বিষয়বস্তুতে চলুন

ইঙ্গা বাঁধ

ইঙ্গা বাঁধ
ইঙ্গা ১ নং বাঁধ, সামনের ইঙ্গা ২ নং বাধেঁর জন্য জলপ্রবাহবাহী খাল সহ।
ইঙ্গা বাঁধ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-এ অবস্থিত
ইঙ্গা বাঁধ
ইঙ্গা বাঁধ অবস্থানের গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
দেশগণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
স্থানাঙ্ক৫°৩১′০৯″ দক্ষিণ ১৩°৩৭′১৯″ পূর্ব / ৫.৫১৯১৭° দক্ষিণ ১৩.৬২১৯৪° পূর্ব / -5.51917; 13.62194
অবস্থাকার্যক্রম চলমান
নির্মাণ শুরুইঙ্গা ১: ১৯৬৮
ইঙ্গা ২:
উদ্বোধনের তারিখইঙ্গা ১: ১৯৭২
ইঙ্গা ২: ১৯৮২
পাওয়ার স্টেশন
ঘূর্ণযন্ত্রইঙ্গা ১: ৬ x ৫৮.৫ মেগাওয়াট
ইঙ্গা ২: ৮ x ১৭৮ মেগাওয়াট
স্থাপিত ক্ষমতাইঙ্গা ১: ৩৫১ মেগাওয়াট
ইঙ্গা ২: ১,৪২৪ মেগাওয়াট

ইঙ্গা বাঁধ (ফ্রেঞ্চ: ব্যারেজ ডা'ইঙ্গা; ডাচ: ইঙ্গাডাম) হলো দুটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ যা বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি, ইঙ্গা জলপ্রপাতের সাথে সংযুক্ত। এই বাঁধগুলো গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমাংশে এবং এর রাজধানী কিনশাসার ১৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।

কঙ্গো নদীর উপর অবস্থিত ইঙ্গা জলপ্রপাত হলো লিভিংস্টোন জলপ্রপাত এবং পুল মালেবোর ভাটিতে অবস্থিত একগুচ্ছ নদীপ্রপাত (বা, প্রপাত)। এই প্রপাতগুচ্ছের মধ্যকার একটি হলো প্রায় ৯৬ মিটার (৩১৫ ফুট) হতে পতিত হওয়া ইঙ্গা প্রপাত। কঙ্গো নদীর ইঙ্গা জলপ্রপাতের গড় বার্ষিক প্রবাহ হার প্রায় ৪২,০০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড (১৫,০০,০০০ ঘনফুট/সেকেন্ড)। এই প্রবাহ হার এবং ৯৬-মিটার উচ্চতা হতে পতনের কারণে, শুধুমাত্র ইঙ্গা জলপ্রপাতেরই প্রায় ৩৯.৬ গিগাওয়াট (৫,৩১,০০,০০০ অশ্বশক্তি) যান্ত্রিক শক্তি এবং প্রায় একই পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইঙ্গা জলপ্রপাত বর্তমানে দুটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান এবং বৃহত্তর ইঙ্গা নামে পরিচিত একটি আরও বৃহৎ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড ইঙ্গা প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। বর্তমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫০ মিটার নেট হেড হারে প্রায় ২৬,৪০০ ঘনমিটার প্রবাহ হার ব্যবহার করা হবে; যেটি প্রায় ৩৮.৯ গিগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সমতুল্য। এই জলবিদ্যুৎ জেনারেটরটি বর্তমান বিশ্ব রেকর্ডধারী, চীনের ছাং চিয়াং নদীর উপর নির্মিত তিন গিরিসংকটের বাঁধের চেয়েও, দ্বিগুণেরও বেশি হবে।

গ্র্যান্ড ইঙ্গা একটি "নদীর প্রবাহ" জলবিদ্যুৎ প্রকল্প যেখানে নদীর প্রবাহের শক্তি বজায় রাখার জন্য শুধুমাত্র একটি অপেক্ষাকৃত ছোট জলাধার তৈরি করা হবে। এটি এমনভাবে করা হবে যাতে জলবিদ্যুৎ টারবাইনগুলির নেট হেড ১৫০ মিটারের কাছাকাছি যেতে পারে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক সরকার ১৯৫৯ সালে উপনিবেশিক অবস্থা হতে কঙ্গো গনতান্ত্রিকের মুক্তির প্রাক্কালে "দ্য ইঙ্গা স্কিম" নামে একটি প্রকল্প শুরু করার কথা বিবেচনা করছিল।[] ইঙ্গা প্রথম প্রকল্প ১৯৭২ সালে এবং ইঙ্গা দ্বিতীয় প্রকল্প ১৯৮২ সালে সম্পন্ন হয়েছিল।[]

প্রাথমিক জরিপ কার্য

[সম্পাদনা]
ইঙ্গা জলপ্রপাতের ১৮৯০'এর দশকের মানচিত্র।

বেশ আগে থেকেই, যখন আফ্রিকার উপর ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হচ্ছিল এবং নদীগুলোকে প্রথম প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিলো, তখন থেকেই কঙ্গো নদীতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করার সম্ভাবনা আলোচিত হচ্ছিলো। এই সম্ভাবনার উপর একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন ১৯২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে রচিত হয়; তাদের অনুসন্ধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে কঙ্গো অববাহিকা সম্পূর্ণরূপে "বিশ্বের সম্ভাব্য জলবিদ্যুতের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি" ধারণ করে আছে। বিশেষ করে ইঙ্গা জলপ্রপাতের অবস্থান সম্পর্কে, বেলজিয়ামের সৈনিক, গণিতবিদ এবং উদ্যোক্তা কর্নেল ভ্যান ডিউরেন মাত্র চার বছর পরে এটি সম্পর্কে একটি বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গা জলপ্রপাতের চারপাশে জরিপ কাজ চালিয়েছিলেন এবং ১৯২০ এবং ১৯৩০ এর দশকে সিনেবা (১৯২৯-১৯৩৯) গবেষকদের দ্বারাও এই অঞ্চলের সম্ভাবনার ওপর আরও অধ্যয়ন করা হয়; তবুও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত এবং সিনেবার বিলুপ্তি এই প্রকল্পের অগ্রগতি অবস্থার সাময়িক অবসান ঘটায়।[]

১৯২০-এর দশকে হারমান সোয়ারগেল কর্তৃক ইউরোপ ও আফ্রিকার একত্রিতভাবে আটলান্ট্রোপা নামীয় একটি পরিকল্পনা গৃহীত হয় যাতে কঙ্গো নদীতে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এই পরিকল্পনায় উত্তর আফ্রিকার মরুভূমিতে সেচের জন্য এবং ২২.৫ থেকে ৪৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কঙ্গোর জল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়।[]

বেলজীয় পরিকল্পনা

[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এবং এর পরপরই বাঁধ নির্মাণ সম্পর্কিত অগ্রগতির অভাব সত্ত্বেও, ইঙ্গা জলপ্রপাতের পানি ব্যবহার সম্পর্কিত আকর্ষণীয় সম্ভাবনাগুলি ইঞ্জিনিয়ারদের মনে প্রাধান্য পেয়েছিলো। ১৯৫৪ সালের "ইঞ্জিনিয়ার্স ড্রিমস" বইটিতে তাত্ত্বিকভাবে সম্পন্ন হতে পারে এমন অনেক বিশাল প্রকল্পের তালিকা রয়েছে (এর মধ্যে ভবিষ্যতের চ্যানেল টানেলও রয়েছে), এগুলোর মধ্যে বৃহত্তমটি হলো ইঙ্গা বাঁধ যা সাহারা মরুভূমিতে বিস্তৃত একটি হ্রদ তৈরি করবে।[]

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজতন্ত্রের স্বাধীনতার আগেও বেলজিয়ানরা ভারী শিল্পের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এক বিশাল ইঙ্গা উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণের আশা পোষণ করেছিলো।[] আলোচিত শিল্পগুলির মধ্যে ছিল "অ্যালুমিনিয়াম, ফেরো-অ্যালয়, আকরিক, কাগজের প্রক্রিয়াকরণ এবং আইসোটোপ পৃথকীকরণের জন্য একটি প্ল্যান্ট।"[] তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, অন্তত প্রকাশ্যে, বেশ সাহসী ছিল; কঙ্গোতে এই সম্ভাব্য শিল্প উন্নয়নের তুলনা জার্মানীর রুহরে নেয়া কার্যক্রমের সমতুল্য হিসাবে মত দিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান।[] এই প্রকল্পের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমেরিকান সংযোগ ছিলো ক্ল্যারেন্স ই. ব্লির মাধ্যমে, যিনি ১৯৫৭ সালে ইঙ্গা অবস্থানে একটি গবেষণায় অংশ নেওয়া ১০-জনের দলে থাকে পাঁচ বিদেশীর একজন এবং টেনেসি ভ্যালি কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিক ও শিল্প উন্নয়ন সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।[] এই গবেষণা প্রকল্পটি বেলজিয়ান কর্তৃপক্ষকে ইঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করতে রাজি করাতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলো।

"বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বাঁধের একটি ধারাবাহিক প্রকল্প" নিয়ে গঠিত একটি ইঙ্গা পরিকল্পনা অবশেষে ১৯৫৭ সালের ১৩ নভেম্বর বেলজিয়ামের মন্ত্রিসভায় পাস হয় এবং প্রকল্পের বিদ্যুতের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং এর অর্থায়নের উপায়গুলি বের করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে সময়, মন্ত্রিসভার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখান থেকে ২৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা আশা করা হয়।[]

১৯৫৮ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, আশা করা যায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে খনন কাজ শুরু হবে এবং ১৯৬৪/১৯৬৫ সালকে প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শেষ করার সম্ভাব্য সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় তিনটি পর্যায়ে নির্মাণ কাজটি পরিচালনা করার কথা বলা হয়েছিলো, যার মধ্যে ছিলো প্রথম পর্যায়ে ৩২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১,৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, তারপর এটিকে দ্বিগুণ ক্ষমতায় উন্নীত করণ এবং অবশেষে, শেষ ধাপে ২৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ পরোপুরিভাবে সম্পন্ন হবে। শিল্প উন্নয়নও এর সাথে সাথে ধাপে ধাপে উন্নত হতে থাকবে; প্রথম বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টায় ০.০০২ ডলারের প্রাথমিক মূল্যে ৫,০০,০০০ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করা হবে এবং শেষ ধাপে পৌঁছলে চূড়ান্ত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হবে এর ছয়গুণ। ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকান সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত অ্যালুমিঙ্গা নামে একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট এটি বাস্তবায়নের জন্য সেসময়ই গঠিত হয়। তহবিল যোগাড় করাটা একটি গুরুতর সমস্যা ছিলো, বিশেষ করে যখন বেলজিয়ানরা বুঝতে পেরেছিলো যে তারা এককভাবে এই ধরনের প্রকল্প সম্পন্ন করতে পারবে না। সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃত হতে জানা যায় যে এতে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিলো আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক[]

১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভিড রকফেলার সহ বিশিষ্ট আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের একটি দল ইঙ্গা জলপ্রপাত পরিদর্শন করেন,[১০] যদিও নির্মাণকাজ ক্রমাগত অনুমানিত সময় থেকে ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো, এবং পরে তা ১৯৬১ বা তার পরে শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।[১১]

বেলজিয়াম থেকে কঙ্গোর স্বাধীনতা হঠাৎ করে ইঙ্গা উন্নয়নের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারেনি। কঙ্গোর প্রতিনিধিদের সাথে স্বাধীনতার জন্য আলোচনা করার সময়ও বেলজিয়ান কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে ভেবে যাচ্ছিলো; বেলজীয় মন্ত্রী রেমন্ড শেইভেন একটি যৌথ কঙ্গো-বেলজিয়াম কোম্পানির প্রস্তাব করেছিলেন যা ইঙ্গা বাঁধ নির্মাণ কাজের জন্য অর্থায়ন করবে। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ধারণা ছিল না, বরং তার প্রস্তাবিত পাঁচ বছরের কঙ্গো উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল প্রস্তাবনা ছিলো তা।[১২] সেই প্রস্তাবনাটি স্পষ্টতই গ্রহণ করা হয়নি, কারণ নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বা ১৯৬০ সালের ২২ জুলাই কঙ্গোর উন্নয়নের জন্য ওয়াল স্ট্রিট-ভিত্তিক কঙ্গো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা কর্পোরেশনের সাথে একটি পঞ্চাশ বছর মেয়াদী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে তালিকার শীর্ষে ছিল ইঙ্গা প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন।[১৩] প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বা পরে পিছু হটে দাবি করেন যে চুক্তিটি "নীতিগতভাবে কেবল একটি চুক্তিই ছিলো",[১৪] তবে তা সত্ত্বেও দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রধান মোবুতু সেসে সেকো তাকে পদচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করে নেন।

ইঙ্গা ১ ও ইঙ্গা ২

[সম্পাদনা]
ইঙ্গা ১ প্রকল্প।

১৯৬০-এর দশকের প্রথমার্ধে অস্থিতিশীলতা, বিদ্রোহ এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের পরবর্তী সময়কাল সত্ত্বেও কঙ্গো নদীর তীব্র স্রোতকে কাজে লাগানোর বিষয়ে নেতৃবৃন্দের আশাবাদকে ম্লান করতে পারেনি। বেলজিয়ামের প্রস্থানের সময় সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ এবং পরবর্তী অস্থিরতা থেকে মোবুতু সেসে সেকোর আবির্ভাব ঘটে, যিনি ১৯৬৫ সালের নভেম্বরে নিজে পূর্ণ ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৯৭ সালের মে পর্যন্ত কঙ্গোর কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার শাসনামলেই ইঙ্গা জলপ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একমাত্র প্রকল্প নির্মিত হয়।

ইঙ্গা ১ ছিল প্রথম প্রকল্প যা সমাপ্ত করা হয়েছিল। ১৯৬৩ সালে ইতালীয় সংস্থা এসআইসিএআই কর্তৃক একটি সম্ভাব্যতা নিরীক্ষণ জরিপ পরিচালিত হয়, যাতে রপ্তানি-কেন্দ্রিক শিল্পের পরিবর্তে দেশীয় শিল্পায়নকে সমর্থন করার জন্য বাঁধটি নির্মাণ করার জন্য সুপারিশ করা হয়।[১৫] মূলত সরকারের অর্থায়নে ১৯৬৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ইঙ্গা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলে, যার ফলে ৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম একটি ছয়-টারবাইন বিশিষ্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হয়।[১৬] এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মূলত এর আশেপাশের জনবহুল এলাকা এবং ভাটির দিকে সরবরাহ করা হতো; এর উত্তরসূরি প্রকল্প হতে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ দিয়ে দক্ষিণের খনিগুলোর কার্য সম্পাদন করার কথা ছিলো।

ইঙ্গা ২ ছিলো ঠিক ইঙ্গা ১-এর দক্ষিণে নির্মিত দ্বিতীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। মাত্র আটটি টারবাইন থাকা সত্ত্বেও এটি ১,৪২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নির্মিত হয় এবং ইঙ্গা ১ নির্মিত হওয়ার এক দশক পরে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছিলো।[১৬]

ইঙ্গা-শাবা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন পথ

[সম্পাদনা]

জাম্বিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত শাবা প্রদেশর (বর্তমানে কাটাঙ্গা) তামা এবং কোবাল্ট খনির সাথে ইঙ্গার উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্ষমতাকে সংযুক্ত করার জন্য এমন একটি দীর্ঘতম উচ্চ-ভোল্টেজের সরাসরি বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করার নতুন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যার লক্ষ্য ছিলো স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিকে এড়িয়ে গিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছে এটিকে পর্যাবৃত্ত তড়িৎ প্রবাহে (এসি কারেন্ট) রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পে জড়িত বিভিন্ন গোষ্ঠীর নানাবিধ অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অভিসন্ধি ছিলো; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে: পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা এবং কঙ্গো সরকার তামার দাম বৃদ্ধির সময় শাবার খনিগুলো হতে সর্বোচ্চ লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলো, সরকারও বিচ্ছিন্নতাবাদী দক্ষিণাংশের প্রদেশগুলোর ওপর তার ক্ষমতা সুসংহত করতে চেয়েছিলো এবং পশ্চিমাদের আগ্রহ ছিল কঙ্গোকে কমিউনিস্ট-বিরোধী শিবিরে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করতে দেখার। প্রকল্পের খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে ছিলো, অবশেষে প্রাথমিক বাজেটের চেয়েও ৫০০ মিলিয়ন ডলার অধিক হয়। বেসরকারি এবং সরকারি গোষ্ঠীর মিশ্রণে এতে অর্থায়ন করা হয়েছিলো, বিশেষ করে যাদের মধ্যে ছিলো সিটিব্যাঙ্ক , ম্যানুফ্যাকচারার্স হ্যানোভার ট্রাস্টমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি-আমদানি ব্যাংক এবং এটি গড়ে উঠেছিলো বোইজি, আইডাহো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মরিসন-নডসেন কর্তৃক, যারা এই কাজটি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলো।[১৭][১৮]

১৯৮০ সালে ইঙ্গা-শাবা বিদ্যুৎ লাইনের খরচ কঙ্গোর মোট বহিঃ ঋণের ২৪% ছিল, যা দুর্নীতি, অন্যান্য অপচয় এবং ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে সাথে দেশটিকে ঋণ সংকট এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞদের হস্তক্ষেপের দিকে পরিচালিত করে।[১৯] ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কঙ্গো মার্কিন রপ্তানি-আমদানি ব্যাংকের নিকট ৯০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণী ছিল, যা আমেরিকান করদাতারা পরিশোধ করেনি।[২০] ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইঙ্গা-শাবা বিদ্যুৎ সঞ্চালন পথটি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার কাছাকাছি আসার সাথে সাথে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রকল্পটি নিয়ে অনেক সমালোচনামূলক তথ্যকণিকা প্রকাশ করতে থাকে। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে কঙ্গোর খাদ্যাভ্যাস উন্নত করার জন্য একটি সফল পিস কর্পস প্রকল্পের সাফল্যের বিপরীতে এই প্রকল্পটির ব্যর্থতার বিষয়টি পাশাপাশি উল্লেখ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় যে, "এই বিশাল প্রকল্পটি এখন পর্যন্ত একটি সাদা হাতিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে একই সময়ের মধ্যে এর চেয়ে আর্থিক ভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ মাছ চাষের প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটিয়েছে।"[১৮] শাবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনি কোম্পানি জেকামাইন্স, যেটি ১৯০৬ সালে বেলজিয়ানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করেই শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে এবং এর ফলে ইঙ্গা-শাবা লাইনটি এর ধারণক্ষমতার মাত্র এক তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা হচ্ছিল। তদুপরি, স্থানীয় লোকেরা বিভিন্ন ধরণের গৃহস্থালীর প্রয়োজনে এর ধাতব দণ্ডসমূহ ব্যবহার করার ফলে এই কাঠামোটি ধীরে ধীরে অবনমিত হয়ে পড়ছে।[২১]

বর্তমান বাঁধ

[সম্পাদনা]
২০০৬ সালে চিত্রে ইঙ্গা বাঁধ প্রকল্প।

ইঙ্গা ১ এবং ইঙ্গা ২ নামে পরিচিত দুটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ বর্তমানে কম উৎপাদন ক্ষমতায় কাজ করছে। ইঙ্গা ১-এর স্থাপনকালীন মোট ক্ষমতা ৩৫১ মেগাওয়াট এবং ইঙ্গা ২-এর ১,৪২৪ মেগাওয়াট।[২২] এটি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোবুতু সেসে সেকোর অধীনে ইঙ্গা-শাবা প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছিলো।

পুনর্বাসন

[সম্পাদনা]

ডিআরসি এই বিদ্যমান বাঁধ দুটির পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, যেগুলি এখন ভগ্নদশায় রয়েছে এবং তাদের মূল ক্ষমতার অনেক নিচে, প্রায় ৪০% কম কার্যকরীতা নিয়ে, অর্থাৎ দুটি মিলে ৭০০ মেগাওয়াটেরও বেশি কার্যকর ক্ষমতার নিচে কাজ করছে।[১৬] ২০০১ সালের মে মাসে সিমেন্স সরকারের সাথে এক বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করছিল বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ডিআরসির বৈদ্যুতিক সঞ্চালনা ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার এবং আধুনিকীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে বিদ্যমান ইঙ্গা বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত থাকবে,[২৩] যদিও কাজটি বিলম্বিত হয়।[২৪] ২০০৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল যে বিশ্ব ব্যাংক ডিআরসিতে জল এবং বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সিমেন্সের সাথে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে ইঙ্গা প্রকল্প দুটির পুনর্বাসন (তখন ৩০%-এর মতো সক্ষমতার বিষয়ে তথ্য দেয়া হয়) এবং ইঙ্গা থেকে রাজধানীতে দ্বিতীয় বৈদ্যুতিক লাইন আনয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২৫] এই চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে ঠিক কী ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।

২০০৫ সালের মে মাসে পৃথকভাবে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ম্যাগএনার্জি ইঙ্গা ২ এর কিছু টারবাইন পুনর্বাসনের জন্য এসএনইএল-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেটির কার্য সমাপ্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২০০৯ সাল।[২৬] অবশেষে ২০০৬ সালের ২৭ এপ্রিল, ম্যাগএনার্জির সাথে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, ইঙ্গা ২ পুনর্বাসনের মূল কাজ শুরু হয়।[২৭] এই প্রথম পর্যায়ের কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো একটি ১৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন টারবাইন মেরামত এবং অন্যান্য জরুরি মেরামতের কাজ, তা ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে ৯০%-ই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ (অন্য আরও চারটি টারবাইন মেরামত) সম্পন্ন করতে আরও পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে অনুমান করা হয়।[২৮] তবে, সরকার এই চুক্তির বৈধতা গ্রহণ করে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কানাডিয়ান কোম্পানি ফার্স্ট কোয়ান্টামকে ইঙ্গা ২ প্রকল্পের দুটি পৃথক টারবাইন পুনর্বাসনের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে।[২৯] মেরামতের কাজ সম্পন্ন করার জন্য এসএনইএল বিশ্বব্যাংক, আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক কর্তৃক সহায়তাপ্রাপ্ত আঞ্চলিক ও দেশীয় বিদ্যুৎ বাজার উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তহবিল পেয়েছে।[১৬]


২০২১ সালের আগস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি "সোসাইটি ন্যাশনাল ডি'ইলেকট্রিসিটি" (এসএনইএল) এবং কানাডিয়ান খনি প্রতিষ্ঠান কংলোমিরেট, ইভানহো মাইনসের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান "ইভানহো মাইনস এনার্জি ডিআরসি" আট-টারবাইন বিশিষ্ট ইঙ্গা ২ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫ নম্বর টারবাইনটি পুনর্নির্মাণের জন্য সম্মত হয়েছে। এটি ডিআরসির দক্ষিণের লুয়ালাবা প্রদেশের কোলওয়েজি শহরের কাছের কামো-কাকুলা তামার খনি-তে ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এই সংস্কার কাজের মধ্যে ইঙ্গা - কোলওয়েজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিবাহি পথ পুনর্নির্মাণ করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।[৩০]

সম্প্রসারণ পরিকল্পনা

[সম্পাদনা]
২০০৬ সালের হিসাবে ইঙ্গা ৩ এবং বৃহত্তর ইঙ্গার জন্য সরকারী অনুমান।

তৃতীয় ইঙ্গা বাঁধ, ইঙ্গা ৩ তৈরির মাধ্যমে প্রকল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমান অনুসারে, ইঙ্গা ৩ নির্মাণ কাজ সুসম্পন্ন হলে ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ইঙ্গা ৩ হল ওয়েস্টকর অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দু যা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র(ডিআরসি), নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বতসোয়ানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বৈদ্যুতিক সঞ্চালনা ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগের পরিকল্পনা। বিশ্ব ব্যাংক, আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক, দ্বিপাক্ষিক দাতা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো - সকলেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা সম্পন্ন করতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।


ইঙ্গা উন্নয়ন প্রকল্পের এক আগ্রহী সমর্থক হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি থাবো এমবেকি আফ্রিকান ঐক্য সংস্থায় দেয়া তার বক্তৃতায় বিষয়টি উল্লেখ করেন; সেখানে তিনি আফ্রিকার অর্থনৈতিক অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে জলবিদ্যুতের জন্য ইঙ্গা জলপ্রপাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।[৩১] দক্ষিণ আফ্রিকার জন অত্যাবশ্যকীয় সংস্থা ইএসকেওএম-এর মতানুসারে - ইঙ্গাকে একটি আন্তঃসংযুক্ত আফ্রিকান সঞ্চালনা লাইনে বিদ্যুৎ-রপ্তানিকারী শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা নেয়া হবে, যেটি হতে পরিশেষে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।[৩২] ২০০২ সালে ইঙ্গাকে আফ্রিকার উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব (এনইপিএডি) সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়[৩৩] এবং এসকম প্রবাহমান নদীস্থ জলবিদ্যুৎ জাতীয় ইঙ্গা প্রকল্পে ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প অনুসন্ধান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানায়, যেটি এসকম এবং হাইড্রো-ক্যুবেকের নেতৃত্বে জাতীয় জন অত্যাবশ্যকীয় সংস্থাগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম দ্বারা পরিচালনা করা হবে।[৩৪]


অবশেষে, ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েস্টার্ন পাওয়ার করিডোর (ওয়েস্টকর) নামে পরিচিত এই ধরণের একটি কনসোর্টিয়াম গঠিত হয়। এই অঞ্চলের পাঁচটি প্রধান জন অত্যাবশ্যকীয় সংস্থা (ইএসকেওএম, এসএনইএল, অ্যাঙ্গোলার এম্প্রেসা ন্যাসিওনাল ডি ইলেকট্রিকিডেড, নামিবিয়ার ন্যামপাওয়ার এবং বতসোয়ানা পাওয়ার কর্পোরেশন) এক সাথে যুক্ত হয়ে ১.৫ বিলিয়ন ডলার প্রাথমিকভাবে ব্যয় করার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ৪৪,০০০ মেগাওয়াট প্রবাহমান নদীস্থ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।[৩৫] ৩,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইঙ্গা ৩ নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২২ অক্টোবর ওয়েস্টকরের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।[৩৬] পরের ফেব্রুয়ারিতে ইএসকেওএম ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রবাহমান নদীস্থ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রকল্প সম্পর্কিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে।[৩৭] ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়েস্টকরের জন্য একটি শেয়ারহোল্ডার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে প্রতিটি পক্ষ ২০% করে অংশীদারিত্ব লাভ করে।[৩৮]


ডিআরসি ওয়েস্টকরের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক উন্নয়ন পদ্ধতি থেকে সরে আসে এবং এর পরিবর্তে তারা নিজেরাই ইঙ্গা ৩-এর নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে। ২০০৯ সালের জুনে তারা ৭ বিলিয়ন ডলারের ৪৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ইঙ্গা ৩ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করে।[৩৯] ওয়েস্টকরকে উপেক্ষা করে ডিআরসি বিএইচপিকে বেছে নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিজেদের জন্য ব্যবহার করা, বিশেষ করে একটি অ্যালুমিনিয়াম স্মেল্টারের জন্য এমনটি করার দরকার হয়েছিলো।


পূর্ববর্তী পরিকল্পনায় যেটি ৪.৮ গিগাওয়াট ক্ষমতার বাঁধ হওয়ার কথা ছিলো সেটিকে ১০-১২ গিগাওয়াট ক্ষমতার করার জন্য ২০১৭ সালে নতুন করে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়, যেটি ২০২৪ সালের পরে কোনো এক সময় সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।[৪০] ২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিআরসি সরকার ১১,০০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এবং মোট ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইঙ্গা ৩ বাঁধ নির্মাণের জন্য নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করার জন্য একটি চীন-স্প্যানিশ কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ঘোষণা করে। কনসোর্টিয়ামের প্রধান কোম্পানিগুলি ছিল চায়না থ্রি গর্জেস কর্পোরেশন, সিনোহাইড্রো এবং এসিএস গ্রুপ[৪১] ২০১৯ সালের শেষের দিকে তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণ পরিকল্পনার বিষয়টি সঠিক পথেই রয়েছে বলে জানানো হলেও,[৪২] নির্মাণ কনসোর্টিয়ামের অন্যতম প্রধান সম্ভাব্য সদস্য স্প্যানিশ সংস্থা এসিএস গ্রুপ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এটি হতে সরে দাঁড়ায়; যার ফলে অবশিষ্ট চীনা এবং জার্মান অংশীদারদের সাথে এটির নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।[৪৩]

বৃহৎ ইঙ্গা বাঁধ

[সম্পাদনা]

বৃহৎ ইঙ্গা বাঁধ নির্মাণের ফলে যদি নদীর বেশিরভাগ স্রোতকে কাজে লাগানো যায় তাহলে ৩৯,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যার ফলে আফ্রিকা মহাদেশে উপলব্ধ বিদ্যুৎ শক্তির পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যাতে ব্যয় হবে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। প্রধান জনবহুল কেন্দ্রগুলির জন্য ইঙ্গাকে একটি মহাদেশব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোজন লাইনের সাথে সংযুক্ত করতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হবে (আনুমানিক ২০০০ সালের হিসাব) এবং এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। সমালোচকরা মনে করেন যে, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ অর্থ এই প্রকল্টির পরিবর্তে ছোট আকারের স্থানীয় শক্তি প্রকল্পগুলিতে ব্যয় করা ভাল হবে, যাতে করে আফ্রিকার দরিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠদের চাহিদা আরও ভালভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা এই সতর্কতামূলক পদ্ধতিটিকে সমর্থন করে, যাতে দেখানো হয়েছে যে ছয়টি মহাদেশের ৬৫টি দেশে ২৪৫টি বৃহৎ বাঁধের গড় খরচ বাস্তবিক অর্থে মূল খরচের চেয়েও ৯৬% বেশি হচ্ছে।[৪৪]

আফ্রিকার উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্বের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যুৎ কোম্পানি ইএসকেওএম-এর বৃহত্তর অংশীদারিত্বে ২০০৩ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে বৃহৎ ইঙ্গা বাঁধ প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু করা হবে।[৪৫][৪৬] ৩৯,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে বৃহৎ ইঙ্গা বাঁধ একাই বার্ষিক ২৫০ টেরাওয়াটঘণ্টা বা সমগ্র প্রকল্পের জন্য মোট ৩৭০ টেরাওয়াটঘণ্টা উৎপাদন করতে পারে। ২০০৫ সালে, আফ্রিকার বার্ষিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৫৫০ টিডব্লিউএইচ (মাথাপিছু ৬০০ কিলোওয়াটঘন্টা)।

এই প্রকল্পের মোট উন্নয়ন ব্যয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।[৪৭][৪৮] ২০১৬ সালের মে মাসে ধরে নেয়া হয়েছিল যে নির্মাণ কাজ কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু করা হবে।[৪৯][৫০] তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং খনি কোম্পানিগুলির সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সত্ত্বেও প্রকল্পটি নিয়ে মতবিরোধের কারণে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বিশ্ব ব্যাংক তাদের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়।[৪০] প্রকল্পটিতে প্রথম পর্যায়ের অনুদান হিসাবে মোট ৭৩.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার কথা ছিলো।[৫১]

কিছু পর্যবেক্ষক এই প্রকল্পটি নিয়ে সন্দিহান, কারণ তারা দুর্নীতির জন্য পরিচিত একটি দেশে এর উচ্চ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন - যা জনগণের জন্য খুব কম সুবিধার বিপরীতে অনৈতিক পন্থায় অর্থ আত্মসাতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।[৫২][৫৩]

আফ্রিকার বৈদ্যুতিক শক্তির বৈষম্য

[সম্পাদনা]

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আফ্রিকায় মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন খুবই কম। বৃহত্তর ইঙ্গা বাঁধের মতো প্রকল্প, যেখানে ৪৩.৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে, আফ্রিকার বিদ্যুৎ ঘাটতি সমাধানে সাহায্য করতে পারে। ২০০৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল পুরো মহাদেশের ৫৫০ টেরাওয়াট ঘন্টা (৬৩ গিগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০% বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছিলো।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৩০ টেরাওয়াটঘণ্টা প্রতি বছর / ২৬.২ গিগাওয়াট (বার্ষিক মাথাপিছু ৪৫০০ কিলোওয়াটঘণ্টা / মাথাপিছু ৫১৩ ওয়াট);

উত্তর আফ্রিকা: ১৫০ টেরাওয়াটঘণ্টা প্রতি বছর / ১৭.১ গিগাওয়াট (বার্ষিক মাথাপিছু ১০০০ কিলোওয়াটঘণ্টা / মাথাপিছু ১১৪ ওয়াট);

সাব সাহারান আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা বাদে): ১৭০ টেরাওয়াটঘণ্টা প্রতি বছর / ১৯.৪ গিগাওয়াট (বার্ষিক মাথাপিছু ২৫০ কিলোওয়াটঘণ্টা / মাথাপিছু ২৯ ওয়াট)।

ধারণা করা হয় যে, বৃহত্তর ইঙ্গা বাঁধ সমগ্র মহাদেশের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। ১৯৯০-এর দশকের আগে এই ধারণাটি সত্য ছিলো।[৫৪][৫৫] এই মহাদেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৫% এবং ২.৫%। ২০০৫ সালে ৯১ কোটি আফ্রিকান জনগণের জন্য মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল ৬০০ কিলোওয়াট ঘন্টা। দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতিযুক্ত অঞ্চল হলো সাব সাহারান আফ্রিকা (দক্ষিণ আফ্রিকা বাদে), যেখানে ৭০ কোটি মানুষের জন্য মাথাপিছু বার্ষিক উৎপাদন হয়েছিলো মাত্র ২৫০ কিলোওয়াট ঘন্টা। আফ্রিকায় গড়ে মাথাপিছু বার্ষিক কমপক্ষে ১০০০ কিলোওয়াটঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মহাদেশীয় মোট উৎপাদনের প্রয়োজন হবে বার্ষিক ১০০০ টেরাওয়াটঘন্টা / ১২০ গিগাওয়াটের বেশি; যা বৃহত্তর ইঙ্গা বাঁধের সর্বোচ্চ ক্ষমতার তিনগুণের সমান। ২০১২ সালে বিশ্বে গড় মাথাপিছু ব্যবহার ছিলো ৩০৪৪ কিলোওয়াটঘন্টা (দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক: ২০১৪ দ্য লিটল ডেটা বুক)।

কারো কারো মতে, বৃহত্তর ইঙ্গা আফ্রিকান চাহিদার (৬৩ গিগাওয়াট লোডের তুলনায় ৪৩.৫ গিগাওয়াট সম্মিলিত উৎপাদন) অনুপাতে অনেক বেশি হবে, যা একটি বিস্তৃত অঞ্চলে যুগপত সঞ্চালনা ব্যবস্থায় যথেষ্ট এবং পাশাপাশি অন্যান্য পাওয়ার গ্রিডের মাধ্যমে আন্তঃসংযোগ ছাড়াই একটি বাস্তবিক যথার্থ বিদ্যুৎ উৎস হতে পারবে। বাঁধের যেকোনো বৃহৎ আকারের ব্যর্থতা অথবা সঞ্চালনা ব্যবস্থা সাথে এর সংযোগের সমস্যা আফ্রিকার বৃহৎ অংশকে বিদ্যুৎ ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেবে, যা সম্ভাব্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে বরে আশংকা করা হয়; যেমনটি ঘটেছিলো ২০০৯ সালে ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়েতে ব্ল্যাকআউট (১৭ গিগাওয়াট), অথবা ২০০৯ সালে সাইবেরিয়ায় সায়ানো-শুশেনস্কায়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্ঘটনা (৬.৪ গিগাওয়াট) ঘটার ফলে। উদাহরণস্বরূপ, সাইবেরিয়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনা ব্যবস্থায় ব্যর্থতা স্থানীয় অ্যালুমিনিয়াম স্মেল্টারগুলির উপর বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলেছিল। এই যুক্তি অনুসারে, সম্পূর্ণ উৎপাদনের যথোপযুক্ত ব্যবহারের জন্য ইউরোপের সাথে আন্তঃসংযোগ প্রয়োজন, যাতে ইউরোপের বিদ্যুৎ আফ্রিকায় পুনরায় পাঠানো যায়। এটি উভয় অঞ্চলের পরিসঞ্চালনায় স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং সামগ্রিক খরচ হ্রাস করবে।[৫৬][৫৭]

তিনটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম ইঙ্গা ৩ নামে পরিচিত এই বাঁধ নির্মাণের এবং এখানে উৎপাদিত আনুমানিক ৪,৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য আহ্বান করা দরপত্রের বিপরীতে তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। এটি ইঙ্গার দুটি বিদ্যমান বাঁধ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় তিনগুণ, যেগুলো কয়েক দশকের পুরনো এবং সরকারি ঋণ এবং ঝুঁকি-প্রতিরোধী বিনিয়োগকারীদের কারণে অবহেলার কারণে বিকল হয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমান পরিকল্পনার অধীনে, দক্ষিণ আফ্রিকা ইঙ্গা ৩ থেকে ২,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনবে এবং আরও ১,৩০০ মেগাওয়াট কঙ্গোর জরুরী বিদ্যুৎ চাহিদাসম্পন্ন খনি শিল্পের কাছে বিক্রি করা হবে। বাকি ১০০০ মেগাওয়াট কঙ্গোর জাতীয় বিদ্যুৎ সংস্থা এসএনইএল-এ যাবে, যারা কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার আশেপাশের আনুমানিক ৭০ লক্ষ মানুষকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সহায়তা করবে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সেখানে সমস্ত অপূর্ণ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করবে।[৫৮]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Ameye, Louis (৪ জুন ১৯৫৯)। "Economic Problems of the Congo"। Royal African Society।
  2. Sanyanga, Rudo। "Will Congo Benefit from Grand Inga Dam?"। International Policy Digest। ৪ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৩
  3. Showers, Kate B. (২০০৯)। "Congo River's Grand Inga hydroelectricity scheme: linking environmental history, policy and impact"। Water History (1): ৩১–৫৮। ডিওআই:10.1007/s12685-009-0001-8এস২সিআইডি 161089543
  4. Lehmann, Philipp Nicolas (১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "Infinite Power to Change the World: Hydroelectricity and Engineered Climate Change in the Atlantropa Project"The American Historical Review (ইংরেজি ভাষায়)। ১২১ (1): ৭০–১০০। ডিওআই:10.1093/ahr/121.1.70আইএসএসএন 0002-8762
  5. Leonard, Jonathan N. (৩০ মে ১৯৫৪)। "New Sources of Power"। The New York Times Book Review। পৃ. ১৪।
  6. "Economy Gaining in Belgian Congo"। The New York Times। ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৭। পৃ. ২৭।
  7. 1 2 3 Holz, Peter (মার্চ ১৯৫৮)। "More Power Lights "Darkest Africa""Popular Mechanics১০৯ (3): ২৩২।
  8. "Congo Plan Approved"। The New York Times। ১৪ নভেম্বর ১৯৫৭। পৃ. ১৮।
  9. Waggoner, Walter H. (২৬ এপ্রিল ১৯৫৮)। "Belgium Rushes Huge Power Project on the Congo"। The New York Times। পৃ. ২৪।
  10. Bracker, Milton (১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯)। "U.S. Bankers View Project in Congo"। The New York Times
  11. "Belgian Congo Plant Delayed"। The New York Times। ৭ এপ্রিল ১৯৫৯।
  12. Gilroy, Harry (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০)। "Congo Cautioned on Its Economy"। The New York Times
  13. Tanner, Henry (২৩ জুলাই ১৯৬০)। "Congo Signs Pact With U.S. Concern To Tap Resources"। The New York Times
  14. "CONGO: Where's the War?"Time। ৮ আগস্ট ১৯৬০। ২২ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৯
  15. Young, Crawford; Turner, Thomas (১৯৮৫)। The Rise and Decline of the Zairian State। Madison: The University of Wisconsin Press। পৃ. ২৯৮–৩০১আইএসবিএন ৯৭৮০২৯৯১০১১৩৮
  16. 1 2 3 4 "Inga 1 and Inga 2 dams"। International Rivers। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০০৯
  17. Randa, Jonathan C. (২৮ এপ্রিল ১৯৭৭)। "Mobuto Riding High, But Possibility Raised of Guerilla Warfare"। The Washington Post। পৃ. A২৬।
  18. 1 2 Ross, Jay (২৫ এপ্রিল ১৯৮২)। "A Tale of Two Projects: One Winner, One Loser"। The Washington Post। পৃ. C৫।
  19. Dash, Leon (১ জানুয়ারি ১৯৮০)। "Mobutu Mortgages Nation's Future"। The Washington Post। পৃ. A১।
  20. Mufson, Steven (১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৯)। "Abroad at Home: The Foreign Affairs Community – Ex-Im Bank Aims to Do More in Africa"। The Washington Post। পৃ. A৩৭।
  21. Winternitz, Helen (১৯৮৭)। East Along the Equator: A Journey Up the Congo and into Zaire। New York: Atlantic Monthly Press। পৃ. ১৭৫আইএসবিএন ৯৭৮০৮৭১১৩১৬২১
  22. "Inga 1 and Inga 2 dams"International Rivers। ৭ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৫
  23. "Siemens Plans to Invest $1 billion in RDC Electronics Network"। European Report। ২৪ মে ২০০১।
  24. "Grand Schemes on the Congo"। IT Week। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৪।
  25. Misser, Francois (১ জুন ২০০৩)। "Siemens flags off massive DRC project"। African Business।
  26. "MagEnergy Concludes Inga II Rehabilitation Agreement"। Marketwire। ৩১ মে ২০০৫।
  27. "MagEnergy Announces Start of Inga II Hydroelectric Plant Work Program"। Marketwire। ১ মে ২০০৬।
  28. "MagEnergy nears completion of unit rehab at DR Congo's 1,424-MW Inga 2"। Hydroworld.com। ২০ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০০৯
  29. "Everyone Plugs into Inga"। Africa Energy Intelligence। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
  30. Jean Marie Takouleu (২৫ আগস্ট ২০২১)। "DRC: Inga II hydroelectric plant to power Kamoa-Kakula copper mine"Afrik21.africa। Paris, France। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  31. Mbeki, Thabo (২০ জুলাই ১৯৯৯)। "Podium: The globalization of Africa"The Independent। London। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৯
  32. Hale, Briony (১৭ অক্টোবর ২০০২)। "Africa's grand power exporting plans"BBC News। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৯
  33. "Hard Talk, Charm Carries the Day for NEPAD"। All Africa। ১৩ জুন ২০০২।
  34. "Eskom's Secret Project"। Africa Energy Intelligence। ১৯ মে ২০০২।
  35. "Pan African Consortium for Inga"। Africa Energy Intelligence। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৩।
  36. Thomson, Alistair (২২ অক্টোবর ২০০৪)। "Africa plans new Congo generator, seeks investment"। Reuters।
  37. Vasagar, Jeevan (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৫)। "Could a $50bn plan to tame this mighty river bring electricity to all of Africa?"The Guardian। London। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৯
  38. "Landmark Agreement to Satisfy Regional Power Needs"। All Africa। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৫।
  39. "Congo opens bidding for Inga 3 hydro dam investors"Reuters। ১৯ জুন ২০০৯। ৯ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০০৯
  40. 1 2 "GCR - News - DR Congo's Inga 3 dam to double in size to 12GW"globalconstructionreview.com। ১৩ জুলাই ২০১৭। ১৬ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭
  41. "Inga 3: An Exclusive Development Deal for Chinese and European companies"International Rivers (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২০
  42. Emmalogo555 (৫ নভেম্বর ২০১৯)। "Construction of US$14bn Grand Inga dam in Congo on track"Construction Review Online (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)
  43. "DRC's giant Inga III dam: Spanish firm ACS throws in the towel"The Africa Report.com (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ জানুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২০
  44. Ansar, Atif; Flyvbjerg, Bent; Budzier, Alexander; Lunn, Daniel (১০ মার্চ ২০১৪)। "Should We Build More Large Dams? The Actual Costs of Hydropower Megaproject Development"। Papers.ssrn.com। এসএসআরএন 2406852
  45. "IRIN Africa | SOUTHERN AFRICA: New plant to bring regional power on stream | SOUTHERN AFRICA | Economy | Environment | Other"। Irinnews.org। ১৪ নভেম্বর ২০০৩। ১১ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  46. "businessinafrica.net"। businessinafrica.net। ৭ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  47. The Grand Inga Dam
  48. Hill, Matthew; Wilson, Tom (৭ মে ২০১৬)। "DR Congo moves to build $100 billion Grand Inga dam, to pick phase-1 contractor by August"mgafrica.comMail & Guardian। ৮ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬
  49. John, Vidal (২৮ মে ২০১৬)। "Construction of world's largest dam in DR Congo could begin within months"theguardian.com। ২৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬
  50. Tim, Cashion (২৩ জুন ২০১৬)। "A grand plan to electrify Congo and Africa"The Washington Times। ২৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬
  51. "World Bank suspends funding for DR Congo's Inga 3 power project"africanews.com। Africanews। ২৬ জুলাই ২০১৬। ২৭ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬
  52. Grand Inga development
  53. Tom, Nevin (১৩ মে ২০১৬)। "Congo's Grand Inga plan faces a watershed"bdlive.co.za। Times Media। ১৪ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৬
  54. Hammons, T.J.; Blyden, B.K.; Calitz, A.C.; Gulstone, A.B.; Isekemanga, E.; Johnstone, R.; Paluku, K.; Simang, N.-N.; Taher, F. (২০০০)। "African electricity infrastructure interconnections and electricity exchanges"। IEEE Transactions on Energy Conversion১৫ (4): ৪৭০–৪৮০। বিবকোড:2000ITEnC..15..470Hডিওআই:10.1109/60.900510
  55. Hammons, T. J.; Taher, F.; Gulstone, A. B.; Blyden, B. K.; Johnston, R.; Isekemanga, E.; Paluku, K.; Calitz, A. C.; Simanga, N. N. (জানুয়ারি ১৯৯৭)। "SciTech Connect"। IEEE Power Engineering Review১৭ (1)। ডিওআই:10.1109/MPER.1997.594920ওএসটিআই 479422এস২সিআইডি 46233141
  56. Andrews, Dave (১ আগস্ট ২০০৯)। "Vision 2020 and beyond – Dr. Gregor Czisch Ex Kassell University discussed the integration of African Power production internally and with Europe to fully exploit the vast hydro power available at the Inga Dam site"। Claverton-energy.com। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩
  57. Andrews, Dave (১ আগস্ট ২০০৯)। "Vision 2020 and beyond - Dr. Gregor Czisch Ex Kassell University discussed the integration of African Power production internally and with Europe to fully exploit the vast hydro power available at the Inga Dam site | Claverton Group"। Claverton-energy.com। ১৪ আগস্ট ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
  58. "World Bank approves funds to study Congo's Inga dam"Reuters। ২০ মার্চ ২০১৪। ৩১ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Kongo Central