আল-মুন্দির বিন সাঈদ আল-বালুতি
মুন্দির বিন সাঈদ আল-বালুতি | |
|---|---|
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ৮৮৭ |
| মৃত্যু | ১৫ নভেম্বর ৯৬৬ |
| ধর্ম | ইসলাম |
| জাতিসত্তা | বার্বার |
| অঞ্চল | আইবেরিয়ান উপদ্বীপ |
| আখ্যা | সুন্নি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | জাহিরি |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | আতহারী |
| প্রধান আগ্রহ | ইসলামী আইন |
| কাজ | বিচারক |
| মুসলিম নেতা | |
যার দ্বারা প্রভাবিত | |
যাদের প্রভাবিত করেন | |
আবু আল-হাকাম মুন্দির ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদে আর-রহমান আল-বল্লুতি (আরবি: أبو الحكم المنذر بن سعيد بن عبدالله بن عبدالرحمن البلوطي) (৮৮৭ – ১৫ নভেম্বর ৯৬৬) ছিলেন আল-আন্দালুসের একজন মুসলিম আইন বিশেষজ্ঞ এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তা। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি একজন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ, ভাষাবিদ, কবি এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবেও বিবেচিত হন।[১][২][৩]
জীবনী
[সম্পাদনা]জন্ম ও বংশ
[সম্পাদনা]বালুতির সঠিক জন্ম তারিখ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, ঐতিহাসিকরা ৮৮৬ এবং ৮৮৭ উভয় বছরই জন্মতারিখ উল্লেখ করেছেন। তিনি আন্দালুসিয়ার কর্ডোবার উত্তর-পশ্চিমে কর্ডোবা প্রদেশের পার্বত্য অঞ্চলের লস পেদ্রোচেসে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন।[৪] তবে বালুতির পরিবার মূলত উত্তর আফ্রিকার বারবার বংশোদ্ভূত ছিল।[৪][৫][৬] তিনি ধর্মীয়ভাবে সক্রিয় এক পরিবার থেকে এসেছিলেন, এবং তার বোন একজন মুসলিম মহিলা হিসেবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, যিনি রিবাত নামে পরিচিত তার নিজস্ব মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানে তিনি এবং অন্যান্য মহিলারা কেবল ধার্মিকতা এবং ধর্মীয় পাণ্ডিত্যের জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করতেন।[৭]
শিক্ষা
[সম্পাদনা]বালুতি প্রথমে আন্দালুসের রাজধানীতে ইসলামিক শিক্ষা অধ্যয়ন করেন, পরে শিক্ষার জন্য এবং মক্কায় মুসলিম হজ্জ পালনের জন্য পূর্ব ভ্রমণ করেন, যা তিনি ৯২১ সালে সম্পন্ন করেন।[৪] আরবি ব্যাকরণ ও সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য কায়রো ভ্রমণের আগে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন শিক্ষকের অধীনে পড়াশোনা করেছিলেন।[২] পরবর্তীতে ভাষাবিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জনের মাধ্যমে তিনি কবি হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
মৃত্যু
[সম্পাদনা]১৯৬৬ সালের ১৫ নভেম্বর নিজের শহর কর্ডোবায় বালুতি মারা যান।[২][৪] তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।[৮]
বিচারিক কর্মজীবন
[সম্পাদনা]প্রধান বিচারপতি হিসেবে
[সম্পাদনা]প্রাথমিকভাবে বালুতি মেরিদার প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে দ্বিতীয় আল-হাকামের শাসনামলে তার মৃত্যু পর্যন্ত কর্ডোবার উমাইয়া খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১][৯][১০]
বাইজেন্টাইন - আন্দালুসীয় সম্পর্কের উত্থানের সময় সম্রাট সপ্তম কনস্টানটাইন মুসলিম কর্মকর্তাদের সাথে একের পর এক খ্রিস্টান শাসকদের সাথে বৈঠকে যোগ দেন।[১১] এই বৈঠকগুলির মধ্যে একটিতে বালুতি তৃতীয় আবদুর রহমানের প্রাসাদে বাইজেন্টাইন দূতদের একটি দলের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে একটি বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি খলিফা এবং স্পেনের জনগণের শাসকের আনুগত্য করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে তার অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাকে খিলাফতের শীর্ষ বিচারিক কর্মকর্তার পদে নিযুক্ত করা হয়।[১২] বালুতির ভাষণ এখনও তৎকালীন খলিফার দরবার এবং প্রাসাদের সঠিক বর্ণনা হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি
[সম্পাদনা]যদিও তিনি উমাইয়া রাজবংশের পছন্দের মালিকি আইনশাস্ত্র মেনে চলতেন না, তবুও বালুতি তার গোধূলির বছরগুলিতে কর্ডোবার প্রধান বিচারক ছিলেন। ধারণা করা হয় যে তিনি তার জাহিরীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিজের এবং তার পরিবারের কাছেই রেখেছিলেন। তিনি সেগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি।[২][৮][১০][১৩] বিচারকের বেঞ্চে তার পদের পাশাপাশি দ্বিতীয় আল-হাকাম তাকে অধ্যাপক হিসেবেও নিযুক্ত করেছিলেন।[১] ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও বালুতির নিয়োগকে ইসলামী পণ্ডিত উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়াট বিবেচনা করেছিলেন যে, উমাইয়া অবশিষ্টাংশ মালিকীয় মাযহাবের পক্ষে থাকলেও তারা একে সম্পূর্ণ একচেটিয়া অধিকার দিতে রাজি ছিল না।
যদিও বালুতি তার আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি নিজের মধ্যেই রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তবুও নৈতিকতা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে তিনি এতটা নরম স্বভাবের ছিলেন না। যখন তৃতীয় আব্দুর রহমান তার প্রাসাদের মদিনা আযাহারার ছাদ সোনা ও রূপা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তখন বালুতির পক্ষে এই অপচয় গ্রহণ করা অত্যধিক ছিল, যার ফলে তিনি খলিফাকে থামতে উৎসাহিত করেছিলেন; এমনকি তিনি এও বলেছিলেন যে শয়তান খলিফাকে এই অতিরিক্ত ব্যবহারে প্রলুব্ধ করছে।[১৪]
উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]ইবনে খালদুন বালুতিকে বারবার জাতির সেই ছয় ব্যক্তির একজন বলে মনে করতেন যারা ইতিহাস জুড়ে ইসলামী শিক্ষার উপর তাদের গভীর জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
ধর্মমত
[সম্পাদনা]বালুতির বিরুদ্ধে মুতাজিলদের মতবাদ মেনে চলার অভিযোগ আনা হয়। এটি ইসলামের এমন একটি সম্প্রদায় যা সেই সময়ে বেশিরভাগই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ইতিহাসবিদ মারিবেল ফিয়েরো যুক্তি দিয়েছেন যে, খ্রিস্টান-মুসলিম সংলাপ সম্পর্কে বালুতির বিতর্কের কারণে এটি সম্ভব নয়।[১৫] একজন প্রাক্তন খ্রিস্টানের ধর্মান্তর দলিল পর্যালোচনা করার সময় বালুতি মুসলিম বিশ্বাসের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ এই শব্দগুলি ছিল: " মুহাম্মদ ঈশ্বরের বার্তাবাহক, এবং যীশু ঈশ্বরের বার্তাবাহক এবং তাঁর বাক্য।" ব্যাক্যাংশটি কুরআনের একটি আয়াতের অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি।[১৬]
বালুতি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যদি যীশু ঈশ্বরের বাক্য হন, কিন্তু একজন নশ্বর ও সৃষ্ট সত্তা হন, তাহলে ঈশ্বরের বাক্য। অর্থাৎ কুরআনও চিরন্তন নয় বরং সৃষ্টি করা। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, একজন বাইজেন্টাইন সম্রাট, সম্ভবত থিওফিলাস আব্বাসীয় খলিফা আল-মা'মুনকে যীশুকে ঈশ্বরের বাক্য বলে বিশ্বাস করার জন্য এবং কুরআনকে সৃষ্টি করা হয়নি বলে বিশ্বাস করার জন্য তিরস্কার করেছিলেন, তবুও তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে যীশু একজন নশ্বর মানুষ ছিলেন।[১৫] সুতরাং, যদি ব্যক্তি তাদের বিশ্বাসের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপরোক্ত আয়াতটি ব্যবহার করতে চান, তাহলে বালুতি ধর্মান্তর নথি অনুমোদন করতে ইচ্ছুক হওয়ার আগে তাদের প্রসঙ্গের খাতিরে আয়াতটি সম্পূর্ণরূপে উদ্ধৃত করতে হবে।[১৭] কুরআন চিরন্তন নয় বরং সৃষ্টি করা হয়েছে এই বিশ্বাসকে মুতাজিলপন্থীরা সমর্থন করেছিলেন এবং আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো গ্রন্থকাররা এর বিরোধিতা করেছিলেন। স্পেনে খ্রিস্টানদের ইসলামে ধর্মান্তরের পরবর্তী নথিগুলি বালুতি কর্তৃক প্রস্তাবিত একই সূত্রে লেখা হয়েছিল, যা ইঙ্গিত করে যে তার যুক্তি সরকারীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।[১৫]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 Mishal Fahm al-Sulami, "The West and Islam: Western liberal versus the system of shura," pg. 214. Routledge
- 1 2 3 4 Michael G. Carter, "The Andalusian Grammarians: Are they Different?" Taken from In the Shadow of Arabic: The Centrality of Language to Arab Culture, Pg. 34. Ed. Bilal Orfali. Leiden: Brill Publishers, 2011. Print. আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪২১৫৩৭৫
- ↑ Pellat, Charles (১৯৯৩)। "(al-)Mund̲h̲ir b. Saʿīd"। Bearman, P.; Bianquis, Th.; Bosworth, C.E.; van Donzel, E.; Heinrichs, W.P. (সম্পাদকগণ)। Encyclopaedia of Islam। খণ্ড VII (2nd সংস্করণ)। Brill Publishers। পৃ. ৫৬৯। আইএসবিএন ৯০০৪০৯৪১৯৯।
- 1 2 3 4 Encyclopaedia of Islam।
{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}:|title=অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য) - ↑ Jayyusi, Salma Khadra; Marín, Manuela (১৯৯২)। The Legacy of Muslim Spain। Brill Publishers। পৃ. ৬৯১। আইএসবিএন ৯০০৪০৯৫৯৯৩।
- ↑ Thomas, David; Mallett, Alexander (২০১০)। Christian-Muslim Relations. A Bibliographical History. Volume 2 (900-1050)। Brill publishers। পৃ. ৩৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪১৬৯৭৬০।
- ↑ Linda Gale Jones and Madeleine Cosman, "Handbook to Life in the Medieval World," pg. 154
- 1 2 William Montgomery Watt and Pierre Cachi, "History of Islamic Spain," pg. 66. Edinburgh University Press.
- ↑ Maribel Fierro, "Madinat al-Zahra, el paraíso y los fatimíes" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৭ জুলাই ২০২৪ তারিখে, Al-Qantara XXV, 2 (2004) 299-327
- 1 2 W. Montgomery Watt and Pierre Chachia, A History of Islamic Spain, pg. 66. Edinburgh: Edinburgh University Press, 2001.
- ↑ Muhammad Abdullah Enan, "Decisive Moments in the History of Islam," pg. 143-144. Lahore: The Lion Press, 1943. 2nd Edition.
- ↑ Janina M. Safran, "The Second Umayyad Caliphate: The Articulation of Caliphal Legitimacy in Al-Andalus," pg. 72-73. Harvard University Press.
- ↑ Mohammad Sharif Khan and Mohammad Anwar Saleem, Muslim Philosophy And Philosophers, pg. 35. New Delhi: Ashish Publishing House, 1994.
- ↑ Robert Hillenbrand, "The Ornament of the World: Medieval Cordoba as a Cultural Center." Taken from The Legacy of Muslim Spain, pg. 126. Ed. Salma Jayyusi. Leiden: Brill Publishers, 1994.
- 1 2 3 Alexander Mallett and David Thomas. "Christian-Muslim Relations. A Bibliographical History. Volume 2 (900-1050)," pg. 361. Brill Publishers.
- ↑ Qur'an, [কুরআন ৪:১৭১]
- ↑ Maribel Fierro, "Risala, 'Letter'." Included in the bibliographical study of Mallett and Thomas.