আমিনুল হক বাদশা
খন্দকার আমিনুল হক বাদশা | |
|---|---|
| জন্ম | ২৪ অক্টোবর ১৯৪৪ কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া |
| মৃত্যু | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ (বয়স ৭০) |
| পিতা-মাতা |
|
| আত্মীয় | রাজু আহমেদ (অগ্রজ), খন্দকার রাশিদুল হক নবা (অনুজ) খন্দকার শামসুল হক লালিম (অনুজ) |
আমিনুল হক বাদশা বা খন্দকার আমিনুল হক বাদশা (২৪ অক্টোবর ১৯৪৪ – ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক এবং গ্রন্থকার।[১][২][৩]
প্রারম্ভিক জীবন
[সম্পাদনা]আমিনুল হক ১৯৪৪ সালের ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়ার এক সাংস্কৃতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[৪] আমিনুলের বাবা খন্দকার লুৎফল হক রাজশাহী বেতারে নিবন্ধিত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যশিল্পী ছিলেন।[৫] আমিনুল হক ১৯৬২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে অধ্যায়নকালে কলেজের জিএস-এর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৪] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে এমএ করেন। পাকিস্তানী সামরিকজান্তা আইয়ুব খানের সময়ে ছাত্র রাজনীতি তথা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে আমিনুলকে কারাবরণ করতে হয়। আমিনুল তৎকালীন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।[৬]
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
[সম্পাদনা]আমিনুল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন প্রতিষ্ঠাতা এবং কর্মী ছিলেন। আমিনুল মুজিবনগর বাংলাদেশ মিশনের বহিঃপ্রচার বিভাগের সম্পাদক নিয়োজিত ছিলেন।[৬]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৬৯ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পাবার পর আমিনুল তার প্রেস সচিব নিযুক্ত হন। ৭ই মার্চের ভাষণের সময়ে শেখ মুজিবুরের পাশে অন্যান্য ছাত্রনেতাদের সাথে আমিনুলও মঞ্চে ছিলেন।[৬] ৭৫’র এর পরে আমিনুল দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সেখান থেকে তিনি ভারত ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া আমিনুল এটিএন বাংলার যুক্তরাষ্ট্র শাখায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।[৬]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ আমিনুল হক ৭০ বছর বয়সে লন্ডনে ইন্তেকাল করেন।[৬] ১৩ ফেব্রুয়ারী সেখানকার ব্রিকলেন জামে মসজিদে আমিনুলের প্রথম জানাজা এবং নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।[৭][৭]) প্রখ্যাত লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন[২],
‘আমি অন্তত চেয়েছিলাম বাদশাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশে নিয়ে মাটি দেওয়া হোক। এটা তাঁর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু কিছুতেই নরম করা গেল না।’
প্রখ্যাত অভিনেতা রাজু আহমেদ, বাদশা’র অগ্রজ ছিলেন, যিনি ১৯৭২ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।[৮][৫][৯]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ বাদশা, আমিনুল হক (২৫ আগস্ট ২০২৩)। "Aminul Haque Badsha Books - আমিনুল হক বাদশা এর বই"। রকমারি ডট কম। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 প্রতিবেদক, নিজস্ব (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "আমিনুল হক বাদশার মরদেহ আজ আসছে"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ "বঙ্গবন্ধুর সহকারী প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা আর নেই"। দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 আনোয়ার আলী। সার্ধশতবর্শ স্মারকগ্রন্থ ১৮৬৯-২০১৯ (পিডিএফ)। কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া পৌরসভা। পৃ. ১৯৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩৪৬০৮-১-৩। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- 1 2 "শক্তিমান অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজু আহমেদ-এর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী - নিরাপদ নিউজ"। nirapadnews.com। ১২ ডিসেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 3 4 5 "সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশা আর নেই"। দৈনিক সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- 1 2 "আমিনুল হক বাদশার জানাজা সম্পন্ন"। banglanews24.com। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ "স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম খুন অভিনেতা রাজু আহমেদ"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ১৯ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
- ↑ "1971.12.28 | মোল্লা জালাল তাহের ঠাকুর ও আমিনুল হক বাদশার ঢাকা উপস্থিতি"। সংগ্রামের নোটবুক। ১০ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০২৩।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাদশা : দেশ এক আপনজন হারাল -আব্দুল গাফফার চৌধুরী লিখিত ওবিচুয়ারী
- বিদায়, বাদশা ভাই — আমির হোসেন (উপদেষ্টা সম্পাদক, ডেইলি সান) লিখিত ওবিচুয়ারী,