ইউক্রেন-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইউক্রেন-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক
মানচিত্র Indonesia এবং Ukraine অবস্থান নির্দেশ করছে

ইন্দোনেশিয়া

ইউক্রেন

ইউক্রেন-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং ইউক্রেন এর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ইন্দোনেশিয়ার স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। ইউক্রেনে অবস্থিত এই দূতাবাসের মাধ্যমেই, ইন্দোনেশিয়া, আর্মেনিয়া এবং জর্জিয়া সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক বিষয়াবলী এবং কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ইউক্রেনের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে। উভয় দেশই ক্রীড়া, পর্যটন, মহাকাশ প্রযুক্তি ও অনুসন্ধান, সামরিক খাত, ভারী শিল্প প্রভৃতি খাতে, নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এছাড়াও অর্থনীতি এবং বাণিজ্য খাতে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে নিজেদের সমন্বয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও দেশ দুটি একমত হয়েছে।[১][২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইউক্রেন পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯১ সালের ২৪ আগস্ট ইউক্রেনের পার্লামেন্ট একটি সাংবিধানিক প্রস্তাব অনুমোদন এবং গ্রহণ করে। যেই প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ইউক্রেনের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল। পরবর্তীতে, ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায় এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ মোট ১৫ টি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ইউক্রেন প্রতিষ্ঠার পর অতি সত্বর, ১৯৯১ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ইন্দোনেশিয়া ইউক্রেনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দান করে। তবে এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আরও কিছুদিন সময় লাগে। ১৯৯২ সালের ৬ জুন এই দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

পরে, ১৯৯৪ সালে কিয়েভে, ইন্দোনেশিয়া, তাদের দূতাবাস স্থাপন করে। এর ২ বছর পর ১৯৯৬ সালে, জাকার্তায়, ইউক্রেন নিজেদের দূতাবাস চালু করে।[২]

অর্থনীতি এবং বাণিজ্য[সম্পাদনা]

২০১১ সালে, এই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.২৭ বিলিয়ন (১২৭ কোটি) মার্কিন ডলারের। যা পরবর্তী বছর, ২০১২ সালে বেড়ে হয় ১.৩২ মিলিয়ন (১৩২ কোটি) মার্কিন ডলার। এই দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের ভারসাম্য ইউক্রেনের পক্ষে রয়েছে। ২০১২ সালে, ইউক্রেনে, ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি আয় ছিল, ৫৪৮.৯ মিলিয়ন (৫৪.৮৯ কোটি) মার্কিন ডলার। অপরদিকে, ইন্দোনেশিয়ায়, ইউক্রেনের রপ্তানি আয় ছিল ৭৭৪.১ মিলিয়ন (৭৭.৪১ কোটি) মার্কিন ডলার।[৩]

ইউক্রেনে, ইন্দোনেশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাম তেল, নিকেল, প্রাকৃতিক রাবার, কাগজ, কফি, চা, প্লাস্টিক, মশলা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, টেক্সটাইল, আসবাবপত্র প্রভৃতি। অপরদিকে, ইন্দোনেশিয়ায়, ইউক্রেনের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল, দুধ, চিনি, আটা, লৌহজাত পণ্য, অস্ত্র, গান পাউডার প্রভৃতি,[২] ইউক্রেনে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে, আসিয়ান জোটভুক্ত দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি আয় সর্বোচ্চ।[৩][৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. গাদি মাকিতান (২৬ জুন ২০১৩)। "Sergey Bubka Signs MoU for Ukraine, Indonesian Partnership"। টেম্পো। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৩ 
  2. বীরমল্লা আনজাইয়াহ (জুন ১১, ২০১২)। "Ukraine, RI celebrate 20 years of relations"। দ্যা জাকার্তা পোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৩ 
  3. "Trade Mission to Ukraine: A Promising Market Opportunity" (PDF)। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইন্দোনেশিয়া। ২৪ মে ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুলাই ২০১৩ 
  4. "Ukraine Eyes Indonesian Arms Market"। রিয়া নভোস্তি। ৯ নভেম্বর ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৩ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]