আলবেনিয়ায় ইহুদি গণহত্যা
| আলবেনিয়ায় ইহুদি গণহত্যা | |
|---|---|
| ইহুদি গণহত্যা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশ | |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলবেনিয়ার মানচিত্র, আলবেনিয়ার সাথে সংযুক্ত অঞ্চলগুলো হালকা হলুদে দেখানো হয়েছে৷ | |
| স্থান | ইতালীয় ও জার্মান অধিকৃত আলবেনিয়া |
| তারিখ | ১৯৪১–১৯৪৪ |
| লক্ষ্য | ইহুদি |
| হামলার ধরন | গণহত্যা |
| নিহত | আনু. ৬০০ |
| অপরাধীগণ | নাৎসি জার্মানি ও তার সহযোগী |
| রক্ষাকারীগণ | স্থানীয় আলবেনিয়ান জনগণ (যার মধ্যে ৭৫টি ইয়াদ ভাশেম দ্বারা স্বীকৃত) এবং আলবেনীয় ফ্যাসিবাদী কর্তৃপক্ষ |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আলবেনিয়া ইতালি এবং জার্মানির দখলে থাকাকালীন সময়ে ইহুদিদের উপর ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হয়। যুদ্ধের সময় প্রায় ২,০০০ ইহুদি আলবেনিয়ায় আশ্রয় চায়। প্রথমে ফ্যাসিবাদী ইতালি এবং পরে নাৎসি জার্মানি আলবেনিয়া দখল করলেও স্থানীয় জনগণ এই ইহুদি শরণার্থীদের বেশিরভাগের সাথে ভালো আচরণ করে। আলবেনীয়রা পাহাড়ি গ্রামে ইহুদি শরণার্থীদের আশ্রয় দিত এবং তাদের অ্যাড্রিয়াটিক বন্দরে নিয়ে যেত। সেখান থেকে তারা ইতালিতে পালিয়ে যেত। অন্যান্য ইহুদিরা সারাদেশে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেয়।
কসোভোতে বসবাসকারী ৫০০ জন ইহুদির অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই ভিন্ন। প্রায় ৪০ শতাংশই এই যুদ্ধে টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইতালির আত্মসমর্পণের সাথে সাথে জার্মানি আলবেনিয়া দখল করে। ১৯৪৪ একটি আলবেনীয় ওয়াফেন-এসএস ডিভিশন গঠিত হয়। এই ডিভিশন কসোভো থেকে ২৮১ জন ইহুদিকে গ্রেপ্তার করে জার্মানদের হাতে তুলে দেয়, যাদের পরবর্তীতে বার্গেন-বেলসেন রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে নির্বাসিত করা হয় এবং অনেককে হত্যা করা হয়। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে জার্মানদের আলবেনিয়া থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এনভার হোজার নেতৃত্বে দেশটি একটি সাম্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। প্রায় একই সময়ে কসোভো এবং পশ্চিম মেসিডোনিয়ার আলবেনীয় অধিকৃত অঞ্চলে অক্ষ বাহিনী যুগোস্লাভ পার্টিসানদের কাছে পরাজিত হয়। তারা পরবর্তীতে এই অঞ্চলে যুগোস্লাভিয়া প্রতিষ্ঠা করে।
গণহত্যার সময় অক্ষ অধিকৃত আলবেনিয়ায় প্রায় ৬০০ ইহুদি নিহত হয়। আলবেনিয়ায় যুদ্ধের সময় সেখানে নিহত একমাত্র স্থানীয় ইহুদির ভাষ্য অনুযায়ী একই পরিবারের পাঁচজন ইহুদি জার্মানদের হাতে নিহত হয়েছিল। যুদ্ধের পর আলবেনিয়ায় ইহুদিদের সংখ্যা দাঁড়ায় শুরুর চেয়ে এগারো গুণ বেশি (১,৮০০)। এদের বেশিরভাগই পরবর্তীতে ইসরায়েলে চলে যায়। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে কমিউনিজমের পতন না হওয়া পর্যন্ত কয়েকশ লোক আলবেনিয়ায় থেকে যায়। আলবেনিয়ায় ইহুদিদের বেঁচে থাকার হার কসোভোর তুলনায় কেন এতটা ভিন্ন ছিল, সে বিষয়ে কোনও গবেষকীয় ঐক্যমত্য নেই। কিছু পণ্ডিত যুক্তি দিয়েছেন যে আলবেনিয়ার সংস্কৃতির বেসা নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী সম্মানসূচক রীতি একটি ভূমিকা পালন করেছিল। অন্যান্য পণ্ডিতরা এর কারণ হিসেবে মত দিয়েছেন ১৯৪১-১৯৪৩ সালে দখলদার ইতালির আপেক্ষিক নমনীয়তা, ১৯৪৩-৪৪ সালে অন্যান্য দেশের মতো আলবেনিয়ায় ইহুদিদের যথাযথভাবে খুঁজে বের করতে জার্মানির ব্যর্থতা এবং বিদেশীদের প্রতি কসোভো আলবেনীয়দের অবিশ্বাস। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়াদ ভাশেম আলবেনিয়ার ৭৫ জন নাগরিককে জাতির মধ্যে ন্যায়পরায়ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
পটভূমি
[সম্পাদনা]উসমানীয় সাম্রাজ্য-পরবর্তী সময়কাল
[সম্পাদনা]১৯৩০ সালের আলবেনীয় আদমশুমারি অনুসারে আলবেনিয়ায় ২৪ জন ইহুদি বাস করত। ১৯৩৭ সালে ইহুদি সম্প্রদায়ের আকার প্রায় ৩০০ জন ছিল। রাজা জোগু কর্তৃক তারা দেশে সরকারী স্বীকৃতি লাভ করে। যুদ্ধের আগে আলবেনীয় ইহুদিরা মূলত দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বাস করত (বেশিরভাগই ভ্লোরে শহরে)। সেখানে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইহুদির বসবাস ছিল।[১] প্রতিবেশী যুগোস্লাভিয়ার অংশ কসোভোতে ইহুদি সম্প্রদায়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০।[২] [৩] ১৯১২ সালে আলবেনিয়ার স্বাধীনতার পর দেশটির সরকার ধর্মীয় পুনর্মিলনের আদর্শ বাস্তবায়ন শুরু করে এবং জোগুর শাসনামলে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এসময় সকল ধর্মের সমতাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং বৃহত্তর ধর্মীয় বৈচিত্র্য প্রচার করা হয়।[৪]
১৯৩০-এর দশকে ইহুদি সম্প্রদায় ক্রমশ আলবেনীয় সমাজের সাথে একীভূত হতে থাকে এবং ১৯৩৭ সালের ২রা এপ্রিল সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।[৫] জোগু আলবেনিয়ায় ইহুদি অভিবাসনকে সহায়তা করেন এবং নতুন ইহুদি আগমনকারীদের জনগণের মধ্যে একীভূত করতে সহায়তা করেন।[৬] ১৯৩৪ সালে আলবেনিয়ায় নিযুক্ত ইহুদি মার্কিন রাষ্ট্রদূত হারমান বার্নস্টাইন মন্তব্য করেন যে দেশটিতে ইহুদিদের প্রতি বৈষম্য করা হয় না কারণ এটি "ইউরোপের বিরল দেশগুলির মধ্যে একটি, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার এবং ঘৃণার অস্তিত্ব নেই"।[৫] নাৎসিবাদের উত্থানের সাথে সাথে বেশ কিছু জার্মান ইহুদি ও অস্ট্রীয় ইহুদি আলবেনিয়ায় আশ্রয় নেয় এবং বার্লিনের আলবেনিয়ান দূতাবাস ১৯৩৮ সালের শেষ পর্যন্ত ইহুদিদের ভিসা প্রদান অব্যাহত রাখে। এসময় অন্য কোনও ইউরোপীয় দেশ তা করতে রাজি ছিল না।[৭] বার্নস্টাইন আলবেনীয় সরকারকে ইহুদিদের পর্যটন এবং ভ্রমণ ভিসা প্রদান অব্যাহত রাখতে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৩৩ সাল থেকে বার্নস্টাইনের প্রচেষ্টার ফলে নাৎসি পার্টি ক্ষমতা সংহত করার সাথে সাথে অনেক ইহুদি জার্মানি ও অস্ট্রিয়া থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।[৬]
ইতালীয় দখলদারিত্ব
[সম্পাদনা]
ইউরোপের স্বল্পোন্নত দেশ আলবেনিয়া ১৯৩০-এর দশক জুড়ে ইতালির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের শিকার ছিল। ১৯৩৯ সালের ২৫শে মার্চ স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনি আলবেনিয়াকে ইতালির সামরিক আশ্রিত রাজ্য বানানোর জন্য জোগুকে একটি আল্টিমেটাম দেন।[৮] জোগু তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ৭ এপ্রিল ইতালি আলবেনিয়া আক্রমণ করে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।[৯] এর কিছুদিন পরেই আলবেনিয়ার সবচেয়ে ধনী এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী জমিদার শেফকেত ভের্লাচির নেতৃত্বে একটি ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একটি আলবেনীয় "জাতীয় পরিষদ" গঠিত হয়, যা দ্রুত ইতালির সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ইউনিয়নের পক্ষে ভোট দেয়। ফলে দেশটি ইতালির একটি আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়।[১০] ভাইসরয় জেনারেল ফ্রান্সেস্কো জ্যাকোমোনির নির্দেশে ইতালির পেশাগত কর্তৃপক্ষ আলবেনিয়ায় ইহুদি অভিবাসন নিষিদ্ধ করে আইন বাস্তবায়ন করে এবং দেশে বসবাসকারী সমস্ত বিদেশী ইহুদিদের নির্বাসন বাধ্যতামূলক করে।[১১]
ইতালির দখলের এক মাসের মধ্যে আলবেনীয় ফ্যাসিবাদী পার্টি (আলবেনীয়: Partia Fashiste e Shqipërisë, বা পিএফএসএইচ) গঠিত হয়।[১২] এর গঠনতন্ত্রে ইহুদিদের দলে যোগদান নিষিদ্ধ করা হয় এবং শিক্ষার মতো অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়।[১৩] আলবেনিয়ায় বসবাসকারী জাতিগত আলবেনীয় এবং ইতালীয়দের সমন্বয়ে গঠিত[১৪] দলটি ইতালীয় ফ্যাসিবাদী পার্টির (ইতালীয়: Partito Nazionale Fascista, বা পিএনএফ) একটি শাখা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। এর সদস্যদের মুসোলিনির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে বাধ্য করা হত।[১২] সকল আলবেনীয় সরকারি কর্মচারীদের এই দলে যোগদান বাধ্যতামূলক করা হয় এবং এটি দেশের একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠে।[১০] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অগ্রগতির সাথে সাথে ইতালি অধিকৃত আলবেনিয়াকে সংলগ্ন আলবেনীয় অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করার অনুমতি দেয়। ফলে বৃহত্তর আলবেনিয়া গঠিত হয়, যা ইতালির একটি আশ্রিত রাজ্য হিসেবে কসোভোর বেশিরভাগ এবং পশ্চিম মেসিডোনিয়ার একটি অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৯৪১ সালের এপ্রিলে অক্ষশক্তি যুগোস্লাভিয়া আক্রমণ করার পর এই অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।[২] আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালীয় শাসনের অধীনে থাকলেও কসোভোর আলবেনীয়দের এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় এবং যুগোস্লাভ শাসনের অধীনে নিষিদ্ধ আলবেনীয় স্কুল খোলার জন্য উৎসাহিত করা হয়।[১৫] ইতালি সরকার তাদের আলবেনীয় নাগরিকত্বও প্রদান করে এবং আলবেনিয়ার পতাকা ওড়ানোর অনুমতি দেয়।[১৬] ইতালীয়রা বৃহত্তর আলবেনিয়ায় লক্ষ লক্ষ সৈন্য মোতায়েন করে। শুধুমাত্র কসোভোতেই প্রায় ২০,০০০ ইতালীয় সৈন্য এবং ৫,০০০ পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী মোতায়েন ছিল। আধুনিক উত্তর মেসিডোনিয়ার আলবেনীয় অধিকৃত অঞ্চলে অতিরিক্ত ১২,০০০ সৈন্য এবং ৫,০০০ পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী মোতায়েন করা হয়।[১৭] ইতালির দখলদার সরকার সতর্ক করে দেয় যে, অধিকৃত যুগোস্লাভ অঞ্চলে নিহত বা আহত প্রতিটি ইতালীয় সৈন্যের জন্য কমপক্ষে দশজন জিম্মিকে গুলি করা হবে।[১৮]
গণহত্যা
[সম্পাদনা]১৯৩৯–১৯৪৩
[সম্পাদনা]
যুগোস্লাভিয়ায় আক্রমণের পর বৃহত্তর আলবেনিয়ায় ইহুদি সম্প্রদায় বৃদ্ধি পায়। মেসিডোনিয়া এবং উত্তর সার্বিয়ার পাশাপাশি জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং পোল্যান্ড থেকে ইহুদি শরণার্থীরা ইতালি অধিকৃত আলবেনীয় অধিভুক্ত কসোভোতে এসে প্রিস্টিনা, প্রিজরেন এবং ফেরিজাজ শহরে বসতি স্থাপন করে।[২] জার্মান সূত্র অনুসারে প্রায় ১,০০০ শরণার্থী এসে পৌঁছায়। জার্মান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ইহুদিরা যেভাবে নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছিল, এখানকার শরণার্থীরা ততটা তীব্র নির্যাতনের সম্মুখীন হয়নি। কারণ ইতালীয়রা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদেরকে "বিদেশে ইতালীয় স্বার্থের প্রতিনিধি" বলে মনে করত।[১৯] ইতালি প্রায় ১৫০ জন ইহুদি শরণার্থীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের আলবেনিয়ার বেরাত শহরে স্থানান্তর করে। সেখানে তাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।[২] ইতালি অধিকৃত কোটর উপসাগর থেকে ১৯২ জন ইহুদিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে ১৯৪১ সালের ২৭/২৮ জুলাই আলবেনিয়ার রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ইতালির ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়।[২০]
আলবেনিয়ার জনগণ ইহুদি শরণার্থীদের প্রতি খুবই আন্তরিক ছিল। অনেককে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের আলবেনীয় বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তারা ইতালিতে যেতে পারত। অন্যরা প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে লুকিয়ে থাকত, আবার কেউ কেউ সারা দেশে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেয়।[২১] শত শত ইহুদি আলবেনীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জাল নথি পায় এবং তাদের নিরাপদে আলবেনিয়ায় পাচার করা হয়। অন্যান্য সময়ে টাইফাস হয়েছে এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন এই মিথ্যা অজুহাতে ইহুদিদের আলবেনিয়ায় স্থানান্তর করা হতো।[২২] ভাইসরয় জেনারেল ফ্রান্সেস্কো জ্যাকোমোনির নির্দেশে ইতালি প্রশাসন বৃহত্তর আলবেনিয়ায় ইহুদি অভিবাসন নিষিদ্ধ করে আইন জারি করে এবং দেশের সমস্ত বিদেশি ইহুদিদের নির্বাসন বাধ্যতামূলক করে।[১১] এই আইন অর্ধভাবে বাস্তবায়িত হয়, যাতে প্রমাণ করা যায় যে, তাদের অধীনে কোনও ইহুদি নির্বাসিত হয়নি। দেশত্যাগ আরও কঠিন হয়ে উঠলেও বৃহত্তর আলবেনিয়ায় বিদেশি ইহুদিদের অভিবাসন দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। যখন ইহুদিদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখা যেত, তখন আলবেনীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণত স্থানীয় পরিবারগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য তাদের ছেড়ে দিত।[২৩] কিছু ক্ষেত্রে ডাকাতরা তাদের হত্যা করে।[২১] ১৯৪২ সালের জানুয়ারিতে জার্মানরা ওয়ান্সি সম্মেলনে অনুমান করে যে, আলবেনিয়ায় ২০০ জন ইহুদি বাস করে।[২৪] সেই মাসে ইতালি ইহুদিদের প্রিস্টিনার একটি শিবিরে বন্দী করে রাখে।[২৫] তাদের জার্মানদের হাতে তুলে দেওয়া হবে এমন আশঙ্কা তৈরি হলে শিবিরের ইতালীয় কমান্ডার প্রতিশ্রুতি দেন যে, তা কখনও ঘটবে না। ১৯৪২ সালের ১৪ মার্চ ইতালীয় বাহিনী শিবিরটি অবরোধ করে এবং সেখানে আটক ইহুদিদের গ্রেপ্তার করে।[২১] ৫১ জনকে জার্মানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।[২২] পরবর্তীতে তাদের ক্রোয়েশিয়ার সাজমিস্ত রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।[২১] অন্যদের সার্বদের সাথে ইহুদিদের বেরাতের একটি শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতালির আত্মসমর্পণ পর্যন্ত সেখানে তাদের রাখা হয়।[২৫] ইতালীয় দখলদারিত্বের সময় ৫০০ জন ইহুদিকে বেরাত, ক্রুজ এবং ক্যাভাজে শিবিরে বন্দী করা হয়।[২৬]
১৯৪৩–১৯৪৫
[সম্পাদনা]১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইতালি মিত্রশক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করলে বৃহত্তর আলবেনিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিশিবির ভেঙে দেওয়া হয়।[২১] এর পরপরই জার্মানি বৃহত্তর আলবেনিয়া আক্রমণ করে দখল করে নেয় এবং দেশে অবস্থানরত বেশিরভাগ ইতালীয় সৈন্য জার্মানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।[২৭] জার্মান দখলদার কর্তৃপক্ষ এরপর আলবেনিয়া এবং অক্ষ অধিকৃত যুগোস্লাভিয়ার আলবেনীয় অধ্যুষিত অঞ্চলে বসবাসকারী সমস্ত ইহুদিদের নির্মূল করার কাজ শুরু করে।[২৮] ইতালীয় দখলদারিত্বের অধীনে থাকা পশ্চিম মেসিডোনিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তাদের বেশ কয়েকটি দলকে নির্মূল শিবিরে পাঠানো হয়। তাদের সম্পত্তি এবং জিনিসপত্র পরবর্তীতে একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়।[২৯]
জার্মানরা দেশটি দখল করার পরপরই বৃহত্তর আলবেনিয়ার সহযোগী সরকার পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করে। ১৫ সেপ্টেম্বর জার্মান পৃষ্ঠপোষকতায় আলবেনীয় জাতীয় কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩ নভেম্বরে জার্মানি কর্তৃক একটি রাজত্ব পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একে সরকার হিসেবে স্বীকৃতি হয়। জার্মান মিত্র জাফের দেবাকে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়।[১৭] পরবর্তীতে দেবা কসোভোতে দ্বিতীয় প্রিজরেন লিগ প্রতিষ্ঠা করেন।[১৩] ১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জার্মান সৈন্যদের আগমনের পূর্বাভাস পেয়ে আলবেনিয়ার ইহুদিরা শহর ছেড়ে পালিয়ে গ্রামাঞ্চলে লুকিয়ে পড়ে। সেখানে গ্রাম্য আলবেনীয়রা তাদের লুকিয়ে রাখে। কিছু ইহুদিরা তাদের পরিচয় গোপন রেখে খ্রিস্টধর্ম বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অভিনয় করে।[৩০] নতুন প্রশাসন আসার সাথে সাথে জার্মানরা আলবেনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের নির্বাসিত করার জন্য ইহুদিদের তালিকা সরবরাহ করার দাবি জানায়।[৫] স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তা মানেনি, বরং তারা ইহুদি পরিবারগুলোকে জাল নথি সরবরাহ করে।[৩১] ১৯৪৪ সালের শুরুর দিকে জার্মান দখলদার কর্তৃপক্ষ আবারও আলবেনিয়ায় বসবাসকারী সমস্ত ইহুদিদের একটি তালিকা তৈরি করার দাবি করে। পরবর্তীতে দুই স্থানীয় ইহুদি নেতা প্রধানমন্ত্রী মেহেদী ফ্রাশারীর কাছে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করেন। ফ্রাশারী খবরটি দেবার কাছে পাঠান। ইহুদিদের রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর অকারণে সহিংসতার আদেশ দেওয়ার জন্য তার খ্যাতি ছিল।[৩২] জানা যায়, দেবা ইহুদি প্রতিনিধিদের বলেছিলেন যে, তার কাছে ইতিমধ্যেই আলবেনিয়ায় বসবাসকারী ইহুদিদের একটি তালিকা রয়েছে। [৩২] তিনি জার্মানদের কাছে তালিকাটি হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান এবং দেশের সমস্ত ইহুদিদের এক জায়গায় একত্রিত করার জন্য তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।[৩৩] দেবা জার্মানদের জানান যে, তিনি তাদের এই ধরনের তালিকা প্রদান করবেন না কারণ এই ধরনের দাবি "আলবেনীয়দের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ" করে। এর কিছুদিন পরেই দেবা ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতাদের জানান যে, তিনি জার্মানদের অনুরোধ সফলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ১৯৪৪ সালের জুন মাসে জার্মানরা আবারও আলবেনীয় সরকারকে দেশের ইহুদিদের একটি তালিকা তৈরি করার দাবি জানায় এবং আলবেনীয় কর্তৃপক্ষ আবারও তা প্রত্যাখ্যান করে।[৩৪]
কসোভোর পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।[৩৫] সেখানে দেবা ওয়াফেন-এসএস এ যোগদানের জন্য কসোভোর আলবেনীয়দের নিয়োগ শুরু করেন।[৩৬] ১৯৪৪ সালের ১ মে ২১তম ওয়াফেন মাউন্টেন ডিভিশন (যার ডাকনাম স্ক্যান্ডারবেগ) গঠিত হয়।[৩৭] ১৪ মে[২৬] ডিভিশনটি প্রিস্টিনায় ইহুদিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৮১ জন দেশি-বিদেশি ইহুদিকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের জার্মানদের হাতে তুলে দেয়।[৩৮] ২৩শে জুন এই ইহুদিদের মধ্যে ২৪৯ জনকে বার্গেন-বেলসেন বন্দিশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় ও সেখানে অনেককে হত্যা করা হয়। [৩৯] যুদ্ধের সময় প্রায় ২০০০ ইহুদি বৃহত্তর আলবেনিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিল।[৩১] প্রায় ২১০ জন কসোভীয় ইহুদি নিহত হয়।[৪০] কসোভোতে ইহুদিদের মৃত্যুর বিস্তারিত তালিকা নেই। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত একটি সরকারি যুগোস্লাভ প্রতিবেদনে ৭৪ জন যুদ্ধকালীন মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়।[৪১] গণহত্যার সময় আলবেনীয় নিয়ন্ত্রিত সমস্ত অঞ্চলে প্রায় ৬০০ জন ইহুদি নিহত হয়।[৫] এর মধ্যে কমপক্ষে ১৭৭ জনকে বার্গেন-বেলসেনে হত্যা করা হয়।[৪২] যুদ্ধে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ বেঁচে যায়।[৪৩] আলবেনিয়ার প্রায় সকল স্থানীয় ইহুদি গণহত্যা থেকে বেঁচে গিয়েছিল। একইভাবে সেখানে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সকল বিদেশি ইহুদি বেঁচে যায়।[৩৩] আলবেনিয়ায় নিহত একমাত্র স্থানীয় ইহুদিরা হলেন আর্দেট পরিবারের পাঁচজন সদস্য।[৪৪] যুদ্ধে পরিবারের ষষ্ঠ সদস্য বেঁচে যান।[৪৫] ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়ার সাথে আলবেনিয়া ছিল একমাত্র অক্ষ-অধিকৃত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে বেশিরভাগ ইহুদিই বেঁচে যায়।[৩৩]
বিশ্লেষণ
[সম্পাদনা]আলবেনিয়ায় ইহুদিদের উচ্চ বেঁচে যাওয়ার হারকে কীভাবে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, সেই বিষয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতামতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কিছু বিশেষজ্ঞ আলবেনিয়ার "ব্যতিক্রমী পার্থক্যের" জন্য আলবেনীয় পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেসাকে দায়ী করেছেন। এটি ছিল একটি ঐতিহ্যবাহী সম্মানসূচক রীতি। বেসার কারণে সুরক্ষার জন্য যে কাউকে আশ্রয় এবং নিরাপদ পথ প্রদান করতে আলবেনীয়রা বাধ্য ছিল। নিরাপদ পথ প্রদানে ব্যর্থ হলে তাদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হত। বেঁচে যাওয়া ইহুদিদের সাক্ষ্য এবং আলবেনীয় উদ্ধারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে দেখা গেছে যে, অনেক উদ্ধারকারী বেসার উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিয়েছেন।[৩৩] ঐতিহ্যগতভাবে আলবেনীয় ইতিহাস রচনায় উচ্চ বেঁচে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য বেসার ভূমিকার পাশাপাশি শতাব্দীর শুরুতে উপস্থিত অন্যান্য আলবেনীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধেরও উল্লেখ করা হয়।[৩০]
ইতিহাসবিদ মনিকা স্টাফা যুক্তি দেন যে, বেঁচে থাকার উচ্চ হারের জন্য আরও জটিল কারণ রয়েছে। তিনি ইতালীয় দখলদার কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা, সেইসাথে ব্যক্তিগত পরোপকার, বিশেষ করে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জার্মান দখলদার কর্তৃপক্ষের নিকট আলবেনিয়ায় বসবাসকারী ইহুদিদের বিস্তারিত তালিকা সঠিকভাবে সংগ্রহ করতে অস্বীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। স্টাফা আলবেনীয় সহযোগী কর্তৃপক্ষের বারবার জার্মানদের কাছে দেশের ইহুদিদের তালিকা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানানোর গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত তালিকা না পাওয়ার কারণে ১০ শতাংশ ইহুদি বেঁচে যায়।[৪৬] কসোভোতে জার্মানরা ইহুদিদের তালিকা পেতে সক্ষম হয়, ফলে সেখানে ইহুদি গণহত্যাও বেশি হয়।
কসোভোর আলবেনীয়রা বিদেশীদের প্রতি আরও বেশি শত্রুভাবাপন্ন ছিল। অধ্যাপক পল মোজেস এই মনোভাবকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের হাতে আলবেনীয়-সার্বীয় সংঘাত এবং নিপীড়নের জন্য দায়ী করেছেন। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ কসোভোর আলবেনীয়রা যুগোস্লাভিয়ার পরাজয় ও বিভাজনকে স্বাগত জানায়। যুদ্ধের প্রথমদিকে কসোভোতে ইহুদিরা যে সুরক্ষা পেয়েছিল, অধ্যাপক মোজেস তার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রচেষ্টার চেয়ে ইতালীয় দখলদার কর্তৃপক্ষের তুলনামূলকভাবে নম্র মনোভাবকে দায়ী করেন।[২১] আলবেনিয়ার ক্ষেত্রে মোজেস যুক্তি দেন যে, ইহুদি-বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে না পড়ার কারণ হলো সেখানে ইহুদি খুব কম ছিল।[৪৭] স্টাফার মতে আলবেনিয়ায় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যথাযথভাবে ইহুদি-বিরোধী আইন প্রণয়নই করা হয়নি। [৪৮] ফিশার উল্লেখ করেন যে, যখন ইহুদি-বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয় (যেমনটি ১৯৪০ সালে হয়েছিল), তখন তা অর্ধপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হয়। তিনি আরও বলেন যে, ইতালীয় আমলে ইহুদিরা তাদের পরিচয় গোপন করার খুব একটা প্রয়োজন বোধ করত না, এমনকি তাদের ঐতিহ্যবাহী ছুটির দিনগুলোও তারা জনসমক্ষে উদযাপন করত।[৪৯] ফিশার ইহুদিদের প্রতি আলবেনীয়দের আপেক্ষিক সহনশীলতাকে "গভীর ধর্মীয় সহনশীলতা" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[৫০]
পরিণতি ও কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]
১৯৪৪ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমা মিত্রশক্তি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ের সমর্থিত এবং বুলগেরীয় ফাদারল্যান্ড ফ্রন্ট ও আলবেনীয় পক্ষের দুটি ব্রিগেডের সহায়তায় যুগোস্লাভ পক্ষ জার্মান অঞ্চল থেকে কসোভো পুনরুদ্ধার করে।[৫১] অঞ্চলটিকে যুগোস্লাভিয়ার সাথে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়।[১৩] জয়ের কোন সম্ভাবনা না থাকায় কমিউনিস্টরা কাছে আসার সাথে সাথে জার্মানরা আলবেনীয় সহযোগীদের দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করে। অনেকেই পালাতে ব্যর্থ হন এবং ধরা পড়ার পর কমিউনিস্টরা তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়।[৫২]
১৯৪৪ সালের ২৮ নভেম্বর এনভার হোজার নেতৃত্বে আলবেনীয় পার্টিসানরা আলবেনিয়ায় বিজয়ী হয়।[৫৩] পরবর্তীতে হোজা একটি সর্বগ্রাসী স্ট্যালিনবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। এই সরকার দেশের সকল ধর্মীয় কার্যকলাপকে নিষিদ্ধ করে।[৫৪] অনুমান করা হয় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে আলবেনিয়ায় ১,৮০০ জন ইহুদি ছিল।[৩৮] ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে আলবেনিয়ার ইহুদি জনসংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পায়।[৩৫] কসোভোর ইহুদি সম্প্রদায় তখনো যুদ্ধের রেশ পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠেনি।[৫৫] কসোভোতে খুব কম ইহুদি রয়ে গিয়েছিল এবং কমিউনিস্ট আমলে অনেকেই ইসরায়েলে চলে যায়।[১৩] একইভাবে কমিউনিস্টদের দখলের পর আলবেনিয়ার বেশিরভাগ ইহুদি দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়।[৫৬]
১৯৯৯ সালে কসোভো যুদ্ধের সময় ইসরায়েল কসোভোর আলবেনীয়দের একটি দলকে বিমানে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় এবং ইয়োম হাশোহ (হলোকাস্ট স্মরণ দিবস) উপলক্ষে কিব্বুতজে তাদের আশ্রয় দেয়। যুদ্ধের সময় ইহুদিদের আশ্রয় দেওয়া কসোভোর একটি আলবেনীয় পরিবারের বংশধররা নিজেদের আশ্রয় দেওয়া পরিবারের বংশধরদের সাথেই থেকে যান।[৫৭] আলবেনিয়ার গণহত্যার স্মরণে নির্মিত একমাত্র স্থান হল তিরানার জাতীয় ঐতিহাসিক জাদুঘরের ভিতরে একটি ছোট প্রদর্শনী। ছবি, লেখা, মানচিত্র ও যুদ্ধকালীন নথি সমন্বিত এই জাদুঘর ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর চালু হয়।[৫৮] আলবেনিয়ার ইহুদিদের বেঁচে যাওয়ার ঘটনার উপর ভিত্তি করে ২০০৯ সালে রেস্কিউ ইন আলবেনিয়া নামে একটি তথ্যচিত্র মুক্তি পায়।[৫৯] ২০১৩ সালে কসোভো সরকার গণহত্যার সময় নিহত কসোভোর ইহুদিদের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করে।[৬০] ২০২০ সালে তিরানার মহাউদ্যানে ইহুদিদের আলবেনীয় উদ্ধারকারীদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন করা হয়।[৬১] ২০২৩ সালে আলবেনীয় সরকার ঘোষণা করে যে, ইহুদিদের আলবেনীয় উদ্ধারকারীদের সম্মানে তিরানায় একটি জাদুঘর স্থাপন করা হবে।[৬২][৬৩] একই বছর গণহত্যার সময় ইহুদিদের উদ্ধারকারী ২৩ জন কসোভা-আলবেনীয়ের স্মরণে প্রিস্টিনার নগর উদ্যানে (পারকু আই কিটেটিট) একটি ওয়াল অফ অনার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়।[৬৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]- ↑ Scheib।
- 1 2 3 4 Mojzes 2011, পৃ. 93।
- ↑ Duijzings 2002, পৃ. 61–62।
- ↑ Fischer 2007, পৃ. 95–101।
- 1 2 3 4 Green 2 April 2013।
- 1 2 Fischer 2007, পৃ. 95–97।
- ↑ Elsie 2010, পৃ. 218।
- ↑ Bideleux ও Jeffries 2007, পৃ. 30–31।
- ↑ Fischer 1999, পৃ. 21–57।
- 1 2 Bideleux ও Jeffries 2007, পৃ. 31।
- 1 2 Perez 2013, পৃ. 26।
- 1 2 Lemkin 2008, পৃ. 102।
- 1 2 3 4 Frank 2010, পৃ. 97।
- ↑ Fischer 1999, পৃ. 45–46।
- ↑ Judah 2002, পৃ. 27–28।
- ↑ Ramet 2006, পৃ. 141।
- 1 2 Tomasevich 2001, পৃ. 152।
- ↑ Rodogno 2006, পৃ. 345।
- ↑ Rodogno 2006, পৃ. 387।
- ↑ Tomasevich 2001, পৃ. 597।
- 1 2 3 4 5 6 Mojzes 2011, পৃ. 94।
- 1 2 Elsie 2010, পৃ. 144–145।
- ↑ Fischer 2007, পৃ. 98।
- ↑ Arad, Gutman এবং Margaliot 1999, পৃ. 254।
- 1 2 Israeli 2013, পৃ. 38।
- 1 2 Perez 2013, পৃ. 27।
- ↑ Vickers 1999, পৃ. 152।
- ↑ Mojzes 2009, পৃ. 94।
- ↑ Laqueur ও Baumel 2001, পৃ. 712।
- 1 2 Stafa 2017, পৃ. 38।
- 1 2 Cama 27 December 2012।
- 1 2 Stafa 2017, পৃ. 39।
- 1 2 3 4 Berger 18 November 2013।
- ↑ Stafa 2017, পৃ. 40।
- 1 2 Elsie 2010, পৃ. 219।
- ↑ Fischer 1999, পৃ. 215।
- ↑ Nafziger 1992, পৃ. 21।
- 1 2 Fischer 1999, পৃ. 187।
- ↑ Perez 2013, পৃ. 27–28।
- ↑ Cohen 1996, পৃ. 83।
- ↑ Frank 2010, পৃ. 97–98।
- ↑ Perez 2013, পৃ. 28।
- ↑ Laqueur ও Baumel 2001, পৃ. 1।
- ↑ Gilbert 2000, পৃ. 113।
- ↑ Rozett ও Spector 2013, পৃ. 104।
- ↑ Stafa 2017, পৃ. 38–40।
- ↑ Mojzes 2011, পৃ. 94–95।
- ↑ Stafa 2017, পৃ. 36–37।
- ↑ Fischer 2007, পৃ. 98–99।
- ↑ Fischer 2007, পৃ. 101।
- ↑ Tomasevich 2001, পৃ. 156।
- ↑ Fischer 1999, পৃ. 237।
- ↑ Elsie 2010, পৃ. 194।
- ↑ Plaut 1996, পৃ. 180।
- ↑ Frank 2010, পৃ. 99।
- ↑ Ehrlich 2009, পৃ. 945।
- ↑ Trounson 13 April 1999।
- ↑ Perez 2013, পৃ. 40–41।
- ↑ Marzouk 11 May 2009।
- ↑ Peci 24 May 2013।
- ↑ Memorial Dedicated to Albanians Who Rescued Jews During Holocaust: ‘An Inspiring Story of Humanity, Courage and Honor’. 2020. Allgemeiner. 9 Jul.
- ↑ Zvika Klein. 2023. Albanian gov't announces museum celebrating Albanians who rescued Jews in WWII. The Jerusalem Post. 1 Mar.
- ↑ Harun Karčić. 2023. Albanian Museum to Celebrate Jewish Life and “Righteous” Who Gave Shelter During Holocaust. Just Security. 4 Apr.
- ↑ SYLEJMAN KLLOKOQI and LLAZAR SEMINI. 2023. Kosovo inaugurates ‘Wall of Honor’ for 23 Albanians who rescued Jews from Holocaust. The Times of Israel. 24 Aug.
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]গবেষণালব্ধ লেখাপত্র
[সম্পাদনা]- Arad, Yitsḥaḳ; Gutman, Yisrael; Margaliot, Abraham (১৯৯৯)। Documents on the Holocaust: Selected Sources on the Destruction of the Jews of Germany and Austria, Poland, and the Soviet Union। Lincoln, Nebraska: University of Nebraska Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৩২-৫৯৩৭-৯।
- Bartrop, Paul R. (২০১৭)। "Albania"। Bartrop, Paul R. (সম্পাদক)। The Holocaust: An Encyclopedia and Document Collection। খণ্ড I (A–K)। Santa Barbara, California: ABC-CLIO। পৃ. ১৫–১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪০৮৪-০৮৪-৫।
- Bideleux, Robert; Jeffries, Ian (২০০৭)। The Balkans: A Post-Communist History। London, England: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২০৩-৯৬৯১১-৩।
- Cohen, Philip J. (১৯৯৬)। Serbia's Secret War: Propaganda and the Deceit of History। College Station, Texas: Texas A&M University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৯০৯৬-৭৬০-৭।
- Duijzings, Ger (২০০২)। "Religion and the Politics of 'Albanism'"। Schwandler-Stevens, Stephanie; Jürgen Fischer, Bernd (সম্পাদকগণ)। Albanian Identities: Myth and History। London, England: C. Hurst & Co.। পৃ. ৬০–৬৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩৩৪-১৮৯-১।
- Ehrlich, Mark Avrum (২০০৯)। Encyclopedia of the Jewish Diaspora: Origins, Experiences and Culture। খণ্ড ১। Santa Barbara, California: ABC-CLIO। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫১০৯-৮৭৪-৩।
- Elsie, Robert (২০১০)। Historical Dictionary of Albania। Lanham, Maryland: Scarecrow Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১০৮-৭৩৮০-৩।
- Fischer, Bernd Jürgen (১৯৯৯)। Albania at War, 1939–1945। West Lafayette, Indiana: Purdue University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৫০৬-৫৫৩১-২।
- Fischer, Bernd J. (২০০৭)। "The Jews of Albania During the Zogist Period and the Second World War"। Pettifer, James; Nazarko, Mentor (সম্পাদকগণ)। Strengthening Religious Tolerance for a Secure Civil Society in Albania and the Southern Balkans। Amsterdam, Netherlands: IOS Press। পৃ. ৯৫–১০১। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৬০৩-৭৭৯-৬।
- Frank, Chaim (২০১০)। "Antisemitism in Yugoslavia"। Petersen, Hans-Christian; Salzborn, Samuel (সম্পাদকগণ)। Antisemitism in Eastern Europe: History and Present in Comparison। Bern, Switzerland: Peter Lang। পৃ. ৬৭–১১২। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৬৩১-৫৯৮২৮-৩।
- Gilbert, Martin (২০০০)। Never Again: A History of the Holocaust। New York City: Universe। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৮৯৩০-৪০৯-৪।
- Gilbert, Martin (২০০৯)। The Routledge Atlas of the Holocaust (4th সংস্করণ)। London, England: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৫১-০৮৫১-৯।
- Israeli, Raphael (২০১৩)। The Death Camps of Croatia: Visions and Revisions, 1941–1945। New Brunswick, New Jersey: Transaction Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪১২৮-৪৯৭৫-৩।
- Judah, Tim (২০০২)। Kosovo: War and Revenge। New Haven, Connecticut: Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-০৯৭২৫-২।
- Laqueur, Walter Ze'ev; Baumel, Judith Tydor (২০০১)। The Holocaust Encyclopedia। New Haven, Connecticut: Yale University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩০০-০৮৪৩২-০।
- Lemkin, Raphael (২০০৮)। Axis Rule in Occupied Europe। Clark, New Jersey: The Lawbook Exchange। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৮৪৭৭-৯০১-৮।
- Lebel, Jennie (২০০৮)। Tide and Wreck: History of the Jews of Vardar Macedonia। New Haven, Connecticut: Avotaynu। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৮৬২২-৩৩৭-০।
- Mojzes, Paul (২০০৯)। "The Genocidal Twentieth Century in the Balkans"। Jacobs, Steven L. (সম্পাদক)। Confronting Genocide: Judaism, Christianity, Islam। Lanham, Maryland: Lexington Books। পৃ. ১৫১–১৮২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৩৯১-৩৫৯০-৭।
- Mojzes, Paul (২০১১)। Balkan Genocides: Holocaust and Ethnic Cleansing in the 20th Century। Lanham, Maryland: Rowman & Littlefield। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৪২২-০৬৬৫-৬।
- Nafziger, George (১৯৯২)। "Organizational History of the German SS Formations 1939–1945" (পিডিএফ)। Combined Arms Research Library Digital Library। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৪।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - Perez, Daniel (২০১৩)। ""Our Conscience is Clean": Albanian Elites and the Memory of the Holocaust in Postsocialist Albania"। Himka, John-Paul; Michlic, Joanna Beata (সম্পাদকগণ)। Bringing the Dark Past to Light: The Reception of the Holocaust in Postcommunist Europe। Lincoln, Nebraska: Nebraska University Press। পৃ. ২৫–৫৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৩২-৪৬৪৭-৮।
- Plaut, Joshua Eli (১৯৯৬)। Greek Jewry in the Twentieth Century, 1913–1983: Patterns of Jewish Survival in the Greek Provinces Before and After the Holocaust। Cranbury, New Jersey: Associated University Presses। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৩৮৬-৩৯১১-৫।
- Simeunović, Dragan; Dolnik, Adam (২০১৩)। "Security Threats of Violent Islamist Extremism"। Cross, Sharyl; Kentera, Savo; Nation, R. Craig; Vukadinović, Radovan (সম্পাদকগণ)। Shaping South East Europe's Security Community for the Twenty-First Century: Trust, Partnership, Integration। Basingstoke, England: Palgrave Macmillan। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৭-০১০২০-৯।
- Stafa, Monika (জুন ২০১৭)। "Attitude of Collaborative Governments in Defense of the Jews during the War"। Anglisticum Journal। ৬ (6)। Tirana, Albania: Audiovisual Media Authority: ৩৫–৪০। আইএসএসএন 0742-3330।
- Ramet, Sabrina P. (২০০৬)। The Three Yugoslavias: State-Building and Legitimation, 1918–2005। Bloomington, Indiana: Indiana University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৫৩-৩৪৬৫৬-৮।
- Rodogno, Davide (২০০৬)। Fascism's European Empire: Italian Occupation During the Second World War। Cambridge, England: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮৪৫১৫-১।
- Rozett, Robert; Spector, Shmuel (২০১৩)। Encyclopedia of the Holocaust। Abingdon-on-Thames, England: Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৫৯৬-৯৫০-৯।
- Tomasevich, Jozo (২০০১)। War and Revolution in Yugoslavia, 1941–1945: Occupation and Collaboration। San Francisco, California: Stanford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮০৪৭-৩৬১৫-২।
- Vickers, Miranda (১৯৯৯)। The Albanians: A Modern History। London, England: I.B. Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৬০৬৪-৫৪১-৯।
- Yeomans, Rory (২০০৬)। "Albania"। Blamires, Cyprian; Jackson, Paul (সম্পাদকগণ)। World Fascism: A Historical Encyclopedia। খণ্ড ১। Santa Barbara, California: ABC-CLIO। পৃ. ৩১–৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭৬০৭-৯৪০-৯।
সংবাদ প্রতিবেদন
[সম্পাদনা]- Berger, Joseph (১৮ নভেম্বর ২০১৩)। "Casting Light on Little-Known Story of Albania Rescuing Jews From Nazis"। The New York Times।
- Cama, Aida (২৭ ডিসেম্বর ২০১২)। "Albanians saved Jews from deportation in WWII"। Deutsche Welle।
- Green, David B. (২ এপ্রিল ২০১৩)। "Jewish Albanians Gain a Foothold"। Haaretz।
- Greenberg, Joel (২ মে ১৯৯৯)। "An Indebted Israel Shelters Family of Kosovo Albanians"। The New York Times।
- Krasniqi, Mikra (৭ এপ্রিল ২০১৭)। "The urge to fake history"। Prishtina Insight।
- Liphshiz, Cnaan (১৯ জানুয়ারি ২০১৮)। "What made Muslim Albanians risk their lives save Jews from the Holocaust?"। The Times of Israel।
- Marzouk, Lawrence (১১ মে ২০০৯)। "Rescue in Albania: How Thousands of Jews Were Saved From the Holocaust"। Balkan Insight।
- Peci, Edona (২৪ মে ২০১৩)। "Kosovo Erects Plaque to Holocaust Victims"। Balkan Insight।
- Trounson, Rebecca (১৩ এপ্রিল ১৯৯৯)। "Israelis Welcome Refugee Group as They Remember Holocaust"। The Los Angeles Times।
ওয়েব
[সম্পাদনা]- Scheib, Ariel। "Albania Virtual Jewish History Tour"। jewishvirtuallibrary.org। American-Israeli Cooperative Enterprise।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- আলবেনিয়া ইহুদি ভার্চুয়াল লাইব্রেরি
- আলবেনিয়ার ইহুদি, ইয়াদ ভাশেম ওয়েবসাইট
- আলবেনিয়ার ইহুদিদের উদ্ধার ইয়াদ ভাশেম ফাইলের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইয়াদ ভাশেম ওয়েবসাইট।