আমেনা করিমিয়ান
আমেনা করিমিয়ান | |
|---|---|
| জন্ম | ১ নভেম্বর ১৯৯৬ |
| শিক্ষা | হেরাত বিশ্ববিদ্যালয় |
| বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন | |
| কর্মক্ষেত্র | জ্যোতির্বিজ্ঞান |
| প্রতিষ্ঠানসমূহ | জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট), কায়হানা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল গ্রুপ |
আমেনা করিমিয়ান (জন্ম ১ নভেম্বর ১৯৯৬, হেরাত) একজন আফগান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং নারী অধিকার কর্মী।[১][২] তিনি একাধারে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং 'কায়হানা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল গ্রুপ'-এর প্রতিষ্ঠাতা। এটি এমন একটি সংস্থা যা জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্ষেত্রে তরুণী ও নারীদের উৎসাহিত করে।[৩] ২০২১ সালে বিবিসির ১০০ নারী তালিকায় তিনি বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী নারী হিসেবে স্থান পান।[৪]
জীবন
[সম্পাদনা]করিমিয়ান ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানের হেরাত শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলা থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।[৫] তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। তবে তৎকালীন আফগানিস্তানে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ না থাকায় তাকে অন্য একটি বিভাগ বেছে নিতে হয়।
তিনি হেরাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট) প্রকল্পের অধীনে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে করিমিয়ান এবং সোহেল কারিমি মিলে 'কায়হানা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল গ্রুপ' প্রতিষ্ঠা করেন।[৫] এটি ২০২১ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের "টেলিস্কোপ ফর অল" পুরস্কার জয় করে। এটি ছিল আফগানিস্তানে এই ধরণের একমাত্র দল এবং এর সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০ জন। একই বছর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে তিনি হুমকির মুখে পড়েন এবং দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
পড়াশোনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার কারণে তিনি একটি ভিসা পেয়েছিলেন। সেই ভিসা সংগ্রহের জন্য তিনি পাকিস্তান সীমান্তে গিয়ে অস্ট্রীয় দূতাবাসে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পথে তিনি তালেবানদের দ্বারা প্রহৃত হন, তবে পরে মুক্তি পান। দীর্ঘ যাত্রার পর তিনি ইসলামাবাদে অস্ট্রীয় দূতাবাসে পৌঁছালেও সেখানে তাকে ভিসা দিতে অস্বীকার করা হয়।[৬] ভিসার এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়ার বিষয়টি সেসময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়।
পরবর্তীতে একদল সাংবাদিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জার্মানি সরকার করিমিয়ানকে ভিসা প্রদান করে। ২০২২ সাল থেকে তিনি জার্মানিতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। ২০২২ সালে তিনি 'নেচার অ্যাস্ট্রোনমি' সাময়িকীতে আফগানিস্তানের নারী জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দুর্দশা এবং তাদের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন।[৩]
২০২৪ সালের জুলাই মাসে নির্মাতা নিলে ডেনেনক্যাম্প আমেনা করিমিয়ানকে নিয়ে "ক্লেইনস ইউনিভার্সাম" (ক্ষুদ্র মহাবিশ্ব) নামে ৩০ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ সম্পন্ন করেন। পার্সি ভাষায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে যুদ্ধ, লিঙ্গবৈষম্য এবং সামাজিক বিবর্তনের থিমগুলো উঠে এসেছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Zeitung, Stuttgarter। "Amena Karimyan ist eine Berühmtheit: Afghanistans einzige Astronomin lebt in Böblingen"। stuttgarter-zeitung.de।
- ↑ Nachrichten, Stuttgarter। "Afghanische Astronomin in Sindelfingen sammelt Spenden: Schwieriger Weg zur Astronomie-Olympiade"। stuttgarter-nachrichten.de।
- 1 2 Karimyan, Amena (এপ্রিল ২০২২)। "Women astronomers in Afghanistan need the world's support"। Nature Astronomy (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ (4): ৪০৫। বিবকোড:2022NatAs...6..405K। ডিওআই:10.1038/s41550-022-01653-8। আইএসএসএন 2397-3366।
- ↑ "BBC 100 Women 2021: Who is on the list this year?" (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ৭ ডিসেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 Penelas, Sandra (২৫ মার্চ ২০২৩)। ""No quiero que las jóvenes afganas desperdicien sus vidas""। www.epe.es (স্পেনীয় ভাষায়)। ২ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Janke, Pia (২৯ জুন ২০২৪)। Jelinek-Handbuch (জার্মান ভাষায়)। Springer-Verlag। পৃ. ১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৪৭৬-০৫৯৯৩-২।