আর্থিক পরিষেবা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আর্থিক পরিষেবা (ইংরেজি: Financial services) হ'ল আর্থিক শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, ক্রেডিট ইউনিয়ন, ক্রেডিট-কার্ড কোম্পানি, অ্যাকাউন্টেন্সি কোম্পানি, ভোক্তা-ফাইনান্স কোম্পানি, স্টক ব্রোকারেজ, বিনিয়োগ তহবিলসহ অর্থ পরিচালনা করে এমন ব্যবসার কতৃর্ক প্রদত্ত অর্থনৈতিক সেবা।[১]

সেশেলস আর্থিক পরিষেবা ভবনের লোগো।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালের পূর্ব পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক পরিষেবা শব্দটি আংশিক পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সালে গ্রাম-লিচ ব্লিলি আইনের মাধ্যমে "আর্থিক পরিষেবা" শব্দটি পরিচিতি লাভ করে। এই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক পরিষেবা প্রদানের অনুমতি দেয়া হয়।[২]

সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বব্যাপী আর্থিক পরিষেবা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে প্রায় সকল দেশেই আর্থিক পরিষেবা চালু আছে।

সরকারের সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

আর্থিক খাত ঐতিহ্যগতভাবে সরকারী সমর্থন পেয়ে থাকে বিশেষ করে ব্যাপক অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে। যদিও এই ধরনের বেলআউট অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কম জনসমর্থন পায়।[৩]

ব্যাংক[সম্পাদনা]

বাণিজ্যিক ব্যাংকিং পরিষেবা[সম্পাদনা]

বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রাথমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

  • গচ্ছিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে টাকা তোলার অনুমতি দেয়া;
  • চেকবই ইস্যু করা যাতে টাকা উত্তোলন করা, বিল পরিশোধ করা যায় এবং অন্যান্য ধরনের পেমেন্ট চেকের মাধ্যমে প্রদান করা যায়;
  • ব্যক্তিগত ঋণ, বাণিজ্যিক ঋণ, এবং বন্ধকী ঋণ প্রদান করা (সাধারণত বাড়ি, সম্পত্তি বা ব্যবসা কেনার জন্য ঋণ);
  • ক্রেডিট কার্ড প্রদান এবং ক্রেডিট কার্ড লেনদেন এবং বিলিং প্রক্রিয়াকরণ করা;
  • চেকের বিকল্প হিসাবে ব্যবহারের জন্য ডেবিট কার্ড প্রদান করা;
  • শাখায় বা অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) (এটিএম) ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেনের সুবিধা প্রদান করা;
  • আন্তঃব্যাংকিং তহবিল লেনদেনের জন্য ওয়্যার ট্রান্সফার এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা প্রদান করা;
  • গ্রাহকের চলতি হিসাব থেকে নিয়মিত মাসিক ব্যয়ের লেনদেন স্বয়ংক্রিয় ভাবে সম্পর্ন করা;
  • গ্রাহকদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ হিসাব দেখতে ও পরিচালনা করার সুবিধার্থে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা প্রদান করা;
  • প্রত্যয়পত্র খোলা এবং অন্যান্য বৈদেশিক বিনিময় ও লেনদেন সুবিধা প্রদান করার;
  • বিভিন্ন মেয়াদের পেনশন স্কিম আমানত পরিষেবা প্রদান করা;
  • বিড বন্ড এবং ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা প্রদান করা;
  • আর্থিক এবং অন্যান্য নথির জন্য নোটারি পরিষেবা প্রদান করা;
  • গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ এবং তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান।

বিনিয়োগ ব্যাংকিং সেবা[সম্পাদনা]

  • মূলধন বাড়াতে এই ধরনের ব্যাংকগুলো বেসরকারী এবং সরকারী খাতের জন্য ঋণ এবং ইক্যুইটি আন্ডাররাইটিং সুবিধা প্রদান করে;
  • একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণ করতে বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো কোম্পানিসমূহের অবলেখক এবং পরামর্শক হিসেবে কাজ করে;
  • বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্সের অধীনে বৃহত্তম ঋণ সেবা প্রদান করে;
  • ভঙ্গুর কোম্পানিসমূহের পুনর্গঠনে সহায়তা করে;
  • বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান করে।
  • গ্রাহকদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ লক্ষ্য পূরণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবা দেয়;
  • সিকিউরিটিজ গবেষণা পরিচালনা করা এবং গ্রাহকদের সহায়তা করতে নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজ এবং শিল্পের উপর একটি পাবলিক অবস্থান বজায় রাখার জন্য পরিষেবা দেয়।
  • গ্রাহকদের জন্য ব্রোকার পরিষেবাগুলি প্রদান করে এবং গ্রহকদের পক্ষে সিকিউরিটিজ ক্রয় এবং বিক্রি করে;
  • আর্থিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করে;

বৈদেশিক বিনিময় সেবা[সম্পাদনা]

বৈদেশিক মুদ্রার মেশিন

বিশ্বজুড়ে অনেক ব্যাংক এবং বিশেষজ্ঞ বৈদেশিক মুদ্রা দালালদ বৈদেশিক বিনিময় পরিষেবা প্রদান করে। বৈদেশিক বিনিময় সেবা অন্তর্ভুক্ত:

  • বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সেবা প্রদান করা যাতে গ্রাহকরা বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাংকনোট ক্রয় এবং বিক্রি করতে পারে;
  • ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিদেশে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলিতে তহবিল পাঠাতে পারে;
  • রেমিট্যান্স সেবা প্রদান যেখানে অভিবাসী শ্রমিকরা তাদের দেশে টাকা পাঠাতে পারে।
  • প্রত্যয় পত্র খোলা এবং অন্যান্য বৈদেশিক বিনিময় ও লেনদেন সুবিধা প্রদান করা।[৪] [৫] [৬]

অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা[সম্পাদনা]

অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড নেটওয়ার্কিং কোম্পানিসমুহ যারা খুচরা ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক কার্ড প্রদানকারী ব্যাংকসমূহের মধ্যে সেতু হিসাবে কাজ করে। প্রধান ক্রেডিট কার্ড নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকরী কোম্পানিগুলো হল: মাস্টার কার্ড, ভিসা ইনকর্পোরেটেড, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ডিসকভার ফিনান্সিয়াল ইত্যাদি।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Asmundson, Irena (২৮ মার্চ ২০১২)। "Financial Services: Getting the Goods"Finance and Development। IMF। সংগ্রহের তারিখ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  2. "Bill Summary & Status 106th Congress (1999–2000) S.900 CRS Summary – Thomas (Library of Congress)"। ২০১৩-০৮-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০২-০৮ 
  3. The Economist, April 4th 2020, page 51.
  4. "Key facts আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ৪ জুন ২০১২ তারিখে", Corporation of London. Retrieved 19 June 2006.
  5. European Central Bank (July 2017) "The international role of the euro". European Central Bank. p. 28.
  6. Chatsworth Communications (April 6, 2016) "London's leading position as a USD 2.2 trillion hub for FX trading would be harmed by a Brexit, according to poll of currency market professionals". Chatsworth Communications.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]