আমি তোমার হতে চাই
| আমি তোমার হতে চাই | |
|---|---|
থিয়েটারে মুক্তির পোস্টার | |
| পরিচালক | অনন্য মামুন |
| প্রযোজক | ইয়াসির আরাফাত |
| চিত্রনাট্যকার | অনন্য মামুন |
| কাহিনিকার | অনন্য মামুন |
| শ্রেষ্ঠাংশে | |
| সুরকার | সঙ্গীত
আবহ সঙ্গীত
|
| চিত্রগ্রাহক |
|
| সম্পাদক | একরামুল হক |
| প্রযোজনা কোম্পানি | লাইভ টেকনোলজিস |
| পরিবেশক |
|
| মুক্তি |
|
| স্থিতিকাল | ১৪৭ মিনিট |
| দেশ | বাংলাদেশ |
| ভাষা | বাংলা |
আমি তোমার হতে চাই ২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী প্রণয়ধর্মী রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্র যা অনন্য মামুন দ্বারা পরিচালিত এবং ইয়াসির আরাফাত দ্বারা প্রযোজিত। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছে সংস্থা লাইভ টেকনোলজিস এবং পরিবেশনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও লাইফ এন্টারটেইনমেন্ট। কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই। এটি অনন্য মামুন পরিচালিত ষষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পি চৌধুরী, বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, মিশা সওদাগর এবং সানজু জন। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাবু, সাইফ চন্দন, আব্দুল্লাহ জহির বাবু এবং সীমান্ত আহমেদের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে।
বাপ্পি চৌধুরী এবং বিদ্যা সিনহা সাহা মীমের এটি দ্বিতীয় জুটি। বাপ্পি-মীম জুটির প্রথম চলচ্চিত্র সুইটহার্ট একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায়। পরিচালক মামুনের সাথে বাপ্পির এটা প্রথম জুটি। মীমেরও প্রথম জুটি পরিচালকের সাথে।[১][২][৩]
কাহিনী
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রের শুরুতে দেখা যায় বড় সন্ত্রাসী আসলাম তার গুণ্ডাদের নির্দেশ দিচ্ছে ঈগল গ্রুপ নামের একটি অপরাধ গ্রুপের প্রধানকে মেরে ফেলতে। ঈগল গ্রুপ মূলত আসলামেরই অপরাধ গ্রুপ, আর এর প্রধান আসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাই আসলামের গুণ্ডারা সেই গ্রুপের প্রধানকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর আসলাম ঈগল গ্রুপের জন্য নতুন প্রধান খুঁজতে থাকে। তারপর দেখা যায় আবিরকে তার গুণ্ডাদের সাথে। আবির তারপর কথায় বুঝিয়ে দেয় যে, আসলাম তাকে ঈগল গ্রুপের প্রধান বানিয়েছে। তারপর আবির যায় ছোট সন্ত্রাসী সীমান্তকে ঈগল গ্রুপের হয়ে কাজ করার জন্য রাজি করাতে। সীমান্ত প্রথমে আবিরের কথা শোনেনি, পরে আবির তাকে হত্যার হুমকি দিলে ভয়ে সীমান্ত রাজি হয়ে যায়। এরপরের দৃশ্যে আবির ঈগল গ্রুপের সবাইকে বলে সে কোনো সাধারন মানুষ বা সৎ লোকের ক্ষতি করবে না, ক্ষতি শুধু অবৈধ পথে হাঁটা ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিবাজদের করবে। এরপর আবির যায় চাঁদাবাজি করতে। কিছু দৃশ্য পরে দেখা যায় আসলামকে, যে আবিরের প্রতি অনেক খুশি ছিল। তখন আসলাম আরেক সন্ত্রাসী রকিকে বলে যে, আবির নতুন হয়েও তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে পারে। রকিও জবাব দেয় যে, সেও কম কিছু নয়। এটা শুনে আসলাম, আবির ও ঈগল গ্রুপের বাকি সদস্যরা রকিকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে। এরপরের দৃশ্যে আবিরকে দেখা যায় ফোনে একজন মানুষকে হুমকি দিতে, তখন আবিরের মোবাইলের টাকা শেষ হয়ে যায় এবং পিচ্চি যায় টাকা ভরতে। পিচ্চি কথাচ্ছলে ভুল নম্বর বলে মোবাইল রিচার্জের টাকা শ্রেয়ার কাছে পাঠিয়ে দেয়। শ্রেয়া হলো একজন নায়িকা। আবির ফোনে অনেক চেষ্টা করেও টাকা ফেরত নিতে পারে না, তখন শাস্তি হিসেবে পিচ্চিকে বলে শ্রেয়ার মোবাইলে ততবার মিস কল লাগাতে যতক্ষণ না তার মোবাইল বন্ধ না হয়ে যায়। আরেকটা শাস্তি দেয় পিচ্চিকে, সে যেন মোবাইল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কিছু না খায়। অন্যদিকে শ্রেয়া অপেক্ষা করছে পিচ্চির মিস কলগুলো ধরার জন্য। এরপর খবর আসে ব্যবসায়ী মোবারককে গুণ্ডা আজাদ শিমুল ধরে নিয়ে গেছে। তখন আবির গিয়ে শিমুলকে হত্যা করে ও মোবারককে বাঁচায়। এই ঘটনার পর পুলিশ আসে ময়নাতদন্ত করতে আর ইন্সপেক্টর মনির হোসেন ভাবে কে শিমুলের হত্যাকারী, তখন একজন বলে এই কাজ একমাত্র আবিরই করতে পারে। এরপরের দৃশ্যে আবির ও মনিরের মধ্যে কথোপকথন হয় ও কথার শেষে মনির আবির ও তার সাথে থাকা ঈগল গ্রুপের সদস্যদের তল্লাশি করে, কিন্তু তল্লাশি করে কোনো অস্ত্র মেলে না বরং পাওয়া যায় এক গোছা গোলাপ ফুল। আবির ফুলগুলো দিয়ে দেয় মনিরকে আর চলে যায়। আবিরের ফিরতে রাত হয়ে যায়, শ্রেয়ার মোবাইল তখনও বন্ধ হয়নি। রাতে আবির দয়া দেখিয়ে পিচ্চিকে খেতে যেতে বলে আর বাকিদের বলে শ্রেয়ার মোবাইলে বারংবার মিস কল দিতে। কিন্তু শ্রেয়া এর মজা নিতে থাকে।
এরপরের দৃশ্যে আসলামের কাছে বড় নেতার ফোন আসে, বড় নেতা বলে যে আবির তার লোকদের খুন করছে। আর বড় নেতা আসলামকে ঈগল গ্রুপের বিলুপ্তি এবং আবির ও তার হত্যার হুমকি দেয়। আবিরকে আসলাম বলে একটু ভেবচিন্তে চাঁদাবাজি ও অপরাধ করতে। এরপরের দৃশ্যে আবির যায় নেতার সাথে দেখা করতে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে নেতাকে পটাতে সক্ষম হয় আবির। এরপর আসলাম, আবির ও রকি যায় একটা বেপরোয়া পার্টিতে। পরের দৃশ্যে দেখা যায় রাহা ও রকিকে, যারা ঝগড়া করছিল। এরপর দেখা যায় শ্রেয়াকে যে কবিতা মঞ্চ নামে একটি সংস্থায় সহযোগিতা করে যার মাধ্যমে সে গরিব ও মানসিকভাবে অসুস্থদের সেবা করে। যখন সে সংস্থার একটি সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারে তখন সে আবিরকে ফোন দেয়। আর আবির বর্তমানে কী কী করছে তার সব বলে দেয়। তখন আবির ওয়াসায় ফোন দিয়ে পানির ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর শ্রেয়া ও আবির ফোনে কথা বলে, এসময় আসলামও আবিরকে ফোন দেয় কিন্তু আবির ফোনে কথা বলায় ফোন ঢোকে না। তারপর আসলামের সন্দেহ হয়, আর এর মাত্রা দ্বিগুন করে রকি। তারপর আসলাম আবিরের সব কাণ্ডকারখানা সম্পর্কে খোঁজ লাগাতে থাকে।
পরের দৃশ্যে আবির একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে যায় শ্রেয়ার নাম - ঠিকানা ও ছবি দেখতে। কিন্তু ফল ভালো আসে না। ফোনে কথা বলার সময় আবির শ্রেয়াকে জানায় সে আগে গান করত, কিন্তু তার বাবা-মা দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর সে সন্ত্রাসজীবনে ঢুকে গেছে। তখন শ্রেয়ার অনুরোধে আবির একটা গান শোনায়। এভাবে তাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
কয়েকদিন ধরে ঈগল গ্রুপের চাঁদাবাজি ভালো চলছে না, তাই আসলাম ক্ষুব্ধ। সে ফোনে আবিরকে বলে যে, সে কালকে তার সাথে দেখা করবে। তখন আসলামের সন্দেহ সত্যে পরিণত হয়। পরদিন রকি লোক পাঠায়, জানতে পারে আবিরের প্রেমের কথা। আবিরের জন্মদিনে শ্রেয়া কেক পাঠায়। দেখাদেখি না করেই তাদের ভালোবাসা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর শ্রেয়া আবিরকে ইউটিউব খুলতে বলে। দেখা যায়, শ্রেয়া আবিরের ভিডিও ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছে। ইউটিউবে ছাড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই গানটি ভাইরাল হয়ে যায়। সব জায়গায় গান নিয়ে কথা হতে থাকে, পত্রিকায় কত লেখালেখি হয়। আবির চাঁদা নিতে যায়, সবার ভূয়সী প্রশংসা শুনে আবিরের অপরাধের ইচ্ছা ডুবতে থাকে। পরের দৃশ্যে রকি ও রাহার প্রেম দেখানো হয়।
রকির মাধ্যমে আসলাম জানতে পারে আবিরের প্রেমের কথা, তারপর সীমান্তকে তুলে এনে জবানবন্দি দিতে বলে। তারই একজন গুণ্ডার উপর আসলাম রাগ ঝেরে তাকে হত্যা করে। নেতা টাকা নিয়ে আসে কিন্তু সে ভরসা পায় না। শেষে আসলামের কথায় নেতা ভরসা পায়, আর আসলামও তাকে এইটুকু আশা দেয় যে নির্বাচনে নেতা এমপি হবে।
একদিন কথা বলার সময় আবির শ্রেয়ার পা, ঘাড় ও হাত দেখতে পায়। তারপর শ্রেয়া বিরক্তিপ্রকাশ করে। শ্রেয়া মূলত চেয়েছিল আবির যেন তার চেহারা না দেখে। আবিরের গান ইউটিউবে ভাইরাল হওয়ার কারণে একটি অডিও কোম্পানি আবিরকে ফোন দিয়েছিল আবিরের অ্যালবাম বের করার জন্য, এই খবরটা আবির শ্রেয়াকে জানায়। আর শ্রেয়াকে আবিরের সাথে দেখা করতে বলে। একই রাতে রাহা আসে রকিকে খুঁজতে, কিন্তু আসলাম বলে রকি নাকি আরও অনেককে ভালোবাসে। একথা শুনে রাহা রেগে চলে যায়।
কয়েকদিন পর শ্রেয়া আবিরকে বলে তার বান্ধবী জলি আবিরের সাক্ষাৎকার নেবে, আর আবির পাশ করলে শ্রেয়ার সাথে সে দেখা করতে পারবে। পরে শ্রেয়া নিজেই জলি সেজে যায়। আবির বুঝতে পারে না সে যে শ্রেয়া। এভাবেই তাদের দুজনের দেখা হয়।
এক রাতে আসলাম রকিকে বলে সে যেন রাহার সাথে আর প্রেম না করে। পরের দৃশ্যে আবিরকে দেখা যায় কবিতা মঞ্চের সেই শিশুদের সাথে খেলতে। কিছুক্ষণ পর জানা যায় শ্রেয়ার মূল লক্ষ্য, সে চায় আবির একজন সঙ্গীতশিল্পী হোক আর সন্ত্রাসবাদ ভুলে যাক। পরের দৃশ্যে দেখা যায় শ্রেয়া আবিরকে সন্ত্রাসবাদ ছেড়ে দিতে বলছে আর আবির রাজি হয়ে যায়। তারপর আসলামের কাছে গিয়ে বলে আবির আর সন্ত্রাসবাদ করতে চায় না আর আসলামও রাজি হয়ে যায়। আসলে আসলাম অভিনয় করছিল, পরে রকি আবিরকে শেষ করে দিতে চাইলে আসলাম অনুমতি দেয় আর রকিকে প্রধান বানানোর আশ্বাস দেয়।
পরের দৃশ্যে আবির ও রকির মধ্যে মারামারি দেখানো হয়। মারামারির সময় শ্রেয়া মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়, এতে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন আবির গিয়ে আসলামকে বকে আসে। আবিরের বন্ধুরা এসময়ে ডাক্তার ডেকে এনে শ্রেয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা করায় আর বলে যে শ্রেয়ার সিটিস্ক্যান করা লাগবে। শ্রেয়া আবিরকে বলে সে হাসপাতালে যেতে চায় না। সেসময় শ্রেয়ার মা আবিরকে কাঁদতে কাঁদতে জানান যে শ্রেয়ার ব্রেইন টিউমার আছে। এইটা শুনে আবির বড় একটা ধাক্কা খায়। শ্রেয়ার মা আরও বলেন যে যখন টিউমার ধরা পড়েছিল তখন চিকিৎসা করলে বাঁচার সুযোগ ছিল। মূলত এই টিউমারের কারণেই শ্রেয়া আবিরের সামনে আসতে চায়নি।
পরে আবির সেই অডিও কোম্পানির ম্যানেজারের কাছে যায়। সে ৭ লক্ষ টাকা আবিরকে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে আবিরকে ডাক্তারের সাথে কথা বলে, ডাক্তার জানান শ্রেয়ার অবস্থা খারাপের দিকে এগুচ্ছে। অডিও কোম্পানির ম্যানেজার চন্দন আবিরকে একটা কনসার্টের কথা জানায়। আবির রাজি হয় কনসার্টের জন্য।
আসলাম ও রকি পরিকল্পনা করে কনসার্টে সন্ত্রাসী হামলা করার। মনির এসে কনসার্ট বাতিল করতে বলে। এমনকি পুলিশ এরপরের শোও বাতিল করে দেয়। এই ঘটনার পর আবির তার বন্ধুদের নিয়ে যায় মনিরের কাছে। আবির জানতে চায় কেন কনসার্ট বাতিল করা হচ্ছে, তখন আবির ঘটনা খুলে বলে তখন মনির কনসার্টের আশ্বাস দেয়।
অনেক চেষ্টা করেও আবির টাকা যখন জোগাড় করতে পারে না তখন তার বন্ধুরা অপরাধ করতে চায় কিন্তু আবির তাদের থামায়। তারপর তার ভক্তদের কাছে টাকার জন্য আকুতি-মিনতি করে। কিন্তু ভক্তরাও বেশি টাকা দেয় না। কিন্তু তারা মানববন্ধন করে শুধু শ্রেয়ার জন্য। শ্রেয়াকে আসলামের লোক এসে তুলে নিয়ে যায়। চলচ্চিত্রের শেষে আবির হত্যা করে আসলামকে, কিন্তু শ্রেয়াকে বাঁচাতে পারে না।
অভিনয়শিল্পী
[সম্পাদনা]- আবির চরিত্রে বাপ্পি চৌধুরী, একজন সন্ত্রাসী যে মা-বাবা মারা যাওয়ার দুঃখে অপরাধজগতে ঢুকে পড়ে কিন্তু শ্রেয়ার ভালোবাসার জন্য সে সকল প্রকার অপরাধ ত্যাগ করে[২]
- শ্রেয়া চরিত্রে বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত একজন নায়িকা যে আবিরকে অপরাধজগৎ থেকে বের করে আনে[২]
- রকি চরিত্রে সানজু জন, একজন সন্ত্রাসী যে দৃঢ় সংকল্পিত আবিরকে হত্যা করার জন্য
- আসলাম শিকদার ওরফে আসলাম ভাই চরিত্রে মিশা সওদাগর, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ঈগল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা
- রাহা চরিত্রে দিপালি আক্তার তানিয়া, রকির প্রেমিকা
- পিচ্চি চরিত্রে বাবু
- শ্রেয়ার মায়ের চরিত্রে রেহানা জলি
- একজন নেতার চরিত্রে আমির সিরাজী
- ওয়াসার ম্যানেজারের চরিত্রে আবু সাঈদ খান
- অডিও কোম্পানির ম্যানেজারের চরিত্রে সাইফ চন্দন
- একজন নিউরোলজিস্টের চরিত্রে আব্দুল্লাহ জহির বাবু
- সীমান্ত চরিত্রে সীমান্ত আহমেদ
- আজাদ শিমুল চরিত্রে যাদু আজাদ
- ইন্সপেক্টর মনির হোসেন চরিত্রে তানভির তনু
- সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চরিত্রে আনন্দ খালেদ
- কনস্টেবলের চরিত্রে জ্যাকি আলমগীর
- মোবারক চরিত্রে লিটন হাশমী
- বাদল
- জ্যাকি
- 'ডিজিটাল প্রেম' গানে নৃত্যশিল্পী হিসেবে রাখি সাওয়ান্ত
- 'হেইলা দুইলা নাচ' গানে ডিজে হিসেবে আকাশ সেন
চলচ্চিত্রের মধ্যে বিভিন্ন স্বল্পস্থায়ী দৃশ্যে শিবা শানু, ডিজে সোহেল, আরেফীন সৌরভ, আমিন সরকার এবং নানা শাহকে দেখা গিয়েছিল। এছাড়াও চলচ্চিত্রে বেশ কিছু সাধারণ মানুষও অভিনয় করেছিলেন।
সঙ্গীত
[সম্পাদনা]| আমি তোমার হতে চাই | |
|---|---|
হাবিব ওয়াহিদ, মমতাজ, অ্যাশ কিং, দিলশাদ নাহার কনা, আকাশ সেন, শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত, রোশনি দে, তাহসিন, শাফায়াত এবং নিশিতা বড়ুয়া কর্তৃক সাউন্ডট্র্যাক অ্যালবাম | |
| মুক্তির তারিখ | ২০১৬-১৮ |
| দৈর্ঘ্য | ২৪:১৯ |
| ভাষা | বাংলা |
| সঙ্গীত প্রকাশনী | লাইভ টেকনোলজিস |
| আমি তোমার হতে চাই থেকে একক গান | |
| |
চলচ্চিত্রের প্রথম গান 'ও সুন্দরী রে' মুক্তি পায় ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর। গানের লেখক পরিচালক অনন্য মামুন, সুর করেছেন অধ্যয়ন রূপক এবং গেয়েছেন শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত ও রোশনি দে। ১০ নভেম্বর মুক্তি পায় দ্বিতীয় গান 'বেপরোয়া মন', যা গেয়েছেন ও সুর করেছেন হাবিব ওয়াহিদ এবং লিখেছেন হৃদ্ধি। ১ ডিসেম্বর মুক্তি পায় তৃতীয় গান 'এই টুকরো প্রেমের গল্প', যা লিখেছেন ও সুর করেছেন শফিক তুহিন এবং গেয়েছেন ভারতের অ্যাশ কিং।[৪] ৭ ডিসেম্বর মুক্তি পায় চতুর্থ গান 'ডিজিটাল প্রেম'। গানটির গীতিকার ও সুরকার শফিক তুহিন এবং গায়ক মমতাজ। পঞ্চম গান 'হেইলা দুইলা নাচ' মুক্তি পায় ১৪ ডিসেম্বর। এটি গেয়েছেন দিলশাদ নাহার কনা ও আকাশ সেন। এর গীতিকার প্রিয় চট্টোপাধ্যায় এবং সুরকার আকাশ সেন। ষষ্ঠ গান 'আমি তোমার হতে চাই শিরোনাম সঙ্গীত' মুক্তি পায় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। এর গীতিকার জাহিদ আকবর, সুরকার নাভেদ পারভেজ ও গায়ক তাহসিন। সপ্তম গান 'অগোছালো কথা' মুক্তি পায় ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট। এটি লিখেছেন ও সুর করেছেন শফিক তুহিন এবং গেয়েছেন শাফায়াত ও নিশিতা বড়ুয়া।
বিশেষ তথ্য
- 'ডিজিটাল প্রেম' গানে অভিনয় করেন বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত।
- 'হেইলা দুইলা নাচ' গানে অভিনয় করেন ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী আকাশ সেন।
- 'হেইলা দুইলা নাচ' একমাত্র গান যা চলচ্চিত্রে ব্যবহার হয় নি।
- 'অগোছালো কথা' ও 'আমি তোমার হতে চাই শিরোনাম সঙ্গীত' চলচ্চিত্র মুক্তির পর মুক্তি পায়।
| নং. | শিরোনাম | গীতিকার | সুরকার | গেয়েছেন | দৈর্ঘ্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ১. | "ও সুন্দরী রে" | অনন্য মামুন | অধ্যয়ন-রূপক | শত্রুজিৎ দাশগুপ্ত, রোশনি দে | ২:৩৩ |
| ২. | "বেপরোয়া মন" | হৃদ্ধি | হাবিব ওয়াহিদ | হাবিব ওয়াহিদ | ৪:১২ |
| ৩. | "এই টুকরো প্রেমের গল্প" | শফিক তুহিন | শফিক তুহিন | অ্যাশ কিং | ২:৫৯ |
| ৪. | "ডিজিটাল প্রেম" | শফিক তুহিন | শফিক তুহিন | মমতাজ | ২:২৭ |
| ৫. | "হেইলা দুইলা নাচ" (চলচ্চিত্রে ব্যবহার হয়নি) | প্রিয় চট্টোপাধ্যায় | আকাশ সেন | দিলশাদ নাহার কনা, আকাশ সেন | ৩:২৪ |
| ৬. | "আমি তোমার হতে চাই (শিরোনাম সঙ্গীত)" | জাহিদ আকবর | নাভেদ পারভেজ | তাহসিন | ৪:১৭ |
| ৭. | "অগোছালো কথা" | শফিক তুহিন | শফিক তুহিন | শাফায়াত, নিশিতা বড়ুয়া | ৪:২৭ |
| মোট দৈর্ঘ্য: | ২৪:১৯ | ||||
নির্মাণ
[সম্পাদনা]উন্নয়ন
[সম্পাদনা]কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক অনন্য মামুনের এটি সপ্তম প্রোজেক্ট। এর আগে তিনি জিতের ওয়ান্টেডে রচয়িতা হিসেবে কাজ করেন। আর পরিচালক হিসেবে তার কাজ মোস্ট ওয়েলকাম, আমি শুধু চেয়েছি তোমায়, ব্ল্যাকমেইল, ভালোবাসার গল্প এবং অস্তিত্ব। এই চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক এরন, অনুভব কবির এবং বি. এম. নাজমুল। মারপিট পরিচালনা করেছেন সালাম ও মিঠু এবং সম্পাদনা করেছেন একরামুল হক।
চরিত্র নির্বাচন
[সম্পাদনা]কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য বাপ্পি চৌধুরী, বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, মিশা সওদাগর এবং সানজু জন চুক্তিবদ্ধ হন। চলচ্চিত্রে সানজু জনের নায়িকা ছিলেন দিপালি আক্তার তানিয়া। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তানভির তনু, রেহানা জলি, বাবু এবং আমির সিরাজী চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিছু বিশেষ চরিত্রে ছিলেন পরিচালক সাইফ চন্দন, আব্দুল্লাহ জহির বাবু এবং নাট্যাভিনেতা সীমান্ত আহমেদ। এই চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ চরিত্র তার আসল নাম ব্যবহার করে অভিনয় করেছেন। বাদলের ক্ষেত্রে তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দৃশ্যধারণ
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৩ জুন। পরিচালক অনন্য মামুন দৃশ্যধারণের জন্য বাংলাদেশ ও নেপালের বিভিন্ন স্থান বেছে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রটির প্রণয়ধর্মী দৃশ্য এবং গানের একটি বড় অংশ নেপালের পাহাড়ি এলাকায় চিত্রায়িত হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইনডোর দৃশ্য এবং কিছু মারামারির দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। বলিউডের রাখি সাওয়ান্ত এই সিনেমার একটি আইটেম গানে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বিএফডিসিতে এর শুটিং সম্পন্ন হয়।
মুক্তি
[সম্পাদনা]২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর মুক্তি পায় চলচ্চিত্রটির টিজার, যার দৈর্ঘ্য ছিল ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড। চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড কর্তৃক বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পায়। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ বিজয় দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রমোশন
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রটির প্রমোশনের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিদ্দিকুর রহমান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসির হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাব্বির রহমানের সাক্ষাৎকার নেয়।
প্রতিক্রিয়া
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু মুক্তির পর সেই জনপ্রিয়তা হারিয়ে বসে। বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার চলচ্চিত্রটিকে ৭/১০ তারকা দেয়।[১] ডেইলি স্টারে এটি বলা হয় যে, মীম ও দিপালির মেকআপ বিভিন্ন দৃশ্যে ভালো হয় নি। এছাড়াও অনেকে বলেছেন যে রাখি সাওয়ান্তের উপস্থিতি চলচ্চিত্রকারদের রাখা উচিৎ হয় নি। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত রোগীর চরিত্রে বিদ্যা সিনহা মীমের অভিনয় প্রশংসিত হয়। তবে সমালোচকরা বাপ্পি চৌধুরীর ডাবিং করা কণ্ঠস্বরকে একটি বড় ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিতর্ক
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্রটির শুটিং শেষ হওয়ার পর বাপ্পি চৌধুরী পরিচালক অনন্য মামুন ও প্রযোজনা সংস্থের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। বাপ্পি অভিযোগ করেন যে, তার ডাবিং অন্য কাউকে দিয়ে করানো হয়েছে, যা চুক্তির পরিপন্থী ছিল। এই মামলার কারণে চলচ্চিত্রটির প্রমোশন ও মুক্তিতে আইনি জটিলতা বেঁধেছিল। পরবর্তীতে সকল সমস্যা মিটিয়ে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়া হয়। [৫][৬][৭]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে আমি তোমার হতে চাই (ইংরেজি)
বাংলা মুভি ডেটাবেজে আমি তোমার হতে চাই
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 "Ami Tomar Hote Chai | The Daily Star"। www.thedailystar.net (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- 1 2 3 bdnews24.com। "মিম-বাপ্পীর 'আমি তোমার হতে চাই'"। মিম-বাপ্পীর ‘আমি তোমার হতে চাই’ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "আমি তোমার হতে চাই গতানুগতিক ধারার মোটামুটি ভালো ছবি - বাংলা মুভি ডেটাবেজ"। ২০১৬-১২-১৬T২১:৪৪:০১+০৬:০০। সংগ্রহের তারিখ 2026-02-14।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "'এ টুকরো প্রেমের গল্প' রকস (ভিডিও) - বাংলা মুভি ডেটাবেজ"। ২০১৬-১২-০২T১০:১৯:৪৮+০৬:০০। সংগ্রহের তারিখ 2026-02-14।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ সিদ্দিক, হাবিবুল্লাহ (১৮ নভেম্বর ২০১৬)। "'আমি তোমার হতে চাই' মুক্তি ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা"। Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Court halts release of Ami Tomar Hote Chai"। নিউ এজ। 18 November, 2016।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "'আমি তোমার হতে চাই' মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা - বাংলা মুভি ডেটাবেজ"। ২০১৬-১১-১৮T০৯:৪৩:৩৫+০৬:০০। সংগ্রহের তারিখ 2026-02-14।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|তারিখ=এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)