আমিনুল হক (অভিনেতা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আমিনুল হক
আমিনুল হক.jpg
জন্ম(১৯২১-০৭-০১)১ জুলাই ১৯২১
মৃত্যু৩১ জুলাই ২০১১(2011-07-31) (বয়স ৯০)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাঅভিনেতা
দাম্পত্য সঙ্গীপিয়ারি বেগম (নাজমা) [১]
সন্তানরবিউল আলম
পুরস্কারএকুশে পদক (১৯৯১)
আজীবন সম্মাননা পুরস্কার - চ্যানেল আই চলচ্চিত্র মেলা

আমিনুল হক (১ জুলাই ১৯২১ - ৩১ জুলাই ২০১১) যিনি চলচ্চিত্র জগতে আমিন নামে অধিক পরিচিত একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র অভিনেতা, নাট্যকার এবং নির্দেশক ছিলেন। [২] এছাড়াও, তিনি অভিনয় করেছেন মঞ্চ, বেতার ও টেলিভিশন নাটকেও। ১৯৪৪ সালে শিশির কুমার ভাদুড়ীর নির্দেশনায় তার অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটে। ১৯৪৬ সালে বাবু ফণী বর্মণ পরিচালিত ‘মন্দির’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। দেশবিভাগের পরে তিনি ১৯৫৬ সালে আব্দুল জব্বার খান নির্মিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বাংলা ও সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন।

ফতেহ লোহানীর পরিচালনায় ১৯৫৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এফডিসি থেকে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র "আকাশ আর মাটি" চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। [৩] তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের প্রথম নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। [৪][৫] তিনি ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত ছিলেন। তিনি মোট ৩৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে মুখ ও মুখোশ (১৯৫৬), আকাশ আর মাটি (১৯৫৯), তোমার আমার (১৯৬১), জোয়ার এলো (১৯৬২), গোধূলীর প্রেম (১৯৬৫), অপরাজেয় (১৯৬৭), জয় বাংলা (১৯৭১), এপার ওপার (১৯৭৫), জানোয়ার (১৯৭৬), অচেনা অতিথি (১৯৭৮) ও নাজমা (১৯৭৮) উল্লেখযোগ্য। ১৯৯১ সালে তার দীর্ঘ নাট্যজীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ নাট্যকলা বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

আমিনুল হক ১৯২১ সালের ১ জুলাই অবিভক্ত বাংলার মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। [৪] তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মালদহ জিলা স্কুল থেকে এস,এস,সি পাশ করেন। [৪] ১৯৪৪ সালে কলকাতার শ্রীরঙ্গণ থিয়েটারে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। [২] সেখানে শিশির কুমার ভাদুড়ীর নির্দেশনায় তার অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ঘটে। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় বাবু ফণী বর্মণ পরিচালিত মন্দির চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গসহ ঢাকা বেতারে শ্রুতি নাটকেও অভিনয় করতেন। স্বল্পসময়ের জন্য (১৯৪৪-৪৬ সাল) কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রথম ডিভিশনে ফুটবলও খেলেছেন। [২] ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় ঢাকায় চলে আসেন ও ঢাকা বেতারে চাকরি নেন। বেতার কেন্দ্রে বেশ কিছু শ্রুতি নাটক করেছেন হক।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

অভিনয়[সম্পাদনা]

আমিনুল হক ও রূপা
আকাশ আর মাটি চলচ্চিত্রে আমিন ও সুমিতা দেবী

১৯৫৩ সালে আব্দুল জব্বার খান পূর্ব পাকিস্তানের তথা বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্র নির্মানের কাজ শুরু করেন। এ সময় এ চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেতা হিসেবে তাকে নির্বাচন করা হয়। [৬] ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর ছবির কাজ শেষ হয় ও ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তি পায়। হক মুখ ও মুখোশ' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দারুণভাবে প্রশংসিত হন।

১৯৫৭ সালে চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (এফডিসি) প্রতিষ্ঠিত হলে ফতেহ লোহানীর পরিচালনায় এফডিসি থেকে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র আকাশ আর মাটি তে হক নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন সুমিতা দেবী। ১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এরপর পরপর পাঁচটি ছবিতে নায়কের ভূমিকায় এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় ত্রিশটি ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন। [২]

১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আমিনুল হক বুলবুল ললিতকলা একাডেমির নাট্য বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকে তিনি অভিনেতা, নাট্যকার এবং নির্দেশক হিসেবেও কাজ করেছেন।

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

অভিনীত চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

বছর চলচ্চিত্র পরিচালক সহশিল্পী চরিত্র মুক্তির তারিখ নোট
১৯৪৬ মন্দির বাবু ফণী বর্মণ প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়
১৯৫৬ মুখ ও মুখোশ আবদুল জব্বার খান পূর্নিমা সেনগুপ্তা, আতিয়া, পিয়ারি বেগম,

ইনাম আহমেদ

৩ আগস্ট ১৯৫৬
১৯৫৯ আকাশ আর মাটি ফতেহ লোহানী প্রবীর কুমার, সুমিতা দেবী [৭] ২৪ মে ১৯৫৯
১৯৬১ তোমার আমার মহিউদ্দিন কাফি খান, চিত্রা সিনহা, সঞ্জীব দত্ত ১০ নভেম্বর ১৯৬১
১৯৬২ জোয়ার এলো আবদুল জব্বার খান সুলতানা জামান, ইনাম আহমেদ,

আনোয়ার হোসেন, সাইফুদ্দিন

২৪ আগস্ট ১৯৬২
১৯৬৫ গোধূলীর প্রেম মহিউদ্দিন চিত্রা সিনহা, আনোয়ার হোসেন, শিরিন ২১ মে ১৯৬৫
১৯৬৭ অপরাজেয় এম. এ. হামিদ সুজাতা, আনোয়ার হোসেন,

সিরাজুল ইসলাম

৩ মার্চ ১৯৬৭
১৯৭১ জয় বাংলা ফখরুল আলম আনোয়ার হোসেন, কবরী, হাসান ইমাম ২৬ জানুয়ারি ১৯৭১
১৯৭৫ এপার ওপার মাসুদ পারভেজ

(সোহেল রানা)

সোহেল রানা, সুমিতা দেবী, সোমা মুখার্জী ৮ আগস্ট ১৯৭৫
১৯৭৬ জানোয়ার কালীদাস ওয়াসিম, সুচরিতা, নারায়ণ চক্রবর্তী ৭ মার্চ ১৯৭৬
১৯৭৮ অচেনা অতিথি ইউসুফ জহির উজ্জল, ববিতা, বুলবুল আহমেদ,

ফতেহ লোহানী

২১ এপ্রিল ১৯৭৮
১৯৮৩ নাজমা সুভাষ দত্ত রাজ্জাক, শাবানা, জসিম, রোজি, প্রবীর মিত্র,

গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন

২৫ নভেম্বর ১৯৮৩
১৯৮৫ চাপাডাঙ্গার বউ রাজ্জাক বাপ্পারাজ, অরুনা বিশ্বাস
সৎ ভাই রাজ্জাক রাজ্জাক, নূতন, আবুল খায়ের
২০০৮ রাবেয়া তানভীর মোকাম্মেল [৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালে আমিনুল হক তার দীর্ঘ নাট্যজীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ নাট্যকলা বিভাগে একুশে পদক লাভ করেন। [২]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আমিনুল হক পিয়ারি বেগমকে বিয়ে করেন। তিনিও একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে নাজমা নামে পরিচিত ছিলেন। মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় তাদের পরিচয় হয়। তাদের একমাত্র সন্তান রবিউল আলম, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। [৮]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

২০১১ সালের ৩১ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার উত্তরায় ক্রিসেন্ট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। [৯][১০] তিনি বার্ধক্যসহ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। ঢাকার উত্তরার সিটি কর্পোরেশন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। [৮][১১]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কেমন আছেন পিয়ারি বেগম"দৈনিক আমার দেশ। ৩ অক্টোবর ২০১১। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  2. "হারিয়ে ফেলা আরও এক মুখ"দৈনিক আমার দেশ। ১১ আগস্ট ২০১২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  3. "ইতিহাসের নায়কের প্রস্থান"দাউদ হোসাইন রনিদৈনিক কালের কন্ঠ। ১ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. আলম, ফখরুল (মে ২০১১)। আমাদের চলচ্চিত্র (প্রথম প্রকাশ সংস্করণ)। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। পৃষ্ঠা ১৯। আইএসবিএন 9789843336132 
  5. "'Mukh O Mukhosh' hero Aminul no more…"। ঢাকা মিরর। ৩১ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  6. Waheed, Karim (১২ আগস্ট ২০০৫)। "Celebrating 50 years of our cinema Remembering Mukh O Mukhosh and Abdul Jabbar Khan"। দ্য ডেইলিস্টার। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৫ 
  7. "কিংবদন্তি : ফার্স্ট লেডি সুমিতা দেবী"দৈনিক আমার দেশ। ৩১ মার্চ ২০১০। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  8. "'Mukh O Mukhosh' hero Aminul Haque no more..."। প্রিয় নিউজ। ১ আগস্ট ২০১১। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  9. "মুখ ও মুখোশের অভিনেতা আমিনুল হক আর নেই"দৈনিক প্রথম আলো। ৩১ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  10. "Actor Aminul Haque passes away"। ডেইলি সান। ১ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  11. "চলে গেলেন 'মুখ ও মুখোশ' ছবির নায়ক আমিনুল হক"দৈনিক প্রথম আলো। ১ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫