বিষয়বস্তুতে চলুন

আল হাকাম (সংবাদপত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আল হাকাম
ধরনসাপ্তাহিক পত্রিকা
মালিকআহমদীয়া মুসলিম জামাত
প্রতিষ্ঠাতাশেখ ইয়াকুব আলী ইরফানি
প্রকাশকআল-শারিকাত আল-ইসলামিয়াহ
প্রতিষ্ঠাকাল অক্টোবর ১৮৯৭ (1897-10-08) (উর্দুতে)
প্রকাশনা স্থগিতজুলাই ১৯৪৩ (1943-07)
পুনঃপ্রতিষ্ঠাকাল২৩ মার্চ ২০১৮; ৮ বছর আগে (2018-03-23) (ইংরেজিতে)
শহরলন্ডন
দেশযুক্তরাজ্য
আইএসএসএন২৭৫৪-৭৩৮৮ (মুদ্রণ)
২৭৫৪-৭৩৯৬ (ওয়েব)
ওয়েবসাইটalhakam.org
ফ্রি অনলাইন আর্কাইভমুদ্রিত সংস্করণ

আল হাকাম (আরবি: الحكم, রোমানাইজড: al-ḥakam, IPA: [æl ħakam], আক্ষরিক অর্থে "বিচারক") হল একটি ইংরেজি ভাষার ইসলামী সংবাদপত্র যা আহমদিয়া মুসলিম জামাত দ্বারা প্রতি সপ্তাহে প্রকাশিত হয়।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

আল হাকাম ছিল আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রথম সংবাদপত্র এবং মুখপত্র।[][][] ত এটি মূলত ১৮৯৭ সালে [] কাদিয়ানের মির্জা গোলাম আহমদের একজন সঙ্গী শেখ ইয়াকুব আলী ইরফানি পত্রিকাটি প্রকাশ করেছিল। শেখ ইয়াকুব আলী ইরফান অমৃতসরে বসবাস করতেন। তিনি সেখানে কর্মরত সাংবাদিক ছিলেন। [][] আল হাকাম কীভাবে শুরু করেছিলেন সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন:

১৮৯৭ সালের আগস্টে, হেনরি মার্টিন ক্লার্ক মির্জা গুলাম আহমদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। আমি সেই মামলার ঘটনাগুলো "দ্বিতীয় জঙ্গে-মুকাদ্দাস" [দ্বিতীয় পবিত্র যুদ্ধ] শিরোনামে লিপিবদ্ধ করেছিলাম। তখনই আমি সম্প্রদায়ের একটি সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি যাতে প্রয়োজনীয় ঘোষণা দেওয়া যায় এবং রাজনৈতিক ও ধর্মতাত্ত্বিক অভিযোগের জবাব দেওয়া যায়।[][]

তাই তিনি উর্দুতে একটি সংবাদপত্র শুরু করার অনুমতি চেয়ে মির্জা গোলাম আহমদের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। মির্জা গোলাম আহমদ উত্তরে লিখেছেন:

"আমার এই কাজে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের সম্প্রদায়ের একটি সংবাদপত্রের প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র এবং আর্থিকভাবে এটি বহন করার ক্ষমতা নেই। যদি আপনি নিজের দক্ষতায় এটি শুরু করতে পারেন, তবে এগিয়ে যান। আল্লাহ এতে বরকত দিন।[][]

এভাবে শেখ ইয়াকুব আলী ইরফানি সাপ্তাহিক উর্দু [] আল হাকাম সংবাদপত্র শুরু করেন। এটির প্রথম সংখ্যা ১৮৯৭ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। ১৮৯৭ সালের শেষ পর্যন্ত এটি আমৃতসরের রিয়াজ-ই-হিন্দ প্রেসে মুদ্রিত হয়েছিল। [] এরপর এটি আহমদিয়া জামায়াতের সদর দফতর কাদিয়ানে স্থানান্তরিত হয়[] কিছু বিরতির পরও ১৯৪৩ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত হতে থাকে।[]

তাৎপর্য

[সম্পাদনা]
আল হাকাম (উর্দু) এর প্রথম সংখ্যা, তারিখ ৮ অক্টোবর ১৯৮৭।

আল হাকাম প্রকাশের আগে, আহমদিয়া মুসলিম জামাত সম্পর্কে সংবাদ শুধুমাত্র ভারতের বাইরের পত্রিকাগুলোতে আসত। এগুলো সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কিত ছিল না। তবে, মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত রেভ. ড. স্পেন্সার লাভান উল্লেখ করেছেন:

আল হাকামের সৃষ্টি তথ্যের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করেছিল। সে সময়ের পাঞ্জাবের সংবাদপত্রগুলোর জনমত গঠনে ভূমিকা সম্পর্কে এখন গবেষণা করা হচ্ছে। তবু আহমদিয়া প্রকাশনাগুলোর প্রতি সংখ্যায় সীমিত সংখ্যক কপি থাকার পরেও উর্দু পাঠকদের কাছে আহমদিয়া মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।[]

১৯৩৪ সালে, যখন আল হাকাম একটি বিরতির পর পুনরায় চালু হয়, তখন আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের দ্বিতীয় বিশ্বব্যাপী প্রধান মির্জা বশিরউদ্দিন মাহমুদ আহমদ একটি বার্তা লিখেছিলেন:

আল হাকাম সম্প্রদায়ের প্রথম সংবাদপত্র। এটি যে সেবা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মির্জা গোলাম আহমদের জীবনের শেষ বছরগুলোতে আল বদর পত্রিকা দিয়েছিল। তা অন্য কোনো সংবাদপত্র লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করলেও এই সেবা পারবে না। আল হাকাম কাগজ হিসেবে টিকে থাকুক বা না থাকুক, আমি বলতে চাই যে এর নাম চিরকাল বেঁচে থাকবে। এই সম্প্রদায়ের ইতিহাস উল্লেখ না করে সম্প্রদায়ের কোনও অসাধারণ কাজই সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কারণ এতে এই সম্প্রদায়ের ইতিহাস রয়েছে।[][১০]

আল হাকাম আহমদিয়া সম্প্রদায়ের প্রাথমিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাই মির্জা গোলাম আহমদ যেখানেই যেতেন বা কথা বলতেন, তা আল হাকামে লিপিবদ্ধ হতো। সম্প্রদায়ের পথিকৃৎদের অনেক নিবন্ধ প্রকাশিত হতো। যার মধ্যে মির্জা গোলাম আহমদের লেখা নিবন্ধও ছিল। ১৯০১ সালে, আল বদর সংবাদপত্রও এই দায়িত্ব গ্রহণ করে। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বার্তা প্রচারে ভূমিকা রাখতে শুরু করে।[]

বিষয়

[সম্পাদনা]

আল হাকাম আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বব্যাপী প্রধান মির্জা গোলাম আহমদের সাপ্তাহিক খুতবার খুতবার ইংরেজি অনুবাদ ছাপে । "প্রতিদিনের সমস্যার উত্তর" নামে আরেকটি বিভাগ রয়েছে। এখানে মির্জা গোলাম আহমদ বিভিন্ন উপলক্ষে তার লিখিত চিঠিপত্রে এবং এমটিএ ইন্টারন্যাশনাল অনুষ্ঠানের সময় প্রদত্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হত।

আল হাকামে আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস সংরক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। "১০০ বছর আগে", "এই সপ্তাহে ইতিহাসে" এবং "আর্কাইভ থেকে" এর মতো নিবন্ধ নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

এছাড়াও আল হাকাম বিশ্বজুড়ে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের খবর, বইয়ের পর্যালোচনা, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান বিষয়ে সম্পাদকীয়, আর ইসলাম ও আহমদীয়া সম্প্রদায়ের ধর্মতত্ত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Geaves, Ron (২০১৮)। Islam and Britain : Muslim mission in an age of empire। Bloomsbury। পৃ. ৩৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৭৪২-৭১৭৩-৮ওসিএলসি 948335929
  2. 1 2 Barrier, N. Gerald; Wallace, Paul (১৯৭০)। The Punjab Press 1880-1905। South Asia series (East Lansing, Mich.) occasional paper no. 14. - Research series on the Punjab; no. 2. (English ভাষায়)। University of Michigan। পৃ. ১৯–২০।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  3. "Local and Provincial"। The Tribune। ১৬ আগস্ট ১৯০৪। পৃ. ৫।
  4. 1 2 3 4 Shahid, Dost Mohammad (২০০৭)। Taareekh-e-Ahmadiyyat (পিডিএফ) (Urdu ভাষায়)। Nazarat Nashr-o-Ishaat Qadian - 143516। পৃ. ৬৪১–৬৪৩।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  5. Irfani, Sheikh Yaqub Ali (৬ মে ১৯৫৮)। "Al Fazl" (পিডিএফ): ৩। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  6. Irfani, Sheikh Yaqub Ali (১৯৫৩)। Hayat-e-Ahmad (Urdu ভাষায়)। Intizami Press of Hyderabad Deccan। পৃ. ৫৮৯।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  7. Wilson, Samuel Graham (১৯১৬)। Modern Movements among Moslems। Fleming H. Revell Company। পৃ. ১৩৭
  8. 1 2 3 Lavan, Dr Spencer (১৯৭০)। The Ahmadiyah movement: Its Nature and its Role in the early 19th Century in India (English ভাষায়)। McGill University। পৃ. ১০০, ৩৮৬–৩৮৭।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  9. 1 2 "The History of Al Hakam"Al Hakam (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ৮ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২১
  10. Hakam, Al (১৪ জানুয়ারি ১৯৩৪)। "Al Hakam": ৫ (columns ২-৩)। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]