আমির কাজাগান
কাজাগান (মৃত্যু ১৩৫৮) ছিলেন কারাউনাসদের আমির (সর্বশেষ ১৩৪৫ – ১৩৫৮) এবং চাগতাই উলুসের কার্যকর শাসক (১৩৪৬–১৩৫৮)।
কাজাগানের জাতিগত উৎস সম্পর্কে নিম্নোক্ত মতগুলো প্রকাশ করা হয়েছে: ১) ভ্যাসিলি বার্টল্ড লিখেছেন যে, কাজাগান খুব সম্ভবত কাউচিন উপজাতির ছিলেন।[১] তিনি বিশ্বাস করতেন যে কাউচিনরা ছিল একটি তুর্কীয়করণকৃত মঙ্গোল উপজাতি;[২] ২) তার অন্য একটি প্রাথমিক কাজে বার্টল্ড কাজাগানকে একজন তুর্কীয় আমির বলে অভিহিত করেছেন।[৩][৪]
কাজাগানের বংশপরিচয় সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। এটা সম্ভব যে তিনি উত্তরাধিকারের পরিবর্তে নিয়োগের মাধ্যমে কারাউনাসদের প্রধান হয়েছিলেন।[৫] ১৩৪৫ সালে তিনি তার সার্বভৌম শাসক চাগতাই খান কাজান খানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, কিন্তু পরাজিত হন। পরের বছর তিনি পুনরায় চেষ্টা করেন এবং খানকে হত্যা করতে সক্ষম হন। কাজান খানের মৃত্যু উলুসের ভেতরে চাগতাই খানদের কার্যকর ক্ষমতার সমাপ্তি নির্দেশ করে; পরবর্তী খানরা কেবল নামমাত্র শাসক ছিলেন। কাজাগান তার শাসনের বৈধতা বজায় রাখার স্বার্থে নিজেকে আমির উপাধিতেই সন্তুষ্ট রাখেন এবং নিজের পছন্দমতো চেঙ্গিজ খানের বংশধরদের খান উপাধি প্রদান করেন: প্রথমে দানিশমেন্দজি (১৩৪৬–১৩৪৮) এবং তারপর বায়ান কুলি (১৩৪৮–১৩৫৮)।
বারো বছর কাজাগান যখন পর্দার আড়াল থেকে ক্ষমতা পরিচালনা করছিলেন, তখন খানাতটি উপজাতিদের একটি শিথিল মৈত্রী বা কনফেডারেশনে পরিণত হয়েছিল। এই উপজাতিগুলো কাজাগান এবং তার হাতের পুতুল খানদের সামগ্রিক কর্তৃত্বকে সম্মান করত, যদিও কাজাগান মূলত উলুসের দক্ষিণ অংশের উপজাতিগুলোর আনুগত্য লাভ করেছিলেন। তার পূর্ববর্তী খানদের উদাহরণ অনুসরণ করে কাজাগান উত্তর ভারতে অভিযান চালান। তিনি ১৩৫০ বা ১৩৫১ সালে দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলককে তার দেশের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য কয়েক হাজার সৈন্য পাঠিয়েছিলেন এবং তার উত্তরসূরি ফিরোজ শাহ তুগলকের সিংহাসন আরোহণেও সমর্থন দেন। উলুসের সদস্য আরলাত এবং আরপার্দি উপজাতিদের পক্ষ থেকে মুইজউদ্দিনের অধীনে কার্টিডদের অভিযানের অভিযোগ আসার পর কাজাগান উলুসের দক্ষিণ অংশের বেশিরভাগ উপজাতিকে একত্রিত করে একটি শাস্তিমূলক অভিযান পরিচালনা করেন। এই জোট হেরাত দখল করে এবং প্রচুর পরিমাণ লুণ্ঠিত সম্পদ সংগ্রহ করে।
১৩৫৮ সালে কাজাগান বোরোলদায়ের পুত্রের হাতে নিহত হন, যিনি কাজাগানের আগে কারাউনাসদের আমির ছিলেন। বোরোলদায়ের তুমান (১০,০০০ সৈন্যের দল) দিতে অস্বীকার করায় ঘাতক তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কাজাগানের মৃত্যুর পর তার পুত্র আবদুল্লাহ কারাউনাসদের নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন।
টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ Бартольд В. В. (১৯৬৮)। Сочинения. Том V. Работы по истории и фиলোлогии тюркских и монгольских народов (রুশ ভাষায়)। Москва: Наука। পৃ. ১৭২।
- ↑ Бартольд В. В. (১৯৬৮)। Сочинения. Том V. Работы по истории и фиলোлогии тюркских и монгольских народов (রুশ ভাষায়)। Москва: Наука। পৃ. ৩৪।
- ↑ Бартольд В. В. (১৯৬৩)। Сочинения. Том II. Часть 1 (রুশ ভাষায়)। Москва: Наука। পৃ. ৭৮।
- ↑ V. V. Barthold (১৯৫৬)। Four Studies on Central Asia। পৃ. ১৩৭।
- ↑ Manz, p. 160
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- Manz, Beatrice Forbes, The Rise and Rule of Tamerlane. Cambridge University Press, 1989, আইএসবিএন ০-৫২১-৩৪৫৯৫-২।