আসাদুজ্জামান খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আসাদুজ্জামান খান
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি
কাজের মেয়াদ
১৯৭৯ – ১৬ মে ১৯৮১
পূর্বসূরীকামারুজ্জামান
উত্তরসূরীশেখ হাসিনা
ময়মনসিংহ-২৬ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
৭ মার্চ ১৯৭৩ – ৬ নভেম্বর ১৯৭৫
পূর্বসূরীআসন শুরু
উত্তরসূরীআসন বিলুপ্ত
ময়মনসিংহ-১৮ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ – ২৪ মার্চ ১৯৮২
পূর্বসূরীমোস্তফা এম এ মতিন
উত্তরসূরীআসন বিলুপ্ত
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯১৬
কিশোরগঞ্জ
মৃত্যু২১ জানুয়ারি ১৯৯২
ঢাকা
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ

আসাদুজ্জামান খান (১৯১৬–২১ জানুয়ারি ১৯৯২) ছিলেন বাংলাদেশী আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি।[১][২][৩]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আসাদুজ্জামান খান ১৯১৬ সালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স (ইতিহাস), এমএ (ইতিহাস) এবং ল'ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৩৮-১৯৩৯ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি।[১][২]

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

আসাদুজ্জামান খান ১৯৪১ সালে বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস, বিচার বিভাগীয় শাখাতে যোগদান করেন। তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন।[১][২]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

আসাদুজ্জামান খান ১৬ মে ১৯৬৫ সালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর এলাকা থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ১১ জুন পরিষদে স্বতন্ত্র দল গঠন করে এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১২ অক্টোবর ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৪ মার্চ ১৯৬৯ সালে সংসদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।[১]

১৯৬৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৫ আসন থেকে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[১]

৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালে মুজিবনগরে অবস্থান করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ৭ মার্চ ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ময়মনসিংহ-২৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৪] তিনি ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ সাল থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ছিলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ সালে কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।[১][২]

২০ আগস্ট ১৯৭৫ সাল থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় বন্দর, নৌবাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ছিলেন।[১][২]

১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৫] ১৯৭৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আসাদুজ্জামান ২১ জানুয়ারি ১৯৯২ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।[১][২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "স্মরণ : আসাদুজ্জামান খান"দৈনিক নয়াদিগন্ত। ২১ জানুয়ারি ২০২০। ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩ 
  2. "খান, আসাদুজ্জামান"বাংলাপিডিয়া। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩ 
  3. কিশোরগঞ্জ ব্যুরো, এ টি এম নিজাম (৯ জানুয়ারি ২০১৯)। "স্বাধীনতার পর এই প্রথম 'মন্ত্রিশূন্য' কিশোরগঞ্জ"দৈনিক যুগান্তর। ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৩ 
  4. "১ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। 
  5. "২য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (পিডিএফ)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা।