বিষয়বস্তুতে চলুন

আল-মুস্তানজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আল-মুস্তানজিদ
المستنجد بالله
খলিফা
আমিরুল মুমিনিন
আল-মুস্তানজিদের স্বর্ণের দিনার, ৫৫৭ হিজরি
আব্বাসীয় খিলাফতের ৩২তম খলিফা
বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা
রাজত্ব১২ মার্চ ১১৬০ – ১৮ ডিসেম্বর ১১৭০
পূর্বসূরিআল-মুক্তাফি
উত্তরসূরিআল-মুস্তাদি
জন্ম১১২৪
বাগদাদ, আব্বাসীয় খিলাফত
মৃত্যু১৮ ডিসেম্বর ১১৭০ (বয়স ৪৬)
বাগদাদ, আব্বাসীয় খিলাফত
সমাধি
বাগদাদ
সহধর্মিণীজুবায়দাহ বিনতে আবু নাসর বিন আল-মুস্তাজহির[]
গাদদা
বংশধরআল-মুস্তাদি
পূর্ণ নাম
আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুক্তাফি আল-মুস্তানজিদ বিল্লাহ
রাজবংশআব্বাসীয়
পিতাআল-মুক্তাফি
মাতাথাউস
ধর্মসুন্নি ইসলাম

আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুক্তাফি (আরবি: أبو المظفّر يوسف بن محمد المقتفي; ১১২৪ – ২০ ডিসেম্বর ১১৭০) তার রাজকীয় নাম আল-মুস্তানজিদ বিল্লাহ (আরবি: المستنجد بالله) নামেই অধিক পরিচিত। তিনি ১১৬০ থেকে ১১৭০ সাল পর্যন্ত বাগদাদে আব্বাসীয় খলিফা ছিলেন। তিনি পূর্ববর্তী খলিফা আল-মুকতাফির পুত্র ছিলেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

আল-মুস্তানজিদ ১১২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খলিফা আল-মুকতাফির পুত্র ছিলেন এবং তার মা ছিলেন থাউস নামক একজন উম্মু ওয়ালাদ (দাসী মাতা)। তার পূর্ণ নাম ছিল ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুক্তাফি এবং তার কুনিয়া ছিল আবু আল-মুজাফফর। ইউসুফ যখন তরুণ রাজকুমার ছিলেন, তখন ১১৩৬ সালে তার পিতা খলিফা হন। তার পিতা ১১৬০ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় চব্বিশ বছর শাসন করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি তার পিতার নীতিগুলো অব্যাহত রাখেন এবং আউন আল-দ্বীন ইবনে হুবায়রা-কে তার উজির হিসেবে বহাল রাখেন। আউন আল-দ্বীন এর আগে তার পিতার উজির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইবনে হুবায়রার[] কার্যকাল আব্বাসীয় দরবারে সেলজুকদের প্রভাবের চূড়ান্ত পতনের সূচনা করে (দ্রষ্টব্য: আব্বাসীয়-সেলজুক যুদ্ধ) এবং বাগদাদে হানবালি শিক্ষার প্রসার ঘটায়। নূর আদ-দ্বীন জঙ্গি কর্তৃক ফাতিমীয় মিশর বিজয়ের সাথেও ইবনে হুবায়রা জড়িত ছিলেন।[]

আর্তুকীয় নাজম আল-দ্বীন আলপি-র দিরহাম, সম্ভবত মারদিনে মুদ্রিত, যেখানে আল-মুস্তানজিদের নাম রয়েছে।

আল-মুক্তাফির অন্যতম স্ত্রী তথা আল-মুস্তানজিদের সৎমা চেয়েছিলেন তার নিজের ছেলে যেন খলিফা হন। তিনি অনেক আমিরকে তার পক্ষে নিয়ে আসেন এবং নতুন খলিফাকে হত্যার জন্য খঞ্জরধারী দাসী-বালিকাদের সশস্ত্র করেন। আল-মুস্তানজিদ এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারেন এবং বিদ্রোহী পুত্র ও মাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন।

এই সময়েই ২৬০ বছর স্থায়ী হওয়ার পর ফাতেমীয় রাজবংশের অবসান ঘটে। বিজয়ী সালাহউদ্দিন আইয়ুবি নিজে একজন গোঁড়া সুন্নি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী জনগণের মাঝে শুরুতেই সুন্নি মতবাদ প্রচার করেননি। তবে শীঘ্রই তিনি তা করতে সক্ষম হন; আর এভাবেই সিরিয়া থেকে শুরু করে সমগ্র মিশর এবং এর আশপাশের অঞ্চলে আব্বাসীয়দের আধ্যাত্মিক আধিপত্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই খলিফা সম্পর্কে আর বিশেষ কিছু বলার নেই, তিনি উজির ও দরবার পরিবেষ্টিত হয়ে অনেকটা স্বাধীন অবস্থানেই ছিলেন। তবে তার কাছে কেবল স্থানীয় ছোটখাটো অভিযানের জন্য যথেষ্ট একটি ক্ষুদ্র সামরিক বাহিনী ছিল।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Rudainy, Al; Saud, Reem (১২ জুন, ২০১৫)। "The Role of Women in the Būyid and Saljūq Periods of the Abbasid Caliphate (339-447/9501055&447-547/1055-1152): The Case of Iraq"। University of Exeter। পৃ. ৮৭–৮৮, ১২৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |access-date= এবং |date= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. 1 2 Makdisi (1971), pp. 802–803
আল-মুস্তানজিদ
জন্ম: ১১২৪ মৃত্যু: ২০ ডিসেম্বর ১১৭০
সুন্নি ইসলাম পদবীসমূহ
পূর্বসূরী
আল-মুক্তাফি
ইসলামের খলিফা
আব্বাসীয় খলিফা

১২ মার্চ ১১৬০ – ২০ ডিসেম্বর ১১৭০
উত্তরসূরী
আল-মুস্তাদি