বিষয়বস্তুতে চলুন

আমর ইবনুল জুবায়ের

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আমর ইবনুল জোবায়ের
আমর ইবনুল জুবায়রের নামের চিত্রায়ন
স্থানীয় নাম
عمرو بن الزبير
জন্মমক্কা, হেজাজ, আরব
মৃত্যুমক্কা,
আনুগত্যউমাইয়া খিলাফত
পদমর্যাদামদিনা শুর্তার প্রধান
যুদ্ধ/সংগ্রামআব্দুল্লাহ ইবনুল জোবায়েরের বিরুদ্ধে মক্কায় অভিযান
সম্পর্কজুবাইর ইবনুল আওয়াম (পিতা)
উম্মে খালিদ আমা বিনতে খালিদ (পিতা)

আমর ইবনুল জুবায়ের ইবনুল আওয়াম আল-আসাদি ( আরবি: عمرو بن الزبير; মৃ. ৬৮৫ খ্রি) উমাইয়া খিলাফতের একজন সামরিক কমান্ডার ছিলেন। তিনি মদিনার শুর্তা (নিরাপত্তা বাহিনী) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য এবং দ্বিতীয় ফিতনার সময় তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের বিরুদ্ধে উমাইয়া অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত। এই অভিযানে তাকে বন্দী করে হত্যা করা হয়।

পরিবার

[সম্পাদনা]

আমর জুবায়র ইবনুল আওয়াম ও উম্মে খালিদ আমা বিন্তে খালিদের সন্তান ছিলেন। উম্মে খালিদ উমাইয়া গোত্রের একজন সদস্য ছিলেন, যিনি ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে আবিসিনিয়ায় হিজরতের পর ফিরে আসেন।[] তিনি কুরাইশ গোত্রের বনু আসাদ শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার ভাইবোনদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়র, মুসয়াব ইবনুল জুবায়র, উরওয়া ইবনুল জুবায়র, হামজা, জাফর, মুনজির, খালিদ ও রমলা বিন্তে জুবায়র। নবি মুহাম্মদের স্ত্রী আয়েশা তার পিতা জুবায়েরের খালা ছিলেন। তাঁর নামকরণ করা হয় আমর ইবনে সাঈদ ইবনুল আসের সম্মানে, যিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে নিহত হন।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার খিলাফতের শুরুর সময় আমর খলিফার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার (বাইয়াত) দিতে অস্বীকৃতি জানান। ৬০ হিজরিতে (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) মদিনার উমাইয়া গভর্নর আমর ইবনে সাদ আল-আশবাগ তাকে শহরের শুর্তার (নিরাপত্তা বাহিনী) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।[] তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের মধ্যে ছিল উমাইয়া শাসনের কর্তৃত্ব কার্যকর করা এবং তার ভাই আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের সমর্থকদের দমন করা, যিনি ইয়াজিদের খিলাফতের প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।[]

বলা হয়, আমর কুরাইশ ও আনসারদের সেই সব ব্যক্তিদের চাবুক মারার শাস্তি দেন, যাদের বিরুদ্ধে আবদুল্লাহর প্রতি সমর্থনের সন্দেহ ছিল। এভাবে তিনি মদিনায় উমাইয়া শাসনের কেন্দ্রীয় প্রয়োগকারী বা প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।[]

আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযান

[সম্পাদনা]

উমাইয়া খিলাফতের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে আমর ইবনুল জুবায়ের মদিনা থেকে প্রায় দুই হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে মক্কার দিকে অগ্রসর হন, যার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর ভাইয়ের বিদ্রোহ দমন করা। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি মূলত তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, যিনি তখন মক্কায় নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন এবং উমাইয়া শাসনের বিরোধিতা করছিলেন। এভাবে আমরের বাহিনী যখন মক্কার নিকটবর্তী অঞ্চলে পৌঁছে, তখন তারা যুবায়েরপন্থী বাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এই প্রতিরোধে দুটি পৃথক বাহিনী অংশগ্রহণ করে। একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন মুসয়াব ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল জুবায়ের এবং অন্যটির নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান। উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত আমরের সৈন্যদল পরাজিত হয়। এই যুদ্ধে আমরের সেনাপতি উনাইস ইবনে আমর আল-আসলামি নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যু আমরের বাহিনীর মনোবলকে আরও দুর্বল করে দেয়।[]

যুদ্ধের সময় আমর নিজেও গুরুতরভাবে আহত হন এবং শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি হন। বন্দি অবস্থায় তাঁকে যখন তাঁর ভাই আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়েরের সামনে উপস্থিত করা হয় এবং তাঁর এই রক্তাক্ত অবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি কবিতার ছন্দে জবাব দেন:

আঘাত আমাদের গোড়ালিতে নয় [আমরা পালাতে গিয়ে পিছন থেকে আহত হইনি]; বরং আমাদের পায়ের পাতাই রক্তাক্ত হয়েছে।[]

বন্দী ও মৃত্যু

[সম্পাদনা]

তার মৃত্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিক সূত্রগুলো একমত নয়। আল বালাজুরি উল্লেখ করেন যে, তিনি আব্দুল্লাহর শাসনের সময় জেলবন্দি অবস্থায় মারা যান।[] জুলিয়াস ওয়েলহাউসেন উল্লেখ করেন যে, তিনি মক্কার কাছাকাছি একটি অভিযানে ধরা পড়েন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Ibn Sa'd 1995, পৃ. 164।
  2. Mahajjah Institute 2021, পৃ. 505।
  3. Donner 2010, পৃ. 180।
  4. Asad Q. Ahmed 2010, পৃ. 95।
  5. Tarminini 1980, পৃ. 468।
  6. 1 2 al-Tabari 1998, পৃ. 16।
  7. Al-Baladhuri 1969, পৃ. 329।
  8. Wellhausen 1927, পৃ. 151।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • al-Tabari, Muhammad ibn Jarir (১৯৯৮)। The History of the Prophets and Kings: Volume 19, The Caliphate of Yazid b. Mu‘awiyah। খণ্ড ১৯। I.K.A. Howard কর্তৃক অনূদিত। State University of New York Press।
  • Al-Baladhuri, Ahmad ibn Yahya (১৯৬৯)। Ansab al-Ashraf, Vol. 5। Dar al-Fikr, Beirut।
  • Tarminini, Abd al-Salam (১৯৮০)। Ahdath al-Tarikh al-Islami bi-Tartib al-Sinin, Vol. 1। Dar Tlas, Damascus।
  • Asad Q. Ahmed (২০১০)। The Religious Elite of the Early Islamic Ḥijāz: Five Prosopographical Case Studies। Oxford: University of Oxford Linacre College Unit for Prosopographical Research। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৯০০৯৩৪-১৩-৮। ৯ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত
  • Wellhausen, Julius (১৯২৭)। The Arab Kingdom and its Fall। Margaret Graham Weir কর্তৃক অনূদিত। Calcutta: University of Calcutta। ওসিএলসি 752790641
  • Ibn Sa'd, Muhammad (১৯৯৫)। Kitab al-Tabaqat al-Kabir, Vol. 7। Aisha Bewley কর্তৃক অনূদিত। Ta-Ha Publishers।
  • Donner, Fred M. (২০১০)। Muhammad and the Believers, at the Origins of Islam। Cambridge, MA: Harvard University Pressআইএসবিএন ৯৭৮০৬৭৪০৫০৯৭৬
  • Mahajjah Institute (২০২১)। "Tarikh al Islam, 'Ahd al Khulafa' al Rashidin; al Tabaqat, 3/101"। সংগ্রহের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২১