আলাপ:পিরালী ব্রাহ্মণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

"পীর আলির চক্রান্তে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। " -- রবীন্দ্রনাথের একটি জীবনীতে কিন্তু ঘটনাটা অন্যরকম পড়েছিলাম। সম্ভবত ইনি ধর্মান্তরিত হননি, কিন্তু মেলামেশা ও ভোজনের কারণে ত্যাজ্য হন ব্রাহ্মণ সমাজ থেকে। তাদের মেয়েদের বিয়ে হওয়া কঠিন ছিলো বলে অনেকটা ঘরজামাই করে তারা বাইরে থেকে জামাই আনতেন ও নিজের বাড়িতেই রেখে দিতেন। জগন্নাথ কুশারীর আদি নিবাস পূর্ববঙ্গে, কিন্তু বিয়ে করে এই পরিবারে যোগ দেন। এই ব্যাপারে আরো কয়েকটি বই পড়ে দেখা দরকার। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ০৮:১০, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

থমসনের বইতে কিন্তু মুসলমানদের সাথে মেলামেশা এবং ভোজনের কথাই বলা আছে। এখানে দেখুন--বেলায়েত (আলাপ | অবদান) ০৮:১৮, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

নগেন্দ্রনাথ বসু ও ব্যোমকেশ মুস্তফীর বইতে ধর্মান্তরণের কথাই আছে। রবিজীবনী বলছে, ইসলামে দীক্ষিত হন। --অর্ণব দত্ত (talk) ০৮:২৫, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

রবিজীবনীর পৃষ্ঠানির্দেশ করে তথ্যসূত্র দিলাম। উক্ত গ্রন্থের পৃষ্ঠায় আরও একটি প্রামাণ্য তথ্যসূত্র দেওয়া আছে,নগেন্দ্রনাথ বসু, বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, ব্রাহ্মণকাণ্ডঃ তৃতীয় ভাগ, পিরালী ব্রাহ্মণ বিবরণ প্রথম খণ্ড, (ব্যোমকেশ মুস্তফী), পৃষ্ঠা ১৫৪-৫৭। উল্লেখ্য, এডওয়ার্ড টমসনের বইটি এই প্রসঙ্গে প্রামাণ্য নয়। অবশ্য টমসনের মতটিকে মতান্তরে মেলামেশা ও ভোজনের ফলে সমাজচ্যুত হন - এই ভাবেও রাখা যায়। --অর্ণব দত্ত (talk) ০৮:৩৯, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

"চক্রান্তে" শব্দটি ব্যবহারে আমার আপত্তি রয়েছে। এটি অনেকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। বইয়ের উদ্ধৃতি হুবুহু ব্যবহার না করে, "পীর আলির প্রভাবে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।" এভাবেও লেখা যেতে পারে।--বেলায়েত (আলাপ | অবদান) ০৮:৪৫, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)
কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। সেজন্য ক্ষমা চাইছি। বই দেখে লিখতে গিয়েই চক্রান্ত শব্দটি এসে গেছে। যাই হোক, আপনার প্রস্তাবে সম্মতি জানাচ্ছি। --অর্ণব দত্ত (talk) ০৮:৫১, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

রাগিব লিখছেন, জগন্নাথ কুশারীর আদি নিবাস ছিল পূর্ববঙ্গে, কিন্তু বিয়ে করে এই পরিবারে যোগ দেন। কথাটি ঠিক বুঝলাম না। পুরো ব্যাপারটিই তো যশোরের ঘটনা? তাই নয় কি? --অর্ণব দত্ত (talk) ০৯:০০, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

দুঃখিত, বিস্তারিত মনে নেই এই মুহুর্তে, কারণ গত বছর বইটা লাইব্রেরি থেকে এনেছিলাম। আসলে পুরো পরিবারেরই আদি নিবাস এক সময় ছিলো পাথুরিঘাটায়। পাথুরিঘাটা জায়গাটা কি যশোরে নাকি ২৪ পরগনায়? চট্টগ্রামের দিকেও তাদের কেউ কেউ বাস করেছেন বলে শুনেছি। বাংলাপিডিয়া ঘেঁটে যা পেলাম, "However, the founding member of the modern Tagore family (anglicised form of Thakur) was Joyram, an amin of the 24-Parganas in 1760-62 who had four sons; one of whom was Nilmani (d 1791), who served as a serestadar in Chittagong district. "। বংশলতিকা ধরলে তাই এরকম দাঁড়ায়, জয়রাম->নীলমণি->রামলোচন->দ্বারকানাথ->দেবেন্দ্রনাথ->রবীন্দ্রনাথ। (বাংলাপিডিয়ার রেফারেন্স)।
পিরালী ব্রাহ্মণদের ঘটনা হলো এরকম যে, তাদের মেয়ে বিয়ে যে করতো, সে নিজেও সমাজচ্যুত হতো আর নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির সব ভাগ থেকে বঞ্চিত হতো। তাই এই পরিবারের মেয়েদের জামাইরা ঘরজামাই হিসেবেই ঐ এলাকায় চলে আসতো। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ১৫:২৪, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

জগন্নাথ কুশারী ছিলেন পিঠাভোগের জমিদার। শুকদেবের কন্যাকে বিবাহ করে তিনিও সমাজচ্যুত হন এবং নরেন্দ্রপুর নামক কোনো এক স্থানে বারোপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। জগন্নাথের মেজ ছেলে পুরুষোত্তমের উত্তরপুরুষ হলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। পুরুষোত্তমের অধস্তন পঞ্চম পুরুষ মহেশ্বর বা তাঁর পুত্র পঞ্চানন পারিবারিক কলহের কারণে সপ্তদশ শতকে কলকাতায় চলে আসেন। উনিশ শতক অবধি সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যশোরের পিরালী থাকের ব্রাহ্মণদের সঙ্গে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় ছিল। --অর্ণব দত্ত (talk) ০৯:১২, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

লোকনাথ ঘোষের বইতে চমৎকার বিস্তারিত বর্ণনা ও বংশলতিকা পেলাম। ওখানে পিরালীদের সম্পর্কে বলা আছে, "[১], "It was Purushotama who first incurred for the family the taint of Pirali, either by smelling the food at the feust given by one Pir Ali Khan an Auiin with whom he was transacting business or, according to other reports, by forfeiting his caste, in consequence of his marriage with the danghter of a person who had actually partaken of food with the Mussulman Ali". (পিডিএফ সংস্করণ দেখুন, ওসিআর করতে গিয়ে গুগলের টেক্সট সংস্করণে বানান ভুল এসেছে)। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ১৫:৩৬, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

জন উইলসনের Indian Caste (1877) এ পিরালী নামের ইতিহাস এভাবে বর্ণিত আছে, পীর আলী নামের জনৈক আমিন পদস্থ ব্যক্তি যশোরে ছিলেন। তাকে একবার রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের কেউ বলেছিলেন, "ঘ্রাণং অর্ধ ভোজনং"। কয় দিন পরে পীর আলী এলাকার অনেক গণ্য মান্য ব্যক্তিকে তার বাড়িতে আসতে বললেন। তারা হাজির হবার পরে তাদের সামনে খাবার পরিবেশন করার আদেশ দেয়া হলো। যদিও তারা মুসলমান বাড়িতে খেয়ে জাত খোয়াতে রাজি হননি, কিন্তু তদানিন্তন হিন্দু সমাজে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, এবং তাদেরকে সমাজচ্যুত করা হয়। যারা এভাবে জাত হারান, তাদের কেউ কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। কিন্তু অনেকেই আবার হিন্দু রয়ে যান, যদিও হিন্দু সমাজে তাদেরকে পিরালী ব্রাহ্মণ আখ্যা দিয়ে পতিত ব্রাহ্মণ হিসাবে এড়িয়ে চলা শুরু করে। এদের একজন হলেন পুরুষোত্তম, যার ৫ম বংশধর হলেন পঞ্চানন। বিস্তারিত পাবেন এই বইতে। এই ইতিহাসই আমি রবীন্দ্রনাথের জীবনীতে পড়েছিলাম। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ২০:১৫, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

আরো ইন্টারেস্টিং তথ্য পেলাম, গোবিন্দপুরে এখনকার ফোর্ট উইলিয়ামের জায়গাটি নাকি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষ জয়নাথ ঠাকুরের বাড়ি ছিলো। জয়নাথ ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ২৪ পরগনা এলাকার কর্মচারী। এই বাড়িটা ব্রিটিশরা কিনে নেয়। তখনই জয়নাথ ঠাকুর পাথুরিঘাটায় বসতি স্থাপন করেন। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ২০:১৯, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

জয়নাথ নয়, জয়রাম ঠাকুর। ঠিকই। ফোর্ট উইলিয়াম অঞ্চলে ঠাকুরদের এককালে নিবাস ছিল। সেই সময় অঞ্চলটি ছিল মূলত জেলে, মালো আর কৈবর্তদের পাড়া। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গটি সেই সময় ছিল বাগবাজারে। সিরাজদ্দৌলার আক্রমণে বাগবাজারের দুর্গটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারপর প্রথমে মেটিয়াবুরুজ ও পরে কলকাতা ময়দান সংলগ্ন বর্তমান ঠিকানায় উঠে আসে দুর্গটি। জয়রাম কোম্পানি শাসিত বৃহত্তর চব্বিশ পরগনার আমিন ছিলেন। উল্লেখ্য সেই সময় চব্বিশ পরগনার আয়তন আরও বড়ো ছিল। বর্তমান হুগলি, নদিয়া, সাতক্ষীরা জেলার কিছু কিছু অঞ্চল চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত ছিল। যাই হোক, ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গটি অবশ্য জয়রামের বাড়ি ছিল না। কারণ দুর্গটির আকার বেশ বড়ো, এবং তার স্থাপত্যশৈলী বাঙালি গৃহস্থ বাড়ির অনুরূপ নয়। সম্ভবত জয়রাম ও অন্যান্যদের বাড়ি ভেঙে দুর্গটি তৈরি হয়। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ছাড়াও বিদ্যাসাগর সেতু, মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব, ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়াম, প্রিন্সেপ ঘাট, মিলেনিয়াম পার্ক ও বাবুঘাট এই অঞ্চলেই অবস্থিত। আর আছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্ব কম্যান্ডের বাংলাদেশ যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ। পুরো এলাকাটা এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক্তিয়ারভুক্ত। আর একটি মজার কথা জানিয়ে রাখি, অনেকেই মনে করেন (বাংলাপিডিয়াতেও লেখা আছে) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজটি ছিল ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের মধ্যে। প্রকৃত তথ্য হল, ফোর্ট উইলিয়াম নাম হলেও কলেজের কাজকর্ম হত রাইটার্স বিল্ডিং অর্থাৎ বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয় মহাকরণে। --অর্ণব দত্ত (talk) ০৫:০২, ২৫ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

আরো তথ্য পাবেন জেমস ওয়েস্টল্যান্ডের [http://books.google.com/books?id=1G4IAAAAQAAJ&pg=PA185&dq=tagore+pir-ali&lr=&as_brr=4&ei=pzwMS5yoGpHoMNn56IkB#v=onepage&q=tagore%20pir-ali&f=false A Report on the District of Jessore], 1871 বইতে। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ২০:২৪, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

এবং শিব চন্দ্র বসুর লেখা The Hindoos as they are: A description of the manners, customs, and inner life of Hindoo society , 1883। এখানে দুই রকমের থিওরি দেয়া আছে। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ২০:২৯, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

ঠাকুরবাড়ির ইতিবৃত্ত[সম্পাদনা]

রাগিব ভাই, পাথুরিয়াঘাটা কলকাতায়। ঠাকুর পরিবারের একটি অংশের বাস এখানে। এঁরা হিন্দু। দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করলে এঁরা জোড়াসাঁকোর ঠাকুরদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এখনও পাথুরিয়াঘাটার বাড়িতে মহাসমারোহে দুর্গোৎসব করেন এঁরা। তবে পাথুরিয়াঘাটা এঁদের আদি নিবাস নয়। শুনেছি কুশারী বংশের আদি নিবাস ছিল বর্ধমান জেলার কুশ গ্রাম। এই গ্রামের নাম থেকেই এঁদের পদবী কুশারীর উৎপত্তি। বর্ধমানের কুশ গ্রাম এখনও বিখ্যাত। তবে কুশারীদের আদি নিবাস যে বর্ধমানে ছিল এ নিয়ে ঐতিহাসিকরা নিঃসন্দেহ নন। যাই হোক, ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে যশোর জেলার যোগটি সুস্পষ্ট। খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষাশেষি জগন্নাথ কুশারী শুকদেবের কন্যাকে বিবাহ করে পিরালী ব্রাহ্মণে পরিণত হন (নিবন্ধে ঘটনাটির ইতিবৃত্ত বর্ণিত হয়েছে)। জগন্নাথ কুশারী ছিলেন যশোরের পিঠাভোগের জমিদার। তিনি ছিলেন শুদ্ধ শ্রোত্রীয় ব্রাহ্মণ। কিন্তু শুকদেবের কন্যাকে বিবাহের অপরাধে সমাজচ্যুত হন এবং শ্বশুর মহাশয়ের অনুগ্রহে বারোপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। আপনি যে বংশ তালিকাটি দিয়েছেন সেটি শেষের দিকের। সম্পূর্ণ বংশতালিকাটি এই প্রকার: জগন্নাথ কুশারী>পুরুষোত্তম (জগন্নাথের মধ্যম পুত্র)>বলরাম>হরিহর>রামানন্দ>মহেশ্বর+শুকদেব>পঞ্চানন>জয়রাম>নীলমণি>রামলোচন>দ্বারকানাথ>দেবেন্দ্রনাথ>রবীন্দ্রনাথ। পারিবারিক কলহের কারণে সপ্তদশ শতকে পঞ্চানন অথবা জয়রাম চলে আসেন কলকাতায়। পঞ্চাননের ভাই শুকদেবও এসেছিলেন। সেই সময় তাঁরা থাকতেন গোবিন্দপুরে (বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতা)। যে পাড়ায় তাঁরা বাস করতেন, সেটি ছিল জেলে, মালো, কৈবর্ত প্রভৃতি তথাকথিত নিম্নবর্ণীয়দের পাড়া। তাঁরা তাঁদের মাঝে একজন ব্রাহ্মণকে পেয়ে খুশি হয়ে তাঁকে ঠাকুরমশাই আখ্যা দেন। এই ঠাকুরমশাই বা ঠাকুর পরে পঞ্চানন কুশারীর পদবি হয়ে যায়। জয়রাম ও তাঁর ভাই রামসন্তোষ সামান্য ইংরেজি শেখেন এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকুরি নেন। এই সময়ই জয়রাম চব্বিশ পরগনার আমিন নিযুক্ত হয়েছিলেন। বলে রাখা ভাল পঞ্চানন কুশারীর থেকেই কলকাতার পাথুরিয়াঘাটা, জোড়াসাঁকো ও কয়লাঘাটার ঠাকুরদের উদ্ভব। পঞ্চানন ও তাঁর পুত্র নীলমণি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে প্রভুত অর্থ ও ভূসম্পত্তির মালিক হন। নীলমণি চট্টগ্রামে সেরেস্তাদারের কাজ করে থাকবেন (যদিও আমি কোনো বইতে তার উল্লেখ পাচ্ছি না)। এই নীলমণিই জোড়াসাঁকোর ঐতিহাসিক ঠাকুরবাড়িটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। ১৭৮৪ সাল থেকে এই বাড়িতে নীলমণি সপরিবারে এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এই নীলমণির বড়ো ছেলে রামলোচন তাঁর মেজো ভাই রামমণির ছেলে দ্বারকানাথকে দত্তক নেন। দ্বারকানাথ দেবেন্দ্রনাথের পিতা ও রবীন্দ্রনাথের পিতামহ।

অর্থাৎ, জোড়াসাঁকো, পাথুরিয়াঘাটা, চট্টগ্রাম, উত্তর চব্বিশ পরগনা – কোনো অঞ্চলকেই ঠাকুর পরিবারের উৎস বলা যাবে না। ঠাকুর পরিবারের উৎস একমাত্র যশোর। বেশ কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের একটি ভ্রমণ পত্রিকায় বাংলাদেশ ভ্রমণের উপর একটি নিবন্ধ পড়েছিলাম। তা থেকে জানতে পারি, কুশারী পরিবারের একটি শাখা এখনও যশোরের কোনো এক অঞ্চলে বাস করেন। তাঁরা নিজেদের রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় বলে গর্ববোধও করেন। আসলে পিরালী ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য তাঁরা যশোর-খুলনার পিরালী সম্প্রদায়ের বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন না। পরে রবীন্দ্রনাথের সময় অবাঙালি পরিবারের সঙ্গে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হতে থাকে। খোদ রবীন্দ্রনাথের জন্যই একবার এক তামিল আর আরেকবার এক গুজরাটি মেয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। প্রথম ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেবেন্দ্রনাথের পাত্রী পছন্দ হয়নি। রবীন্দ্রনাথের তাঁর নাতনির বিবাহ দেন অবাঙালি পরিবারে। নাতজামাই কৃষ্ণ কৃপালনি শেষের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের একটি প্রামাণ্য ইংরেজি জীবনী লিখেছিলেন। যাই হোক, এই হল ঠাকুরবাড়ির ইতিবৃত্ত। প্রশান্তকুমার পাল মহাশয় অত্যন্ত বিস্তারিত ভাবে এই সব তথ্য তাঁর রবিজীবনী গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে লিখেছেন। বইটি বর্তমান প্রকাশক আনন্দ পাবলিশার্স। উৎসাহী হলে পড়ে দেখতে পারেন। --অর্ণব দত্ত (talk) ১৬:১৮, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

পাথুরিয়াঘাটা সম্পর্কে আরো জানতে দেখুন পাথুরিয়াঘাটা ও পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর সংক্রান্ত এই নিবন্ধটি। উল্লেখ্য, পাথুরিয়াঘাটা জোড়াসাঁকোর খুবই কাছে অবস্থিত।--অর্ণব দত্ত (talk) ১৬:৪৭, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)
অনেক ধন্যবাদ, অর্ণব। এরকমই পড়েছিলাম বইটাতে। গুগল বুক্‌সে বেশ কিছু বইতে (এমনকি ১৮৭১ এ বের হওয়া) ঠাকুর পরিবার ও পিরালীদের কথা রয়েছে। ওখান থেকে সব কিছুর রেফারেন্স দিয়ে দেয়া যায়। --রাগিব (আলাপ | অবদান) ১৬:৫৫, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)

ধন্যবাদ, রাগিব ভাই। একটি ছোটো সংশোধনী। এক্ষুনি বাংলাদেশের মানচিত্র খুঁজে ঠাকুর পরিবারের উৎসগুলি খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। দেখলাম জগন্নাথ কুশারীর আদি নিবাস পিঠাভোগ এখন খুলনায়। তিনি যে নরেন্দ্রপুরে পরে বসতি স্থাপন করেন সেটা যশোর জেলার সদর উপজেলায়। গুগলস-এর বইপত্রের ব্যাপারে আমি ঠিক ওয়াকিবহাল নই। তাই এই ব্যাপারে অন্যদের সাহায্য পেলে উপকৃত হব। --অর্ণব দত্ত (talk) ১৭:২১, ২৪ নভেম্বর ২০০৯ (UTC)