বিষয়বস্তুতে চলুন

আলাউদ্দীন আল-খাযিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আলাউদ্দীন আল-খাযিন
علاء الدين الخازن
উপাধিআলাউদ্দীন
আল-হাফিজ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম১২৭৯
মৃত্যু১৩৪১ (বয়স ৬১৬২)
ধর্মইসলাম
যুগমামলুক যুগ
অঞ্চললেভান্ট
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রশাফেয়ী[]
ধর্মীয় মতবিশ্বাসআশআরি[]
প্রধান আগ্রহহাদিস, তাফসির, ইসলামী আইনশাস্ত্র, ইতিহাস, তাসাউফ
উল্লেখযোগ্য কাজতাফসির আল-খাযিন
কাজআলেম, মুহাদ্দিস, তাফসিরকার, ফকিহ, ইতিহাসবিদ, সূফি,
মুসলিম নেতা

আলাউদ্দীন আলী ইবন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী (আরবি: علاء الدين علي بن محمد البغدادي), যিনি সাধারণত আলাউদ্দীন আল-খাযিন (আরবি: علاء الدين الخازن) নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস (হাদিস বিশারদ), তাফসিরকার (কুরআনের ব্যাখ্যাকার), মুআররিখ (ইতিহাসবিদ) এবং সূফি[] তিনি তাঁর তাফসির গ্রন্থ লুবাব আত-তাওয়ীল ফি মা‘আনি আত-তানযীল-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।[]

তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন, এমন একটি পরিবারে যার মূল বাসস্থান ছিল হালাব (আলেপ্পো)। তাঁর জন্ম হয় বাগদাদে মঙ্গোলদের ধ্বংসযজ্ঞ-এর ২২ বছর পর এবং মামলুকদের আইন জালুতের যুদ্ধে বিজয়ের প্রায় দুই দশক পরে। ফলে তাঁর জন্মকালটি এমন সময়ে হয়, যখন ইসলামী বিশ্বে মামলুকদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং মিসর ছিল তাদের রাজনৈতিক কেন্দ্র।[]

শৈশবে তিনি বাগদাদে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ শিখেন এবং পাশাপাশি আরবি ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি বিশিষ্ট আলেমদের কাছে হাদিসশাস্ত্র অধ্যয়নে মনোনিবেশ করেন, যেমন ʿআলী ইবন আল-দাওয়ালীবী (মৃত্যু ৭২৮/১৩২৮)। তিনি এক হালকা (শিক্ষা চক্র) থেকে অন্যটিতে গিয়ে বহু শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। পরে তিনি দামেস্কে চলে যান এবং সেখানে আরও গভীরভাবে পড়াশোনা করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন সিত্ত আল-উযারা বিনত উমর (মৃত্যু ৭১৬/১৩১৬), যিনি একজন সম্মানিত হানবলি আলেম এবং একজন প্রসিদ্ধ ফকিহের কন্যা। এছাড়া তিনি বাহাউদ্দীন আল-কাসিম ইবন আল-মুযাফফর (মৃত্যু ৭২৩/১৩২৩)-এর কাছেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি আরও জ্ঞানার্জনের জন্য হালাবে ভ্রমণ করেন।[][]

দামেস্কে অবস্থানকালে আল-খাযিন বিভিন্ন মাদরাসা, মসজিদ ও খানকাহে যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে খানকাহ আল-সুমাইসাতিয়্যাহ-এ তিনি অনেক সময় কাটান এবং সেখানকার গ্রন্থাগারে নিয়মিত অধ্যয়ন করতেন। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি “আল-খাযিন” (অর্থাৎ গ্রন্থাগারিক) উপাধি লাভ করেন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সেগুলো প্রচার করেন। ৭৪১ হিজরির রজব মাসের শেষে, অর্থাৎ ১৯ জানুয়ারি ১৩৪১ সালে তিনি আলেপ্পোতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সূফিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।[]

আল-খাযিন হাদিস, তাফসির এবং সীরাহ (নবীজির জীবনচরিত)সহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখেছেন। তবে তাঁর তাফসির ও সীরাহ সম্পর্কিত রচনাগুলোই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো:[]

  1. লুবাব আত-তাওয়ীল ফি মা‘আনি আত-তানযীল – কুরআনের তাফসির।
  2. মাকবুল আল-মানকুল – এটি দশ খণ্ডের একটি হাদিসসংগ্রহ। এতে তিনি মুসনাদ আশ-শাফেয়ী, মুসনাদ আহমদ ইবন হাম্বল, কুতুব আস-সিত্তাহ, আল-মুওয়াত্তা এবং সুনান আদ-দারাকুতনি-এর হাদিসসমূহ অধ্যায়ভিত্তিকভাবে সংকলন করেছেন।
  3. আর-রাওদ ওয়াল-হাদায়িক ফি তাহযীব সিরাত খাইর আল-খালায়িক – নবী (সা.)-এর জীবনচরিত বিষয়ক গ্রন্থ।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Leaman, Oliver (২০০৬)। The Qur'an – An EncyclopediaRoutledge। পৃ. ৩৪২আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৩২৬৩৯-১
  2. Yassin Ghanem Jassim al-Aridi (২০২৪)। The Biographical Layers of the Ash'aris: Notable Figures of Ahl al-Sunnah wa'l-Jama'ahw:de:দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যা। পৃ. ৭০৫। আইএসবিএন ৯৭৮৬১৪৪৯৬২৩৫০
  3. 1 2 EROĞLU, ALİ (১৯৯৮)। "HÂZİN, Ali b. Muhammed"। খণ্ড ১৭। İslâm Ansiklopedisi। পৃ. ১২৫–১২৬।
  4. Moghissi, Haideh (২০০৫)। Women and Islam: Images and realities। খণ্ড ১। Routledge। পৃ. ২১৭। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৩২৪১৯-৯
  5. 1 2 Abdullah A. Khan 2024, পৃ. 1
  6. Zakiyah 2024, পৃ. 225
  7. Zakiyah 2024, পৃ. 226

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]