ইনফ্রাসাউন্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
গ্রীনল্যান্ডের কানায়াকের ইনফ্রাসাউন্ড মনিটরিং স্টেশনে স্থাপিত ইনফ্রাসাউন্ড অ্যারেগুলো

ইনফ্রাসাউন্ড বা অধো-শ্রাব্য শব্দ, কখনও কখনও কম-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ হিসাবে পরিচিত। শ্রাব্যতা সীমার (সাধারণত ২০ হার্জ) চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গগুকে ইনফ্রাসাউন্ড বা অধো-শ্রাব্য বলে অভিহিত করা হয়। শ্রাব্যতা ক্রমশ কমতে থাকায় ক্রমশ সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, ফলে মানুষের পক্ষে ইনফ্রাসাউন্ড বুঝতে পারার জন্য শব্দ চাপকে যথেষ্ট পরিমাণে উচ্চতর হতে হবে। কান ইনফ্রাসাউন্ড সংবেদনের প্রাথমিক অঙ্গ, তবে উচ্চতর তীব্রতায় শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনফ্রাসাউন্ড কম্পন অনুভব করা সম্ভব।

সংজ্ঞা ও নির্ধারণ[সম্পাদনা]

আমেরিকান ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউট কর্তৃক ইনফ্রাসাউন্ডকে "২০ হার্জ এর চেয়ে কম ফ্রিকোয়েন্সির সাউন্ড" হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

ইতিহাস ও গবেষণা[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রবাহিনী আর্টিলারি বা কামান শনাক্ত করতে প্রথম ইনফ্রাসাউন্ড ব্যবহার করেছিল।[১] ইনফ্রাসোনিক গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ফরাসি বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির গ্যাভ্রিউ।[২] ১৯৬০ এর দশকে তার গবেষণাগারে প্রথমবারের মতো ইনফ্রাসোনিক তরঙ্গের প্রতি তার আগ্রহ জাগে, যখন তিনি এবং তার পরীক্ষাগার সহায়করা পরীক্ষাগারের সরঞ্জামগুলোকে কাঁপতে এবং কানের অংশে ব্যথা পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন, তবে তার মাইক্রোফোনে এই শ্রবণযোগ্য শব্দটি সনাক্ত করতে পারেনি। অবশেষে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এটি ল্যাবরেটরির বিশাল ফ্যান এবং ডাক্ট সিস্টেমের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল এবং শীঘ্রই পরীক্ষাগারে এর পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ইনফ্রাসাউন্ড বা অধো-শ্রাব্য। তার করা পরীক্ষণের মধ্যে ছিল একটি ইনফ্রাসোনিক হুইসেল ও একটি বড় আকারের অর্গান পাইপ নিয়ে ইনফ্রাসাউন্ড তৈরি।[৩][৪][৫]

লোকসংস্কৃতিতে ইনফ্রাসাউন্ড[সম্পাদনা]

মানুষের শ্রবণক্ষমতা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ পর্যন্ত। ২০ হার্জের নিচের অর্থাৎ ইনফ্রাসাউন্ডের কোন শব্দ আমরা শুনতে পাই না। শুনতে না পেলেও আমাদের অন্যান্য ইন্দ্রিয় এবং মস্তিষ্ক ঠিকই অনুভব করে এর কম্পন। এই ইনফ্রাসাউন্ডের প্রভাবেই অস্বস্তি লাগা, চোখের সামনে ছায়া দেখা কিংবা বমির উদ্রেক হতে পারে। আর ভূতুড়ে পরিবেশে এই অস্বস্তি লাগা বা ছায়া দেখাই হঠাৎ তীব্র আতংকের কারণ হয়ে দাড়ায় যাকে প্রায়শই ভূত বলে অভিহিত করা হয়। ইনফ্রাসাউন্ড প্রাকৃতিকভাবেও উৎপন্ন হতে পারে ঝড়ো আবহাওয়াতে, বজ্রপাতের সময়, তীব্র বাতাসে; যে সময়গুলোতে সাধারণত ভূত দেখার কথা শোনা যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wired Article, The Sound of Silence by John Geirland. 2006.
  2. "Gavreau", in Lost Science ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে by Gerry Vassilatos. Signals, 1999. আইএসবিএন ০-৯৩২৮১৩-৭৫-৫
  3. Gavreau V., Infra Sons: Générateurs, Détecteurs, Propriétés physiques, Effets biologiques, in: Acustica, Vel .17, No. 1 (1966), p.1–10
  4. Gavreau V., infrasound, in: Science journal 4(1) 1968, S.33
  5. Gavreau V., "Sons graves intenses et infrasons" in: Scientific Progress – la Nature (Sept. 1968) p. 336–344