবা অবরুদ্ধ করা হয়। অধিবাসীরাও ফিলিস্তিনিদের উপর ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়িত হয়। ট্যাক্স দিতে অস্বীকারকারী ফিলিস্তিনিদের সম্পদ এবং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়, এবং যেসব পরিবারের সদস্যরা পাথর নিক্ষেপকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল তাদের উপর সাধ্যাতীত জরিমানা জারি করা হয়।

ফলাফল[সম্পাদনা]

ইন্তিফাদা কোন সামরিক যুদ্ধ ছিল না, গেরিলা যুদ্ধও নয়। পিএলও- পরিস্থিতির উপর যাদের সীমিত নিয়ন্ত্রণ ছিল- কখনোই আশা করে নি যে এমন একটি তৃণমূল আন্দোলন ইসরায়েলি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ কোন অর্জন করতে পারবে। তবে ইন্তিফাদার বেশ কিছু ফলাফল ছিল যা ফিলিস্তিনিরা ইতিবাচক বলে বিবেচনা করতে পারে:

• প্রতিবেশি কোন আরব রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই ইসরায়েলের সাথে সরাসরি যদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা একটি পৃথক জাতি হিসেবে তাদের স্বীয় পরিচয় প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিল।[১০]

• একটি সংযুক্ত ইসরায়েলি শহর হিসেবে জেরুজালেমের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছিল।

• পিএলও-র জনপ্রিয়তা ও সমর্থন কুড়ানোর জন্য পশ্চিম তীরে জর্ডান বাড়তি প্রশাসনিক এবং আর্থিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল।

• “আয়রন ফিস্ট” নীতির ব্যর্থতা, ইসরায়েলের অধোগামী আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, পশ্চিম তীরের সাথে জর্ডানের ছিন্ন করা আইনি ও প্রশাসনিক বন্ধন, এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে পিএলও-এর প্রতি মার্কিন স্বীকৃতি রাবিনকে পিএলও-এর সাথে আপোস এবং সংলাপের মাধ্যমে এই সহিংসতার শেষ করতে বাধ্য করেছিল।

• ইন্তিফাদার ফলে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

• ফিলিস্তিনিরা প্রথমবারের মত দেখিয়েছিল যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দু’টি দিক রয়েছে।

• অনেক আমেরিকান মিডিয়া এমনভাবে প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করেছিল, যা তারা আগে কখনো করে নি।[১১]

• ইন্তিফাদার সাফল্য আরাফাত ও তার অনুসারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করেছিল, যা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিন জাতীয় পরিষদের সভায় ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর জাতিসংঘের দেয়া সমাধান দ্বিরাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করার মাধ্যমে ইসরায়েলের বৈধতা স্বীকার করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

• জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান কমিউনিটি, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলের সমালোচনা হয়েছিল; এমনকি আরব রাষ্ট্রসমূহ থেকেও- ১৯৮০-র দশকে যাদের মনোযোগ ছিল ইরান-ইরাক যুদ্ধের দিকে।

• ইউরোপিয়ান কমিউনিটি (পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নামে পরিচিত) সদ্যসৃষ্ট ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়ক হয়ে উঠেছিল।

• মাদ্রিদ সম্মেলন এবং অসলো চুক্তির আপোসে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে ফিলিস্তিনিদের ক্ষমতায়ন করেছিল ইন্তিফাদা।

• বিদ্রোহটিকে মাদ্রিদ সম্মেলন এবং সেই সূত্রে তিউনিসিয়ার নির্বাসন থেকে পিএলও-র ফেরতের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা যায়।

• ইন্তিফাদা আইডিএফ-এর গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী কার্যক্রমে অনেক সমস্যা প্রকাশ করে দিয়েছিল, এবং পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারেও সমস্যা উন্মুক্ত হয়েছিল। এই সমস্যাগুলো আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ What is an "intifada?"
  2. Third Intifada
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ Audrey Kurth Cronin 'Endless wars and no surrender,' in Holger Afflerbach,Hew Strachan (eds.) How Fighting Ends: A History of Surrender, Oxford University Press 2012 pp.417–433 p.426.
  4. Edward Said (১৯৮৯)। Intifada: The Palestinian Uprising Against Israeli Occupation। South End Press। পৃ: 5–22। 
  5. Nami Nasrallah, 'The First and Second Palestinian intifadas,' in David Newman, Joel Peters (eds.) Routledge Handbook on the Israeli-Palestinian Conflict, Routledge, 2013, pp.56–67, p.56.
  6. Ruth Margolies Beitler, The Path to Mass Rebellion: An Analysis of Two Intifadas, Lexington Books, 2004 p.xi.
  7. BBC: A History of Conflict
  8. Arthur Neslen,In Your Eyes a Sandstorm: Ways of Being Palestinian, University of Caslifornia Press, 2011 p.122.
  9. Amitabh Pal, "Islam" Means Peace: Understanding the Muslim Principle of Nonviolence Today, ABC-CLIO, 2011 p.191.
  10. UN (৩১ জুলাই ১৯৯১)। "THE QUESTION OF PALESTINE 1979-1990"। United Nations। সংগৃহীত ১৪ এপ্রিল ২০১৫ 
  11. Foreign Policy Research Institute Yitzhak Rabin: An Appreciation By Harvey Sicherman