বিষয়বস্তুতে চলুন

আর্বিল সভ্যতা জাদুঘর

আর্বিল সভ্যতা জাদুঘর
مۆزەخانەی شارستانیی ھەولێر
আর্বিল সভ্যতা জাদুঘর
মানচিত্র
স্থাপিত১ জানুয়ারি ১৯৬০ (1960-01-01)
অবস্থানহাওলার, আর্বিল প্রদেশ, কুর্দিস্তান, ইরাক
স্থানাঙ্ক৩৬°১০′৩৮″ উত্তর ৪৪°০০′৪৮″ পূর্ব / ৩৬.১৭৭২° উত্তর ৪৪.০১৩৪° পূর্ব / 36.1772; 44.0134
ধরনপ্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর
মূল ধারণধূপদানি (হুরিয়ান যুগ, ১৩০০–১০০০ খ্রিস্টপূর্ব), গুডেয়ার মন্দিরের ভিত্তি-শঙ্কু (উর তৃতীয় রাজবংশের যুগ), মৃত্শিল্পের কলস (হালাফ যুগ, ৪৯০০–৪৩০০ খ্রিস্টপূর্ব), ইত্যাদি।
সংগ্রহপ্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তী ইসলামি যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন নিদর্শন, যার মধ্যে মেসোপটেমীয়, উরার্তীয়, আশুরীয় এবং ইসলামি সামগ্রীর অন্তর্ভুক্তি রয়েছে।

আর্বিল সভ্যতা জাদুঘর হল একটি ইরাকি কুর্দিস্তানের রাজধানী হাওলার শহরে অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। বিষয়বস্তু এবং সংগ্রহের দিক থেকে এটি সুলায়মানিয়া প্রদেশের সুলায়মানিয়া জাদুঘরের পরে ইরাকি কুর্দিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাদুঘর। এখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শেষ আব্বাসীয় যুগের নিদর্শন রয়েছে।[১]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

সংগ্রহশালাটির প্রথম ভবন স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যেখানে কিছু অল্পসংখ্যক নিদর্শনই ছিল। ছোট ওই ভবনটি হাওলারের কেন্দ্রস্থলে মিনারাহ জেলায় অবস্থিত ছিল। তখন এরবিল প্রত্নতাত্ত্বিক পরিদর্শন অধিদফতর এই জাদুঘরের প্রশাসনের দায়িত্বে ছিল। ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জাদুঘরটি স্থানান্তর করা হয় এরবিলের প্রাচীন দুর্গে। এরপর জাদুঘরটির প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল বাগদাদের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক সাধারণ অধিদফতর দ্বারা। এরপর বিভিন্ন প্রাচীন যুগের বহু নিদর্শন বাগদাদের ইরাকি জাদুঘর থেকে স্থায়ী ঋণ হিসেবে এরবিল জাদুঘরে স্থানান্তর করা হয়। ফলে জাদুঘরের সংগ্রহ ও বিষয়বস্তু ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ হতে থাকে। প্রত্নবস্তুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ১৯৮৫ সালে একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০–১৯৮৮) শেষ হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে বর্তমান ভবনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি প্রাচীন ক্বালিঞ্জ আগা টিলার নিকটে অবস্থিত। তবে ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণ (ইরাকি সেনাবাহিনী কর্তৃক), ১৯৯১ সালের কুর্দি বিদ্রোহ এবং ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কুর্দিদের অন্তর্দ্বন্দ্বপূর্ণ গৃহযুদ্ধের কারণে জাদুঘরের বহু আর্কাইভ ও নথি হারিয়ে যায়। ফলে জাদুঘরের অনেক নিদর্শনের তথ্য আজ আর পাওয়া যায় না।[২][৩]

জাদুঘরের ভবনটি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং ৩টি প্রদর্শনী কক্ষে বিভক্ত:[২]

  • প্রথম প্রদর্শনী কক্ষে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সূচনাপর্যন্ত সময়ের নিদর্শন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে প্যালিওলিথিক যুগ, জারমো, হালাফ, সামারা, উবেইদ, উরুক, এরিদু, প্রারম্ভিক রাজবংশ, আক্কাদীয় এবং নব্য-সুমেরীয় যুগের নিদর্শন দেখতে পাবেন। কিছু কিছু নিদর্শন পুরাতন ব্যাবিলনীয় যুগেরও।
  • দ্বিতীয় কক্ষে উরার্তীয়, হুরিয়ান, আশুরীয় (মধ্য ও নব-আশুরীয় উভয়), সেলিউকিদ এবং হাত্রা যুগের নিদর্শন প্রদর্শিত হয়েছে। তবে নব-বাবিলীয় যুগের কোনো নিদর্শন সেখানে নেই।
  • শেষ কক্ষটিতে সাসানীয় এবং ইসলামী যুগের (বেশিরভাগ আব্বাসীয়) নিদর্শন রয়েছে।

খোলার সময়

[সম্পাদনা]

জাদুঘরটি সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:০০ টা থেকে দুপুর ১:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ছুটির দিনে এটি বন্ধ থাকে। এখানে প্রবেশের জন্য মূল্য দিতে হয় না।

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "مۆزەخانەی هەولێر"। Hawler Government (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০২৫।
  2. 1 2 Amin, Osama S. M.। "Visiting the Erbil Civilization Museum – World History et cetera" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০২৫।
  3. ↑ "Erbil museum: Exploring the cradle of civilization"। Kurdishglobe (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ এপ্রিল ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০২৫।