ইউরোপে উসমানীয়দের যুদ্ধ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ইউরোপে উসমানীয়দের যুদ্ধ দ্বারা উসমানীয় সাম্রাজ্য বনাম বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্রের মধ্যযুগ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক পর্যন্ত চলমান সামরিক সংঘাতকে উদ্দেশ্য করা হয়। প্রথম বিরোধ শুরু হয়েছিল বাইজেন্টাইন-উসমানীয় যুদ্ধের মাধ্যমে। বাইজেন্টাইন-উসমানীয় প্রথম যুদ্ধ ১৩শ শতকের শেষের দিকে আনাতোলিয়ায় সংঘটিত হয়েছিল। এরপর ১৪শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বুলগেরীয়-উসমানীয় যুদ্ধের সাথে সাথে সেটি ইউরোপে উসমানীয়দের যুদ্ধের ইতিহাসে যুক্ত হয়। ১৫শ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত সার্বীয়-উসমানীয় যুদ্ধ এবং আলবেনীয়-তুর্কি যুদ্ধগুলো যথাক্রমে সার্বিয়া এবং আলবেনিয়ায় উসমানীয় তুর্কিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল। এই সময়ের বেশিরভাগ সময়টি বলকানে উসমানীয় সম্প্রসারণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। উসমানীয় সাম্রাজ্য ১৫-১৬শ শতকে মধ্য ইউরোপে আরও প্রবেশ করে, যেই সময়টিতে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি উসমানীয় অঞ্চল দখলে ছিল।[১][২]

১৪২৩ সালে শুরু হওয়া উসমানীয়-ভেনিসীয় যুদ্ধ ১৭১৮ সাল পর্যন্ত চার শতাব্দী ধরে চলে। এই চারটি শতাব্দীর মধ্যে ১৪৭০ সালে নেগ্রোপন্টের পতন, ১৫৭১ সালে ফামাগুস্তার (সাইপ্রাস) পতন আর লেপান যুদ্ধে উসমানীয় নৌবহরের পরাজয় (সেই সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নৌ যুদ্ধ), ১৬৬৯ সালে ক্যান্ডিয়া (ক্রিট) এর পতন, ১৬৮০ সালে মোরেয়া (পেলোপনেস) ভেনিসীয় পুনরুদ্ধার এবং ১৭১৫ সালে আবার এর পরাজয়ের সাক্ষী ছিল।। ভেনিসীয় শাসনের অধীনে কর্ফু দ্বীপটি একমাত্র গ্রীক দ্বীপ ছিল, যা উসমানীয়রা বিজিত করেনি।[৩]

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো উসমানীয়দের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে শুরু করে এবং ১৬৮৩-৯৯ সালের গ্রেট তুর্কি যুদ্ধের সময়ে হলি লীগ গঠন করে উসমানীয়দের দখল কমিয়ে আনে। তা সত্ত্বেও, উসমানীয় বাহিনী অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত তাদের ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদেরকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।[৪][ক]

উত্থানকাল (১২৯৯-১৪৫৩)[সম্পাদনা]

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

১৩৫৬ সালে দুর্বল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের উপর আঘাত হানার পর (বা ১৩৫৮ সালে - বাইজেন্টাইন ক্যালেন্ডারে পরিবর্তনের কারণে বিতর্কিত), যা এটিকে ইউরোপে অপারেশনের ভিত্তি হিসাবে গ্যালিপলি প্রদান করে। উসমানীয় সাম্রাজ্য ১৪ শতকের মাঝামাঝি ইউরোপ মহাদেশে তার পশ্চিম দিকে সম্প্রসারণ শুরু করে।

ভারনার যুদ্ধ (১৪৪৪) এবং কসোভোর দ্বিতীয় যুদ্ধের (১৪৪৮) পরে ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে। অবশিষ্ট গ্রীক রাজ্য (মোরিয়া এবং ত্রেবিজন্ড সাম্রাজ্যের ডেসপোটেট) ১৪৬১ সালে পতন ঘটে।

উসমানীয় সেনাবাহিনী ভিয়েনাকে ঘিরে রেখেছে, ফ্রান্স গেফেলস অঙ্কিত।

বুলগেরীয় সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

১৪ শতকের শেষার্ধে, উসমানীয় সাম্রাজ্য ১৩৭১ সালে মারিতসার যুদ্ধের পর থ্রেস এবং মেসিডোনিয়ার বেশিরভাগ অংশকে সম্পূর্ণরূপে অধস্তন করে বলকান অঞ্চলে উত্তর ও পশ্চিমে অগ্রসর হয়। ১৩৮২ সালে সোফিয়ার পতন ঘটে, তারপরে ১৩৯৩ সালে দ্বিতীয় বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী তারনোভগ্রাদ এবং ১৩৯৬ সালে নিকোপলিসের যুদ্ধের পরে রাজ্যের উত্তর-পশ্চিম অবশিষ্টাংশের পতন ঘটে।

টীকা[সম্পাদনা]

  1. ১৭৬৮ থেকে ১৭৭৪ সাল পর্যন্ত রুশ যুদ্ধে স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রেই পিছু না হঁটা পর্যন্ত উসমানীয়রা মূলত সামরিক সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।[৫]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উদ্ধৃতি[সম্পাদনা]

  • Aksan, Virginia (২০০৭)। Ottoman Wars, 1700–1860: An Empire Besieged। Pearson Education Ltd.। আইএসবিএন 978-0-582-30807-7 
  • "The Crusader Period"All About All Crusades, A Chronological Time-table। ২১ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • "The Battle of Mohacs, 1526"World History at KMLA। Korean Minjok Leadership Academy। ১৭ নভেম্বর ২০০৪। 
  • Cassola, Arnold (১৯৯৯)। The 1565 Great Siege of Malta and Hipólito Sans’s La Maltea। Malta: Publishers Enterprise Group। 
  • "Castles and History in Northern Transdanubia"। ১৬ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • Cline, Austin (২৫ জুন ২০১৯)। "Expansion of the Ottoman Empire From 1300–1600"Learn Religions। Dotdash। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • "Drégelypalánk"IranyMagyarorszag!। ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • "The End of Europe's Middle Ages - Ottoman Turks"। ২০১৩-০৯-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৯-০৭ 
  • Finkel, Caroline (২০০৪)। Osman's Dream। Basic Books। 
  • Gavran, Fra Ignacije (৫ অক্টোবর ২০১৭)। "Od zauzeća Bosne do podjele Provincije (1463-1514) - From the book "Suputnici bosanske povijesti", Svjetlo riječi, Sarajevo 1990"Bosna Srebrena (সার্বো-ক্রোয়েশিয় ভাষায়)। Franciscan Province "Bosna Srebrena"। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  • "Habsburg-Ottoman War, 1683-1699"World History at KMLA। Korean Minjok Leadership Academy। ১৩ জুলাই ২০০৫। 
  • Kakissis, Joanna (২০১১)। "Athens & the Islands"। National Geographic Society 
  • Leitsch, Walter (জুলাই ১৯৮৩)। "1683: The Siege of Vienna"History Today33 (7)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪ 
  • Macfie, Alexander Lyon (১৯৯৬)। The Eastern Question 1774-1923 (2nd সংস্করণ)। 
  • Mommsen, Theodor E. (১৯৪১)। "The Venetians in Athens and the Destruction of the Parthenon in 1687"। American Journal of Archaeology। 45, No. 4 (October-December 1941)। 
  • Pinson, Mark (১৯৯৬) [1993]। The Muslims of Bosnia-Herzegovina, the Historic Development from Middle Ages to the Dissolution of Yugoslavia (Second সংস্করণ)। United States of America: President and Fellows of Harvard Collegeআইএসবিএন 0-932885-12-8। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০১২ 
  • "1683 Siege of Vienna"RateItAll। RateItAll, Inc। ২২ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • Smitha, Frank E.। "Ottoman Decline"MacroHistory and World Report। Frank E. Smitha। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • Smitha, Frank E. (২০০৫)। "16th Century Timeline: 1501 to 1600"MacroHistory and World Report। Frank E. Smitha। ২৬ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০২১ 
  • Stavrianos, L.S. (১৯৫৮)। The Balkans since 1453 
  • Tomkinson, John L.। Venetian Athens: Venetian Interlude (1684–1689)। Anagnosis Books। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  • Woodhead, Christine (২০০৮)। "New Views on Ottoman History, 1453–1839"। The English Historical Review। Oxford University Press। 123 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Anderson M.S. The Eastern Question 1774-1923: A Study in International Relations (1966) online
  • Crawley, C.W. The Question of Greek Independence, 1821-1833 (1930). online
  • Gerolymatos, André. The Balkan Wars (2008).

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]