ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট
| গঠিত | ১৯৮১ |
|---|---|
| ধরন | অলাভজনক |
| সদরদপ্তর | ৫৫৫ গ্রোভ স্ট্রিট, হার্নডন, ভার্জিনিয়া |
| ওয়েবসাইট | IIIT.org |
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থট হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা। ইসমাইল আল-ফারুকী এবং আনোয়ার ইব্রাহিম এটি প্রতিষ্ঠা করেন।[১][২] এই প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো মুসলিম সমাজে শিক্ষার অগ্রগতির উপর গবেষণার মাধ্যমে ইসলামী চিন্তাধারাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সংস্কার করা। প্রতিষ্ঠানটি এজন্য গবেষণা, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রকাশনা, অনুবাদ করে থাকে।[৩]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]এই ইনস্টিটিউটটি ১৯৮১ সালে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পণ্ডিত অধ্যাপক ইসমাইল আল-ফারুকি এবং মালয়েশিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ভার্জিনিয়ার হার্নডনে অবস্থিত একটি অলাভজনক ৫০১(সি)(৩) ধারা অনুসারে অসাম্প্রদায়িক সংস্থা।[২][৪]
এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজে বিদ্যমান "বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট" নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত হয়। ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক এরমিন সিনানোভিচ ২০১৬ সালে আমেরিকান একাডেমি অব রিলিজিয়নের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, আইআইটিটি-এর প্রতিষ্ঠাতারা বিশ্বাস করতেন যে এই সংকট দূর করতে হলে মুসলিম ঐতিহ্যের গভীর বিশ্লেষণের পাশাপাশি আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার সমালোচনা করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আইআইটিটি মুসলিম সমাজে জ্ঞানের চর্চা ও শিক্ষার সংস্কারের পক্ষে কাজ করে।[৩]
অপারেশন গ্রিন কোয়েস্ট
১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আইআইটিটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তদন্তের আওতায় আসে। তারা "অপারেশন গ্রীন কোয়েস্ট" নামে অভিযান শুরু করে। ২০০১ সালের অক্টোবরে গঠিত এই অভিযানে আল-কায়েদা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থায়ন তদন্তের জন্য একটি আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল।[৫] ২০০২ সালের মার্চ মাসে, এই ইউনিট ১৯টি মুসলিম দাতব্য সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসে অভিযান চালায়।[৬] যদিও প্রচুর পরিমাণে নথি ও কম্পিউটার ফাইল জব্দ করা হয়, তবে কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এই পদক্ষেপ আমেরিকান মুসলিম ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।[৫][৬][৭]
উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলির লক্ষ্যবস্তু
২০১৯ সালে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক নাফীজ মোসাদ্দেক আহমেদ বলেন, ইসলামবিদ্বেষী ডানপন্থী চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদরা আমেরিকার মুসলিম নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন যে, "সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি", "জিহাদ ওয়াচ" ও "দ্য ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্ট অন টেররিজম"-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলিম সংস্থাগুলোকে চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত করার অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল।[৭][৮]
কার্যক্রম
[সম্পাদনা]প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গবেষণা পরিচালনা, মুসলিম সমাজে শিক্ষার অগ্রগতি, এবং প্রকাশনা, অনুবাদ ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া, "ইসলামী চিন্তার পুনর্জাগরণ ও সংস্কার করা।" [৯][৩]
ইসলামী চিন্তাভাবনা এবং গবেষণা
এটি মুসলিম পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ জানায়। তারা ইসলামের আলোকে জ্ঞান পরীক্ষা করে। ইসমাঈল আল-ফারুকী এটিকে "জ্ঞানের ইসলামীকরণ" বলেন। পরে এটি "জ্ঞানের ঐক্য" নামে পরিচিত হয়। এটি সত্যের পরীক্ষা করে জীবন ও নৈতিকতার উন্নতি ঘটায়। [১]
মুসলিম সমাজে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানটি মুসলিম সমাজে শিক্ষার সংস্কারের জন্য যুক্তি দেয়। কুরআনের সাথে মানবিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত মানব জ্ঞানকে সমন্বিত করে।[৩]
প্রকাশনা
[সম্পাদনা]লাইব্রেরি
আইআইটিটি-এর দুটি গ্রন্থাগার রয়েছে – "তাহা জাবির আল-আলওয়ানি গ্রন্থাগার" ও "ইসমাইল আল-ফারুকি গ্রন্থাগার"। এই গ্রন্থাগারগুলো লাইব্রেরি অফ কংগ্রেসের তালিকায় আছে।[১০]
আমেরিকান জার্নাল অফ ইসলাম অ্যান্ড সোসাইটি
আইআইটিটি বছরে দুবার আমেরিকান জার্নাল অফ ইসলাম অ্যান্ড সোসাইটি (AJIS) নামে একটি দ্বিবার্ষিক জার্নাল প্রকাশ করে আসছে। ২০২০ সালের আগে জার্নালটি আমেরিকান জার্নাল অফ ইসলামিক সোশ্যাল সায়েন্সেস নামে পরিচিত ছিল।[১১]
বই
১৯৮২ সালে আইআইটিটি প্রতিষ্ঠার পরপরই "ত্রায়ালগ অব দ্য আব্রাহামিক ফেইথস" বইটি পুনঃপ্রকাশ করে। বইটি মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের মধ্যে ধর্ম, আধুনিক সামাজিক কাঠামো ও ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Esposito, John L. (২০০৩)। The Oxford Dictionary of Islam (English ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ১৩৯। আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫১২৫৫৮০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 "About us - IIIT"। International Institute of Islamic Thought (IIIT)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 Sinanović, Ermin (২৯ এপ্রিল ২০১৬)। "International Institute of Islamic Thought and Its Role in Promoting Islamic Studies at Theological Seminaries"। Religious Studies News। ১ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "International Institute of Islamic Thought: Publisher Description"। JSTOR। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 Isikoff, Michael (৮ এপ্রিল ২০০৩)। "Terror Watch: Whose War On Terror?"। Newsweek। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 Douglass, John G. (২০০৪)। "Raiding Islam: Searches that Target Religious Institutions": ৯৫–১১৪ – University of Richmond Scholarship Repository এর মাধ্যমে।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - 1 2 Nafeez Mosaddeq Ahmed (২৬ আগস্ট ২০১৯)। "Behind Islamophobia is a global movement of anti-semites"। Foreign Policy In Focus। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Nafeez Mosaddeq Ahmed (২৫ মার্চ ২০১৯)। "'White genocide' theorists worm their way into the West's mainstream"। Le Monde Diplomatique। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Home - IIIT"। International Institute of Islamic Thought (IIIT)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "International Institute of Islamic Thought (IIIT): Al-Alwani & Al Faruqi Libraries"। Library of Congress। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ "About the Journal | American Journal of Islam and Society"। American Journal of Islam and Society। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪।