বিষয়বস্তুতে চলুন

ইওজেফ হাইডেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইওজেফ হাইডেন
painted portrait
ইওজেফ হাইডেনের প্রতিকৃতি (টমাস হার্ডি, ১৭৯১)
জন্মরোরাউ, অস্ট্রিয়া
Baptised১লা এপ্রিল, ১৭৩২
মৃত্যু৩১ মে ১৮০৯(1809-05-31) (বয়স ৭৭)
ভিয়েনা
কর্মতালিকারচনার তালিকা

ফ্রানৎস ইওজেফ হাইডেন (জার্মান: Franz Joseph Haydn; আ-ধ্ব-ব: [ˈfʁants ˈjoːzɛf ˈhaɪdn̩]; শুনুন; ৩১শে মার্চ, ১৭৩২, রোরাউ, অস্ট্রিয়া  ৩১শে মে, ১৮০৯, ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া) পশ্চিমা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধ্রুপদী যুগের একজন অস্ট্রীয় সুরকার। তিনি স্ট্রিং কোয়ার্টেট এবং পিয়ানো ত্রয়ী হিসাবে চেম্বার সঙ্গীতের বিকাশে সহায়ক ছিলেন। [] পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী সাঙ্গীতিক রূপসৃজনে অবদানের কারণে তাঁকে "সিম্ফনি-র জনক" এবং "স্ট্রিং কোয়ার্টেটের পিতা" বলা হয়।[][]

শৈশবেই হাইডেনকে ভিয়েনার সাধু স্টিভেনের মহাগির্জার ধর্মসঙ্গীত গায়কদলে (কয়ার) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেখানে তিনি বেহালা (ভায়োলিন) ও কিবোর্ড (চাবিফলক বাদ্যযন্ত্র) বাদনে শিক্ষালাভ করেন। গায়কদল পরিত্যাগ করার পরে তিনি সঙ্গীত শিক্ষা প্রদান করে ও বেহালা বাজিয়ে জীবিকা উপার্জন করতে শুরু করেন, এবং একই সময়ে সুর-প্রতিসুর মিশ্রণ (কাউন্টারপয়েন্ট) ও সুরসঙ্গতি (হার্মোনি) নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। এ সময় তিনি ইতালীয় কবি পিয়েত্রো মেতাস্তাসিও-র সুনজরে পড়েন ও তাঁর সহায়তায় সুরকার নিকোলা পর্পোরা-র নানা কাজে পটু সহকারী হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। এর প্রতিদানে তিনি পর্পোরার কাছ থেকে সঙ্গীতের পাঠ গ্রহণ করতেন। এভাবে উচ্চসমাজে প্রবেশের পরে তিনি ১৭৬১ সালে অভিজাত বিত্তশালী এস্টারহাজি পরিবারের প্রাসাদের সঙ্গীত বিভাগের প্রধানে পরিণত হন। কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি এই পরিবারের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। একই কারণে তিনি তাঁর জীবনের এক দীর্ঘ সময় অন্যান্য সুরকার ও সঙ্গীতের প্রবণতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, যা তাকে নিজ ভাষ্যমতে সঙ্গীত নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে "মৌলিক হতে বাধ্য" করেছিল। তা সত্ত্বেও হাইডেনের সঙ্গীত ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসার লাভ করে এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত জীবিত সুরকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। সঙ্গীতের প্রায় সমস্ত প্রকারের (জঁর) জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ কর্ম সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁর সৃষ্টিকর্মগুলি মার্জিত ও অনুরাগোদ্দীপক, যেগুলিতে সূক্ষ্মবুদ্ধি ও গাম্ভীর্যের ভারসাম্যপূর্ণ মেলবন্ধন ঘটেছে। শ্রেষ্ঠ সিম্ফনি-রচয়িতাদের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তাঁর নাম বিশেষভাবে উচ্চার্য। তিনি ১০৬টি সিম্ফনি রচনা করেন, যাদের মধ্যে ১৭৯১-১৭৯৫ সালে রচিত শেষ ১২টি "লন্ডন সিম্ফনি" জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি এককভাবে "স্ট্রিং কোয়ার্টেট" (ততযন্ত্র-চতুষ্টক রচনা) নামক সঙ্গীতের প্রকারটির বিকাশে সর্বাগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রচিত ৬৮টি ততযন্ত্র-চতুষ্টক রচনা আজও ঐ প্রকারের সঙ্গীতের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে পরিগণিত। রোমান ক্যাথলিক গির্জার জন্য তিনি ১৪টি "মেসা" (ধর্মীয় উপাসনামূলক সঙ্গীত) এবং সৃষ্টি (১৭৯৮) ও ঋতুসম্ভার (১৮০১) নামের দুইটি "ওরাতোরিও" (ধর্মীয় গীতিনাট্য) রচনা করে গেছেন। এছাড়া তিনি ৪৭টি পিয়ানো সোনাতা ও চেল্লো-সদৃশ বাদ্যযন্ত্র ব্যারিটোনের জন্য ১২৫টি সঙ্গীতকর্ম রচনা করেন। হাইডেন ধ্রুপদী সঙ্গীতশৈলীকে অবয়ব দানকারী প্রধান সুরকারদের একজন ছিলেন। তিনি মোৎসার্টের বন্ধু এবং পরামর্শদাতা, বেটহোফেনের শিক্ষক এবং সুরকার মিখায়েল হাইডেনের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন, তাই তাঁদের সঙ্গীতে হাইডেনের প্রভাব অনস্বীকার্য।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Smallman, Basil (১৯৯২)। The Piano Trio: Its History, Technique, and Repertoire। Oxford University Press। পৃ. ১৬–১৯আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৩১৮৩০৭-০
  2. Rosen 1997
  3. Webster ও Feder 2001