আল-জাউনি স্কুল গণহত্যা (সেপ্টেম্বর ২০২৪)
| আল-জাউনি স্কুল গণহত্যা (সেপ্টেম্বর ২০২৪) | |
|---|---|
| স্থান | আল-জাউনি স্কুল, নুসাইরাত ক্যাম্প, গাজা স্ট্রিপ |
| তারিখ | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ (ফিলিস্তিন সময়) |
| লক্ষ্য | আল-জাউনি স্কুলের আশেপাশের এলাকা |
| হামলার ধরন | বিমান হামলা |
| নিহত | ১৮ (ভুক্তভোগীদের তালিকা) |
| আহত | কয়েক ডজন |
| অভিযুক্ত | ইসরাইলি বিমান বাহিনী |
আল-জাউনি স্কুল গণহত্যা হলো ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের প্রাক্কালে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত একটি গণহত্যা। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী মধ্য গাজা উপত্যকার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত আল-জাউনি স্কুলের আশেপাশে যুদ্ধবিমান থেকে অত্যন্ত বিস্ফোরক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমাবর্ষণ করার মাধ্যমে এ গণহত্যা চালায়। [১] এই গণহত্যার ফলে ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। আরও কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি আহত হন এবং আল-জাউনি স্কুলের বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পূর্ববর্তী অন্যান্য গণহত্যার মতো এই গণহত্যার পরেও ইসরায়েল দাবি করেছিল যে,এই গণহত্যার লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাস সদস্যরা। কিন্তু, হামাস এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। এখানে লক্ষণীয় যে, এই গণহত্যার শিকারদের বেশিরভাগই ছিলেন নারী ও শিশু। নিকট প্রাচ্যে ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউ) এ কর্মরত ছয়জন পুরুষ কর্মীও এই গণহত্যায় নিহত হয়েছিলেন। [২]
পটভূমি
[সম্পাদনা]২০২৩-২৪ সালে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি উপদলগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়, ইসরায়েল বিভিন্ন গভর্নরেট এবং অঞ্চলে শত শত গণহত্যা চালিয়েছিল। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র অনুসারে, এসকল গণহত্যার ফলে নারী, শিশু এবং বয়স্কদের সহ বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হবার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বিমান হামলার মধ্যে পার্থক্য করেনি। তারা গাজা স্ট্রিপের প্রতিটি স্থানে আক্রমণ করেছে যার ফলে হাসপাতাল, স্কুল এবং বাড়িঘর সহ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষয় ক্ষতির হয়েছে। [৩]
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রাইটস ওয়াচ এর মতো বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অত্যধিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।তারা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই আক্রমণগুলি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য। [৪]
গণহত্যা
[সম্পাদনা]২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে, ইসরায়েলি দখলদার বিমান নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের (মধ্য গাজা উপত্যকার) আল-জাউনি স্কুলের আশেপাশে আক্রমণ করে। এটি ছিল আল-জাউনি স্কুলের আশেপাশে করা পঞ্চম আক্রমণ, কিন্তু এই অভিযানটি অনেক সহিংস এবং তীব্র ছিল। [৫] এই স্কুলটিতে শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ বাস করত যারা ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তবুও এর আশেপাশের এলাকা সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এই গণহত্যার ফলে প্রাথমিকভাবে ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হবার কথা জানা যায়।পরবর্তীতে,প্রতিরক্ষা দল ধ্বংসস্তূপের নিচে মৃতদেহ অনুসন্ধান চালিয়ে লাশ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা ১৭ জনে উন্নীত হয়। [৬]
ক্ষতিগ্রস্তরা
[সম্পাদনা]- আল-জাউনি স্কুল গণহত্যায় নিহতদের তালিকা ঃ[৭]
- মাহমুদ আশরাফ আকলি
- ইয়াসির ইব্রাহিম আবু শারার
- শাদিয়া মোয়ামেন সালমি
- আবু আদনান আবু জায়েদ
- ওবাইদা হামদি আলী
- আইসার কারদায়া
- নায়েফ আল-হাত্তাব
- ইয়াদ ইয়াকুব মাতার
- হানি মাহমুদ মাতার
- হোসাম হাসান আবু হাম্মাদ
- বাসাম মাজেদ শাহীন
- মুহাম্মদ ইসা আবু আল-আমির
- ওমর আল-জুদাইলি
- শরিফ সালেম আবু আসিম
- আকরাম সালেহ আল-ঘালিদি
- আহমেদ রায়েদ তাবাশাহ
- আরও অজানা অনেকে
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]স্থানীয়ভাবে
[সম্পাদনা]- ইসরায়েল
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ গণহত্যার কয়েক ঘন্টা পরে একটি বিবৃতি জারি করে দাবি করে যে, নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-জাউনি স্কুলে একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে কর্মরত জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলাটি করা হয়েছিল।তারা আরও বলে যে "এই হামলায় নয়জন হামাস জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়েছে।" [৮]
- ফিলিস্তিন
আন্তর্জাতিকভাবে
[সম্পাদনা]এই অনুচ্ছেদে এই গণহত্যার প্রতি আরব ও পশ্চিমা দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতিক্রিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের প্রতিটিই গণহত্যার প্রতি তাদের একই স্বাভাবিক এবং পুনরাবৃত্তিমূলক প্রতিক্রিয়া:[৯][১০]
- দেশগুলি হলঃ
আয়ারল্যান্ড: আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন, যার ফলে ইউএনআরডব্লিউএর ছয় কর্মী নিহত হয়েছেন।[১১]
কাতার: কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নুসাইরাত শিবিরে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের আবাসস্থল আল-জাউনি স্কুলে ইসরায়েলি দখলদারদের পুনর্বার বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আরও বলেছে যে "এই হত্যাকাণ্ড দখলদারদের অপরাধমূলক মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতিমালার প্রতি তাদের উপহাসের সর্বশেষ প্রমাণ।"[১২]
জর্দান: জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত একটি স্কুলে ইসরায়েলের বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছে, যার ফলে ইউএনআরডব্লিউ-এর ছয়জন কর্মী সহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।[১৩]
জার্মানি:জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজায় ছয়জন ইউএনআরডব্লিউ কর্মীর হত্যাকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছে এবং জাতিসংঘের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।[১৪]
ইউরোপীয় ইউনিয়ন:নুসাইরাতের একটি স্কুলে পঞ্চমবারের মতো ইসরায়েলি বিমান হামলার পর জোসেপ বোরেল "ছয়জন ইউএনআরডব্লিউএ কর্মীর হত্যার ঘটনায়" তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতি, বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রতি অবজ্ঞা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অগ্রহণযোগ্য।[১৪]
- আন্তর্জাতিক সংস্থা
- ইউনিসেফ : আল-জুওয়ানি স্কুলে বিমান হামলায় ছয় ইউএনআরডব্লিউ সহকর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।আমরা যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছি।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "مجزرة جديدة في قصف مدرسة تؤوي نازحين والأونروا تنعى 6 من موظفيها"। الجزيرة نت (আরবি ভাষায়)। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ Undefined, Undefined (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। ""مجزرة الجاعوني".. الاحتلال يعترف بارتكابها زاعماً استهدافه عناصر من حماس"। "مجزرة الجاعوني".. الاحتلال يعترف بارتكابها زاعماً استهدافه عناصر من حماس (আরবি ভাষায়)। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "إسرائيل دمرت أكثر من 200 موقع أثري وتاريخي.. ماذا بقى من تراث غزة؟"। الجزيرة نت (আরবি ভাষায়)। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "إسرائيل/الأرض الفلسطينية المحتلة: يجب التحقيق في ارتكاب الجيش الإسرائيلي جريمة الحرب المتمثلة في التدمير غير المبرر في قطاع غزة"। منظمة العفو الدولية (আরবি ভাষায়)। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "18 شهيدا في مجزرة مدرسة الجاعوني التابعة للأونروا بمخيم النصيرات"। التلفزيون العربي (আরবি ভাষায়)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "أقرّت بارتكابها "مجزرة الجاعوني".. إسرائيل تدعي استهداف عناصر من حماس"। Anadolu Ajansı (আরবি ভাষায়)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "17 شهيدًا بقصف صهيوني استهدف مدرسة في مخيم النصيرات"। seraj.tv (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ نت, الميادين (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "مجزرة إسرائيلية جديدة تستهدف النازحين في مدرسة "الجاعوني" في مخيم النصيرات"। شبكة الميادين (আরবি ভাষায়)। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ نوفل, محمود (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "بينهم موظفون في الأونروا.. ارتفاع ضحايا مجزرة مدرسة الجاعوني إلى 18"। صدى البلد (আরবি ভাষায়)। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "الاحتلال يرتكب مجزرة بمدرسة الجاعوني في النصيرات"। جريدة الراية (আরবি ভাষায়)। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ McCurry, Cate (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "Irish premier condemns Israeli attack on aid workers"। Evening Standard (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "قطر تدين قصف الاحتلال مدرسة تؤوي نازحين في غزة"। الخليج أون لاين। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "الأردن يدين قصف الاحتلال مدرسة تابعة لـ "أونروا" بمخيم النصيرات"। دنيا الوطن (আরবি ভাষায়)। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- 1 2 Graham-Harrison, Emma (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। "Six UN aid workers among 18 killed in Israeli strike on Gaza school"। The Guardian (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0261-3077। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪।