বিষয়বস্তুতে চলুন

আর্কাডিজা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আর্কাডিজা ছিল সার্বিয়ায় প্রথম সংগঠন যা সমকামী নারী ও পুরুষের মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকে সমর্থন করা শুরু করে। এটি ১৩ জানুয়ারি ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৪ সালে বেলগ্রেডে নিবন্ধিত হয়। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে সমকামিতাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। পাশাপাশি এর সদস্যরা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমকামীদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার দিকেও কাজ করেন।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৯৯০ সালের অক্টোবরে লুব্লিয়ানার গে-লেসবিয়ান পিঙ্ক ক্লাবের উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সার্বিয়ার এলজিবিটি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। এরপর মস্কো হোটেলে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন লেপা ম্লাদজেনোভিচ, ডেজান নেব্রিগিচ, বরিস লিলার সহ আরও কিছু বিশিষ্ট কর্মী। সংগঠনের নাম নির্বাচন করার সময় বরিস লিলার "আর্কাডিজা" নামটির প্রস্তাব করেন, যার অর্থ "ভালবাসা ও স্বাধীনতার ভূমি"। ফ্রান্সে বিশ শতকে একই নামে একটি এলজিবিটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হতো, যা এই নাম বাছাইয়ের অন্যতম একটি কারণ ছিল।[]

নিজস্ব জায়গা বা আর্থিক সহায়তা না থাকায় আর্কাডিজার কর্মীদের প্রাথমিক কাজ ছিল স্বাধীন গণমাধ্যমে পুরুষ ও স্ত্রী সমকামী মানুষদের অধিকার নিয়ে প্রচার চালানো। তাঁরা মূলত বি৯২, রিপাবলিকা, ভ্রেমে, রেডিও পানচেভো এবং ডেজান নেব্রিগিচ -এর মতো প্রতিষ্ঠিত মাসিক পত্রিকা ও উইমেন ইন ব্ল্যাক গ্রুপের মতো নারীদের শান্তিবিষয়ক প্রকাশনায় কাজ চালিয়ে যান।[]

২৭ জুন, ১৯৯১ সালে আর্কাডিজা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে গৌরব পদযাত্রা পালন করে, যেখানে সংস্থার বেশ কয়েকজন কর্মী সমকামী আন্দোলন, সংস্কৃতি এবং শিল্প সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। পরের বছর আর্কাডিজা দর্শন অনুষদে স্টুডেন্ট প্রোটেস্ট চলাকালে একটি প্যানেল আয়োজনের চেষ্টা করে, কিন্তু ধর্মতত্ত্ব বিভাগের ছাত্ররা দর্শক এবং অংশগ্রহণকারীদের হলে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এরপর থেকে আর ২৭ জুনের গৌরব পদযাত্রা কর্মসূচি ও সমাবেশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়না।[]

প্রথম দুই বছরে আর্কাডিজার সদস্যরা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেন, সমর্থন সংগ্রহ করেন এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রস্তুত করেন। এই গঠনতন্ত্রে সংগঠনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্য ও সহিংসতা হ্রাস, সমলিঙ্গ ও বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্মতি প্রদানের ব্যাপারে প্রচার চালানো, সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার অবসান, একে রোগ হিসেবে দেখার প্রবণতা বন্ধ করা, বিদ্যালয়ে যৌন শিক্ষা চালু করা যাতে সমকামিতা ও উভকামিতাকে স্বাভাবিক যৌন প্রবৃত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সমাজে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের অবসান, পারিবারিক আইন পুনর্বিবেচনা ইত্যাদি।[]

যুদ্ধবিরোধী সক্রিয়তা

[সম্পাদনা]

এই সময়কালে, যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয় এবং সংগঠনের সদস্যরা যুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের সমকামী অধিকারের উন্নয়ন এবং পরিকল্পনাকে ধীর করে দেয়। এসময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে আর্কাডিজায় জাতীয়তাবাদী আখ্যান থাকা অনুচিত এবং সমস্ত গোষ্ঠী, যারা সামাজিক বৈষম্যের শীকার, তাদের মানবাধিকার প্রচার করা হবে।[]

প্রতিষ্ঠার চার বছর পর, ১৯৯৪ সালে, সেন্টার ফর উইমেন'স স্টাডিজকে আর্কাডিজা সংগঠনের কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।[] ১৯৯৫ সালে, দলে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং দলের অন্তর্গত নারী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা আর্কাডিজা থেকে পৃথক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারা লিলজানা জিভকোভিচ এবং জেলেনা ল্যাব্রিস ল্যাব্রিস নামে একটি নতুন সংগঠন চালু করেছিলেন, যা ২০০০ সালে নিবন্ধিত হয়েছিল।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "LGBT aktivizam u Srbiji"LGBTI.ba (বসনীয় ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯
  2. 1 2 3 "Kako je počelo organizovanje lezbejki i homoseksualaca u Beogradu - Mreža Žene protiv nasilja"www.zeneprotivnasilja.net। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯
  3. 1 2 3 4 "Prvo je stiglo jedno pismo | Labris" (সার্বীয় ভাষায়)। ২৫ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৯