বিষয়বস্তুতে চলুন

আব্দুল রহমান বাবা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আব্দুল রহমান বাবা
২০২২ সালে ঘানার হয়ে খেলার সময় বাবা রহমান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম আব্দুল রহমান বাবা
জন্ম (1994-07-02) ২ জুলাই ১৯৯৪ (বয়স ৩২)
জন্ম স্থান তামালে, ঘানা
উচ্চতা ১.৮০ মি
মাঠে অবস্থান লেফট-ব্যাক
ক্লাবের তথ্য
বর্তমান দল
পাওক
জার্সি নম্বর ২১
যুব পর্যায়
২০০৪–২০১০ ইয়ং মেটিওরস তামালে
২০১০–২০১১ ড্রীমস এফসি
জ্যেষ্ঠ পর্যায়*
বছর দল ম্যাচ (গোল)
২০১১–২০১২আসান্তে কোতোকো (ধার) ২৫ (০)
২০১২–২০১৪ গ্রয়থার ফুর্ট ৪৪ (২)
२०१৪–২০১৫ এফসি আউগ্সবুর্গ ৩১ (০)
২০১৫–২০২৩ চেলসি ১৫ (০)
২০১৬–২০১৭শালকে ০৪ (ধার) ১৩ (০)
২০১৮–২০১৯শালকে ০4 (ধার) (০)
২০১৯রেঁস (ধার) ১১ (১)
২০১৯–২০২০মায়োর্কা (ধার) (০)
২০২১পাওক (ধার) ১৩ (১)
২০২১–২০২২রিডিং (ধার) ২৯ (০)
২০২২–২০২৩রিডিং (ধার) ১৮ (০)
২০২৩– পাওক ৭৪ (১২)
জাতীয় দল
২০১৩ ঘানা অনূর্ধ্ব-২০ (০)
২০১৪–২০২৩ ঘানা ৫২ (১)
অর্জন ও সম্মাননা
 ঘানা-এর প্রতিনিধিত্বকারী
পুরুষ অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল
আফ্রিকা কাপ অব নেশনস
রানার-আপ২০১৫ বিষুবীয় গিনি
* কেবল ঘরোয়া লিগে ক্লাবের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা গণনা করা হয়েছে এবং ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ অনুযায়ী সকল তথ্য সঠিক।
‡ জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোলসংখ্যা ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখ অনুযায়ী সঠিক।

আব্দুল রহমান বাবা (জন্ম: ২ জুলাই ১৯৯৪), যিনি বাবা রহমান নামেও পরিচিত, একজন ঘানায়ীয় পেশাদার ফুটবলার। তিনি সুপার লিগ গ্রিস ক্লাব পাওক এবং ঘানা জাতীয় দলের হয়ে একজন লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলেন।

ড্রীমস এফসিতে তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করার পর, তিনি আসান্তে কোতোকোর হয়ে ঘানা প্রিমিয়ার লিগ-এ খেলেন। ২০১২ সালে, তিনি বুন্দেসলিগা ক্লাব গ্রয়থার ফুর্টে যোগ দেন এবং সেখানে দুই মৌসুম অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি এফসি আউগ্সবুর্গে খেলেন এবং ২০১৫ সালে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ডের (যা ২২ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়ার শর্ত ছিল) বিনিময়ে চেলসিতে যোগ দেন।

২০১৪ সালে বাবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটে। তিনি ২০১৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এ রানার্স-আপ হওয়া ঘানা জাতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

আব্দুল রহমান বাবা ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই ঘানার উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলের তামালেতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলহাজি বাবা (জোবোগনা) এবং মাতা হাজিয়া ফাতি বাবা সিবদু। তিনি তামালের আওয়ার লেডি অব ফাতিমা জেএইচএস এবং ইয়ং দাকপেময়িলি জেএইচএস-এ পড়াশোনা করেন। তিনি ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তার স্থানীয় দল ইয়ং মেটিওরস তামালের হয়ে ফুটবলে অভিষেক করেন। এরপর ১৬ বছর বয়সে আক্রা-ভিত্তিক ক্লাব ড্রীমস এফসি তাকে স্কাউট করে নিজেদের দলে নেয়।

ক্লাব খেলোয়াড়ি জীবন

[সম্পাদনা]

বাবা ঘানা বিভাগ দুই-এর ক্লাব ড্রীমস এফসি-র মাধ্যমে তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন। সেখানে চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্সের পর, তাকে এক মৌসুমের জন্য ঘানা প্রিমিয়ার লিগের দল আসান্তে কোতোকো-তে ধারে স্থানান্তর করা হয়। ২০১২ মৌসুমে তিনি লিগের 'ডিসকভারি অব দ্য ইয়ার' পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। কুয়াসি-ভিত্তিক ক্লাবটিতে খেলার সময় তার পারফরম্যান্সের কারণে প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল এবং সেরি আ-র পার্মার মতো ক্লাবগুলো তাকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

জার্মানি

[সম্পাদনা]

তবে বাবা শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের ১২ জুন বুন্দেসলিগায় সদ্য উন্নীত হওয়া এসপিভিজিজি গ্রয়থার ফুর্টের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। বাবা জানান যে, তার খেলোয়াড়ি জীবনের উন্নতির জন্য সেরা পরিবেশ ও সুযোগ থাকায় তিনি এই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট ১. এফসি নুর্নবার্গের বিরুদ্ধে ডার্বি ম্যাচে তিনি ফুর্টের হয়ে প্রথম দুটি গোল করেন এবং দল ৫–১ ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর পরদিনই তিনি একই লিগের ক্লাব এফসি আউগ্সবুর্গের সাথে চুক্তি করেন।

আউগ্সবুর্গের হয়ে ২০১৪–১৫ মৌসুমে বাবা ১০৮টি ট্যাকল করেন, যা সেই মৌসুমে বুন্দেসলিগার যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি ছিল। তার শক্তি ও গতি ব্যবহার করে তিনি ৮৩% সফলতার হারে ৯০টি ট্যাকল জয় করেন। সেই মৌসুমে বাবার ৮৩টি ইন্টারসেপশন এবং ৮০টি সফল এরিয়াল বল জয়ের রেকর্ড ছিল।

চেলসি

[সম্পাদনা]

২০১৫–১৬ মৌসুম

[সম্পাদনা]

২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট বাবা চেলসির সাথে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দলবদলের প্রাথমিক ফি ছিল ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ ছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মাকাবি তেল আবিবের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ৪–০ গোলের জয়ের ম্যাচে পূর্ণ ৯০ মিনিট খেলে চেলসির হয়ে তার অভিষেক হয়। ১৭ অক্টোবর অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে ২–০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তার প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয়।

শালকে ০৪ (ধার)

[সম্পাদনা]

২০১৬ সালের ২ আগস্ট এফসি শালকে ০৪ নিশ্চিত করে যে, নতুন চেলসি ম্যানেজার আন্তোনিও কন্তের অধীনে প্রাক-মৌসুমে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বাবা এক মৌসুমের জন্য ধারে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। বাবার আক্রমণাত্মক খেলার শৈলীর কারণে কন্তে তাকে ধারে অন্য ক্লাবে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শালকের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক অভিষেকে ওজিসি নিসের বিপক্ষে ইউরোপা লিগের ম্যাচে তিনি জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাবা দ্বিতীয় মেয়াদে ১৮ মাসের জন্য পুনরায় শালকেতে ধারে যোগ দেন।

রেঁস, মায়োর্কা ও পাওক (ধার)

[সম্পাদনা]

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বাবা চেলসিতে ফিরে আসেন এবং অবিলম্বে ফরাসি ক্লাব স্তাদ দ্য রেঁসে মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য ধারে যোগ দেন। এরপর ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর দলবদলের শেষ দিনে তিনি স্প্যানিশ লা লিগার ক্লাব আরসিডি মায়োর্কাতে ধারে যোগ দেন। ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি বাবা ২০২১ মৌসুমে বাকি সময়ের জন্য গ্রীক ক্লাব পাওক এফসিতে ধারে যোগ দেন এবং লামিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে দলকে জয়ী করতে অবদান রাখেন।

রিডিং (ধার)

[সম্পাদনা]

২০২১ সালের ২৭ আগস্ট বাবা ইংরেজ ক্লাব রিডিংয়ে ধারে যোগ দেন। ১০ সেপ্টেম্বর কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে তার অভিষেক হয়। ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট তিনি আরও এক মৌসুমের জন্য রিডিংয়ে ধারে থাকার চুক্তি নবায়ন করেন।

২০২৩ সালের ১০ জুলাই বাবা চেলসিতে আট বছর কাটানোর পর এবং সাতবার বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলার পর স্থায়ীভাবে ক্লাব ত্যাগ করেন। তিনি গ্রীক সুপার লিগের ক্লাব পাওক এফসির সাথে তিন বছরের (২+১) চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাইপর্বের ম্যাচে মালমোর বিপক্ষে তিনি পাওকের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ম্যাচটি ২–২ সমতায় শেষ করতে সাহায্য করেন।

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ি জীবন

[সম্পাদনা]

বাবা ২০১৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-এ ঘানা জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেন। তার চমৎকার ক্রসের সহায়তায় সতীর্থ আন্দ্রে আয়ু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। কোত দিভোয়ারের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে বাবা পেনাল্টি শুট-আউটে গোল করতে সক্ষম হলেও ঘানা ৯–৮ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়।

এছাড়াও ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার চূড়ান্ত স্কোয়াডে আব্দুল রহমান বাবা নির্বাচিত হন এবং পর্তুগালের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ওসমান বুকারির করা গোলটিতে চমৎকার অ্যাসিস্ট প্রদান করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

আব্দুল রহমান বাবার জার্সির পেছনে "Baba" (বাবা) নামটি লেখা থাকে, যা তিনি তার চেলসি সমর্থক পিতার সম্মানে ব্যবহার করেন। ২০১৬ সালের মে মাসে বাবা তার দীর্ঘদিনের শৈশবের বান্ধবী সালমাকে বিয়ে করেন। ইউরোপে খেলার পাশাপাশি বাবা তার নিজ শহর তামালেতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও দাতব্য কাজের সাথে যুক্ত আছেন। ২০২১ সালে তিনি তার প্রাক্তন স্কুল এবং তামালে জুভেনিল ইউনিটে ক্রীড়াসামগ্রী দান করেন।

খেলোয়াড়ি পরিসংখ্যান

[সম্পাদনা]

ক্লাব

[সম্পাদনা]
ম্যাচ খেলা হয়েছে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[]
ক্লাব, মৌসুম এবং প্রতিযোগিতা অনুযায়ী উপস্থিতি এবং গোল
ক্লাব মৌসুম লিগ জাতীয় কাপ লিগ কাপ মহাদেশীয় অন্যান্য মোট
বিভাগম্যাচগোলম্যাচগোলম্যাচগোলম্যাচগোলMatchগোলম্যাচগোল
গ্রয়থার ফুর্ট ২০১২–১৩ বুন্দেসলিগা ২০২১
২০১৩–১৪ ২. বুন্দেসলিগা ২২২৫
২০১৪–১৫ ২. বুন্দেসলিগা
মোট ৪৪৪৮
এফসি আউগ্সবুর্গ ২০১৪–১৫ বুন্দেসলিগা ৩১৩১
২০১৫–১৬ বুন্দেসলিগা
মোট ৩১৩২
চেলসি ২০১৫–১৬ প্রিমিয়ার লিগ ১৫২৩
২০১৬–১৭ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৭–১৮ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৮–১৯ প্রিমিয়ার লিগ
২০১৯–২০ প্রিমিয়ার লিগ
২০২০–২১ প্রিমিয়ার লিগ
২০২১–২২ প্রিমিয়ার লিগ
২০২২–২৩ প্রিমিয়ার লিগ
মোট ১৫২৩
শালকে ০৪ (ধার) ২০১৬–১৭ বুন্দেসলিগা ১৩২১
শালকে ০৪ (ধার) ২০১৭–১৮ বুন্দেসলিগা
২০১৮–১৯ বুন্দেসলিগা
মোট
রেঁস (ধার) ২০১৮–১৯ লিগ ১ ১১১১
মায়োর্কা (ধার) ২০১৯–২০ লা লিগা
পাওক (ধার) ২০২০–২১ সুপার লিগ গ্রিস ১৩১৭
রিডিং (ধার) ২০২১–২২ চ্যাম্পিয়নশিপ ২৯২৯
রিডিং (ধার) ২০২২–২৩ চ্যাম্পিয়নশিপ ১৮২০
পাওক ২০২৩–২৪ সুপার লিগ গ্রিস ২৮১৪৪৪
২০২৪–২৫ সুপার লিগ গ্রিস ২৬১৬৪৩
মোট ৫৪১১৩০৮৭১৫
ক্যারিয়ার মোট ২৩৩১৫২০৪১২৯৮২০

আন্তর্জাতিক

[সম্পাদনা]
ম্যাচ খেলা হয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[]
জাতীয় দল এবং বছর অনুযায়ী উপস্থিতি এবং গোল
জাতীয় দলবছরম্যাচগোল
ঘানা ২০১৪
২০১৫১২
২০১৬
২০১৭
২০১৮
২০১৯
২০২০
২০২১
২০২২১০
২০২৩
মোট৫২

সম্মাননা

[সম্পাদনা]

আসান্তে কোতোকো

পাওক

ঘানা

ব্যক্তিগত

  • সুপার লিগ গ্রিস মৌসুমের সেরা দল: ২০২৩–২৪

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. সকারওয়েতে আব্দুল রহমান বাবা (ইংরেজি)
  2. ন্যাশনাল-ফুটবল-টিমস.কমে আব্দুল রহমান বাবা (ইংরেজি)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]