আলাপ:দেবনাথ

    উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

    মন্তব্য[সম্পাদনা]

    দেবনাথ/নাথ পদবিধারীরা সাধারণত ব্রাহ্মণ বর্ণের অন্তর্ভুক্ত হলেও, হিন্দু সমাজে অনেকেই তাদের ব্রাহ্মণ বলে অস্বীকার করেন। কিন্তু, অনেক হিন্দু ধর্মগ্রন্থে নাথেদের ব্রাহ্মণ বলা হয়েছে। ঐতিহাসিক একটি ঘটনার জন্য নাথেদের ব্রাহ্মণ্যত্বের পরিচয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গোপাল ভট্ট রচিত এবং শশীভূষণ দাশগুপ্ত অনূদিত "বল্লাল চরিত" গ্রন্থে এই বিষয় সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যায়। সেন শাসনের সময় নাথ ব্রাহ্মণরা অন্য ব্রাহ্মণদের মধ্যে উচ্চ অবস্থানে ছিলেন। আবার রাজকার্যেও তাদের বিশেষ অবদান ছিল। শাস্ত্রবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যায় নাথেদের অনেক পারদর্শীতাও ছিল। চিকিৎসার সাথেও যুক্ত থাকায় নাথ ব্রাহ্মণদের বৈদ্য ব্রাহ্মণও বলা হয়। বল্লাল সেনের সময় রাজব্রাহ্মণ ছিলেন নাথ ব্রাহ্মণ পীতাম্বর নাথ। তিনি বল্লাল সেনেরও গুরু ছিলেন। বল্লাল সেনের অনেক ভুল কাজ এবং সিদ্ধান্তের জন্য নাথ ব্রাহ্মণরা তার প্রতি রুষ্ট হয়ে যান। ফলে তারা রাজকার্যেও উদাসীন হয়ে পড়েন। বল্লাল সেন তা বুঝতে পারেন। তাই তিনি, তার পিতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তার গুরু এবং নাথ ব্রাহ্মণদের আমন্ত্রন করে দানধর্ম করার সিদ্ধান্ত নেন। পীতাম্বর নাথ এবং অন্য নাথ ব্রাহ্মণরা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তারা বল্লাল সেনের দেওয়া দান সামগ্রী নিতে অস্বীকার করেন। এতে বল্লাল সেন ক্রুদ্ধ হয়ে পীতাম্বর নাথের পৈতে টেনা ছিঁড়ে দেন। এবং রাজ্যজুড়ে ঘোষণা করেন, নাথ ব্রাহ্মণদের রাজা আদেশে শূদ্র বলে ঘোষণা করা হবে। এই ঘটনার পর থেকে সবাই রাজার আদেশে, নাথেদের ব্রাহ্মণ বলে অস্বীকার করতে শুরু করে। ফলে নাথেদের ব্রাহ্মণ্যত্ব ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো কাজ শুরু করতে হয়। কিন্তু অনেক নাথ ব্রাহ্মণ এখনো ব্রাহ্মণ্যত্বের সাথে যুক্ত আছেন। — Tirtha Deb Sharma (আলাপঅবদান) এই স্বাক্ষরহীন মন্তব্যটি যোগ করেছেন।