আমর ইবনুল আস মসজিদ (দমইয়াত)
| আমর ইবনুল আস মসজিদ | |
|---|---|
مَسْجِد عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ | |
আল জাবানা সড়ক থেকে দেখা আমর ইবনুল আস মসজিদের পশ্চিম সম্মুখভাগ | |
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | সুন্নি ইসলাম |
| যাজকীয় বা সাংগঠনিক অবস্থা | মসজিদ |
| অবস্থা | সক্রিয় |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | দমইয়াত |
| দেশ | মিশর |
| স্থানাঙ্ক | ৩১°২৫′২২″ উত্তর ৩১°৪৯′০৫″ পূর্ব / ৩১.৪২২৯° উত্তর ৩১.৮১৮০° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | মসজিদ |
| প্রতিষ্ঠার তারিখ | আনু. ৬৪২ খ্রি. (অনিশ্চিত) |
| স্থানের এলাকা | ৩,৪২০ বর্গমিটার (৩৬,৮০০ বর্গফুট) |
| অন্য নাম |
|
আমর ইবনুল আস মসজিদ (আরবি: مَسْجِد عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ), যা আবুল মাতি মসজিদ[১] এবং আল-ফাতেহ মসজিদ নামেও পরিচিত,[২][৩][৪] মিশরের দমইয়াত-এ অবস্থিত একটি মসজিদ। কিছু স্থানীয় সূত্রের মতে, এটি মিশরে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ। এর নামকরণ করা হয়েছে আমর ইবনুল আস-এর নামে, যিনি ছিলেন একজন সাহাবী এবং যিনি মিশরে আরব অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দমইয়াত দখলের সময় এটি সাময়িকভাবে ক্যাথেড্রাল অফ দ্য হোলি ভার্জিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।[৪][৫]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]৬৪২ সালে রাশিদুন খিলাফতের অধীনে আরবরা সফলভাবে মিশর জয় করে। বলা হয় যে, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ দমইয়াত-এ একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে তিনি কাঠামোর মধ্যে পুরনো রোমান আমলের স্তম্ভগুলো ব্যবহার করেছিলেন।[৪][৬][৩][৭] কায়রোর আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইসলামি স্থাপত্যের অধ্যাপক বার্নার্ড ও'কেন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে বর্তমানের মসজিদটি সেই আদি মসজিদেরই রূপ কি না।[১]
আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের রাজত্বকালে বাইজেন্টাইনরা দমইয়াত আক্রমণ করে। মসজিদটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আক্রমণ প্রতিহত করার পর শেষ পর্যন্ত এটি পুনর্নির্মিত হয়েছিল।[৮]
১১০৬ সালে ফাতিমীয় শাসনের সময় মসজিদটি সংস্কার করা হয়। আরও মুসল্লির জায়গা দেওয়ার জন্য কাঠামোটি সম্প্রসারিত করা হয়েছিল।[৪]
ক্রুসেডসমূহ
[সম্পাদনা]১২১৮-১২১৯ সালে দমইয়াত অবরোধের পর, জন অফ ব্রিয়েনের অধীনে ক্রুসেডাররা দমইয়াত দখল করে।[৯] মসজিদটি একটি ক্যাথেড্রালে রূপান্তরিত হয়েছিল।[৪][১০][৩] ২ ফেব্রুয়ারি ১২২০ তারিখে, ফিস্ট অফ দ্য পিউরিফিকেশন উপলক্ষে কার্ডিনাল পেলাগিয়াস মসজিদটির নাম পরিবর্তন করে ক্যাথেড্রাল অফ দ্য হোলি ভার্জিন রাখেন।[৫] যাইহোক, ক্রুসেডাররা পঞ্চম ক্রুসেডে পরাজিত হয়, ফলে তারা আত্মসমর্পণ করে এবং ১২২১ সালে দমইয়াত ত্যাগ করে।[৫] একই বছর মসজিদটি তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।[৪][১০][৩]
১২৪৯ সালের জুনে, ফ্রান্সের নবম লুইয়ের অধীনে সপ্তম ক্রুসেডের সেনাবাহিনী দমইয়াত অবরোধ করে।[৪][৩] মসজিদটিকে আবারও একটি ক্যাথেড্রালে রূপান্তরিত করা হয়েছিল যেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হতো।[৪][১০][৩] ১২৫০ সালে লুইয়ের পুত্র জন ট্রিস্টান এই ক্যাথেড্রালে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছিলেন।[৪][৯] তবে ক্রুসেডাররা ফারিসকুরের যুদ্ধে হেরে যায় যার ফলে নবম লুই বন্দী হন। লুই দমইয়াতকে আইয়ুবীয়দের কাছে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন এবং ক্যাথেড্রালটি পরিত্যক্ত হয়।[৪][২][১১]
মামলুক আমল
[সম্পাদনা]নতুন মামলুক সুলতান আইবাকের আদেশে দমইয়াত ১২৫১ সালে ধ্বংস করে দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে ক্রুসেডাররা এটিকে আর ব্যবহার করতে না পারে। আরও দক্ষিণে একটি নতুন শহর তৈরি করা হয়েছিল।[১২][১] তবে মামলুকরা ক্যাথেড্রালটি রেখে দিয়েছিল এবং সেটিকে আবারও মসজিদে রূপান্তরিত করেছিল।[৪][৮][৬][৩] মসজিদটিতে একটি কাঠের মিম্বর দেওয়া হয়েছিল যা ১৩৬৯ সালে সম্পন্ন হয়েছিল এবং এটি আহমেদ ইবনে ইউসুফ নামক একজন কাঠমিস্ত্রি তৈরি করেছিলেন।[১৩]
আধুনিক যুগ
[সম্পাদনা]মসজিদটি কয়েক দশক ধরে অবহেলিত ছিল, ২০০৪ সাল পর্যন্ত যখন এটি সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়।[৪][৬][১০] মূল কাঠামোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং নতুন ভবনটি একটি পুনর্গঠন মাত্র।[১] কাজগুলো দ্য আরব কন্ট্রাকটরস দ্বারা সম্পন্ন হয়েছিল এবং এটি শেষ হতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। ৮ মে ২০০৯ তারিখে মসজিদটি জনসাধারণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।[৪][৬][১০] উদ্বোধনের দিনটি সেই দিনের সাথে মিলে যায় যেদিন নবম লুই এবং তার ক্রুসেডাররা দমইয়াত ত্যাগ করেছিলেন এবং এটি মুসলমানদের কাছে ফিরে এসেছিল।[১০][৭]
স্থাপত্য
[সম্পাদনা]
দমইয়াতের আমর ইবনুল আস মসজিদটি ফুসতাত-এ অবস্থিত মসজিদের আদলে নির্মিত। এর কেন্দ্রে একটি উঠান রয়েছে যেখানে একটি গম্বুজবিশিষ্ট ওযু করার ফোয়ারা রয়েছে। পশ্চিম পাশে মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ, যা আল জাবানা সড়কের দিকে।[৪][২] প্রবেশপথের পাশেই একটি বর্গাকার কক্ষ রয়েছে, যা পূর্বে একটি মিনারের ভিত্তি ছিল যা ভূমিকম্পের সময় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।[৪][১০] মসজিদের মোট আয়তন ৩৪২০ বর্গমিটার, যা এটিকে মিশরের বৃহত্তম মসজিদগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে।[১০][৭]
গ্যালারি
[সম্পাদনা]- মসজিদের প্রার্থনা কক্ষ
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 O'Kane, Bernard (২০১৬)। The Mosques of Egypt (ইংরেজি ভাষায়)। American University of Cairo Press। পৃ. ১৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮৯৭৭৪১৬৭৩২৪।
Mu'izz al-Din Aybak, the first Mamluk ruler, decided it [Damietta] was too difficult to defend, and in 1250 he ordered its walls to be demolished, after which a new town sprang up to the south of the previous one. The oldest mosque in the town, called Abu'l-Ma'ati, is supposedly the second in Egypt to be founded by its Muslim conqueror, 'Amr ibn al-'As, but given the resettlement of the town after 1250 one wonders whether it could be the same structure. In any case it was until its very recent rebuilding in a state of almost complete ruin.
- 1 2 3 "Amr ibn al-As Mosque"। connollycove.com।
- 1 2 3 4 5 6 7 الخضري, سهاد (২৮ এপ্রিল ২০২১)। جوامعنا.. "تحول لكنيسة مرتين".. جامع عمرو بن العاص بدمياط ثاني مسجد بإفريقيا। الوطن (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 مسجد عمرو بن العاص بدمياط ثاني أقدم المساجد المبنية بمصر.. صور। اليوم السابع (আরবি ভাষায়)। ১৮ এপ্রিল ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 3 Cassidy-Welch, Megan (২০১৪)। "'O Damietta': war memory and crusade in thirteenth-century Egypt"। Journal of Medieval History (English ভাষায়)। ৪০ (3): ৩৪৬–৩৬০। ডিওআই:10.1080/03044181.2014.917835। আইএসএসএন 0304-4181।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 بخات, أكثم عطا ومحمد (১ এপ্রিল ২০২৩)। مسجد عمرو بن العاص الأقدم بدمياط.. أنشأه أحد الصحابة ومسجل بالآثار الإسلامية। الوطন (আরবি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 3 "Restoration and development of Amr Ibn Al-Aas Mosque – Damietta"। Arab Contractors। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 https://www.almasryalyoum.com/news/details/150321
- 1 2 Vedenina, Uliana। "Mosque of Amr ibn al-As"। 7toucans | Share your travel experience (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 "Amr ibn al-As Mosque in Damietta: The second oldest mosque in Egypt and Africa"।
- ↑ "CATHOLIC ENCYCLOPEDIA: Damietta"। www.newadvent.org। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২৪।
- ↑ Becker, C.H. (১৯৮৭) [1927]। "Damietta"। E.J. Brill's First Encyclopaedia of Islam 1913–1936 (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ২। Brill। পৃ. ৯১১। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৮২৬৫-৬।
- ↑ Behrens-Abouseif, Doris (২০০৭)। Cairo of the Mamluks: A History of Architecture and its Culture (ইংরেজি ভাষায়)। The American University in Cairo Press। পৃ. ৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮৯৭৭৪১৬০৭৭৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]
উইকিমিডিয়া কমন্সে আমর ইবনুল আস মসজিদ সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।