আলীরেজা আরাফি
নিবন্ধটি এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে যিনি বর্তমানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সাথে সম্পৃক্ত। সময়ের সাথে সাথে তথ্যসমূহ তাই দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। (মার্চ ২০২৬) |
আলীরেজা আরাফি | |
|---|---|
علی رضا اعرافی | |
২০২০ সালে আরাফি | |
| অভিভাবক পরিষদের সদস্য | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ১৫ জুলাই ২০১৯ | |
| নিয়োগদাতা | আলী খামেনেয়ী |
| পূর্বসূরী | মুহাম্মাদ মোমেন |
| বিশেষজ্ঞদের সমাবেশের সদস্য | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ৮ মার্চ ২০২২ | |
| নির্বাচনী এলাকা | তেহরন প্রদেশ |
| সংখ্যাগরিষ্ঠ | ১,২৯৩,০৭২ |
| ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি সমূহের প্রধান | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ২০১৬ | |
| নিয়োগদাতা | আলী খামেনেয়ী |
| কোমের জুমার নামাজের ইমাম | |
দায়িত্বাধীন | |
| অধিকৃত কার্যালয় ২০১৫ | |
| নিয়োগদাতা | আলী খামেনেয়ী |
| আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর | |
| কাজের মেয়াদ ২০০৮ – ২০১৮ | |
| উত্তরসূরী | আলী আব্বাসি |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৯৫৯ (বয়স ৬৬–৬৭) মেবোদ, ইরান |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| ধর্ম | ইসলাম |
| আখ্যা | ইসনা আশারিয়া |
| ব্যবহারশাস্ত্র | জাফরি |
| ধর্মীয় মতবিশ্বাস | উসুলি |
আলীরেজা আরাফি[ক] (জন্ম ১৯৫৯) হলেন একজন ইরানি শিয়া ধর্মগুরু এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ২০১৯ সাল থেকে অভিভাবক পরিষদের সদস্য এবং ২০২২ সাল থেকে বিশেষজ্ঞদের সমাবেশের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলী খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ডের পর, তিনি বর্তমানে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনী-এজেইর সাথে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন। আরাফি ২০১৬ সাল থেকে ইরানের ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি সমূহের প্রধান এবং ২০১৫ সাল থেকে কোমের জুমার নামাজের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ছিলেন।[১][২]
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]আলিরেজা আরাফি ১৯৫৯ সালে ইয়াজদের মেবোদ শহরে এক পারসিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] বলা হয়ে থাকে যে, উনবিংশ শতাব্দীতে তার পূর্বপুরুষরা জরাথুস্ট্রবাদ থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন।[৪] তার পিতা আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আল-আরাফি রুহুল্লাহ খোমেইনীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে প্রচলিত আছে; তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি একটি অতিরঞ্জিত তথ্য হতে পারে।[৪]
তিনি কোমে তার প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। একই সাথে তিনি তার প্রাথমিক ও ধর্মতাত্ত্বিক পাঠ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চতর ধর্মতাত্ত্বিক কোর্সে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষা শেখেন। এছাড়া তিনি গণিত ও দর্শনশাস্ত্রেও অধ্যয়ন করেন।[৫]
শিক্ষকগণ
[সম্পাদনা]তার উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণ হলেন:[৪]
রেকর্ড ও দায়িত্বসমূহ
[সম্পাদনা]- আন্তর্জাতিক ইসলামি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সভাপতি এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য
- বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি
- ইমাম খোমেইনি ইনস্টিটিউটের শিক্ষা বিভাগ
- কোম সেমিনারির গবেষণা পরিষদ
- মেবোদ শহরের জুমার ইমাম
- সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য
- ইরানের সেমিনারি প্রধান
- আল-মোস্তফা ইনস্টিটিউটের প্রধান
আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়
[সম্পাদনা]২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আরাফি আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ছিলেন। এটি একটি ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র যার লক্ষ্য হলো "ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আদর্শ প্রচার" এবং "শিয়া ইসলামের প্রসার" ঘটানো। আরাফি দাবি করেন যে, আল-মোস্তফা ইনস্টিটিউটে আট বছরে তারা ৫ কোটি মানুষকে শিয়া ধর্মে দীক্ষিত করেছেন; এই দাবিটি অনেক বিশেষজ্ঞের কাছেই "অবিশ্বাস্য এবং অর্জন করা অসম্ভব" বলে বিবেচিত হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ আরাফি জানান যে, প্রায় ৪০,০০০ অ-ইরানি ধর্মতত্ত্বের শিক্ষার্থী ইরানে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং বিগত বছরগুলোতে আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও প্রায় ৮০,০০০ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।[৬]
ভাবাদর্শ
[সম্পাদনা]আরাফি ইসলামকে, বিশেষ করে শিয়া ইসলামকে একটি বিস্তৃত বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সভ্যতামূলক কাঠামো হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা আধুনিক পশ্চিমা দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারার জবাব দিতে সক্ষম। বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি পশ্চিমা আধুনিকতার নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমাবদ্ধতাগুলোর ওপর জোর দেন, যার মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, উদারতাবাদ এবং বস্তুবাদ অন্তর্ভুক্ত। তিনি যুক্তি দেন যে, ইসলামি পাণ্ডিত্য ও শিক্ষা জগত এমন একটি বিকল্প জ্ঞানতত্ত্ব এবং সামাজিক কাঠামো প্রদান করে যা ওহি এবং ধর্মীয় কর্তৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া তিনি অন্যান্য ধর্মের, বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মের কঠোর সমালোচনা করেন।[৭] বাধ্যতামূলক হিজাবের মতো সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোতে আরাফিকে খামেনেয়ীর চেয়েও বেশি কঠোর হিসেবে দেখা হয় এবং তিনি শিয়া ইসলামি আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের একজন সমর্থক।[৮]
খামেনেয়ীর হত্যাকাণ্ডের পর, আরাফি এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, খামেনেয়ী তার মৃত্যুর আগে যে পরিকল্পনা করে গিয়েছিলেন যুদ্ধটি সেই অনুযায়ী চলবে; যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরান পুরো পশ্চিম এশিয়া জুড়ে আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, যার উদ্দেশ্য হলো উপসাগরীয় প্রতিবেশীদেরকে ইরানের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানাতে বাধ্য করা।[৯]
প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ
[সম্পাদনা]ইসলামি আইনশাস্ত্র এবং দর্শনে পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে মুজতাহিদ পদমর্যাদা অর্জন করায়, আরাফি এই বিষয়গুলোর ওপর ২০টিরও বেশি বই ও নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন।[১০]
টীকা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ biographyha। Biography of Alireza Arafi। ১৯ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ Reals, Tucker (১ মার্চ ২০২৬)। "Iran names three men for interim Leadership Council to pick next supreme leader"। CBS News (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ https://jameehmodarresin.org/
- 1 2 3 Vatanka, Alex (৬ জুলাই ২০২০)। "The Islamic Republic's next generation of leaders: A profile of Alireza Arafi - Middle East Institute"। Middle East Institute (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ arafi। Information Base of Mr Arafi। ২৬ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২৬।
- ↑ গাঞ্জি, আকবর (২ আগস্ট ২০১৭)। "معجزه «شیعه کردن ۵۰ میلیون نفر» و «به شهادت رساندن» تعداد کثیری از آنان در سوریه و عراق" – www.radiofarda.com এর মাধ্যমে।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:1নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Turani, Behrouz (২ মার্চ ২০২৬)। "Who is the cleric suddenly at the center of Iran's power struggle?"। www.iranintl.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Iran executes Khamenei's plan to spread regional war"।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;:03নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি