বিষয়বস্তুতে চলুন

আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স
কুরকুমাসের সমাধি কমপ্লেক্স
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিইসলাম
অবস্থান
অবস্থানকায়রো, মিশর
স্থাপত্য
স্থাপত্য শৈলীমামলুক স্থাপত্যশৈলী
সম্পূর্ণ হয়১৫০৭[]
মিনার

আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স মধ্যযুগীয় কায়রো, মিশরের সিটি অফ ডেথ-এ অবস্থিত একটি কমপ্লেক্স।[] বর্তমানে এটি জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি মামলুক সমাধি স্থাপনার উদাহরণ যেখানে একটি গম্বুজযুক্ত সমাধি কক্ষ, একটি মাদ্রাসা, একটি সাবিল, একটি বিশাল দরজা এবং একটি মিনার রয়েছে। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই কমপ্লেক্সটি নিয়ে স্থায়ী কার্যক্রমের ফলে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এলাকা গঠিত হয়, যার মধ্যে সুলতান ইনালের সমাধি কমপ্লেক্সও অন্তর্ভুক্ত।[]

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

[সম্পাদনা]

কানসুহের সমাধির প্রায় ২০০ মিটার দক্ষিণে এই কমপ্লেক্স অবস্থিত, যাতে দুটি মাজার একত্রে বিদ্যমান। দুটি মাজারের মধ্যে উত্তরের মাজারটি সুলতান ইনাল-এর মাজার। এটি ১৪৫০–১৪৫৬ সালের মধ্যে নির্মিত। বর্তমানে এটি জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি মামলুক সমাধি স্থাপনার উদাহরণ যেখানে একটি গম্বুজযুক্ত সমাধি কক্ষ, একটি মাদ্রাসা, একটি সাবিল, একটি বিশাল দরজা এবং একটি মিনার রয়েছে। কমপ্লেক্সটিতে একটি খানকাহ অর্থাৎ এখানে সূফি দরবেশদের মঠও রয়েছে। ইনাল সুলতান বারকুক-এর একজন দাস ছিলেন এবং তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না। তিনি ১৪৫৩ থেকে ১৪৬০ সাল পর্যন্ত শাসন করেন এবং তার শিক্ষার অভাব ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ ত্রুটি ছিল না বলে মনে করা হয়। ইনালের সমাধির সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে কুরকুমাসের সমাধি, যা ১৫০৭ সালে নির্মিত। এটি আরও শৈল্পিকভাবে নির্মিত এবং ইনালের মাজারের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

পোলিশ-মিশরীয় পুনরুদ্ধার কাজ

[সম্পাদনা]

১৯৭২ সালে ইসলামি স্থাপত্যের নিদর্শন পুনরুদ্ধারের জন্য পোলিশ-মিশরীয় দল গঠিত হয়। এটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ছিল। এর মধ্যে ছিল পোলিশ সেন্টার ফর মেডিটেরেনিয়ান আর্কিওলজি, ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি এবং পোলিশ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর ইনস্টিটিউট অফ মেডিটেরেনিয়ান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল কালচার।[] "এই প্রকল্পের অধীনে কবরকক্ষ ও ভিত্তির প্রত্নতাত্ত্বিক খনন, নৃতাত্ত্বিক গবেষণা, স্থাপত্য ও সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং ঐতিহাসিক গবেষণা পরিচালিত হয়, যেমন কুরকুমাসের ১৬শ শতকের অনুদানের দলিল (হুজ্জা) নিয়ে এই প্রকল্পের অধীনে গবেষণা পরিচালিত হয়।"[] ২০০০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এই কার্যক্রমের ফলে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি এলাকা গঠিত হয়, যার মধ্যে সুলতান ইনালের সমাধি কমপ্লেক্সও অন্তর্ভুক্ত।[]

কুরকুমাস

[সম্পাদনা]

কুরকুমাস ছিলেন একজন সেনাপ্রধান। মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন গ্র্যান্ড আমির। ১৫১০ সালে তার মৃত্যু হয়। ইবন ইয়াস তার জানাজার বর্ণনা দেন, যেখানে চারজন কাদি (বিচারক) উপস্থিত ছিলেন। তিনি আশরাফ কাইতবে-এর প্রাক্তন মামলুক ছিলেন এবং ঐ সুলতানের দ্বারা মুক্তি লাভ করেন। এরপর তিনি পদোন্নতি লাভ করতে শুরু করেন। তিনি দ্বিতীয় অশ্বারোহীর দায়িত্ব থেকে ধাপে ধাপে উন্নীত হন। তিনি হাজার জনের কমান্ডার ও রক্ষীবাহিনীর প্রধান ছিলেন। যখন তুমানবায় সিরিয়ার সুলতান হিসেবে ঘোষিত হন, তখন তিনি আলেপ্পো প্রদেশের গভর্নর হন।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Doris Behrens-Abouseif: Cairo of the Mamluks. A history of the architecture and its culture. Tauris Books, London 2007, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৫১১-৫৪৯-৪, p. 306.
  2. আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স, Egyptopia
  3. 1 2 Witkowski, Maciej G. (২০০৭)। "কায়রোতে আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স" (পিডিএফ)। Laskowska-Kusztal, Ewa (সম্পাদক)। Seventy Years of Polish Archaeology in Egypt। PCMA UW।
  4. 1 2 "কায়রো, আমির কুরকুমাস কমপ্লেক্স"pcma.uw.edu.pl। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২০